ad

প্রাথমিক শিক্ষা খাতে গবেষণার নতুন কাঠামো, এলো গবেষণা নীতিমালা-২০২৬

Views

 


প্রাথমিক শিক্ষা খাতে গবেষণার নতুন কাঠামো, এলো গবেষণা নীতিমালা-২০২৬

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা নীতিমালা ২০২৬ অনুমোদন: গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণে নতুন দিগন্ত

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত, কার্যকর এবং গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণের লক্ষ্যে "প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা নীতিমালা, ২০২৬" প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণা পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা, মূল্যায়ন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি সুস্পষ্ট কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফল বৃদ্ধি, শিক্ষক প্রশিক্ষণের কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং শিক্ষা খাতে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে গবেষণাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

গবেষণা ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন

নীতিমালা অনুযায়ী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন)-কে সভাপতি করে একটি গবেষণা ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখার যুগ্মসচিব ও উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা সদস্য হিসেবে থাকবেন। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ সদস্যও কো-অপ্ট করা যাবে।

কমিটির দায়িত্বের মধ্যে থাকবে গবেষণা প্রস্তাব আহ্বান, যাচাই-বাছাই, অনুমোদনের জন্য সুপারিশ, গবেষণা কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন, তদারকি, পরিবীক্ষণ এবং গবেষণার ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে মতামত প্রদান।

গবেষণার অগ্রাধিকার ক্ষেত্র

নীতিমালায় প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে গবেষণার আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষার শিখন-শেখানো পদ্ধতি, শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক, প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, জেন্ডার সংবেদনশীলতা, শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি, ঝরে পড়া হার, ভর্তি ও উপস্থিতি, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন।

এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী শিশু, পথশিশু ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার বিষয়েও গবেষণা পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

গবেষণার বাজেট ও মেয়াদ নির্ধারণ

নীতিমালায় গবেষণাকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ক-শ্রেণির গবেষণার বাজেট ২ থেকে ৩ লাখ টাকা, খ-শ্রেণির জন্য ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা এবং গ-শ্রেণির জন্য ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ এ আর্থিক সীমা পুনর্নির্ধারণ করতে পারবেন।

প্রতিটি গবেষণার মেয়াদ এক বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রতি বছরের ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

গবেষকদের জন্য যোগ্যতা ও শর্ত

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থায় কর্মরত নবম গ্রেড বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাসহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গবেষণায় অংশ নিতে পারবেন। গবেষণা দলে মন্ত্রণালয়ের অন্তত একজন উপযুক্ত সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

একই অর্থবছরে একজন গবেষক কেবল একটি গবেষণায় অংশ নিতে পারবেন। অনুমোদন পাওয়ার পর কোনো গবেষণা দল গবেষণা কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ালে পরবর্তী দুই অর্থবছর তারা নতুন গবেষণা প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন না।

গবেষণা মূল্যায়ন ও প্রতিবেদন প্রকাশ

প্রতিটি গবেষণা কার্যক্রম গবেষণা ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হবে। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ মূল্যায়নকারীও নিয়োগ করা যাবে। গবেষণা শেষে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য সেমিনার আয়োজন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

গবেষণার সকল স্বত্ব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে। তবে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে গবেষক অন্যত্র গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করতে পারবেন। গবেষণালব্ধ ফলাফল সেমিনার, কর্মশালা, প্রশিক্ষণ এবং মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব

গবেষণা খাতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিচালন বাজেটের ‘৩২৫৭১০৩-গবেষণা’ কোড থেকে ব্যয় করা হবে। অনুমোদিত গবেষণার ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ অর্থ অগ্রিম প্রদান এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ গবেষণা সম্পন্ন ও চূড়ান্ত বিল দাখিলের পর পরিশোধ করা হবে।

