ad

নতুন পে স্কেল ২০২৬ অবশেষে জারি! কত বাড়বে বেতন, ভাতা ও পেনশন?

Views

 


নতুন পে স্কেল ২০২৬ অবশেষে জারি! কত বাড়বে বেতন, ভাতা ও পেনশন?

নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ জারি: ১ জুলাই থেকে কার্যকর, ২০২৭ সালে পূর্ণ বেতন—বাড়ি ভাড়া ও পেনশনেও বড় পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ থেকে জারি করা এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬ অনুযায়ী নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত এ আদেশে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণ, উচ্চতর গ্রেড, পেনশন, গ্রাচুইটি, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা সহায়ক, টিফিন, যাতায়াত ও মোবাইল ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিস্তারিত বিধান রাখা হয়েছে।

১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতনস্কেল

নতুন আদেশ অনুযায়ী ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রচলিত জাতীয় বেতনস্কেলের পরিবর্তে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ কার্যকর হবে। এতে ২০টি গ্রেডের জন্য নতুন বেতনসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন স্কেলে—

  1. গ্রেড-১: ১,৫৬,০০০ টাকা নির্ধারিত

  2. গ্রেড-২: ১,৩২,০০০–১,৫৩,০০০ টাকা

  3. গ্রেড-৩: ১,১৩,০০০–১,৪৮,৮০০ টাকা

  4. গ্রেড-৪: ১,০০,০০০–১,৪২,৪০০ টাকা

  5. গ্রেড-৫: ৮৬,০০০–১,৩৯,৭০০ টাকা

  6. গ্রেড-৬: ৭১,০০০–১,৩৪,০০০ টাকা

  7. গ্রেড-৭: ৫৮,০০০–১,২৬,৮০০ টাকা

  8. গ্রেড-৮: ৪৬,০০০–১,১০,৮০০ টাকা

  9. গ্রেড-৯: ৪৪,০০০–১,০৫,৯০০ টাকা

  10. গ্রেড-১০: ৩২,০০০–৭৭,৩০০ টাকা

  11. গ্রেড-১১: ২৫,০০০–৬০,৫০০ টাকা

  12. গ্রেড-১২: ২৪,৩০০–৫৮,৭০০ টাকা

  13. গ্রেড-১৩: ২৪,০০০–৫৮,০০০ টাকা

  14. গ্রেড-১৪: ২৩,৫০০–৫৬,৮০০ টাকা

  15. গ্রেড-১৫: ২২,৮০০–৫৫,২০০ টাকা

  16. গ্রেড-১৬: ২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা

  17. গ্রেড-১৭: ২১,৪০০–৫১,৯০০ টাকা

  18. গ্রেড-১৮: ২১,০০০–৫০,৯০০ টাকা

  19. গ্রেড-১৯: ২০,৫০০–৪৯,৬০০ টাকা

  20. গ্রেড-২০: ২০,০০০–৪৮,৪০০ টাকা।

এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন ১,৭২,০০০ টাকা এবং সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন ১,৬৪,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্ধিত বেতন একবারে পুরোপুরি নয়, ধাপে ধাপে

নতুন বেতনস্কেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো—বেতন বৃদ্ধির পুরো অর্থ একসঙ্গে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬:
৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারীরা নতুন বেতন ও বর্তমান বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম–২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ পাবেন।

১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭:
৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারীরা পার্থক্যের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম–২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ পাবেন।

১ জুলাই ২০২৭ থেকে:
বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ নতুন মূল বেতন শতভাগ কার্যকর হবে।

অর্থাৎ, নতুন বেতনস্কেলের পূর্ণ আর্থিক সুবিধা ১ জুলাই ২০২৭ থেকে কার্যকর হবে।

বকেয়া বেতন পাওয়ার সুযোগ

আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীরা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের বেতন বকেয়া হিসেবে প্রাপ্য হবেন।

তবে ইতোমধ্যে কোনো বিশেষ সুবিধা উত্তোলন করা হয়ে থাকলে নতুন আদেশের আওতায় প্রাপ্য বকেয়ার সঙ্গে তা সমন্বয় করতে হবে।

বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে প্রচলিত বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত হয়েছে বলে গণ্য হবে।

১ জুলাই ২০২৬ থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত যে বিশেষ সুবিধা উত্তোলন করা হয়েছে, তা নতুন আদেশ অনুযায়ী প্রাপ্য বকেয়া বেতন ও পেনশনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

তবে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে অবসর-উত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা অবসর-উত্তর ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত পূর্বের হারে বহাল থাকবে।

৮ বছর পূর্ণ হলে উচ্চতর গ্রেড

নতুন আদেশে উচ্চতর গ্রেডের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ৮ বছর পূর্ণ করলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৯ম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাবেন।

আবার প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ৬ বছর চাকরি করলে এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে ৭ম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

তবে এ সুবিধা ৪র্থ গ্রেড পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। একই পদে এ ধরনের আর্থিক সুবিধা সর্বোচ্চ দুইবার পাওয়া যাবে।

আগের বেতনস্কেলে একই পদে দুই বা ততোধিক সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন স্কেলে একই পদে পুনরায় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকবে।

পেনশনেও নতুন কাঠামো

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্যও নতুন ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পেনশন ও গ্রাচুইটির বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত থাকলেও নিট পেনশন বৃদ্ধির জন্য নতুন স্ল্যাব নির্ধারণ করা হয়েছে।

৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশনবৃদ্ধির হারসর্বনিম্ন নিট পেনশনসর্বোচ্চ নিট পেনশন
৯,০০০ টাকা পর্যন্ত১০০%১০,০০০১৮,০০০
৯,০০১–২০,০০০৭৫%১৮,০০১৩৫,০০০
২০,০০১–৩০,০০০৬৫%৩৫,০০১৪৯,০০০
৩০,০০১–৪০,০০০৬০%৪৯,০০১৬২,০০০
৪০,০০১ ও তদূর্ধ্ব৫৫%৬২,০০১৭০,২০০

তবে যেসব অবসরভোগী ইতোমধ্যে ৭০,২০০ টাকার বেশি নিট পেনশন পাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পরবর্তী বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত বিদ্যমান নিট পেনশন বহাল থাকবে।

পেনশন বৃদ্ধিও ধাপে ধাপে

কর্মচারীদের মতো পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও নতুন পেনশনের পুরো সুবিধা ধাপে ধাপে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ে নির্ধারিত বর্ধিত নিট পেনশনের পার্থক্যের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্ল্যাব অনুযায়ী ৪০ বা ৫০ শতাংশ প্রযোজ্য হবে।

১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭ সময়ে তা বেড়ে ৭০ বা ৭৫ শতাংশ হবে।

আর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ হারে নতুন নিট পেনশন কার্যকর হবে।

চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি

নতুন আদেশে সরকারি কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতার হার নির্ধারণ করা হয়েছে—

  1. ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত: মাসিক ৩,০০০ টাকা

  2. ৫০ বছর ১ দিন থেকে পিআরএল শেষ হওয়া পর্যন্ত: মাসিক ৪,০০০ টাকা

অবসরপ্রাপ্ত ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতা হবে—

  1. ৫০ বছর পর্যন্ত: ৩,০০০ টাকা

  2. ৫০ বছর ১ দিন–৬০ বছর: ৪,০০০ টাকা

  3. ৬০ বছর ১ দিন–৭০ বছর: ৫,০০০ টাকা

  4. ৭০ বছরের বেশি: ৬,০০০ টাকা

বাংলা নববর্ষ ভাতা ১৫ শতাংশ

সব সরকারি কর্মচারীর জন্য আহরিত মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

মাসিক নিট পেনশনগ্রহণকারী অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরাও মূল পেনশনভোগীর নিট পেনশনের ভিত্তিতে এ সুবিধা পাবেন।

বাড়ি ভাড়া ভাতা—নতুন হার ২০২৮ থেকে

২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মচারীরা ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা পেতেন, সেই হারেই তা পাবেন।

১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা কার্যকর হবে।

নতুন কাঠামোয় গ্রেড ও কর্মস্থলের ভিত্তিতে বাড়ি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন—

গ্রেড ২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড ১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত:

  1. ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন: মূল বেতনের ৬০%

  2. নির্ধারিত অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন/সাভার/কক্সবাজার: ৫০%

  3. অন্যান্য স্থান: ৪৫%

গ্রেড ১৫-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড ১০-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত:

  1. ঢাকা: ৫০%

  2. নির্ধারিত শহরাঞ্চল: ৪০%

  3. অন্যান্য স্থান: ৩৫%

গ্রেড ৯ থেকে গ্রেড ৫ পর্যন্ত:

  1. ঢাকা: ৪৫%

  2. নির্ধারিত শহরাঞ্চল: ৩৫%

  3. অন্যান্য স্থান: ৩০%

গ্রেড ৪ থেকে গ্রেড ১ ও তদূর্ধ্ব:

  1. ঢাকা: ৪০%

  2. নির্ধারিত শহরাঞ্চল: ৩০%

  3. অন্যান্য স্থান: ২৫%

শিক্ষা সহায়ক ভাতা

সন্তানপ্রতি মাসে ৫০০ টাকা শিক্ষা সহায়ক ভাতা দেওয়া হবে। সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য মাসে ১,০০০ টাকা পাওয়া যাবে।

বয়সের সার্টিফিকেট দাখিল সাপেক্ষে সন্তানের বয়স ২৩ বছর পর্যন্ত এ সুবিধা পাওয়ার বিধান রয়েছে।

টিফিন ও যাতায়াত ভাতা

জাতীয় বেতনস্কেলের ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসিক ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে লাঞ্চ ভাতা বা বিনামূল্যে দুপুরের খাবার পাওয়া গেলে টিফিন ভাতা প্রযোজ্য হবে না।

সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্মরত ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসিক ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মোবাইল ভাতা

নতুন আদেশে মোবাইল ভাতাও নির্ধারণ করা হয়েছে—

  1. ৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব: মাসিক ৫০০ টাকা

  2. ৬ষ্ঠ–২০তম গ্রেড: মাসিক ১৫০ টাকা

এ ছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ধোলাই ভাতা ৩০০ টাকা এবং চলতি/অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য কার্যভার ভাতা ১,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পাহাড়ি ও হাওড়/দ্বীপ/চর ভাতা

