ad

এক দাগে ব্যক্তি ও খাস জমি থাকলে আলাদা করে নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের নির্দেশ

Views

 


এক দাগে ব্যক্তি ও খাস জমি থাকলে আলাদা করে নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একই দাগের জমির একাংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং অন্যাংশ খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট হলে ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশ পৃথকভাবে চিহ্নিত করে নামজারি অনুমোদন ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমির সীমানা নির্ধারণ করে ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশ আলাদাভাবে শনাক্ত করতে হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের আইন-৩ শাখা থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রটির নম্বর ৩১,০০,০০০০,০০০,০৪৪,৬৮,০০০৩.২১,৯০ এবং তারিখ ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ / ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। পরিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ।

কেন এই নির্দেশনা

ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই দাগের একটি অংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং অপর অংশ খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির নামজারি আবেদন গ্রহণ, অনুমোদন এবং ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা হচ্ছে না। মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় এ ধরনের পরিস্থিতি কাম্য নয়।

এ কারণে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশ নির্ধারণ করে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি পৃথকভাবে চিহ্নিত করার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

কীভাবে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি পৃথক করা হবে

পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো দাগ বা একাধিক দাগে খাস/সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমি এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি একসঙ্গে থাকলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তা পৃথকভাবে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করবেন।

এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা—

  1. সাবেক ও হাল রেকর্ড;

  2. দাগসূচি;

  3. মৌজা ম্যাপ;

  4. মালিকানার ধারাবাহিকতা;

  5. সংশ্লিষ্ট মালিকদের দলিলাদি

পর্যালোচনা করবেন।

তবে শুধু কাগজপত্র পর্যালোচনাই যথেষ্ট নয়। মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির পৃথকীকরণ সরেজমিন ও বাস্তবভিত্তিকভাবে করতে হবে।

নামজারি আবেদনের পর সরেজমিন তদন্ত

নামজারির আবেদন সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে দাখিল করার পর সংশ্লিষ্ট ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বা ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবেন।

এরপর তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাঁর আওতাধীন কানুনগো/সার্ভেয়ার দিয়ে সরেজমিন তদন্তের ব্যবস্থা করবেন। এ সময় স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উপস্থিতিতে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে হবে।

এ প্রক্রিয়ায় যৌথ স্বাক্ষরিত খণ্ড নকশা প্রস্তুত করে প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজন হলে শুনানিও গ্রহণ করা যাবে।

এরপর রেকর্ড, দাগসূচি, মৌজা ম্যাপ, মালিকানার ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট দলিলাদি পর্যালোচনা করে ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশের নামজারি অনুমোদন ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে।

আলাদা বিবিধ মামলা কখন প্রয়োজন হবে না

পরিপত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নামজারি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জমি পৃথকীকরণ করা হলে আলাদা বিবিধ কেস নথি সৃজনের প্রয়োজন হবে না। ওই পৃথকীকরণের কার্যক্রম নামজারি প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে সম্পন্ন হবে।

তবে নামজারি ছাড়া সরকারি স্বার্থে অথবা সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিকের আবেদনের ভিত্তিতে জমি পৃথকীকরণের প্রয়োজন হলে আলাদা বিবিধ কেস নথি সৃজন করতে হবে।

সরকারি জমিতে নামজারি থেকে কোনো মালিকানা সৃষ্টি হবে না

পরিপত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হলো, ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির জন্য সম্পাদিত নামজারি শুধু তফসিলে বর্ণিত ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

সংশ্লিষ্ট দাগ বা খতিয়ানের অবশিষ্ট খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমির ওপর ওই নামজারির মাধ্যমে সৃজিত খতিয়ানের মালিক বা মালিকদের কোনো—

স্বত্ব, মালিকানা, দখল বা অন্য কোনো আইনগত অধিকার সৃষ্টি হবে না।

অর্থাৎ, একই দাগের সরকারি অংশ নামজারির আওতার বাইরে থাকবে।

এ ছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশের নামজারি অনুমোদনের সময় সংশ্লিষ্ট দাগের মধ্যে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশ রয়েছে—এ বিষয়টি সৃজিত খতিয়ানের মন্তব্য কলামে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

আদালতে মামলা থাকলে কী হবে

সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকলে অথবা আদালতের কোনো রায় বা আদেশ বিদ্যমান থাকলে তা বিবেচনায় নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

আদালতের আদেশের মাধ্যমে কোনো স্বত্ব নির্ধারিত হলে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে হবে।

ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন সিস্টেমেও পরিবর্তন

নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা নতুন ফিচার সংযোজনের ব্যবস্থা নিতে প্রকল্প পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে ভবিষ্যতে একই দাগের ব্যক্তি মালিকানাধীন ও সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশ পৃথকভাবে চিহ্নিতকরণ এবং নামজারি কার্যক্রমকে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় আরও সুস্পষ্টভাবে পরিচালনা করার সুযোগ তৈরি হবে।

নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর

ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসগুলোকে নির্দেশনাটি অনুসরণ করে একই দাগে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমির ক্ষেত্রে পৃথকীকরণ, নামজারি এবং ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