গবেষকদের লিখিত অঙ্গীকারপত্র জমা দিতে হবে, যেখানে নির্ধারিত সময়ে গবেষণা সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি থাকবে। গবেষণা অসম্পূর্ণ রেখে সরে গেলে প্রাপ্ত সম্মানী ফেরত দিতে হবে। গবেষণার ফলাফল, মতামত ও সুপারিশের দায় গবেষকদের নিজস্ব বলে বিবেচিত হবে।

শিক্ষা খাতে গবেষণার নতুন সুযোগ

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন গবেষণা নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা খাতে গবেষণার পরিধি বাড়বে, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও গবেষকদের মধ্যে গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে ওঠার মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের পথ আরও সুদৃঢ় হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা নীতিমালা, ২০২৬

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা। 

প্রথম অধ্যায়: প্রারম্ভিক

১.১ শিরোনাম

এ নীতিমালা 'প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা নীতিমালা, ২০২৬' নামে অভিহিত হবে।

১.২ সংজ্ঞা

বিষয়ের বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকলে এই নীতিমালায়-

(ক) "নীতিমালা” বলতে 'প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা নীতিমালা, ২০২৬'-কে বুঝাবে।

(খ) “গবেষণা” বলতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিচালন বাজেটের গবেষণা খাতের আওতায় সম্পাদিত গবেষণা কার্যক্রমকে বুঝাবে।

(গ) “গবেষক” বলতে গবেষণার উদ্দেশ্যে মনোনীত ব্যক্তিকে বুঝাবে।

(ঘ) "কমিটি” বলতে নীতিমালায় বর্ণিত কমিটিকে বুঝাবে।

(ঙ) “কর্তৃপক্ষ” বলতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব অথবা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত/মনোনীত কর্মকর্তাকে বুঝাবে।

নীতিমালার উদ্দেশ্য

(ক) প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষায় সম্পৃক্ত কর্মকর্তা ও শিক্ষকগণের পেশাদারিত্ব উন্নয়নে গবেষণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গবেষণার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতিনির্ধারণ;

(খ) প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গবেষণা চাহিদা নিরূপণ করা এবং গবেষণা পরিচালনা করা;

(গ) বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রকল্প, কর্মসূচি এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্পর্কিত গবেষণা পরিচালনা করা;

(ঘ) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধস্তন দপ্তর/সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের গুণগতমান উন্নয়নে গবেষণা করা;

-প্রণালয়। বুকার শি

সঙ) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিখন-শেখানো কার্যক্রমের মানোন্নয়নে গবেষণাভিত্তিক সহায়তা প্রদান করা;

(চ) নতুন নতুন চাহিদা ও যুগোপযোগিতা নিরূপণ করে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বাস্তবায়ন পরবর্তী প্রভাব নিরুপন;

(ছ) বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উপযোগিতা যাচাই ও মানোন্নয়নে সহায়তা করা;

(জ) প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্যে নীতি, পরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণে গবেষণা পরিচালনা করা;

(ঝ) গবেষণার মাধ্যমে প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাকে আরও মানসম্মত, কার্যকর ও সবার জন্য সহজলভ্য করা;

(ঞ) প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা এবং তার সমাধানের উপায় বের করা;

(ট) শিক্ষার্থীদের শেখার মান ও শিখন ফলাফল উন্নত করার উপায় খুঁজে বের করা।

দ্বিতীয় অধ্যায়: গবেষণা কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা

২.১

গবেষণা ব্যবস্থাপনা কমিটি

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য নিম্নরূপ একটি গবেষণা কমিটি থাকবে-

(ক) অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

সভাপতি

(খ) যুগ্মসচিব (প্রশাসন), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

সদস্য

(গ) যুগ্মসচিব (উন্নয়ন), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

সদস্য

(ঘ) যুগ্মসচিব (বাজেট ও অডিট), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

সদস্য

(ঙ) যুগ্মসচিব (বিদ্যালয়), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

সদস্য

(চ) যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

সদস্য

(ছ) উপসচিব (রিফর্ম ম্যানেজমেন্ট এন্ড পলিসি রিসার্চ)