পার্বত্য জেলাগুলোর জেলা সদর ও সদর উপজেলায় কর্মরতরা মূল বেতনের ২০% হারে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পাহাড়ি ভাতা পাবেন।

অন্যান্য উপজেলায় সর্বোচ্চ ৫,৫০০ টাকা পর্যন্ত পাহাড়ি ভাতা পাওয়ার বিধান রয়েছে।

হাওড়, দ্বীপ ও চর এলাকায় কর্মরত কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ২০% হারে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্দিষ্ট বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানের বিশেষ ভাতা বাড়বে ২০%

এনএসআই, ডিজিএফআই, এসএসএফ, পিজিআর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এবং সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগের নির্দিষ্ট কর্মচারীদের বিশেষ ভাতা/বিশেষ গার্ড ভাতা/ক্ষতিপূরণ ভাতা/ঝুঁকি ভাতার ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত ভাতার ওপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ দেওয়ার বিধান করা হয়েছে।

তবে এই ভাতা নতুন মূল বেতনের শতাংশ হিসেবে নির্ধারিত হবে না।

বেতন নির্ধারণ হবে অনলাইনে iBAS++-এ

নতুন জাতীয় বেতনস্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের অনলাইনে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

এ জন্য iBAS++-এর Pay Fixation অপশনে প্রবেশ করে নির্ধারিত ছক পূরণ করতে হবে।

গেজেটেড কর্মচারীরা iBAS++ ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন। নন-গেজেটেড কর্মচারীরা এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে প্রবেশ করবেন এবং নিবন্ধিত মোবাইলে পাঠানো OTP দিয়ে লগইন করবেন।

তথ্য সাবমিট করার পর ডিডিও তা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠাবেন। হিসাবরক্ষণ অফিস অনলাইনে যাচাই ও অনুমোদন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি হবে।

এনআইডির তথ্য সংশোধনের নির্দেশনা

যেসব কর্মচারীর জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তাঁদের বেতন নির্ধারণের আগে এনআইডির জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

এ ছাড়া এনআইডিতে থাকা জন্মতারিখের সঙ্গে চাকরির রেকর্ডের জন্মতারিখের পার্থক্য থাকলে বেতন নির্ধারণের আগে চাকরির রেকর্ড অনুযায়ী এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধন করতে হবে।

২০১৫ সালের বেতন আদেশ রহিত

নতুন আদেশের মাধ্যমে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ রহিত করা হয়েছে।

তবে ২০১৫ সালের আদেশের যেসব ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার বিধান নতুন আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেগুলো সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও পরিপত্র অনুযায়ী বহাল থাকবে বলে গণ্য হবে।

সংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন

জাতীয় বেতনস্কেল: ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর
পূর্ণ নতুন বেতন: ১ জুলাই ২০২৭ থেকে
বকেয়া: ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রাপ্য
উচ্চতর গ্রেড: একই পদে ৮ বছর পূর্তির পর ৯ম বছরে
চিকিৎসা ভাতা: ৩,০০০–৪,০০০ টাকা
পেনশনভোগীর চিকিৎসা ভাতা: বয়সভেদে ৩,০০০–৬,০০০ টাকা
বাংলা নববর্ষ ভাতা: মূল বেতনের ১৫%
শিক্ষা সহায়ক ভাতা: সন্তানপ্রতি ৫০০ টাকা, সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা
টিফিন ভাতা: ৫০০ টাকা
যাতায়াত ভাতা: ৬০০ টাকা
মোবাইল ভাতা: ১৫০–৫০০ টাকা
বাড়ি ভাড়া: নতুন হার ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে
বিশেষ সুবিধা: বিলুপ্ত, পূর্বে উত্তোলিত অর্থ সমন্বয়যোগ্য
বেতন নির্ধারণ: iBAS++ Pay Fixation-এর মাধ্যমে অনলাইনে

সূত্র: বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬; অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ; এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬।

বাংলাদেশ গেজেট

অতিরিক্ত সংখ্যা

কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

অর্থ মন্ত্রণালয়

অর্থ বিভাগ

(বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ)

আদেশ

তারিখ: ০২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ/১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ।

এস. আর. ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫৭ নং আইন) এর ধারা ১৫ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার নিম্নরূপ আদেশ জারি করিল, যথা:-

১। শিরোনাম, প্রবর্তন ও প্রয়োগ। (১) এই আদেশ চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬

নামে অভিহিত হইবে।

(২) এই আদেশ, উপ-অনুচ্ছেদ (৩) এর বিধানসাপেক্ষে, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

(৩) নিম্নবর্ণিত শর্তসাপেক্ষে, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে এই আদেশের অনুচ্ছেদ ৩ এ উল্লিখিত জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ কার্যকর হইবে, যথা:-

(ক) এই আদেশের অনুচ্ছেদ ৫ এবং অনুচ্ছেদ ৯ এর বিধান অনুযায়ী ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বেতন নির্ধারণ করিয়া বেতনবৃদ্ধি বাবদ মোট অঙ্কের (জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এ নির্ধারিত বেতন ও বর্তমান বেতনের পার্থক্য) শতকরা ৪০ ভাগ ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বের জন্য এবং শতকরা ৫০ ভাগ ১০ম-২০তম গ্রেডের জন্য ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সহিত যোগ করিয়া ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ হইতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রদান করা হইবে;

(খ) এই আদেশের অনুচ্ছেদ ৫ এবং অনুচ্ছেদ ৯ এর বিধান অনুযায়ী ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বেতন নির্ধারণ করিয়া বেতনবৃদ্ধি বাবদ মোট অঙ্কের (জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এ নির্ধারিত বেতন ও বর্তমান বেতনের পার্থক্য) শতকরা ৭০ ভাগ ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বের জন্য এবং শতকরা ৭৫ ভাগ ১০ম-২০তম গ্রেডের জন্য ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সহিত যোগ করিয়া ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখ হইতে ৩০ জুন ২০২৭ তারিখ পর্যন্ত প্রদান করা হইবে;

(গ) এই আদেশের অনুচ্ছেদ ৫ এবং অনুচ্ছেদ ৯ এর বিধান অনুযায়ী ১ জুলাই ২০২৭তারিখ হইতে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি (increment) সহ মূল বেতন শতভাগ প্রদান করা হইবে;

(ঘ) কর্মচারীগণ ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ হইতে এই আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের বেতন বকেয়া হিসাবে প্রাপ্য হইবেন;

(ঙ) এই আদেশের অনুচ্ছেদ ৫, অনুচ্ছেদ ৭ এবং অনুচ্ছেদ ৮ এর বিধান অনুযায়ী ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে মূল পেনশনভোগীর নিট পেনশন নির্ধারণ করিয়া নিট পেনশনবৃদ্ধি বাবদ মোট অঙ্কের (জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এ নির্ধারিত নিট পেনশন ও ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত নিট পেনশনের পার্থক্য) শতকরা ৪০ ভাগ বিদ্যমান নিট পেনশন স্ল্যাব ২০০০১ টাকা ও তদূর্ধ্বের ক্ষেত্রে এবং শতকরা ৫০ ভাগ বিদ্যমান নিট পেনশন স্ল্যাব ১ টাকা (সর্বনিম্ন) হইতে ২০০০০ টাকার ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত বা প্রাপ্য নিট পেনশনের সহিত যোগ করিয়া ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ হইতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রদান করা হইবে;

(চ) এই আদেশের অনুচ্ছেদ ৫, অনুচ্ছেদ ৭ এবং অনুচ্ছেদ ৮ এর বিধান অনুযায়ী ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে মূল পেনশনভোগীর নিট পেনশন নির্ধারণ করিয়া নিট পেনশনবৃদ্ধি বাবদ মোট অঙ্কের (জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এ নির্ধারিত নিট পেনশন ও ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত নিট পেনশনের পার্থক্য) শতকরা ৭০ ভাগ বিদ্যমান নিট পেনশন স্ল্যাব ২০০০১ টাকা ও তদূর্ধ্বের ক্ষেত্রে এবং শতকরা ৭৫ ভাগ বিদ্যমান নিট পেনশন স্ল্যাব ১ টাকা (সর্বনিম্ন) হইতে ২০০০০ টাকার ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত বা প্রাপ্য নিট পেনশনের সহিত যোগ করিয়া ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখ হইতে ৩০ জুন ২০২৭ তারিখ পর্যন্ত প্রদান করা হইবে;

(ছ) এই আদেশের অনুচ্ছেদ ৫, অনুচ্ছেদ ৭ এবং অনুচ্ছেদ ৮ এর বিধান অনুযায়ী ১ জুলাই ২০২৭ তারিখ হইতে বার্ষিক বৃদ্ধি (increment) সহ নিট পেনশন শতভাগ প্রদান করা হইবে;

(জ) অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীগণ ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ হইতে এই আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের নিট পেনশন বকেয়া হিসাবে প্রাপ্য হইবেন;

(ঝ) ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের পর হইতে ৩০ জুন ২০২৭ তারিখ পর্যন্ত সময়ে কোনও কর্মচারী অবসর-উত্তর ছুটি শেষে অবসরে গমন করিলে তাঁহার গ্রস ও নিট পেনশন জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত হইবে;

ব্যাখ্যা-এই দফার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, -

(১) নিট পেনশন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নিট পেনশন স্ল্যাব ২০০০১ টাকা ও তদূর্ধ্বের ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে অবসরে গমন করিলে বর্তমান বেতনস্কেল অনুযায়ী যে পরিমাণ নিট পেনশন প্রাপ্য হইতেন উহার সহিত বর্ধিত নিট পেনশন (৩০ জুন ২০২৬ তারিখে অবসরে গমন করিলে বর্তমান বেতনস্কেল অনুযায়ী যে পরিমাণ নিট পেনশন পাইতেন এবং জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুযায়ী অবসরে গমন করায় যে পরিমাণ নিট পেনশন পাইবেন উহার পার্থক্য) এর ৪০ শতাংশ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পেনশন ভোগের তারিখ হইতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত পাইবেন; অতঃপর উক্ত বর্ধিত অঙ্কের ৭০ শতাংশ ১ জানুয়ারি ২০২৭তারিখ হইতে ৩০ জুন ২০২৭ তারিখ পর্যন্ত পাইবেন; অতঃপর ১ জুলাই ২০২৭তারিখ হইতে তিনি জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুসারে পূর্ণ হারে নিট পেনশন প্রাপ্য হইবেন;

