ad

সরকারি কর্মচারীদের অবসর সুবিধায় বড় পরিবর্তন, জানুন নতুন নিয়ম

Views

 


সরকারি কর্মচারীদের অবসর সুবিধায় বড় পরিবর্তন, জানুন নতুন নিয়ম

সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও অবসর সুবিধা পুনর্নির্ধারণ: কার্যকর ১ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

সরকারি কর্মচারীদের অবসরকালীন সুবিধা, পেনশন, আনুতোষিক, ছুটি নগদায়ন এবং পরিবারভিত্তিক পেনশন সুবিধা পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের প্রবিধি-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এসব সুবিধার বিস্তারিত কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে পুনর্নির্ধারিত সুবিধা কার্যকর হবে। আদেশটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে। ফলে ওই তারিখ থেকে পিআরএল (অবসর-উত্তর ছুটি) ভোগরত কর্মচারীরাও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এসব সুবিধা পাবেন।

৫ থেকে ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরিতে গ্রস পেনশনের হার

সরকারি কর্মচারীদের পেনশনযোগ্য চাকরিকাল বর্তমানে প্রচলিত ৫ থেকে ২৫ বছর বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ২১ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

পেনশনযোগ্য চাকরিকালগ্রস পেনশন নির্ধারণের হার
৫ বছর২১%
৬ বছর২৪%
৭ বছর২৭%
৮ বছর৩০%
৯ বছর৩৩%
১০ বছর৩৬%
১১ বছর৩৯%
১২ বছর৪৩%
১৩ বছর৪৭%
১৪ বছর৫১%
১৫ বছর৫৪%
১৬ বছর৫৭%
১৭ বছর৬৩%
১৮ বছর৬৫%
১৯ বছর৬৯%
২০ বছর৭২%
২১ বছর৭৫%
২২ বছর৭৯%
২৩ বছর৮৩%
২৪ বছর৮৭%
২৫ বছর ও তদূর্ধ্ব৯০%

৫ থেকে ২৪ বছরের পেনশন কখন প্রযোজ্য

প্রজ্ঞাপনে ৫ থেকে ২৪ বছর পেনশনযোগ্য চাকরিকালের পেনশন প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে কয়েকটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  1. নিয়মিতভাবে পেনশনযোগ্য চাকরির অবসান;

  2. সরকারি কর্মচারীর মৃত্যু;

  3. মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে অক্ষম বা Invalid ঘোষিত হওয়া;

  4. স্থায়ী পদ বিলুপ্তির কারণে ছাঁটাই এবং অন্য পদে আত্মীকরণ না হলে ক্ষতিপূরণ পেনশন;

  5. অবসর বা চাকরির অবসানের সময় কোনো বিচারিক বা বিভাগীয় কার্যক্রম চলমান থাকলে তা নিষ্পন্ন হওয়ার পর সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পেনশন ও অবসর সুবিধা প্রদান।

নিট পেনশনে বড় ধরনের পুনর্নির্ধারণ

প্রজ্ঞাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বর্তমান পেনশনভোগীদের নিট পেনশন পুনর্নির্ধারণ। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে মূল পেনশনভোগী যে নিট পেনশন পেতেন, সেটিকে ভিত্তি ধরে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে নতুন হার প্রযোজ্য হবে।

৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশনবৃদ্ধির হারসর্বনিম্নসর্বোচ্চ
৯,০০০ টাকা পর্যন্ত১০০%১০,০০০১৮,০০০ টাকা
৯,০০১–২০,০০০ টাকা৭৫%১৮,০০১৩৫,০০০ টাকা
২০,০০১–৩০,০০০ টাকা৬৫%৩৫,০০১৪৯,০০০ টাকা
৩০,০০১–৪০,০০০ টাকা৬০%৪৯,০০১৬২,০০০ টাকা
৪০,০০১ টাকা ও তদূর্ধ্ব৫৫%৬২,০০১৭০,২০০ টাকা

অর্থাৎ, বিদ্যমান নিট পেনশনের স্তর অনুযায়ী ৫৫ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ ৭০,২০০ টাকা নিট পেনশন

পুনর্নির্ধারিত কাঠামোতে সর্বোচ্চ নিট পেনশন ৭০,২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে কোনো বিদ্যমান পেনশনভোগী ইতোমধ্যে ৭০,২০০ টাকার বেশি নিট পেনশন উত্তোলন করলে তিনি পরবর্তী বার্ষিক বৃদ্ধি বা ১ জুলাই ২০২৭-এর আগে বিদ্যমান নিট পেনশনই পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আনুতোষিকের হার অপরিবর্তিত

সরকারি কর্মচারীদের আনুতোষিকের বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। চাকরিকালের ওপর ভিত্তি করে হারগুলো হলো—