সদস্য

(জ) উপসচিব (বাজেট ও অডিট), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

সদস্য সচিব

কমিটি প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে অন্য কোনো বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।

২.২ গবেষণা ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যপরিধি

(ক) গবেষণা প্রস্তাব আহ্বান, প্রাপ্ত প্রস্তাব পর্যালোচনা ও প্রাথমিকভাবে বাছাই করা;

(খ) প্রস্তাবিত গবেষণা প্রকল্পসমূহের অনুমোদন, বাস্তবায়ন তদারকি ও সমন্বয় সাধন করা;

(গ) গবেষণা কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন;

(ঘ) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনুমোদিত গবেষণা প্রস্তাবসমূহ পরিমার্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট গবেষকগণকে পরামর্শ প্রদান;

(ঙ) গবেষণা প্রস্তাবের বিষয়ে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের নিকট মতামত/সুপারিশ প্রদান করা;

(চ) সম্পাদিত গবেষণার ফলাফল প্রকাশনা সম্পর্কে মতামত প্রদান এবং গবেষণার ফলাফলের বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ প্রদান;

(ছ) অনুমোদিত গবেষণা কার্যক্রমসমূহের অগ্রগতি পরিদর্শন, পরিবীক্ষণ/পর্যালোচনা, বাস্তবায়ন ও সমন্বয় সাধনে গবেষণা ব্যবস্থাপনা কমিটি গবেষণা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর প্রতি তিন মাস অন্তর কমপক্ষে একবার সভায় মিলিত হবে। প্রয়োজনে কমিটি যে-কোনো সময় সভা আহবান করতে পারবে;

+(জ) গবেষণা ব্যবস্থাপনা কমিটির কোনো কর্মকর্তা কোনো গবেষণা দলে অন্তর্ভুক্ত থাকলে, তিনি নিজ দলের গবেষণা প্রস্তাব যাচাই, নির্বাচন ও মূল্যায়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না;

**(ঝ) কমিটির সভায় ৫০% এর বেশি সদস্য উপস্থিত হলে কোরাম পূর্ণ হয়েছে মর্মে গণ্য হবে।

২.৩ গবেষণা ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্মানী

গবেষণা ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যগণের সম্মানি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্ধারণ করা যাবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা খাতের বরাদ্দ হতে উক্ত সম্মানির ব্যয় নির্বাহ করা হবে।

২.৪ গবেষণা কার্যক্রমের অনুমোদন ও বাস্তবায়ন

(ক) সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গবেষণা কমিটির সুপারিশসমূহ চূড়ান্ত অনুমোদন দিবেন এবং বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন;

(খ) অনুমোদিত গবেষণা প্রস্তাবসমূহের সংশ্লিষ্ট বাজেট ব্যয় বিভাজন উল্লেখপূর্বক বাজেট ও অডিট শাখা অফিস আদেশ জারি করবে। 

২.৫ গবেষণার ক্ষেত্র

(ক) প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষামূলক কার্যক্রম;

(খ) মানসম্মত শিক্ষা, গ্লোবাল সিটিজেনশীপ এডুকেশন, মনিটরিং এভ্যুলেশন ও শিক্ষক কার্যক্রম;

(গ) প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিখন-শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল, শিক্ষা উপকরণ, সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম;

(ঘ) প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক;

(ঙ) প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার;

(চ) শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন, প্রভাব, মনিটরিং ও মূল্যায়ন;

(ছ) ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী শিশু, পথশিশু ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত শিশুর শিখন-শেখানো কার্যক্রম;

(জ) অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ও জেন্ডার সংবেদনশীলতা;

(ঝ) জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে আলোচিত প্রাক-প্রাথমিক এবং প্রাথমিক স্তরের শিখনঘাটতি, পরিবর্তনশীল প্রবণতা ইত্যাদি বিষয়ক মৌলিক গবেষণা;

(ঞ) প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষামূলক সময়োপযোগী ও চাহিদাভিত্তিক অন্যান্য কার্যক্রম;