(২) নিট পেনশন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নিট পেনশন স্ল্যাব ১ টাকা (সর্বনিম্ন) হইতে ২০০০০ টাকার ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে অবসরে গমন করিলে বর্তমান বেতনস্কেল অনুযায়ী যে পরিমাণ নিট পেনশন প্রাপ্য হইতেন উহার সহিত বর্ধিত নিট পেনশন (৩০ জুন ২০২৬ তারিখে অবসরে গমন করিলে বর্তমান বেতনস্কেল অনুযায়ী যে পরিমাণ নিট পেনশন পাইতেন এবং জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুযায়ী অবসরে গমন করায় যে পরিমাণ নিট পেনশন পাইবেন উহার পার্থক্য) এর ৫০ শতাংশ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পেনশন ভোগের তারিখ হইতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত পাইবেন; অতঃপর উক্ত বর্ধিত অঙ্কের ৭৫ শতাংশ ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখ হইতে ৩০ জুন ২০২৭ তারিখ পর্যন্ত পাইবেন; অতঃপর ১ জুলাই ২০২৭ তারিখ হইতে তিনি জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুসারে পূর্ণ হারে নিট পেনশন প্রাপ্য হইবেন;

(ঞ) এই আদেশের অধীন প্রদেয় অন্যান্য সকল ভাতা (উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতাসহ) ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রাপ্য অঙ্কে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ তারিখ পর্যন্ত প্রদান করা হইবে এবং ১ জানুয়ারি ২০২৮ তারিখ হইতে এই আদেশে নির্ধারিত হারে ভাতাদি প্রদেয় হইবে;

(ট) জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ কার্যকর হইবার তারিখ হইতে বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ হইতে এই আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত আহরিত বিশেষ সুবিধা দফা (ঘ) এবং দফা (জ) এর অধীন প্রাপ্য বকেয়ার সহিত সমন্বয় করিতে হইবে;

(ঠ) দফা (ট) তে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যে কর্মচারী ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে অবসর-উত্তর ছুটিতে রহিয়াছেন তিনি ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে হারে বিশেষ সুবিধা পাইতেন অবসর-উত্তর ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই হারে প্রাপ্য হইবেন।

(ঘ) পণ্য উৎপাদনশীল রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান শ্রমিক (চাকরির শর্তাবলী) আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫০ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (ঘ) তে সংজ্ঞায়িত শ্রমিক;

(ঙ) শিক্ষানবিশ (apprentice) অথবা প্রশিক্ষণার্থী (trainee) হিসাবে অথবা আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে নিযুক্ত ব্যক্তিগণ;

(চ) দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা, ২০২৫ এর আওতায় নিয়োজিত শ্রমিকগণ; এবং

(ছ) চুক্তি অথবা খণ্ডকালীন ভিত্তিতে নিযুক্ত ব্যক্তিগণ।

(৫) উপ-অনুচ্ছেদ ৪ এর দফা (ছ) এবং অন্য কোনও বিধিবিধান বা চুক্তিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আদেশ কার্যকর হইবার তারিখে যে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর অবসর-উত্তর ছুটি অব্যাহত থাকিত, যদি না অবসর-উত্তর ছুটি বাতিলের শর্তে তাহাকে, জনস্বার্থে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে চুক্তিভিত্তিক বা অন্য কোনওভাবে নিয়োগ করা হইত, সেই কর্মচারী এই আদেশের অধীন প্রদেয় অবসর সুবিধাদি প্রাপ্য হইবেন।

২। সংজ্ঞা।-বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনও কিছু না থাকিলে, এই আদেশে-

(ক) "জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬” অর্থ এই আদেশের অনুচ্ছেদ ৩ এ উল্লিখিত জাতীয় বেতনস্কেল;

খ) “বর্তমান বেতন” অর্থ ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত বা প্রাপ্য মূল বেতন;

(গ) “বর্তমান বেতনস্কেল” অর্থ চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ এর অধীন জাতীয় বেতনস্কেল;

ঘ) “মূল স্কেল” ও “উচ্চতর গ্রেড” অর্থ বর্তমান বেতনস্কেলে যথাক্রমে পদের মূল স্কেল ও উচ্চতর গ্রেড এবং "সিনিয়র স্কেল", "সিলেকশন গ্রেড স্কেল" বা "উচ্চতর স্কেল (টাইম স্কেল)” অর্থ পূর্বের বেতনস্কেলসমূহে যথাক্রমে সিনিয়র স্কেল, সিলেকশন গ্রেড স্কেল, বা উচ্চতর স্কেল (টাইম স্কেল);

(ঙ) “মূল পেনশনভোগী” অর্থ যে কর্মচারীর চাকরিকালের জন্য পেনশন অর্জিত হইয়াছে।

৩। জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬।-(১) ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের অব্যবহিত পূর্বে বিদ্যমান পদসমূহের বর্তমান বেতনস্কেল বিলুপ্ত হইবে, এবং উক্ত তারিখ হইতে বর্তমান বেতনস্কেলের প্রতিটি স্কেলের বিপরীতে নিম্নবর্ণিত অনুরূপ স্কেল (corresponding scale) কার্যকর হইবে, যথা:

জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ (১ জুলাই ২০২৬ হইতে কার্যকর অনুরূপ স্কেল)

গ্রেড ১)  টাকা  ১৫৬০০০ (নির্ধারিত)

গ্রেড ২) টাকা ১৩২০০০-১৩৫৭০০-১৩৯৪০০-১৪৩২০০-১৪৭২০০-১৫১২০০-১৫৩০০০

গ্রেড ৩) টাকা ১১৩০০০-১১৭০০০-১২১১০০-১২৫৩০০-১২৯৭০০-১৩৪৩০০-১৩৯০০০-১৪৩৮০০-১৪৮৮০০

গ্রেড ৪) টাকা ১০০০০০-১০৩৫০০-১০৭২০০-১১০৯০০-১১৪৮০০-১১৮৮০০-১২৩০০০-১২৭৩০০-১৩১৭০০-১৩৬৩০০-১৪২৪০০

গ্রেড ৫) টাকা ৮৬০০০-৮৯৫০০-৯৩১০০-৯৬৮০০-১০০৭০০-১০৪৭০০-১০৮৯০০-১১৩২০০-১১৭৭০০-১২২৫০০-১২৭৪০০-১৩২৪০০-১৩৯৭০০

গ্রেড ৬) টাকা ৭১০০০-৭৪৬০০-৭৮৩০০-৮২২০০-৮৬৪০০-৯০৭০০-৯৫২০০-১০০০০০-১০৪৯০০-১১০২০০-১১৫৭০০-১২১৫০০-১২৭৬০০-১৩৪০০০

গ্রেড ৭) টাকা ৫৮০০০-৬০৯০০-৬৪০০০-৬৭২০০-৭০৫০০-৭৪১০০-৭৭৮০০-৮১৭০০-৮৫৭০০-৯০০০০-৯৪৫০০-৯৯২০০-১০৪২০০-১০৯৪০০-১১৪৯০০-১২০৬০০-১২৬৮০০

গ্রেড ৮) টাকা ৪৬০০০-৪৮৩০০-৫০৮০০-৫৩৩০০-৫৬০০০-৫৮৮০০-৬১৭০০-৬৪৮০০-৬৮০০০-৭১৪০০-৭৫০০০-৭৮৭০০-৮২৭০০-৮৬৮০০-৯১১০০-৯৫৭০০-১০০৫০০-১০৫৫০০-১১০৮০০

গ্রেড ৯) টাকা ৪৪০০০-৪৬২০০-৪৮৬০০-৫১০০০-৫৩৫০০-৫৬২০০-৫৯০০০-৬২০০০-৬৫১০০-৬৮৩০০-৭১৭০০-৭৫৩০০-৭৯১০০-৮৩০০০-৮৭২০০-৯১৫০০-৯৬১০০-১০০৯০০-১০৫৯০০

গ্রেড ১০) টাকা ৩২০০০-৩৩৬০০-৩৫৩০০-৩৭১০০-৩৮৯০০-৪০৯০০-৪২৯০০-৪৫১০০-৪৭৩০০-৪৯৭০০-৫২২০০-৫৪৮০০-৫৭৫০০-৬০৪০০-৬৩৪০০-৬৬৬০০-৬৯৯০০-৭৩৪০০-৭৭৩০০

গ্রেড ১১) টাকা ২৫০০০-২৬৩০০-২৭৬০০-২৯০০০-৩০৪০০-৩২০০০-৩৩৬০০-৩৫২০০-৩৭০০০-৩৮৮০০-৪০৮০০-৪২৮০০-৪৪৯০০-৪৭২০০-৪৯৫০০-৫২০০০-৫৪৬০০-৫৭৩০০-৬০৫০০

গ্রেড ১২) টাকা ২৪৩০০-২৫৬০০-২৬৮০০-২৮২০০-২৯৬০০-৩১১০০-৩২৬০০-৩৪২০০-৩৬০০০-৩৭৭০০-৩৯৬০০-৪১৬০০-৪৩৭০০-৪৫৯০০-৪৮২০০-৫০৬০০-৫৩১০০-৫৫৭০০-৫৮৭০০

গ্রেড ১৩) টাকা ২৪০০০-২৫২০০-২৬৫০০-২৭৮০০-২৯২০০-৩০৭০০-৩২২০০-৩৩৮০০-৩৫৫০০-৩৭৩০০-৩৯১০০-৪১১০০-৪৩২০০-৪৫৩০০-৪৭৬০০-৪৯৯০০-৫২৪০০-৫৫১০০-৫৮০০০

