সরকারি অফিসে নতুন ২৩ নির্দেশনা: ডিজিটাল হাজিরা থেকে সোলার প্যানেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত
সরকারি অফিসে নতুন ২৩ নির্দেশনা: ডিজিটাল হাজিরা থেকে সোলার প্যানেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত
সচিব-সভার ২৩ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে কঠোর নির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারি দপ্তর ও কার্যালয়ের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব-সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধীনস্থ দপ্তর ও কার্যালয়কে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব-সভায় মোট ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২৫ অক্টোবর ২০২৬ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সচিব-সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় ও মনিটরিং শাখায় পাঠানোর নির্দেশ দেয়। সর্বশেষ ২৯ অক্টোবর ২০২৬ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে।
ডিজিটাল মেশিনে হাজিরা বাধ্যতামূলক
সচিব-সভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো—সকল সরকারি কর্মচারীর যথাসময়ে অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তর ও কার্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
কর্মচারীদের ডিজিটাল মেশিনে হাজিরা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের হাজিরার তথ্য একটি একক ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।
এর ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি আরও সহজে পর্যবেক্ষণ করা এবং কর্মঘণ্টার শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
সরকারি অফিসে সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ
সরকারি বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর আওতাধীন সব দপ্তর ও কার্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অগ্রগতির তথ্য প্রতি দুই মাস অন্তর বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠাতে হবে।
একই সঙ্গে সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং এ বিষয়ে পূর্বে জারি করা সরকারি নির্দেশনাগুলো বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
অফিস-আদালত পরিচ্ছন্ন রাখতে নিয়মিত প্রতিবেদন
সরকারি দপ্তর ও কার্যালয়ের নিজ নিজ অধিক্ষেত্র নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ের সব সরকারি দপ্তর ও সংস্থাকে প্রতি ১৫ দিন পরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে হবে।
পরবর্তী সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে, জেলা প্রশাসক বিভাগীয় কমিশনারের কাছে এবং বিভাগীয় কমিশনার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাবেন।
তদবির করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা
চাকরিসংক্রান্ত কোনো বিষয়ে কোনো সরকারি কর্মচারী নিজের পক্ষে অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির করালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি এ ধরনের তদবিরের বিস্তারিত তথ্য ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।
দাপ্তরিক কাজ ডি-নথিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ
সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রমকে আরও ডিজিটাল ও দ্রুততর করতে বাস্তবায়নযোগ্য সব দাপ্তরিক কার্যক্রম ডি-নথির মাধ্যমে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে দাপ্তরিক তথ্যের গোপনীয়তা যথাযথভাবে রক্ষা করতে হবে। প্রাপ্ত পত্রের বিষয়ে অযথা সময়ক্ষেপণ না করে সচিবালয় নির্দেশমালা অনুযায়ী পত্র ও নথি দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শূন্যপদ পূরণ ও অপ্রয়োজনীয় পদ বিলুপ্তি
সরকারি দপ্তরগুলোর জনবল ব্যবস্থাপনায়ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শূন্যপদ পূরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
অন্যদিকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেসব পদ অপ্রয়োজনীয় বা বিলুপ্তিযোগ্য, সেসব পদ বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি পদ সৃজন, বিলুপ্তি, গ্রেড উন্নীতকরণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিটি ক্যাডারের পদের সঠিক হিসাব সংবলিত বার্ষিক প্রতিবেদন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার নির্দেশ রয়েছে।
সেবা নিতে এসে হয়রানি নয়
সেবা প্রত্যাশীদের যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সকল সরকারি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থাকে বিনা হয়রানিতে যথাযথভাবে সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
সরকারি অফিসের সাংগঠনিক কাঠামো হালনাগাদ
সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থাকে নিজ নিজ সাংগঠনিক কাঠামো হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হালনাগাদ প্রতিবেদন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে এবং প্রতি তিন মাস অন্তর এ সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রেরণ করতে হবে।
সরকারি জমি ও আইনি বিরোধ নিষ্পত্তিতে গুরুত্ব
আন্তঃসরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর ভূমি ও আইনি বিরোধ যথাযথ প্রক্রিয়ায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনে এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সহায়তা নিতে হবে।
বিশেষভাবে বলা হয়েছে, এক সরকারি অফিস কর্তৃক অন্য সরকারি অফিসের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রবণতা পরিহার করতে হবে।
এ ছাড়া সরকারি জমি বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রেও সময়োপযোগী ও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
অধিগ্রহণ করা জমি সরকারি সংস্থার নামে নামজারি
মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অধীন অফিস কিংবা সংস্থার অনুকূলে অধিগ্রহণ করা জমি সংশ্লিষ্ট অফিস বা সংস্থার নামে গেজেটভুক্ত ও নামজারি করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ
একাধিক কর্মস্থলে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে—এমন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রত্যেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রে নিয়ম মানতে হবে
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সারসংক্ষেপ পাঠানোর সময় গোপনীয়তা ও নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রে Rules of Business, 1996-এর Rule 16 ও Rule 19 বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভার কমপক্ষে চার কার্যদিবস আগে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে হবে।
ক্রয় প্রস্তাবে অর্থের সংস্থান না থাকলে অনুমোদনের জন্য পাঠানো যাবে না
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত প্রস্তাব তৈরির ক্ষেত্রে PPR, 2025-এর তফসিল-৭-এ বর্ণিত নমুনা ছক অনুসরণ করতে হবে।
এ ছাড়া অর্থের সংস্থান নেই—এমন কোনো ক্রয় প্রস্তাব বা ভেরিয়েশন প্রস্তাব সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বিবেচনার জন্য উপস্থাপন বা প্রেরণ করা যাবে না।
মাঠ পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ
বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কমিটিগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্গঠন করতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
একই কর্মকর্তার বারবার বিদেশ ভ্রমণে নিরুৎসাহ
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণ নিয়েও নির্দেশনা এসেছে। একই কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বারবার বিদেশ ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করতে বলা হয়েছে।
সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকি বাড়াতে হবে
সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে তদারকি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকার সময়ে সময়ে যেসব নির্দেশনা প্রদান করে, সেগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরেও বাস্তবায়নের নির্দেশ
সচিব-সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষা খাতও এর আওতাভুক্ত হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ২৯ অক্টোবর ২০২৬ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।
অধিদপ্তরের পত্রে সচিব-সভার সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের পাশাপাশি এর অগ্রগতি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় ও মনিটরিং শাখায় পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সার্বিকভাবে কী পরিবর্তন আসতে পারে?
