ad

জাতীয় পতাকা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

Views

 


জাতীয় পতাকা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

জাতীয় পতাকা ব্যবহারে কঠোর নির্দেশনা: অফিস কক্ষের সাজসজ্জা বা পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় পতাকার যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। জাতীয় পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিধি শাখা থেকে গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিটির স্মারক নম্বর ০৪.০০.০০০০.০০০.৪২৩.২২.০০০৯.২৬.১৪১। এতে স্বাক্ষর করেন উপসচিব শারমিন ইয়াসমিন।

যেসব অনিয়ম নজরে এসেছে

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা বা ব্যক্তি জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অধিকারী বা যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অফিস কক্ষে চেয়ার বা সোফার পেছনে খুঁটিতে খাড়াভাবে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করছেন।

এ ধরনের ব্যবহার জাতীয় পতাকার প্রচলিত বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সার্বক্ষণিক জাতীয় পতাকা রাখা যাবে না

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ অনুযায়ী মোটরগাড়ি, জলযান ও বিমান ছাড়া জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের সময়কাল সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

কিন্তু কিছু অফিসে নিয়মের বাইরে সার্বক্ষণিকভাবে জাতীয় পতাকা ঝুলিয়ে রাখার বিষয়টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ ধরনের ব্যবহার থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছে।

অফিসের সাজসজ্জায় জাতীয় পতাকা ব্যবহার নিষিদ্ধ

জাতীয় পতাকার সঠিক আকার, অনুপাত ও রঙ বজায় না রেখে অফিস কক্ষের অভ্যন্তরে সাজসজ্জা, অলংকরণ কিংবা ব্যক্তিগত বা দাপ্তরিক পটভূমি হিসেবে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিষয়টিও চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এ ধরনের ব্যবহার বাংলাদেশ জাতীয় সংগীত, পতাকা এবং প্রতীক আদেশ, ১৯৭২ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২-এর প্রত্যক্ষ লঙ্ঘন।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

চিঠিতে জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অধীনস্থ দপ্তর এবং সাংবিধানিক ও স্বশাসিত সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এক নজরে

  1. জাতীয় পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে।
  2. যোগ্যতা বা অধিকার না থাকলে অফিস কক্ষে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা যাবে না।
  3. চেয়ার বা সোফার পেছনে খুঁটিতে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
  4. মোটরগাড়ি, জলযান ও বিমান ছাড়া জাতীয় পতাকা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রদর্শনের বিধান রয়েছে।
  5. সার্বক্ষণিকভাবে জাতীয় পতাকা ঝুলিয়ে রাখা বিধিসম্মত নয়।
  6. জাতীয় পতাকার সঠিক আকার, অনুপাত ও রঙ বজায় রাখতে হবে।
  7. অফিসের সাজসজ্জা বা অলংকরণের উপকরণ হিসেবে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা যাবে না।
  8. ব্যক্তিগত বা দাপ্তরিক ছবি/ভিডিওর পটভূমি হিসেবেও জাতীয় পতাকার অনিয়মিত ব্যবহার করা যাবে না।
  9. জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সারকথা: জাতীয় পতাকা শুধু একটি প্রতীক নয়; এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয় ও সার্বভৌমত্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। তাই এর ব্যবহার, প্রদর্শন ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করার ওপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গুরুত্ব দিয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

বিধি শাখা

www.cabinet.gov.bd

স্মারক নম্বর: ০৪.০০.০০০০.০০০.৪২৩.২২.০০০৯.২৬.১৪১

তারিখ: ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ১১ অক্টোবর ২০২৬

বিষয়: জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন।

সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে যে, সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা/ব্যক্তি জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অধিকারী বা যোগ্য নন কিন্তু অফিস কক্ষে চেয়ার বা সোফার পেছনে খুঁটিতে খাড়াভাবে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করছেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ অনুযায়ী কেবল সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের বিধান রয়েছে (মোটরগাড়ি, জলযান ও বিমান ব্যতীত); কিন্তু কিছু অফিসে সার্বক্ষণিকভাবে জাতীয় পতাকা ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। এছাড়াও সঠিক আকার, অনুপাত ও রঙ বজায় না রেখে জাতীয় পতাকাকে অফিস কক্ষের অভ্যন্তরে সজ্জা, অলংকরণ বা ব্যক্তিগত/দাপ্তরিক পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশ জাতীয় সংগীত, পতাকা এবং প্রতীক আদেশ, ১৯৭২ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ এর প্রত্যক্ষ লঙ্ঘন।

২। এমতাবস্থায়, জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সং ও মর্যাদা প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাঁর অধীনস্ত দপ্তর এবং সাংবিধানিক স্বশাসিত সংস্থাকে নির্দেশনা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

স্বাক্ষরিত

শারমিন ইয়াসমিন 

উপসচিব। 


No comments

Your opinion here...

Theme images by fpm. Powered by Blogger.