গ্রেড ১৪) টাকা ২৩৫০০-২৪৭০০-২৬০০০-২৭৩০০-২৮৬০০-৩০০০০-৩১৫০০-৩৩১০০-৩৪৮০০-৩৬৫০০-৩৮৩০০-৪০২০০-৪২৩০০-৪৪৪০০-৪৬৬০০-৪৮৯০০-৫১৩০০-৫৩৯০০-৫৬৮০০

গ্রেড ১৫) টাকা ২২৮০০-২৪০০০-২৫২০০-২৬৪০০-২৭৮০০-২৯১০০-৩০৬০০-৩২১০০-৩৩৭০০-৩৫৪০০-৩৭২০০-৩৯০০০-৪১০০০-৪৩০০০-৪৫২০০-৪৭৪০০-৪৯৮০০-৫২৩০০-৫৫২০০

গ্রেড ১৬) টাকা ২১৯০০-২৩০০০-২৪২০০-২৫৪০০-২৬৭০০-২৮০০০-২৯৪০০-৩০৯০০-৩২৪০০-৩৪০০০-৩৫৭০০-৩৭৫০০-৩৯৪০০-৪১৩০০-৪৩৪০০-৪৫৬০০-৪৭৯০০-৫০২০০-৫২৯০০

গ্রেড ১৭) টাকা ২১৪০০-২২৫০০-২৩৬০০-২৪৮০০-২৬১০০-২৭৪০০-২৮৭০০-৩০২০০-৩১৭০০-৩৩২০০-৩৪৯০০-৩৬৭০০-৩৮৫০০-৪০৪০০-৪২৪০০-৪৪৫০০-৪৬৮০০-৪৯১০০-৫১৯০০

গ্রেড ১৮) টাকা ২১০০০-২২১০০-২৩২০০-২৪৪০০-২৫৬০০-২৬৯০০-২৮২০০-২৯৬০০-৩১১০০-৩২৬০০-৩৪৩০০-৩৬০০০-৩৭৮০০-৩৯৬০০-৪১৬০০-৪৩৭০০-৪৫৯০০-৪৮২০০-৫০৯০০

গ্রেড ১৯) টাকা ২০৫০০-২১৬০০-২২৭০০-২৩৮০০- ২৫০০০-২৬২০০-২৭৫০০-২৮৯০০-৩০৩০০-

৩১৯০০-৩৩৪০০-৩৫১০০-৩৬৯০০-৩৮৭০০- ৪০৬০০-৪২৭০০-৪৪৮০০-৪৭০০০-৪৯৬০০

গ্রেড ২০) টাকা ২০০০০-২১০০০-২২১০০-২৩২০০- ২৪৪০০-২৫৬০০-২৬৯০০-২৮২০০-২৯৬০০-

৩১১০০-৩২৬০০-৩৪৩০০-৩৬০০০-৩৭৮০০- ৩৯৬০০-৪১৬০০-৪৩৭০০-৪৫৯০০-৪৮৪০০

(২) উপ-অনুচ্ছেদ (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন হইবে ১৭২০০০ টাকা (নির্ধারিত) এবং সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন হইবে ১৬৪০০০ টাকা (নির্ধারিত)।

৪। জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এর প্রাপ্যতা।-৩০ জুন ২০২৬ তারিখে বা উহার পূর্বে কোনও কর্মচারী সংশ্লিষ্ট পদে যে মূল স্কেল, উচ্চতর গ্রেড, ভিন্ন কোনও গ্রেড বা স্কেল (যে নামেই অভিহিত হউক না কেন) পাইতেছিলেন, তিনি ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ হইতে অনুচ্ছেদ ৩(১) এ বর্ণিত তাঁহার সংশ্লিষ্ট বর্তমান বেতনস্কেলের বিপরীতে প্রদর্শিত জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এর অনুরূপ স্কেল প্রাপ্য হইবেন।

৫। জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এ বেতন নির্ধারণ। যে কর্মচারী বর্তমান বেতনস্কেলে পদের মূল স্কেল, উচ্চতর গ্রেড বা ভিন্ন কোনও গ্রেড বা স্কেল (যে নামেই অভিহিত হউক না কেন) পাইতেছিলেন তাঁহার বেতন বর্তমান বেতনস্কেলের অনুরূপ জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এর অনুচ্ছেদ ৪ অনুযায়ী এবং নিম্নবর্ণিত পদ্ধতিতে নির্ধারিত হইবে, যথা:-

(ক) বর্তমান বেতনস্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন আহরণকারী কোনও কর্মচারীর বেতন জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এর অনুরূপ স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপেই নির্ধারিত হইবে;

(খ) যদি কোনও কর্মচারীর মূল বেতন, বর্তমান বেতনস্কেলের সংশ্লিষ্ট স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের উচ্চতর হয়, তবে প্রথমত উভয় ধাপের মধ্যকার পার্থক্য নির্ণয় করিতে হইবে, ইহার পর নির্ণীত পার্থক্য অনুরূপ স্কেলের (জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬) প্রারম্ভিক ধাপের সহিত যোগ করিতে হইবে এবং এই যোগফল যদি-

(অ) অনুরূপ স্কেলের কোনও ধাপের সমান হয়, তাহা হইলে ঐ ধাপেই বেতন নির্ধারণ করিতে হইবে;

(আ) অনুরূপ স্কেলে ঐ অঙ্কের সমান কোনও ধাপ না থাকে, তাহা হইলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে তাঁহার বেতন নির্ধারণ করিতে হইবে;

উদাহরণ ২:

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে একজন কর্মচারীর মূল বেতন ১২৫০০-১৩১৩০-১৩৭৯০-১৪৪৮০-১৫২১০-১৫৯৮০-১৬৭৮০-১৭৬২০-১৮৫১০-১৯৪৪০-২০৪২০-২১৪৫০-২২৫৩০-২৩৬৬০-২৪৮৫০-২৬১০০-২৭৪১০-২৮৭৯০-৩০২৩০ টাকার বর্তমান বেতনস্কেলে ১৩৭৯০ টাকা। এইক্ষেত্রে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বর্তমান বেতনস্কেলের অনুরূপ স্কেল হিসাবে ২৫০০০-২৬৩০০-২৭৬০০-২৯০০০-৩০৪০০-৩২০০০-৩৩৬০০-৩৫২০০-৩৭০০০-৩৮৮০০-৪০৮০০-৪২৮০০-৪৪৯০০-৪৭২০০-৪৯৫০০-৫২০০০-৫৪৬০০-৫৭৩০০-৬০৫০০ টাকার স্কেলে তাঁহার বেতন নির্ধারিত হইবে ২৬৩০০ টাকা।

ব্যাখ্যা। বর্তমান বেতনস্কেলে প্রাপ্ত মূল বেতন হইতে একই স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের বেতন বিয়োগ করিলে পার্থক্যের পরিমাণ হয় ১৩৭৯০-১২৫০০ = ১২৯০ টাকা, অতএব, জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এর প্রারম্ভিক ধাপ ১২৯০ টাকা অর্থাৎ (২৫০০০+১২৯০) = ২৬২৯০ টাকায় বেতন নির্ধারিত হইবে, কিন্তু অনুরূপ স্কেলে এইরূপ ধাপ না থাকায় পরবর্তী উচ্চতর ধাপে অর্থাৎ ২৬৩০০ টাকায় তাঁহার বেতন নির্ধারিত হইবে;

(গ) যে সকল কর্মচারীর বেতন অনুচ্ছেদ ৩ (২) এর অধীন ১৭২০০০ টাকা ও ১৬৪০০০ টাকা এবং অনুচ্ছেদ ৩(১) এর অধীন ১৫৬০০০ টাকায় নির্ধারিত তাঁহাদের ক্ষেত্রে দফা

(ক) ও (খ) প্রযোজ্য হইবে না;

(ঘ) ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে যে কর্মচারী উচ্চতর বেতনস্কেলের পদে পদোন্নতি পাইবেন, তাঁহার বেতন প্রথমে নিম্নপদে নির্ধারণ করিয়া পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী নির্ধারণ করিতে হইবে;

(ঙ) যে কর্মচারী প্রেষণে কর্মরত আছেন, প্রেষণে কর্মরত না থাকিলে তাঁহার মূল অফিসে অথবা প্রতিষ্ঠানে তিনি যে বেতন পাইবার অধিকারী হইতেন, সেই ভিত্তিতে তাঁহার বেতন নির্ধারিত হইবে;

(চ) যে কর্মচারী ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ছুটিতে ছিলেন, জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এ সেই কর্মচারীর বেতন, তাঁহার বর্তমান বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করিতে হইবে অথবা উক্ত তারিখে তিনি ছুটিতে না থাকিলে তাঁহার বর্তমান বেতন যাহা হইত, সেই ভিত্তিতে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এ তাঁহার বেতন নির্ধারণ করিতে হইবে, তবে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এ তাঁহার বেতন নির্ধারণের ফলে তিনি যে আর্থিক সুবিধা লাভ করিতেন তাহা তাঁহার ছুটির সময়ের জন্য প্রাপ্য হইবেন না;

(ছ) যে কর্মচারী ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে সাময়িকভাবে বরখাস্ত ছিলেন, সে কর্মচারী পুনর্বহাল না হইলে এবং বাস্তবে কাজে যোগদান না করিলে তাঁহার বেতন জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এ নির্ধারণ করা হইবে না; এইরূপ পুনর্বহালকৃত কর্মচারীর বেতন ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রথমত বর্তমান বেতনস্কেলে নির্ধারণ করা হইবে এবং অতঃপর ঐ নির্ধারিত বেতনের ভিত্তিতে তাঁহার বেতন জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এর সংশ্লিষ্ট অনুরূপ স্কেলে নির্ধারণ করা হইবে;

(জ) ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে যে কর্মচারী অবসর-উত্তর ছুটিতে রহিয়াছেন, শুধু পেনশন নির্ধারণের জন্য তাঁহার বেতন, জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এর সংশ্লিষ্ট অনুরূপ স্কেলে নির্ধারণ করা হইবে; এইরূপ ক্ষেত্রে অবসর-উত্তর ছুটির সময়ে যদি তাঁহার বার্ষিক