সচিব-সভার এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সরকারি অফিস ব্যবস্থাপনায় কয়েকটি ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা;
ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থার বিস্তার;
হাজিরার তথ্য একক ড্যাশবোর্ডে পর্যবেক্ষণ;
সরকারি অফিসে সোলার প্যানেল স্থাপন;
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় ও অপচয় রোধ;
দাপ্তরিক কাজে ডি-নথির ব্যবহার বৃদ্ধি;
সরকারি সেবায় হয়রানি কমানো;
শূন্যপদ পূরণ ও অপ্রয়োজনীয় পদ বিলুপ্তির উদ্যোগ;
দুর্নীতির অভিযোগে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিতকরণ;
সরকারি জমি ও মামলা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় বৃদ্ধি;
সরকারি প্রকল্পের তদারকি জোরদার এবং
মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর কার্যক্রমে আরও বেশি জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা।
অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব
সরকারের এই নির্দেশনায় শুধু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথাই বলা হয়নি; বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সোলার প্যানেল স্থাপনের ক্ষেত্রে দুই মাস অন্তর এবং সাংগঠনিক কাঠামোর ক্ষেত্রে তিন মাস অন্তর হালনাগাদ প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। একইভাবে উপজেলা পর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের প্রতিবেদন ১৫ দিন পরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ফলে সচিব-সভার এসব সিদ্ধান্ত শুধু নির্দেশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠ পর্যায়ে কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।
সারকথা, সরকারি অফিসে সময়ানুবর্তিতা, ডিজিটাল হাজিরা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, পরিচ্ছন্নতা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত দাপ্তরিক নিষ্পত্তি, নাগরিক সেবা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা বাড়াতেই সচিব-সভার ২৩ দফা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরগুলোর ওপর এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পড়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
সেকশন ২, মিরপুর, ঢাকা ১২১৬
www.dpe.gov.bd
স্মারক নং ৩৮.০১.০০০০.০০০.১০৭.৩৭.০০০১.২৬, ২১৭৮
তারিখ: ১৩কার্তিক ১৪৩৩ ২৯ অক্টোবর ২০২৫
বিষয়ঃ মন্ত্রীপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সচিব-সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন।
মন্ত্রীপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মন্ত্রিপষিদ বিভাগের সভাকক্ষে সচিব-সভা অনুষ্ঠিত হয়। সচিব-সভার সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক এর অগ্রগতি প্রতিবেদন ও মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় ও মনিটরিং শাখায় প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।
২। এমতাবস্থায়, বর্ণিত পত্রের মর্মানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
সংযুক্ত: ০২ (দুই) পাতা।
স্বাক্ষরিত
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন
সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন)
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
সমন্বয় ও মনিটরিং শাখা
বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।
www.mopme.gov.bd
নং-৩৮.০০.০০০০.০০৫.১৬.০০৩.১৯-২৪-৬৩৮
তারিখ: ০৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বিষয়: মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সচিব-সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন।
সূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের পত্র নং ০৪,০০,০০০০,০০০,৭১২.০৬,০০০৩.২৬.৭০।
উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মহোদয়ের সভাপতিত্বে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ অনুষ্ঠিত সচিব-সভার পত্রের ছায়ালিপি এতদসঙ্গে প্রেরণ করা হলো।
০২। এমতাবস্থায়, সচিব-সভার সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক এর অগ্রগতি প্রতিবেদন এ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় ও মনিটরিং শাখায় প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
সংযুক্তি: বর্ণনা মোতাবেক।
স্বাক্ষরিত
(সত্যজিত রায় দাশ)
সিনিয়র সহকারী সচিব
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
প্রশাসনিক উন্নয়ন ও সমন্বয়-২ শাখা
www.cabinet.gov.bd
নং-০৪.০০.০০০০.০০০.৭১২.০৬.০০০৩.২৬.৭০
তারিখ: ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিষয়: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ অনুষ্ঠিত সচিব-সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মহোদয়ের সভাপতিত্বে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ, মঙ্গলবার, বিকাল ৪:৩০ মিনিটে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সচিব-সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় নিম্নরূপ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়:





No comments
Your opinion here...