ট) কর্তৃপক্ষের সুপারিশক্রমে প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট যে কোনো বিষয়;

(ঠ) প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শেখার ফলাফল (Learning outcomes);

(ড) শিক্ষার্থীদের ভর্তি, উপস্থিতি ও ঝরে পড়া (Drop out) হার বিশ্লেষণ;

(ঢ) বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, পরিবেশ ও শিক্ষা উপকরণ উন্নয়ন;

(ণ) স্কুল ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি।

২.৬ বাজেট অনুসারে গবেষণা কার্যক্রমের ধরন

সংশ্লিষ্ট বাজেটের পরিধি অনুসারে নিম্নোক্ত তিন ধরণের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হবে:

(ক) ক-শ্রেণি: ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা হতে ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা পর্যন্ত;

(খ) খ-শ্রেণি: ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা হতে ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা পর্যন্ত;

(গ) গ-শ্রেণি: ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা হতে ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা পর্যন্ত।

তবে, কমিটির সুপারিশ সাপেক্ষে গবেষণা কার্যক্রমের আর্থিক পরিধি চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ পুনঃনির্ধারণ করতে পারবেন।

২.৭ গবেষণা কার্যক্রমের মেয়াদ

গবেষণা কার্যক্রমের মেয়াদ হবে ০১ (এক) বছর (১লা জুলাই হতে ৩০ শে জুন)।

২.৮ গবেষণা প্রস্তাব আহ্বান, অনুমোদন ও বাস্তবায়নের সময়সূচি

(ক) গবেষণা প্রস্তাব গ্রহণ: প্রতি বছর মার্চ মাসের মধ্যে;

(খ) গবেষণা প্রস্তাব বাছাই ও সুপারিশ চূড়ান্তকরণ: ৩১ মে;

(গ) গবেষণা প্রস্তাব অনুমোদন ও আদেশ জারি: ১৫ জুন;

(ঘ) গবেষণাদল কর্তৃক গবেষণা: প্রস্তাব অনুযায়ী (১লা জুলাই হতে ৩০ শে জুন-এর মধ্যে);

(ঙ) খসড়া ফলাফলসহ সেমিনার আয়োজন: গবেষণাপত্র দাখিলের ১৫ দিনের মধ্যে;

(চ) চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল: সেমিনার আয়োজনের ১৫ দিনের মধ্যে;

(ছ) হিসাব শাখায় বিল দাখিল: মে মাসের মধ্যে;

(জ) চূড়ান্ত হিসাব বিবরণী মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ: ১৫ জুন;

উপর্যুক্ত সময়সীমা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে হ্রাস-বৃদ্ধি করতে পারবে।

২.৯ গবেষকের যোগ্যতা ও শর্তাবলী:

(ক) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন দপ্তর/সংস্থায় কর্মরত ৯ম বা তদুর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তা এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ গবেষণা কর্মে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

(খ) গবেষণাদলে আবশ্যিকভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন উপযুক্ত সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। 

(গ) কর্তৃপক্ষ বিশেষ প্রয়োজনে স্বীকৃত গবেষণা প্রতিষ্ঠান/বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্ধারিত বিষয়ের উপর গবেষণা পরিচালনার জন্য আহ্বান করতে পারবে।

পশিক্ষা

বাংও সর

গবেষণা প্রস্তাবের কাঠামো

গবেষণা প্রস্তাবে প্রধানত নিম্নলিখিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে-

(ক) ভূমিকা;

(খ) গবেষণা সমস্যা;

(গ) গবেষণার যৌক্তিকতা;

(ঘ) গবেষণার উদ্দেশ্য;

(ঙ) গবেষণার পরিধি;

(চ) গবেষণা পদ্ধতি (বিশদ বিবরণসহ);

(ছ) বিশ্লেষণ/উপাত্ত উপস্থাপন পরিকল্পনা;

(জ) কর্মপরিকল্পনা/সময়সীমা;

(ঝ) বাজেট বিভাজন;

