ad

চাকরিজীবী ও আউটসোর্সিং কর্মীদের জন্য সুখবর, পেনশন স্কিমে বড় সংশোধন

Views

 


চাকরিজীবী ও আউটসোর্সিং কর্মীদের জন্য সুখবর, পেনশন স্কিমে বড় সংশোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ৭ জুন ২০২৫

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আকর্ষণীয় করতে নতুন সংশোধনী জারি করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩-এর আওতায় প্রণীত সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিধিমালা, ২০২৩-এ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় রবিবার (৭ জুন ২০২৫) প্রকাশিত এ প্রজ্ঞাপনে আউটসোর্সিং কর্মীদের জন্য নতুন সুবিধা, পেনশনের অর্থের একটি অংশ এককালীন উত্তোলনের সুযোগ এবং ঋণ গ্রহণের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ সংশোধনী আনা হয়েছে।

আউটসোর্সিং কর্মীদের জন্য নতুন ‘প্রতি’ স্কিম

নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত কর্মীদের জন্য ‘প্রতি’ নামে একটি নতুন স্কিম চালু করা হয়েছে। আউটসোর্সিং সেবাগ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫-এর আওতায় সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকরা এই স্কিমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

এই স্কিমের আওতায় মাসিক চাঁদা ন্যূনতম ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান চাইলে এর চেয়ে বেশি চাঁদা নির্ধারণ করতে পারবে। কর্মী চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ বা চাকরিচ্যুত হওয়ার পরও স্কিমের সুবিধা অব্যাহত থাকবে। তবে পুনরায় নিয়োগ পেলে এককালীন বা কিস্তিতে প্রাপ্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

পেনশনের ৩০ শতাংশ এককালীন উত্তোলনের সুযোগ

সংশোধিত বিধিমালায় নতুন একটি সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে একজন চাঁদাদাতা পেনশনযোগ্য বয়সে পৌঁছানোর পর জমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এককালীন উত্তোলন করতে পারবেন। অবশিষ্ট অর্থের ভিত্তিতে মাসিক পেনশন নির্ধারণ করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবসরের পর বড় ধরনের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে এই সুবিধা অংশগ্রহণকারীদের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

ঋণ সুবিধাও পাচ্ছেন অংশগ্রহণকারীরা

প্রথমবারের মতো সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সদস্যদের জন্য ঋণ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এ সুবিধা পেতে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী—

  1. কমপক্ষে ২৪ মাস নিয়মিত চাঁদা প্রদান করতে হবে।

  2. অংশগ্রহণকারীর নিজস্ব জমাকৃত অর্থের পরিমাণ কমপক্ষে ১ লাখ টাকা হতে হবে।

  3. একটি ঋণ চলমান থাকলে নতুন ঋণের আবেদন করা যাবে না।

  4. গৃহীত ঋণের ওপর ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।

  5. ঋণের কিস্তি পরবর্তী মাস থেকে পরিশোধ শুরু করতে হবে।

সরকারের আশা, এই সুবিধা জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের সহায়তা করবে এবং পেনশন তহবিলের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াবে।

বিভিন্ন স্কিমে পেনশনের হার পুনর্নির্ধারণ

সংশোধিত বিধিমালায় প্রবাস, সুরক্ষা, প্রগতি ও নতুন ‘প্রতি’ স্কিমের জন্য মাসিক চাঁদা ও সম্ভাব্য পেনশনের হালনাগাদ হার প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রবাস স্কিম

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নির্ধারিত এই স্কিমে মাসিক ১,০০০ টাকা চাঁদা দিয়ে ৪২ বছর অবদান রাখলে মাসিক ৩৪ হাজার ৪৫৬ টাকা পেনশন পাওয়া যাবে। একইভাবে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিলে সম্ভাব্য পেনশন দাঁড়াবে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৫ টাকা।

সুরক্ষা স্কিম

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত সুরক্ষা স্কিমে মাসিক ৫ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে ৪২ বছর অবদান রাখলে সম্ভাব্য পেনশন হবে ১ লাখ ৭২ হাজার ২৭৯ টাকা।

প্রগতি স্কিম

বেসরকারি চাকরিজীবী ও স্বনিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য প্রগতি স্কিমে মাসিক ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে ৪২ বছর অবদান রাখলে সম্ভাব্য মাসিক পেনশন ৫ লাখ ১৬ হাজার ৮৩২ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

প্রতি স্কিম

আউটসোর্সিং কর্মীদের জন্য নতুন চালু হওয়া প্রতি স্কিমে মাসিক ৫০০ টাকা চাঁদা দিয়ে ৪২ বছর অবদান রাখলে সম্ভাব্য মাসিক পেনশন হবে ৮ হাজার ৬১৪ টাকা। আর মাসিক ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দিলে সম্ভাব্য পেনশন দাঁড়াবে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০৪ টাকা।

সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্য

অর্থ বিভাগ বলছে, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতা বৃদ্ধি এবং আরও বেশি মানুষকে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করাই এই সংশোধনীর মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এমন একটি বড় জনগোষ্ঠী প্রথমবারের মতো প্রাতিষ্ঠানিক পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আসবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এককালীন উত্তোলন, ঋণ সুবিধা এবং নতুন স্কিম সংযোজনের ফলে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর হয়ে উঠবে।

উপসংহার

বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশন স্কিমে এ সংশোধনীকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন সুবিধা ও সম্প্রসারিত কাঠামোর ফলে ভবিষ্যতে আরও বেশি নাগরিক এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন বলে আশা করছে সরকার।




pdf download 

No comments

Your opinion here...

Theme images by fpm. Powered by Blogger.