বর্ধিত বেতনের তারিখ থাকে, তাহা হইলে উক্ত বেতনবৃদ্ধিও পেনশন নির্ধারণের জন্য তাঁহার বেতনের সহিত যুক্ত হইবে, তবে তিনি অবসর-উত্তর ছুটির সময়ে উক্ত ছুটির বেতন বর্তমান বেতনস্কেলের ভিত্তিতে পাইতে থাকিবেন;

(ঝ) ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে কর্মচারীর অবসর-উত্তর ছুটি শেষ হইবে অর্থাৎ যিনি ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে অবসরে যাইবেন, তিনি ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে কার্যকর জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের সুবিধা প্রাপ্য হইবেন না।

৬। উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্যতা।-(১) কোনও স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ব্যতিরেকে একই পদে

৮ (আট) বৎসর পূর্তিতে এবং চাকরি সন্তোষজনক হওয়া সাপেক্ষে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৯ম বৎসরে তাঁহার পদের মূল স্কেলের পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন প্রাপ্য হইবেন, এবং এইরূপ উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তি পদোন্নতি হিসাবে বিবেচনা করা যাইবে না:

তবে শর্ত থাকে যে, যেই সকল স্থায়ী কর্মচারীর ক্ষেত্রে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের পূর্বে চাকরির ৮ (আট) বৎসর পূর্তি হইয়াছে কিন্তু ১০ (দশ) বৎসর পূর্তি হয় নাই, সেই সকল স্থায়ী কর্মচারী ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হইবেন।

(২) কোনও স্থায়ী কর্মচারী উপ-অনুচ্ছেদ (১) অনুযায়ী তাঁহার চাকরির ৮ (আট) বৎসর পূর্তিতে

উচ্চতর গ্রেডে বেতন প্রাপ্তির পরও পদোন্নতি ব্যতিরেকে একই পদে পরবর্তী ৬ (ছয়) বৎসর কর্মরত থাকিলে প্রথম উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৬ষ্ঠ বৎসর পূর্তিতে এবং চাকরি সন্তোষজনক হওয়া সাপেক্ষে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৭ম বৎসরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন প্রাপ্য হইবেন, এবং এইরূপ উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তি পদোন্নতি হিসাবে বিবেচনা করা যাইবে না।

(৩) উপ-অনুচ্ছেদ (১) ও (২) এ উল্লিখিত আর্থিক সুবিধা বেতনস্কেলের ৪র্থ গ্রেড পর্যন্ত প্রযোজ্য হইবে এবং ৪র্থ গ্রেড বা তদূর্ধ্ব গ্রেডের কোনও কর্মচারী এই সুবিধা গ্রহণপূর্বক ৩য় গ্রেড বা তদূর্ধ্ব গ্রেডে বেতন প্রাপ্য হইবেন না।

(৪) কোনও স্থায়ী কর্মচারী উপ-অনুচ্ছেদ (১) ও (২) এ উল্লিখিত আর্থিক সুবিধা একই পদে

দুইবারের অধিক প্রাপ্য হইবেন না, অধিকন্তু, কোনও কর্মচারী পূর্বের বেতনস্কেলসমূহের আওতায় একই পদে দুই বা ততোধিক সিলেকশন গ্রেড বা টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড (যে নামেই অভিহিত হউক না কেন) পাইয়া থাকিলে উক্ত পদে থাকা অবস্থায় তিনি জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুসারে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হইবেন না।

(৫) কোনও স্থায়ী কর্মচারী একই পদে চাকরিকালীন ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ বা উহার পূর্বে যদি একটি মাত্র উচ্চতর স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পাইয়া থাকেন, তবে পরবর্তী ৬ (ছয়) বৎসর পূর্তিতে এবং চাকরি সন্তোষজনক হওয়া সাপেক্ষে, তিনি ৭ম বৎসরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হইবেন, এবং এই ক্ষেত্রে তিনি বেতন নির্ধারণী সুবিধা ব্যতিরেকে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ বা উহার পূর্বের কোনও বকেয়া প্রাপ্য হইবেন না।

ব্যাখ্যা। এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, -

(ক) “সন্তোষজনক চাকরি” বলিতে কর্মচারীগণের পদোন্নতিসহ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে যেইভাবে সন্তোষজনক চাকরি বিদ্যমান বিধিবিধানে অনুসৃত হইয়া থাকে বিবেচ্য উচ্চতর গ্রেডে বেতন প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও অনুরূপ বিধিবিধান বুঝাইবে; এবং

(খ) “স্বয়ংক্রিয়” বলিতে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি ব্যতিরেকে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব/নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এর অনুমোদন গ্রহণপূর্বক অফিস আদেশ জারির মাধ্যমে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের বিষয় নিষ্পত্তি করা বুঝাইবে।

৭। পেনশন ও গ্রাচুইটি এবং সাধারণ ভবিষ্য তহবিল। পেনশন ও গ্রাচুইটি এবং সাধারণ

ভবিষ্য তহবিল সংক্রান্ত বিষয়ে যথাক্রমে অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের ০৭.০০.০০০০.০০০.১৭১.১৩.০০১৯.২৬-৮৫ নং স্মারক এবং General Provident Fund Rules, 1979 এর বিধানাবলি (সর্বশেষ সংশোধনীসহ), The Pensions Act, 1871 (ACT NO. XXIII OF 1871), Pension Rules and Retirement Benefits (সর্বশেষ সংশোধনীসহ), অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের Memorandum No. 2566(40)-F, তারিখ: ১৬ এপ্রিল ১৯৫৯ (সর্বশেষ সংশোধনীসহ) এবং সরকারি কর্মচারীগণের পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০২০, নং- ০৭.০০.০০০০. ১৭১.১৩.০০২.১৮-০৮, তারিখ: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ অনুসরণীয় হইবে।

৮। অবসরভোগীদের পেনশন, গ্রাচুইটি ও ছুটি নগদায়ন। (১) অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীগণ নিম্নরূপে পেনশন ও গ্রাচুইটি প্রাপ্য হইবেন, যথা:-

(ক) পেনশন ও গ্রাচুইটি বা আনুতোষিক এর বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত থাকিবে;

(খ) ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের অব্যবহিত পূর্বে বিদ্যমান মাসিক নিট পেনশনপ্রাপ্ত অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীর ক্ষেত্রে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুযায়ী মূল পেনশনভোগীর প্রাপ্ত নিট পেনশনকে ভিত্তি ধরিয়া সকল ধাপেই সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমাসহ নিম্নোক্ত সারণি অনুযায়ী নিট পেনশন নির্ধারণ করা হইবে, যথা:-

সারণি

ক) ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য)

সর্বনিম্ন-৯০০০ টাকা

নিট পেনশন বৃদ্ধির হার (মূল পেনশনভোগীর জন্য) 

১০০%

ন্যূনতম নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য)

১০০০০ টাকা

সর্বোচ্চ নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য)

১৮০০০ টাকা

খ) ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য)

৯০০১-২০০০০ টাকা

নিট পেনশন বৃদ্ধির হার (মূল পেনশনভোগীর জন্য) 

৭৫%

ন্যূনতম নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য)

১৮০০১ টাকা

সর্বোচ্চ নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য)

৩৫০০০ টাকা

গ) ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য)

২০০০১-৩০০০০ টাকা

নিট পেনশন বৃদ্ধির হার (মূল পেনশনভোগীর জন্য) 

৬৫%

ন্যূনতম নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য)

৩৫০০১ টাকা

সর্বোচ্চ নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য)

৪৯০০০ টাকা

ঘ) ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য)

৩০০০১-৪০০০০ টাকা

নিট পেনশন বৃদ্ধির হার (মূল পেনশনভোগীর জন্য) 

৬০%

ন্যূনতম নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য)

৪৯০০১ টাকা

সর্বোচ্চ নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য)

৬২০০০ টাকা

ঙ) ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য)

৪০০০১ ও তদূর্ধ্ব

নিট পেনশন বৃদ্ধির হার (মূল পেনশনভোগীর জন্য) 

৫৫%

ন্যূনতম নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য)

৬২০০১ টাকা

সর্বোচ্চ নিট পেনশন (মূল পেনশনভোগীর জন্য)

৭০২০০ টাকা

তবে শর্ত থাকে যে, যে সকল ক্ষেত্রে বিদ্যমান পেনশনপ্রাপ্ত অবসরভোগী ইতোমধ্যে ৭০২০০ টাকার অতিরিক্ত নিট পেনশন উত্তোলন করিতেছেন, সেই ক্ষেত্রে তিনি পরবর্তী বার্ষিক বৃদ্ধি (increment) (১ জুলাই ২০২৭) এর পূর্ব পর্যন্ত বিদ্যমান নিট পেনশন পাইবেন;

(ঘ) তদানীন্তন Education Department Memorandum Nos. SIV/ 830- Edn, তারিখ: ১৮ জুলাই ১৯৭০, SIV/ 831-Edn, তারিখ: ১৮ জুলাই ১৯৭০, 832 Edn, তারিখ: ১৭ জুলাই ১৯৭০, এবং 833-Edn, তারিখ: ১৭ জুলাই ১৯৭০, অনুযায়ী উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা, যাহা অগ্রিম বর্ধিত বেতন মঞ্জুরির সহিত সম্পর্কযুক্ত, Ministry of Finance O.M. No. MF (ID) -1-3/77/522, তারিখ: ১৩ মে ১৯৭৮, MF (ID) -II-/P-I/81/457, তারিখ: ১৬ এপ্রিল ১৯৮১ এবং MF (ID) -II-/1-1/81/800, তারিখ: ২৯ জুন ১৯৮১ তে আরোপিত শর্তসমূহ, যাহা বেতনবৃদ্ধি মঞ্জুরির সহিত সম্পর্কযুক্ত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২২ জানুয়ারি ১৯৯৪ তারিখের স্মারক নং-পার-৩/টি-৩/৯৩/৬১, যাহা বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের প্রবেশ পদের কর্মচারীগণের উচ্চতর প্রারম্ভিক বেতন প্রদান সম্পর্কিত এবং অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১১ অক্টোবর ২০২১ তারিখের এস. আর. ও. নং-৩১৮-আইন/২০২১ এর বিধানাবলি বলবৎ থাকিবে;