(ঞ) গবেষণা পরিচালক/গবেষক, সহ-গবেষক (গণ)-এর জীবনবৃত্তান্ত।

২.১১ গবেষণা কার্যক্রম পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন

(ক) গবেষণা ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রতিটি গবেষণা পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করবেন। প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে অন্তর্ভূক্ত করবেন;

(খ) উক্ত মূল্যায়নকারীগণ গবেষণা প্রস্তাবে বর্ণিত উদ্দেশ্য ও পরিধির আলোকে গবেষণা কার্যক্রম পরিবীক্ষণ এবং মধ্যবর্তী ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন মূল্যায়ন করবেন। গবেষণা কার্যক্রম পরিবীক্ষণের জন্য গবেষণা মূল্যায়নকারীগণ গবেষকগণকে তথ্য, ছবি, ভিডিও ক্লিপ ও তথ্যসূত্র সংযুক্ত করার নির্দেশনা প্রদান করতে পারবেন।

২.১২ গবেষণার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা

(ক) চূড়ান্ত গবেষণা প্রতিবেদনসমূহ পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে এক বা একাধিক গবেষণা সেমিনার আয়োজন করা হবে।

(খ) গবেষণা কমিটিতে উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট গবেষক গবেষণা প্রতিবেদন ০৫ (পাঁচ) কপি (কমপক্ষে) হার্ডকপি এবং সফটকপি দাখিল করবেন।

২.১৩ গবেষণা প্রতিবেদনের স্বত্ব

(ক) সকল গবেষণা প্রতিবেদনের স্বত্ব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সংরক্ষিত থাকবে। তবে, গবেষক কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে তা অন্য কোথাও প্রকাশ করতে পারবেন।

(খ) গবেষণা ফলাফলের ও সুপারিশের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণে গবেষণালব্ধ ফলাফল/তথ্য/প্রতিবেদন বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হবে। যেমন: সেমিনার ও ওয়ার্কশপ, প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ, ওয়েবসাইটে প্রকাশ ইত্যাদি;  

(গ) গবেষণার একটি করে কপি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষণ করা হবে।

মোঃ শামছুল ত উপসচিব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

শিবেষণার একটি করে কপি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষণ করা হবে।

তৃতীয় অধ্যায়: গবেষণা কার্যক্রমের আর্থিক ব্যবস্থাপনা

তহবিলের উৎস

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিচালন বাজেটের অনুকূলে শ্রেণিবিন্যাস চার্টে বিদ্যমান '৩২৫৭১০৩-গবেষণা' খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ।

৩.২ গবেষণার বাজেট বিভাজন

গবেষণার বাজেট বিভাজনে নিম্নলিখিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে:

(ক) গবেষকবৃন্দের সম্মানী;

(খ) গবেষণা কাজে সম্পৃক্তদের প্রশিক্ষণ;

(গ) গবেষণা সহায়তা ব্যয়: গবেষণার টুলস ক্রয়, মুদ্রণ, তথ্যসংগ্রহ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং খসড়া ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত, যাতায়াত ও দৈনিক ভাতা স্টেশনারি ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় জ্বালানি তেল ক্রয় ইত্যাদি।

৩.৩ গবেষণা কার্যক্রমের অর্থ প্রদান, হিসাব সংরক্ষণ ও সমন্বয়করণ

(ক) অনুমোদিত গবেষণা প্রস্তাবনা/প্রস্তাবনাসমূহের অনুকূলে ৫০% অগ্রিম অর্থ প্রদান ও অবশিষ্ট ৫০%

গবেষণা কার্যক্রম সম্পন্ন করে চূড়ান্ত বিল দাখিল সাপেক্ষে পরিশোধ করা হবে।

(খ) মন্ত্রণালয়ের হিসাব শাখা গবেষণা সংশ্লিষ্ট সকল বিল-ভাউচারসমূহ নীরিক্ষার জন্য সংরক্ষণ করবে।