  1. ৫ বছর বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ১০ বছরের কম: প্রতি টাকায় ২৬৫ টাকা

  2. ১০ বছর বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ১৫ বছরের কম: প্রতি টাকায় ২৬০ টাকা

  3. ১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ২০ বছরের কম: প্রতি টাকায় ২৪৫ টাকা

  4. ২০ বছর বা তদূর্ধ্ব: প্রতি টাকায় ২৩০ টাকা

৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মৃত্যু বা অক্ষম হলে বিশেষ আর্থিক সহায়তা

কোনো সরকারি কর্মচারী চাকরিতে ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্বাস্থ্যগত কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে অথবা মৃত্যুবরণ করলে বিশেষ আর্থিক সহায়তার বিধানও রাখা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে চাকরির মেয়াদের প্রতি বছর বা তার অংশবিশেষের জন্য কর্মচারী অথবা তাঁর পরিবার শেষ আহরিত ৩টি মূল বেতনের সমপরিমাণ হারে এককালীন বিশেষ আর্থিক সহায়তা পাবেন।

বিধবা স্ত্রী ও বিপত্নীক স্বামীর আজীবন পারিবারিক পেনশন

মৃত কর্মচারীর বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী পুনর্বিবাহ না করার শর্তে আজীবন পারিবারিক পেনশন পাবেন—বিদ্যমান এই বিধান বহাল রাখা হয়েছে।

পারিবারিক পেনশন ভোগের সময় পুনর্বিবাহ করেননি—এ মর্মে বছরে একবার অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে।

তবে ৫০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী বিধবার ক্ষেত্রে পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র দাখিলের শর্ত প্রযোজ্য হবে না।

অবসরের সময় ১৮ মাসের ছুটি নগদায়ন

অবসরকালীন সুবিধার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ছুটি নগদায়ন

অবসরকালে অর্জিত ছুটি পাওনা থাকা সাপেক্ষে একজন কর্মচারী সর্বোচ্চ ১৮ মাসের ছুটি নগদায়নের সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ, ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ছুটি নগদায়ন হিসেবে পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া PRL এবং ছুটি নগদায়নের ক্ষেত্রে—

২ দিনের অর্ধগড় বেতনের ছুটিকে ১ দিনের গড় বেতনের ছুটিতে রূপান্তর করা যাবে।

অবসরকালীন মূল বেতনের ভিত্তিতে এই নগদায়ন সুবিধা অবসর-উত্তর ছুটি শুরু হওয়ার সময় প্রাপ্য হবে। এমনকি কোনো কর্মচারী অবসর-উত্তর ছুটি ভোগ না করলেও এই আর্থিক সুবিধা প্রাপ্য হবেন।

১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিধান, আদেশ, স্মারক ও প্রজ্ঞাপনগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তিত বা সংশোধিত হয়েছে বলে গণ্য হবে।

বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ অনুযায়ী পেনশনভোগীদের নিট পেনশনের প্রাপ্যতা কার্যকর হবে।

জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে। একই তারিখ থেকে পিআরএল ভোগরত কর্মচারীরাও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুনর্নির্ধারিত সুবিধাগুলো পাবেন।

এক নজরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন

  1. 🔹 পেনশনযোগ্য চাকরিকাল: ৫–২৫ বছর বহাল
  2. 🔹 গ্রস পেনশন: সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের ২১%–৯০%
  3. 🔹 নিট পেনশন বৃদ্ধির হার: ৫৫%–১০০%
  4. 🔹 সর্বোচ্চ নির্ধারিত নিট পেনশন: ৭০,২০০ টাকা
  5. 🔹 আনুতোষিক: বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত
  6. 🔹 ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মৃত্যু/অক্ষমতা: বিশেষ এককালীন আর্থিক সহায়তা
  7. 🔹 বিধবা স্ত্রী/বিপত্নীক স্বামী: শর্তসাপেক্ষে আজীবন পারিবারিক পেনশন
  8. 🔹 ৫০ বছরের বেশি বয়সী বিধবা: পুনর্বিবাহ না করার প্রত্যয়ন দাখিলের শর্ত নেই
  9. 🔹 ছুটি নগদায়ন: সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মূল বেতন
  10. 🔹 কার্যকর: ১ জুলাই ২০২৬

প্রতিবেদনের ভিত্তি: অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের প্রবিধি-১ শাখার ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের প্রজ্ঞাপনে প্রদত্ত তথ্য।

বাংলাদেশ গেজেট

অতিরিক্ত সংখ্যা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ

প্রবিধি অনুবিভাগ

প্রবিধি-১ শাখা

প্রজ্ঞাপন

তারিখ: ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩/০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নং ০৭,০০,০০০০.০০০.১৭১.১৩.০০১৯.২৬-৮৫-সরকারি কর্মচারীগণের অবসরকালীন সুবিধাদি/ প্রাপ্যতা নিম্নরূপভাবে নির্ধারণ/পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে:-