সারকথা: একই দাগের জমির একটি অংশ সরকারি এবং অন্য অংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন হলেই পুরো দাগের নামজারি আটকে রাখার পরিবর্তে এখন সরকারি অংশের সীমানা নির্ধারণ করে ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশের নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে নামজারির মাধ্যমে সরকারি অংশের ওপর কোনো মালিকানা বা আইনগত অধিকার সৃষ্টি হবে না।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার 

ভূমি মন্ত্রণালয়

আইন-৩ শাখা

বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা

www.minland.gov.bd

নম্বর: ৩১,০০,০০০০,০০০,০৪৪,৬৮,০০০৩.২১,৯০

তারিখ: ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরিপত্র

বিষয়: এক বা একাধিক দাগের আংশিক ভূমি ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং আংশিক ভূমি খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট হলে ভূমির সীমানা নির্ধারণপূর্বক ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমির নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়।

লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, এক বা একাধিক দাগের আংশিক ভূমি ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং আংশিক ভূমি খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট হলে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমির নামজারি আবেদন গ্রহণ, অনুমোদন ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা হচ্ছেনা যা কোনক্রমেই কাম্য নয়।

২। এ পরিপ্রেক্ষিতে কোনো দাগের আংশিক ভূমি ব্যক্তি মালিকানাধীন ও আংশিক ভূমি খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট হলে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভূমির সীমানা নির্ধারণপূর্বক ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি পৃথক করা এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমির নামজারি আবেদন গ্রহণ, অনুমোদন ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো:

(ক) এক বা একাধিক দাগে খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভূমি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমি একত্রে থাকলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তা পৃথকভাবে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করবেন। এক্ষেত্রে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবেক ও হাল রেকর্ড, দাগসূচি, মৌজা ম্যাপ, মালিকানার ধারাবাহিকতা ও বিবেচ্যদাগ সংশ্লিষ্ট মালিকগণের দলিলাদি পর্যালোচনান্তে খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভূমি পৃথকভাবে চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। উক্তরূপ পৃথকীকরণ অবশ্যই সরেজমিন/বাস্তবভিত্তিক করতে হবে।

(খ) সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নিকট নামজারি আবেদন দাখিলের পর সংশ্লিষ্ট ভূমি সহকারী কর্মকর্তা/ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাঁর আওতাধীন কানুনগো/সার্ভেয়ার দ্বারা সরেজমিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষগণের উপস্থিতিতে তদন্তপূর্বক সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভূমি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমি আলাদাভাবে চিহ্নিত করে যৌথ স্বাক্ষরিত খন্ড নকশা প্রস্তুতপূর্বক প্রতিবেদন সংগ্রহ, প্রয়োজনে শুনানি গ্রহণ, সাবেক ও হাল রেকর্ড, দাগসূচি, মৌজা ম্যাপ, মালিকানার ধারাবাহিকতা ও বিবেচ্য দাগসংশ্লিষ্ট মালিকগণের দলিলাদি, ইত্যাদি পর্যালোচনান্তে ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমির নামজারি আবেদন অনুমোদন ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করবেন।

(গ) যে ক্ষেত্রে নামজারির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পৃথকীকরণ করা হবে সেক্ষেত্রে পৃথক বিবিধ কেস নথি সৃজনের প্রয়োজন হবে না এবং উক্তরূপ কার্যাদি নামজারির অংশ হবে। নামজারি ব্যতীত সরকারি স্বার্থে বা সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে পৃথকীকরণের প্রয়োজন হলে আলাদা বিবিধ কেস নথি সৃজন করতে হবে।

(ঘ) ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমির জন্য সম্পাদিত নামজারি কেবল তফসিলে বর্ণিত ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশের জন্য প্রযোজ্য হবে। সংশ্লিষ্ট দাগ ও খতিয়ানের অবশিষ্ট খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভূমির উপর নামজারি মূলে সৃজিত খতিয়ানের মালিক বা মালিকগণের কোনো স্বত্ব/মালিকানা, দখল বা অন্য কোনো আইনগত অধিকার সৃষ্টি করবে না এবং উক্ত সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশ এই নামজারির আওতাবহির্ভূত থাকবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দাগের জমির মধ্যে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশ উল্লেখ করে ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশের জন্য নামজারি আবেদন অনুমোদন করা হলে তা সৃজিত খতিয়ানের মন্তব্য কলামে সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে।

(ঙ) সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভূমির বিষয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকলে অথবা আদালতের কোনো রায়/আদেশ বিদ্যমান থাকলে তা বিবেচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আদালতের আদেশের মাধ্যমে কোনো স্বত্ব নির্ধারিত হলে তা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার ও প্রচলিত আইন অনুসারে বাস্তবায়ন করতে হবে।

৩। প্রকল্প পরিচালক, ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প বর্ণিত নির্দেশনা বাস্তবায়নে সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনয়ন বা ফিচার সংযোজন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।


৪। জনস্বার্থে প্রদত্ত এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

স্বাক্ষরিত,

তারিখ: ২৭-০৯-২০২৬

এ এস এম সালেহ আহমেদ 

সিনিয়র সচিব 

ভূমি মন্ত্রণালয়।



No comments

Your opinion here...

Theme images by fpm. Powered by Blogger.