৩.৪ গবেষণা কার্যক্রমে নিয়োজিত গবেষকদের লিখিত অঙ্গীকার দাখিল

(ক) গবেষণা কার্যক্রমে নিয়োজিত গবেষকবৃন্দ মন্ত্রণালয়কে এই মর্মে লিখিত অঙ্গীকার দাখিল করবেন যে তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ে গবেষণার কাজ সম্পাদন করবেন এবং কোনো কারণে গবেষণা অসম্পূর্ণ রেখে গবেষণা থেকে অব্যাহতি নিলে গৃহীত সম্মানি মন্ত্রণালয়কে ফেরত প্রদান করতে বাধ্য থাকবেন;

(খ) গবেষণায় পরিচালিত কার্যক্রম এবং প্রকাশিত ফলাফল/মতামত/সুপারিশের দায় একান্তভাবে গবেষকবৃন্দের নিজস্ব, এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় কোনো দায়দায়িত্ব বহন করবে না- এই মর্মে লিখিত অঙ্গীকার গ্রহণ করতে হবে; এবং

(গ) অনুমোদিত গবেষণায় নিয়োজিত গবেষক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গবেষণা কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। কোনো কারণে গবেষণা কমিটির সভা আয়োজনে বিলম্ব হলে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে।

৩.৫ অডিট আপত্তি নিষ্পত্তীকরণ

কোনো গবেষণা কার্যক্রমে হিসাবসংক্রান্ত ব্যয়ে অডিট আপত্তি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট গবেষকগণ অডিট আপত্তি নিষ্পত্তীকরণের জন্য দায়ী থাকবেন। এক্ষেত্রে হিসাব শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিবেন। অডিট আপত্তি এবং অর্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সরকারি আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণপূর্বক নিষ্পন্ন করতে হবে।

চতুর্থ অধ্যায়: বিবিধ

তন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার (ক) একজন গবেষক একই অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিচালিত কেবল একটি গবেষণায় সম্পৃক্ত হতে পারবেন;

(খ) গবেষণা প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন প্রাপ্তির পর কোনো গবেষণা দল অপারগতা প্রকাশ করিলে পরবর্তী দুই অর্থ বৎসর তাঁরা কোনো গবেষণা প্রস্তাব দাখিল করতে পারবেন না;

(গ) গবেষণা দলের সদস্যগণ নিজে অথবা আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে দিনভিত্তিতে তথ্য সংগ্রাহকের মাধ্যমে তথা সংগ্রহ করিতে পারবেন। এইক্ষেত্রে দিনভিত্তিক সম্মানি প্রদান করা যাবে;

(ঘ) গবেষণা দল গবেষণা শেষে দশ কপি প্রতিবেদন গবেষণা কমিটির আহবায়ক বরাবর জমা দিবে;

(ঙ) গবেষণা চলাকালীন গবেষণা দল প্রতি মাসের অগ্রগতি প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের ০৫ তারিখের মধ্যে এই নীতিমালার পরিশিষ্ট 'ক' ছকে গবেষণা মূল্যায়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়কের নিকট দাখিল করবে;

(চ) গবেষণা দলের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম কিংবা অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ উত্থাপিত হইলে কর্তৃপক্ষ সেই বিষয়ে তদন্তক্রমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে;

(ছ) বাজেট ও অডিট শাখা কমিটিসমূহকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে;

(জ) গবেষণা কাজে কোন জটিলতা/প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলে উপসচিব (বাজেট ও অডিট) বিষয়টি অবিলম্বে গবেষণা মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উপস্থাপন করবেন এবং কমিটির সুপারিশের আলোকে বিষয়টি নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করবেন;

(ঝ) এই নীতিমালার বর্ণিত কোন বিষয়ে কোন প্রশ্ন উত্থাপন হলে বা কোন প্রকার জটিলতা তৈরি হলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হবে;

(ঞ) এ নীতিমালার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনবোধে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক এ নীতিমালার সংশোধন/পরিবর্তন/পরিমার্জন করতে পারবেন।










PDF Download

No comments

Your opinion here...

Theme images by fpm. Powered by Blogger.