(ক) পেনশনযোগ্য চাকরিকাল এবং পেনশনের পরিমাণ

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল বর্তমানে প্রচলিত ০৫-২৫ বছর এবং গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের ২১%-৯০% অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার নিম্নরূপ:

গ্রস পেনশন নির্ধারণ টেবিল

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ৫ বছর 

গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ২১%

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ৬ বছর

গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ২৪%

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ৭ বছর

গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ২৭%

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ৮ বছর

গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ৩০%

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ৯ বছর

গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ৩৩%


পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ১০ বছর

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ১১ বছর

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ১২ বছর

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ১৩ বছর

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ১৪ বছর

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ১৫ বছর

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ১৬ বছর

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ১৭ বছর

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ১৮ বছর

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ১৯ বছর

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ২০ বছর

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ২১ বছর

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ২২ বছর

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ২৩ বছর

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ২৪ বছর

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ২৫ বছর এবং তদূর্ধ্ব


গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ৩৬%

গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ৩৯%

গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ৪৩%

গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ৪৭%

গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ৫১%

গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ৫৪%

গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ৫৭%

গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ৬৩%

গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ৬৫%

গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ৬৯%

গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ৭২%

গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ৭৫%

গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ৭৯%

গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ৮৩%

গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ৮৭%

গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ৯০%

নোট: ৫-২৪ বছরের পেনশনযোগ্য চাকরিকালের পেনশন কেবল নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রাপ্য হবেন:-

(১) বিএসআর পার্ট-১ এর বিধি-৩৩৭ ও ৩৩৮ অনুযায়ী যে কোনো পেনশনযোগ্য চাকরির নিয়মিত অবসানে;

(২) একজন সরকারি কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে কিংবা বিএসআর পার্ট-১ এর বিধি-৩২১ অনুযায়ী সরকার কর্তৃক গঠিত মেডিকেল বোর্ড দ্বারা (শারীরিক ও মানসিক বৈকল্যের কারণে) স্থায়ীভাবে অক্ষম (Invalid) ঘোষিত হলে;

(৩) বিএসআর পার্ট-১ এর বিধি-৩০৮ অনুযায়ী স্থায়ীপদ বিলুপ্তির কারণে ছাঁটাই করা হলে এবং অন্য কোনো পদে আত্মীকরণ না হলে ক্ষতিপূরণ পেনশন প্রদানের ক্ষেত্রে; এবং

(৪) সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৫১ ধারার বিধান অনুসরণক্রমে কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে অবসরগ্রহণের সময় বা, ক্ষেত্রমত, চাকরির অবসান হওয়ার সময় সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত কোনো বিচারিক বা বিভাগীয় কার্যক্রম নিষ্পন্ন হওয়ার পর তাকে পেনশন ও অন্যান্য অবসর সুবিধাদি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে।

(খ) অবসরভোগীদের নিট পেনশন নির্ধারণ:

মূল পেনশনভোগীর প্রাপ্ত নিট পেনশনকে ভিত্তি ধরে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে মূল পেনশনভোগীদের নিট পেনশন নিম্নোক্ত সারণি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমাসহ নির্ধারিত হবে:

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য) সর্বনিম্ন-৯,০০০ টাকা

নিট পেনশন বৃদ্ধির হার (মূল পেনশনভোগীর জন্য) ১০০%

ন্যূনতম নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য) ১০,০০০ টাকা

সর্বোচ্চ নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য) ১৮,০০০ টাকা

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য) ৯,০০১-২০,০০০ টাকা

নিট পেনশন বৃদ্ধির হার (মূল পেনশনভোগীর জন্য) ৭৫%

ন্যূনতম নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য) ১৮,০০১ টাকা

সর্বোচ্চ নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য) ৩৫,০০০ টাকা

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য) ২০,০০১-৩০,০০০ টাকা

নিট পেনশন বৃদ্ধির হার (মূল পেনশনভোগীর জন্য) ৬৫%

ন্যূনতম নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য) ৩৫,০০১ টাকা

সর্বোচ্চ নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য) ৪৯,০০০ টাকা

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য) ৩০,০০১-৪০,০০০ টাকা

নিট পেনশন বৃদ্ধির হার (মূল পেনশনভোগীর জন্য) ৬০%

ন্যূনতম নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য) ৪৯,০০১ টাকা

সর্বোচ্চ নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য) ৬২,০০০ টাকা

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য) ৪০,০০১ ও তদূর্ধ্ব

নিট পেনশন বৃদ্ধির হার (মূল পেনশনভোগীর জন্য) ৫৫%

ন্যূনতম নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য) ৬২,০০১ টাকা

সর্বোচ্চ নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য) ৭০,২০০ টাকা


তবে শর্ত থাকে যে, যে সকল ক্ষেত্রে বিদ্যমান পেনশনভোগী ইতোমধ্যে ৭০,২০০ টাকার অতিরিক্ত নিট পেনশন উত্তোলন করছেন, সেক্ষেত্রে তিনি পরবর্তী বার্ষিক বৃদ্ধি (Increment)-এর (১ জুলাই ২০২৭) পূর্ব পর্যন্ত বিদ্যমান নিট পেনশনই পাবেন।