(ঙ) ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রথম নিয়োগপ্রাপ্ত কোনও কর্মচারীর বেতন প্রথমে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এর সংশ্লিষ্ট স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে এবং এই অনুচ্ছেদের বিধান মোতাবেক প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উহার সহিত অতিরিক্ত বেতনবৃদ্ধি (increment) যোগ করিয়া নির্ধারণ করিতে হইবে;

(চ) এই অনুচ্ছেদে উল্লিখিত অগ্রিম বেতনবৃদ্ধি কেবল চাকরিতে প্রথম নিয়োগ লাভের সময় প্রাপ্য হইবেন এবং ইহা পরবর্তী পদোন্নতি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।

(২) বিসিএস ক্যাডারভুক্ত হিসাবে ৯ম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীগণের বেতন জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬ এর ৯ম গ্রেডে একটি অতিরিক্ত অগ্রিম বেতন বৃদ্ধির সুবিধাসহ নির্ধারিত হইবে।

(৩) বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিয়া কোনও ক্যাডার পদে নিয়োগ লাভ করেন নাই কিন্তু বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) সুপারিশক্রমে ৯ম গ্রেডে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ লাভ করিয়াছেন এইরূপ সকল কর্মচারীর বেতন জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬ এর ৯ম গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপে নির্ধারিত হইবে।

(৪) ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ হইতে ৩০ জুন ২০২৭ তারিখ পর্যন্ত প্রথম নিয়োগপ্রাপ্ত কোনও কর্মচারীর ক্ষেত্রে তিনি ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যোগদান করিলে বর্তমান বেতন হিসাবে যাহা প্রাপ্য হইতেন উহার সহিত জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত বেতন ও বর্তমান বেতন এর পার্থক্যের প্রযোজ্য শতাংশ [অনুচ্ছেদ ১(৩) বিধান অনুযায়ী) যোগ করিয়া প্রাপ্য হইবেন।

১১। পদের পূর্ণ বেতন প্রাপ্তির শর্তাবলি। - (১) কোনও কর্মচারী কোনও উচ্চতর পদে ও বেতনস্কেলে পদোন্নতি পাইলে ঐ পদে পূর্ণ বেতন পাইবার জন্য তাঁহাকে নিম্নের সারণিতে উল্লিখিত চাকরির মেয়াদ পূর্ণ করিতে হইবে, যথা:-

সারণি

জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এর গ্রেড ১ 

বেতনস্কেল টাকা ১৫৬০০০ (নির্ধারিত)

পূর্ণ বেতন পাইবার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম চাকরির মেয়াদ

২০ বৎসর

জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এর গ্রেড ২

টাকা ১৩২০০০-১৫৩০০০

পূর্ণ বেতন পাইবার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম চাকরির মেয়াদ

১৭ বৎসর

জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এর গ্রেড ৩

টাকা ১১৩০০০-১৪৮৮০০

পূর্ণ বেতন পাইবার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম চাকরির মেয়াদ

১৪ বৎসর

জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এর গ্রেড ৪

টাকা ১০০০০০-১৪২৪০০

পূর্ণ বেতন পাইবার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম চাকরির মেয়াদ

১২ বৎসর

জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এর গ্রেড ৫

টাকা ৮৬০০০-১৩৯৭০০

পূর্ণ বেতন পাইবার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম চাকরির মেয়াদ

১০ বৎসর

জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এর গ্রেড ৬

টাকা ৭১০০০-১৩৪০০০

পূর্ণ বেতন পাইবার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম চাকরির মেয়াদ

৫ বৎসর

জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এর গ্রেড ৭

টাকা ৫৮০০০-১২৬৮০০

পূর্ণ বেতন পাইবার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম চাকরির মেয়াদ

৪ বৎসর

(২) উপ-অনুচ্ছেদ (১) এ বর্ণিত চাকরির মেয়াদ বলিতে কেবল ৯ম বা তদূর্ধ্ব গ্রেডে নিয়োজিত প্রকৃত চাকরির মেয়াদ বুঝাইবে।

১২। ভাতাদির প্রাপ্যতা।-(১) ১ জানুয়ারি ২০২৮ তারিখ হইতে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উল্লিখিত হারে বা, ক্ষেত্রমত, টাকার অঙ্কে নির্ধারিত ভাতাদি অনুচ্ছেদ ১(৩) এর দফা (ঞ) অনুযায়ী প্রদেয় হইবে।

(২) ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ হইতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ তারিখ পর্যন্ত সময়ে নবনিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীগণ ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে নিয়োগপ্রাপ্ত হইলে যে হার বা পরিমাণে ভাতাদি প্রাপ্ত হইতেন সেই হার বা পরিমাণে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ তারিখ পর্যন্ত আহরণ করিবেন।

১৩। চিকিৎসা ভাতা। (১) চিকিৎসা সংক্রান্ত অন্যান্য সুবিধাদি যাহা সরকার কর্তৃক, সময়ে সময়ে জারীকৃত আদেশের মাধ্যমে প্রদান করা হইয়াছে তাহা যথারীতি বলবৎ থাকিবে এবং কর্মচারীগণ ৫০ বৎসর বয়স পর্যন্ত মাসিক ৩০০০ (তিন হাজার) টাকা এবং ৫০ বৎসর ১ দিন হইতে পিআরএল শেষ হওয়া পর্যন্ত মাসিক ৪০০০ (চার হাজার) টাকা চিকিৎসা ভাতা প্রাপ্য হইবেন।

(২) অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা ভাতা ৫০ বৎসর বয়স পর্যন্ত মাসিক ৩০০০ (তিন হাজার) টাকা, ৫০ বৎসর ১ দিন হইতে ৬০ বৎসর পর্যন্ত মাসিক ৪০০০ (চার হাজার) টাকা, ৬০ বৎসর ০১ দিন হইতে ৭০ বৎসর বয়স পর্যন্ত মাসিক ৫০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা এবং ৭০ বৎসরের উর্ধ্বে মাসিক ৬০০০ (ছয় হাজার) টাকা হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কোনও মূল পেনশনভোগী হইতে উদ্ভূত একাধিক পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে মূল পেনশনভোগীর প্রাপ্য চিকিৎসা ভাতাকে ভিত্তি ধরিয়া বিধি মোতাবেক আনুপাতিক হারে বণ্টন করিতে হইবে।

১৪। বাংলা নববর্ষ ভাতা।-(১) সকল কর্মচারী আহরিত মূল বেতনের ১৫% হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রাপ্য হইবেন।

(২) মাসিক নিট পেনশনগ্রহণকারী অবসরভোগীগণ ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীগণও (মূল পেনশনভোগীর প্রাপ্ত নিট পেনশনকে ভিত্তি ধরিয়া) এই ভাতা প্রাপ্য হইবেন।

১৫। বাড়ি ভাড়া ভাতা।-(১) চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ এর বিধান মোতাবেক সকল কর্মচারী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত বা প্রাপ্য অঙ্কে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ তারিখ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া ভাতা পাইবেন।

(২) যে সকল কর্মচারী সরকারি বাসস্থানে বসবাস করিতেছেন, তাঁহারা উপ-অনুচ্ছেদ (১) এ উল্লিখিত বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রাপ্য হইবেন না।

(৩) যে সকল কর্মচারী সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী, ভাড়াবিহীন বাসস্থানে থাকিবার অধিকারী, তাঁহাদের সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বাসস্থানের জন্য কোনও বাড়ি ভাড়া প্রদান করিতে হইবে না, তবে তাঁহারা বাড়ি ভাড়া ভাতাও পাপ্য হইবেন না।

(৫) যে সকল কর্মচারীর নিজ নামে অথবা তাঁহার উপর নির্ভরশীল কাহারও নামে এক বা একাধিক বাড়ি রহিয়াছে, তাঁহাদের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক, সময়ে সময়ে বাসস্থান বরাদ্দ সম্পর্কে জারীকৃত আদেশ বলবৎ থাকিবে।

ব্যাখ্যা। এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, -

(ক) যদি জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট অফিস কর্তৃক কোনও কর্মচারীকে কর্মস্থলে অথবা তৎসন্নিকটস্থ মেস, হোস্টেল, রেস্ট হাউজ, ডরমিটরি বা ডাকবাংলোয় একক সিট কিংবা একক কক্ষ বরাদ্দ প্রদান করা হয়, তাহা এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক বাসস্থান বরাদ্দ হিসাবে গণ্য হইবে না এবং এই সকল ক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদের আওতায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারী বাড়ি ভাড়া ভাতা পাইবার অধিকারী হইবেন, তবে, উক্ত একক সিট বা একক কক্ষের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়া ও অন্যান্য আর্থিক দায় থাকিলে তাঁহাকে তাহা প্রদান করিতে হইবে;

(খ) সরকার কর্তৃক ঘোষিত বা নির্ধারিত কোনও Improvised Accommodation (যেমন- গ্যাং, কুঁড়েঘর, গুদামঘর, মালগাড়ির বগি, স্টিমার বা লঞ্চের বার্থ) এ যদি কর্মচারীকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়, তাহা হইলে তাঁহাকে নির্ধারিত ভাড়া প্রদান করিতে হইবে; তবে, সংশ্লিষ্ট কর্মচারী বাড়ি ভাড়া ভাতা পাইবার অধিকারী হইবেন।

(৬) এই অনুচ্ছেদের অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, কর্মচারীগণ ১ জানুয়ারি ২০২৮ তারিখ হইতে নিম্ন-সারণিতে উল্লিখিত হারে মাসিক বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রাপ্য হইবেন, যথা:-

সারণি

১) জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এর গ্রেড

গ্রেড-২০ এর সর্বনিম্ন ধাপ হইতে গ্রেড-১৬ এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য

মূল বেতনের ৬০% হারে

খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও বগুড়া সিটি কর্পোরেশন এবং সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকার জন্য

মূল বেতনের ৫০% হারে

অন্যান্য স্থানের জন্য

মূল বেতনের ৪৫% হারে

২) গ্রেড-১৫ এর সর্বনিম্ন ধাপ হইতে গ্রেড-১০ এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য

মূল বেতনের ৫০% হারে

খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও বগুড়া সিটি কর্পোরেশন এবং সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকার জন্য

মূল বেতনের ৪০% হারে

অন্যান্য স্থানের জন্য

মূল বেতনের ৩৫% হারে

৩) গ্রেড-৯ এর সর্বনিম্ন ধাপ হইতে গ্রেড-৫ এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য

মূল বেতনের ৪৫% হারে

খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও বগুড়া সিটি কর্পোরেশন এবং সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকার জন্য

মূল বেতনের ৩৫% হারে

অন্যান্য স্থানের জন্য

মূল বেতনের ৩০% হারে

৪) গ্রেড-৪ এর সর্বনিম্ন ধাপ হইতে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য

মূল বেতনের ৪০% হারে

খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও বগুড়া সিটি কর্পোরেশন এবং সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকার জন্য

মূল বেতনের ৩০% হারে

অন্যান্য স্থানের জন্য

মূল বেতনের ২৫% হারে

১৬। ভ্রমণ ভাতা।-ভ্রমণ ভাতার প্রচলিত বিধিবিধান পরবর্তী নির্দেশ প্রদান না করা পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে; তবে, বাস্তব অবস্থার আলোকে অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় ভ্রমণ ভাতার হার পুনর্নির্ধারণপূর্বক পরবর্তীতে পৃথক আদেশ জারি করিবে।

১৭। উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা।-(১) অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আদেশ নং-অম/ অবি (বাস্ত)-৪/ এফবি-১২/৮৬/২৯, তারিখ: ৩ জুলাই ১৯৮৮; অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস স্মারক নং ০৭.০০.০০০০.১৭৩.৩১.০৪৮.১০-৭৩, তারিখ: ২৩ আগস্ট ২০২১ ও সরকার কর্তৃক, সময়ে সময়ে জারীকৃত এতদসংক্রান্ত অন্যান্য বিধানাবলি অনুসারে বার্ষিক উৎসব ভাতা এবং Bangladesh Services (Recreation Allowance) Rules, 1979 এর বিধান অনুসারে শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা প্রদেয় হইবে; এই ভাতা একবার উত্তোলন করা হইলে পরবর্তীকালে বেতন নির্ধারণজনিত (pay fixation) সংশ্লিষ্ট কর্মচারী কোনও বকেয়া প্রাপ্য হইবেন না।

(২) অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র নং-অম/ অবি/ বিধি-১/ চাঃবি-৩/২০০৪/৯৯, তারিখ: ২৪ জুন ২০০৮ অনুযায়ী অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের নিট পেনশনের সমপরিমাণ হারে বৎসরে ২ (দুই)টি উৎসব ভাতা বলবৎ থাকিবে।

(৩) ১০০% পেনশন সমর্পণকারীগণ, ১০০% পেনশন সমর্পণ না করিলে যে পরিমাণ মাসিক নিট পেনশন প্রাপ্য হইতেন উক্ত পরিমাণ, প্রতি অর্থ বৎসরে ২ (দুই)টি উৎসব ভাতা হিসাবে প্রাপ্য হইবেন।

১৮। শিক্ষা সহায়ক ভাতা।-(১) সকল কর্মচারীর জন্য সন্তান প্রতি মাসিক ৫০০ (পাঁচশত) টাকা হারে এবং অনধিক ২ (দুই) সন্তানের জন্য মাসিক সর্বোচ্চ ১০০০ (এক হাজার) টাকা শিক্ষা সহায়ক ভাতা প্রদেয় হইবে, তবে, স্বামী ও স্ত্রী উভয়ই সরকারি কর্মচারী হইলে সন্তান সংখ্যা যে কোনও একজনের ক্ষেত্রেই গণনা করিয়া ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করিতে হইবে।

(২) বয়সের সার্টিফিকেট দাখিল সাপেক্ষে ২৩ (তেইশ) বৎসর পর্যন্ত বয়সের সন্তানের জন্য শিক্ষা সহায়ক ভাতা প্রাপ্য হইবেন।

(৩) শিক্ষা সহায়ক ভাতার বিষয়ে অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১৪ অক্টোবর ২০১৫ তারিখের ০৭.১৭৩.০৩১.০২.০০.০৩০.২০১০-৭৯ নং স্মারক এবং ২৯ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখের এস. আর. ও. নং ৪০-আইন/২০১৮ অনুসরণ করিতে হইবে।

১৯। টিফিন ভাতা। জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এর ১১তম হইতে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীগণ মাসিক ৫০০ (পাঁচশত) টাকা টিফিন ভাতা প্রাপ্য হইবেন, তবে যে সকল কর্মচারী তাঁহাদের প্রতিষ্ঠান হইতে লাঞ্চ ভাতা অথবা বিনামূল্যে দুপুরের খাবার পাইয়া থাকেন তাঁহাদের ক্ষেত্রে টিফিন ভাতা প্রযোজ্য হইবে না।

২০। কার্যভার ভাতা।- অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখের ০৭,০০,০০০০.১৭৩.০২২.৭০.১৮-১৭ নং পরিপত্রের বিধানাবলি পরিপালনসাপেক্ষে চলতি দায়িত্ব বা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপালনকারী কর্মচারী মাসিক ১৫০০ (এক হাজার পাঁচশত) টাকা কার্যভার ভাতা প্রাপ্য হইবেন।

২১। যাতায়াত ভাতা।-(১) জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এর ১১তম হইতে ২০তম গ্রেডের

কর্মচারীর ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্মস্থল হইলে তিনি মাসিক ৬০০ (ছয়শত) টাকা হারে যাতায়াত ভাতা প্রাপ্য হইবেন।

(২) প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীগণের জন্য গাড়ি ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত নীতিমালা, সর্বশেষ সংশোধনীসহ, প্রযোজ্য হইবে।

২২। মোবাইল ভাতা। জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ এর ৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারীগণ মাসিক ৫০০ (পাঁচশত) টাকা এবং ৬ষ্ঠ হইতে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীগণ মাসিক ১৫০ (একশত পঞ্চাশ) টাকা মোবাইল ভাতা প্রাপ্য হইবেন।

২৩। ধোলাই ভাতা। যে সকল কর্মচারীর ক্ষেত্রে ধোলাই ভাতা প্রযোজ্য, তাঁহারা মাসিক ৩০০ (তিনশত) টাকা ধোলাই ভাতা প্রাপ্য হইবেন।

২৪। আপ্যায়ন ভাতা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব/প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ২০০০ (দুই হাজার) টাকা; সিনিয়র সচিব/সচিব ১০০০ (এক হাজার) টাকা; অতিরিক্ত সচিব ৯০০ (নয়শত) টাকা এবং যুগ্মসচিব/অন্যান্য প্রাধিকারভুক্ত কর্মচারীগণ ৬০০ (ছয়শত) টাকা মাসিক আপ্যায়ন ভাতা প্রাপ্য হইবেন।

২৫। পাহাড়ি ভাতা। -পার্বত্য জেলাসমূহের জেলা সদর ও সদর উপজেলায় নিযুক্ত সকল কর্মচারী মূল বেতনের ২০% হারে সর্বোচ্চ ৫০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা এবং অন্যান্য উপজেলার জন্য মূল বেতনের ২০% হারে সর্বোচ্চ ৫৫০০ (পাঁচ হাজার পাঁচশত) টাকা মাসিক পাহাড়ি ভাতা প্রাপ্য হইবেন।

২৬। হাওড়/দ্বীপ/চর ভাতা। হাওড়/দ্বীপ/চর এলাকায় নিযুক্ত সকল কর্মচারী মূল বেতনের ২০% হারে, সর্বোচ্চ ৫০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা পর্যন্ত হাওড়/দ্বীপ/চর ভাতা প্রাপ্য হইবেন, এই ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখের ০৪.০০.০০০০.৫১২.৩৫.০১১.১৭.৭৬ নং প্রজ্ঞাপন ও অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২৬ মে ২০২৫ তারিখের ০৭.০০.০০০০.১৭৩.৪১.০২৭.১৫-১৩৫ নং প্রজ্ঞাপন এবং সরকার কর্তৃক, সময়ে সময়ে জারীকৃত নির্দেশনা প্রযোজ্য হইবে।

২৭। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে শধ প্রশিক্ষণ কাজে প্রেষণে কর্মরত

২৯। ঝুঁকি ভাতা ও অন্যান্য ভাতা।-স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-তে কর্মরত কর্মচারী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরত সার্কেল এডজুটেন্ট/কোম্পানী কমান্ডার/ব্যাটালিয়ন কোয়ার্টার মাস্টার ও তদনিম্ন পর্যায়ের কর্মচারী, কারাগারে কর্মরত ডেপুটি জেলার ও তদনিম্ন পর্যায়ের কর্মচারী, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডে কর্মরত এমসিপিও ও তদনিম্ন পর্যায়ের কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের অপারেশনাল কাজে নিয়োজিত উপসহকারী পরিচালক (গ্রেড ১০) হইতে ফায়ারম্যান/নার্সিং এ্যাটেনডেন্ট (গ্রেড ১৮) ও সমপর্যায়ের কর্মচারী, দুর্নীতি দমন কমিশনের গ্রেড-১০ ও তদনিম্ন পর্যায়ের কর্মচারী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন সারাদেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সহিত সম্পৃক্ত এবং ২৭৫ উপজেলায় কর্মরত এলসিএ/টিবিএলসি (গ্রেড ১৬) ও ৩১টি জেলার সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত প্রোগ্রাম অর্গানাইজার (গ্রেড ১৪) এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর এফএফএ এন্ড এমআইএস উইংয়ের প্রকাশনা শাখায় মুদ্রণ ও বাঁধাই সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সহিত প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ১৩তম হইতে ১৭তম গ্রেডভুক্ত ২৪ ক্যাটাগরির কর্মচারীগণ-এর ঝুঁকি ভাতার ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের যথাক্রমে, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের- ০৭.০০.০০০০.০০০.১৭৪.৩১.০০৪২.২৬-৭০, ০৭,০০,০০০০,০০০.১৭৪.৩১.০০৪২.২৬-৬৬, ০৭.০০.০০০০.০০০.১৭৪.৩১.০০৪২.২৬-৬৭, ০৭.০০.০০০০. ০০০.১৭৪.৩১.০০৪২.২৬-৬৮, ০৭.০০.০০০০.০০০.১৭৪.৩১.০০৪২.২৬-৬৯, ০৭.০০.০০০০.০০০.১৭৩. ৪৪.০০৮৬.২৬-১০১, ০৭,০০,০০০০,০০০.১৭৩.৪৪.০০৮৬.২৬-১০২, ০৭.০০.০০০০.০০০.১৭৩.৪৪.০০৮৬. ২৬-১০৩ নং স্মারক প্রযোজ্য হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে,-