(গ) আনুতোষিকের হার:

নিম্নোক্ত ছক অনুযায়ী আনুতোষিকের বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত থাকবে:


১) পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ৫ বছর বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ১০ বছরের কম

আনুতোষিকের হার (প্রতি টাকায়) ২৬৫/-

২) পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ১০ বছর বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ১৫ বছরের কম

আনুতোষিকের হার (প্রতি টাকায়) ২৬০/-

৩) পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ২০ বছরের কম

আনুতোষিকের হার (প্রতি টাকায়) ২৪৫/-

৪) পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ২০ বছর বা তদূর্ধ্ব

আনুতোষিকের হার (প্রতি টাকায়) ২৩০/-


(ঘ) চাকরি পেনশনযোগ্য হওয়ার আগে স্বাস্থ্যগত কারণে অক্ষম হয়ে পড়া অথবা চাকরি পেনশনযোগ্য হওয়ার আগে মৃত্যুবরণকারী কর্মচারীকে/পরিবারকে এককালীন বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান:

একজন সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে যদি তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে অক্ষম হয়ে পড়েন অথবা তার মৃত্যু হয়, সেক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২০ ডিসেম্বর ১৯৭৭ তারিখের এম.এফ. (আই.ডি)-১-২/৭৭-৮৫৬ নম্বর অফিস স্মারকের ক্রমধারায় চাকরির মেয়াদের প্রতি বছর কিংবা তার অংশ বিশেষের জন্য তার শেষ আহরিত ৩ (তিন)টি মূল বেতনের সমপরিমাণ হারে তিনি অথবা তার পরিবার এককালীন বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রাপ্ত হবেন;

(ঙ) পেনশনারের বিধবা স্ত্রী/বিপত্নীক স্বামীর আজীবন পেনশন প্রাপ্যতা:

বর্তমানে প্রচলিত বিধান মতে মৃত কর্মচারীর বিধবা স্ত্রী/বিপত্নীক স্বামী পুনর্বিবাহ না করার শর্তে আজীবন পারিবারিক পেনশন পেয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে পারিবারিক পেনশন ভোগকালীন পুনর্বিবাহ করেননি মর্মে বছরে একবার অঙ্গীকার-নামা বা প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করবেন। তবে, বিধবা স্ত্রীর পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকার-নামা বা প্রত্যয়নপত্র দাখিলের শর্ত ৫০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী বিধবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না; এবং

(চ) ছুটি নগদায়ন:

অবসরকালে অর্জিত ছুটি পাওনা সাপেক্ষে ১৮ (আঠারো) মাসের ছুটি নগদায়ন অর্থাৎ ১৮ (আঠারো) মাসের মূলবেতনের সমপরিমাণ অর্থ প্রাপ্ত হবেন। অবসর-উত্তর ছুটি (PRL) এবং ছুটি নগদায়নের ক্ষেত্রে ০২ (দুই) দিনের অর্ধগড় বেতনের ছুটিকে ০১ (এক) দিনের গড় বেতনে ছুটিতে রূপান্তর (Conversion) করা যাবে। অবসরকালীন মূলবেতনের ভিত্তিতে উক্ত নগদায়ন সুবিধা অবসর-উত্তর ছুটির শুরুতে প্রাপ্য। অবসর-উত্তর ছুটি ভোগ না করলেও এ আর্থিক সুবিধা প্রাপ্য হবেন।

০২। বর্ণিত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধান, আদেশ, স্মারক, প্রজ্ঞাপন ইত্যাদি উপর্যুক্ত মর্মে পরিবর্তিত/সংশোধিত হয়েছে মর্মে গণ্য হবে। চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ অনুযায়ী পেনশনভোগীগণের নিট পেনশনের প্রাপ্যতা কার্যকর হবে।

০৩। জনস্বার্থে জারীকৃত এ আদেশ ০১ জুলাই ২০২৬ তারিখ হতে কার্যকর হয়েছে মর্মে গণ্য হবে। উক্ত তারিখ থেকে পিআরএল ভোগরত কর্মচারীগণও উক্ত পুনর্নির্ধারিত সুবিধাসমূহ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) প্রাপ্য হবেন।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে

ড. মোঃ ফেরদৌস আলম যুগ্মসচিব










PDF Download

No comments

Your opinion here...

Theme images by fpm. Powered by Blogger.