(ক) মূল বেতনের শতাংশ হিসাবে এই ভাতার হার বা পরিমাণ নির্ধারিত হইবে না; এবং

(খ) প্রেষণে নিয়োজিত কর্মচারীগণ স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর জন্য নির্ধারিত ঝুঁকি ভাতা বা বিশেষ ভাতা কিংবা প্রতিরক্ষা সার্ভিস ভাতা (কেবল প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) প্রাপ্য হইবেন না।

৩০। এনএসআই, ডিজিএফআই, এসএসএফ, পিজিআর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগের কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ভাতা/ বিশেষ গার্ড ভাতা/ ক্ষতিপূরণ ভাতা/ ঝুঁকি ভাতা।- (১) এনএসআই, ডিজিএফআই, এসএসএফ, পিজিআর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কর্মচারী এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মচারী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগের ১১-২০ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীগণ ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে টাকার অঙ্কে যেই পরিমাণ বিশেষ ভাতা/বিশেষ গার্ড ভাতা/ক্ষতিপূরণ ভাতা/ঝুঁকি ভাতা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) আহরণ করিতেন, তিনি নিম্নোক্ত শর্তসাপেক্ষে উক্ত ভাতার পরিমাণের উপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ প্রাপ্য হইবেন, যথা:-

(ক) ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত বিশেষ ভাতা/বিশেষ গার্ড ভাতা/ক্ষতিপূরণ ভাতা/ঝুঁকি ভাতার পরিমাণের সহিত উক্ত ভাতার ২০ (বিশ) শতাংশ যোগ করিয়া যেই পরিমাণ নির্ধারিত হইবে, সেই পরিমাণ ভাতা সংশ্লিষ্ট কর্মচারীগণ প্রাপ্য হইবেন;

(খ) জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুযায়ী মূল বেতনের শতাংশ হিসাবে এই ভাতার হার বা পরিমাণ নির্ধারিত হইবে না; এবং

(গ) প্রেষণে নিয়োজিত কর্মচারীগণ স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর জন্য নির্ধারিত ঝুঁকিভাতা বা বিশেষ ভাতা বা প্রতিরক্ষা সার্ভিস ভাতা (কেবল প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) প্রাপ্য হইবেন না।

(২) এনএসআই, ডিজিএফআই, এসএসএফ, পিজিআর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগের কর্মচারীগণের জন্য বিশেষ ভাতা/বিশেষ গার্ড ভাতা/ক্ষতিপূরণ ভাতা/ঝুঁকি ভাতার ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের যথাক্রমে ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের ০৭.০০.০০০০.০০০.১৭৪.৩১.০০৪২.২৬-৭২, ০৭.০০.০০০০. ০০০.১৭৪.৩১.০০৪২.২৬-৭৩, ০৭.০০.০০০০.০০০.১৭৪.৩১.০০৪২.২৬-৭৪, ০৭.০০.০০০০.০০০.১৭৪. ৩১.০০৪২.২৬-৭৫, ০৭,০০,০০০০.০০০.১৭৩.৪৪.০০৮৬.২৬-১০৫, ০৭.০০.০০০০.০০০.১৭৩.৪৪.০০৮৬. ২৬-১০৬, ০৭.০০.০০০০.০০০.১৭৩.৪৪.০০৮৬.২৬-১০৭ নং স্মারক প্রযোজ্য হইবে।

৩১। আয়কর।-আয়করের আওতাভুক্ত সকল কর্মচারী বাধ্যতামূলকভাবে আয়কর আইন, ২০২৩ এর বিধান মোতাবেক নিজের বেতন খাতের আয়সহ মোট আয় নিরূপণ ও নিজস্ব আয় হইতে আয়কর পরিশোধপূর্বক যথাসময়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল করিবেন।

৩২। অনলাইনে বেতন নির্ধারণ পদ্ধতি।-(১) জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ জারি হইবার পর সরকারি কর্মচারীগণ অনলাইনে তাঁহাদের বেতন নির্ধারণের জন্য iBAS++ সিস্টেমে (www.ibas.finance.gov.bd) লগইন করিয়া Pay Fixation অপশনে নিজ বেতন নির্ধারণের জন্য নির্ধারিত ছক পূরণ করিবেন, তবে, কোনও সরকারি কর্মচারী পূর্বেকার www.payfixation.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রবেশ করিলেও তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে iBAS++ সিস্টেম-এর Pay Fixation অপশনে পৌঁছাইবেন (ল্যান্ডিং)।

(২) iBAS++ সিস্টেমে লগইন করিবার জন্য গেজেটেড সরকারি কর্মচারী তাঁহার iBAS++ লগইন ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড এবং নন-গেজেটেড সরকারি কর্মচারী তাঁহার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর এবং জন্মতারিখ ব্যবহার করিবেন, এই ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীর iBAS++ এ নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে (দেশের বাহিরে অবস্থানরতদের ক্ষেত্রে iBAS++ এ নিবন্ধিত ইমেইলে) প্রেরিত একবার ব্যবহারযোগ্য পাসওয়ার্ড (ওটিপি) ব্যবহার করিয়া সিস্টেমে প্রবেশ করিতে হইবে।

(৩) কোনও কর্মচারীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকিলে, বেতন নির্ধারণের পূর্বে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করিতে হইবে, একইভাবে, কোনও কর্মচারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্মতারিখ তাঁহার চাকরির রেকর্ডের জন্মতারিখ হইতে ভিন্ন হইলে বেতন নির্ধারণের পূর্বে আবশ্যিকভাবে চাকরির রেকর্ডে উল্লিখিত জন্মতারিখের ভিত্তিতে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করিতে হইবে।

(৪) iBAS++ সিস্টেমে লগইন করিবার পর বেতন নির্ধারণের জন্য নির্ধারিত ছকে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করিয়া ড্রইং এন্ড ডিসবার্সিং অফিসার (ডিডিও) বরাবর সাবমিট করিলে কর্মচারীর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে বেতন নির্ধারণী বিবরণী সাবমিশন হইয়াছে মর্মে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসএমএস প্রেরিত হইবে।

(৫) নির্ধারিত ছকে সঠিকভাবে তথ্যাদি এন্ট্রি করিবার পর ডিডিও বরাবরে সাবমিশনের পূর্বেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন বেতনস্কেলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর নির্ধারণযোগ্য মূল বেতনের পরিমাণ প্রদর্শিত হইবে।

(৬) ডিডিও প্রত্যেক গেজেটেড সরকারি কর্মচারীর বেতন নির্ধারণী বিবরণী হিসাবরক্ষণ অফিসে ফরওয়ার্ড করিবেন, নন-গেজেটেড সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রে সার্ভিস বহি অনুযায়ী বেতন নির্ধারণী ছকে চাকরি ও বেতনের পূর্ববর্তী তথ্যাদি ডিডিও সঠিকভাবে লিপিবদ্ধকরণ নিশ্চিত করিয়া হিসাবরক্ষণ অফিসে ফরওয়ার্ড করিবেন, ডিডিও iBAS++ সিস্টেম হইতে বেতন নির্ধারণী বিবরণীর এক কপি প্রিন্ট করিয়া সার্ভিস বহিসহ হিসাবরক্ষণ অফিসে প্রেরণ করিবেন।

(৭) অনলাইনে দাখিলকৃত বেতন নির্ধারণী বিবরণী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে পাওয়া যাইবে, হিসাবরক্ষণ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী প্রাপ্ত বেতন নির্ধারণী বিবরণী অনলাইনে যাচাই করিয়া সঠিক প্রতীয়মান হইলে তাহা অনলাইনে প্রতিপাদন করিবেন, হিসাবরক্ষণ অফিস কর্তৃক অনুমোদনের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেরিফিকেশন নম্বর জেনারেটেড হইবে এবং বেতন নির্ধারণী বিবরণীতে হিসাবরক্ষণ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীর ম্যানুয়াল স্বাক্ষর প্রয়োজন হইবে না।

(৮) হিসাবরক্ষণ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী বেতন নির্ধারণ অনুমোদনকালে ডিডিও কর্তৃক সম্পাদিত এন্ট্রি যাচাইপূর্বক সার্ভিস বহিতে ভেরিফিকেশন নম্বর ও নির্ধারিত বেতন লিপিবদ্ধ করিয়া স্বাক্ষর করিবেন, গেজেটেড কর্মকর্তার ক্ষেত্রে হিসাবরক্ষণ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী অনলাইনে বেতন নির্ধারণ অনুমোদনকালে নির্ধারিত বেতন ও ভেরিফিকেশন নম্বর অডিট রেজিস্টারের মানি-কলামে লিপিবদ্ধ করিয়া স্বাক্ষর করিবেন।

(৯) অনলাইনে বেতন নির্ধারণ সংক্রান্ত বিস্তারিত ব্যবহার নির্দেশিকা আলাদাভাবে প্রকাশ করা হইয়াছে, যাহা iBAS++ লগইন পেইজ (www.ibas.finance.gov.bd), অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট (www.mof.gov.bd), হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের ওয়েবসাইট (www.cga.gov.bd) এবং পে-ফিক্সেশন ওয়েবসাইট (www.payfixation.gov.bd) এ পাওয়া যাইবে।

(১০) সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস চূড়ান্তভাবে প্রতিপাদনকৃত 'বেতন নির্ধারণী বিবরণী'-এর ভিত্তিতে বেতন পরিশোধ করিবে এবং এই প্রক্রিয়ায় কম বা বেশি বেতন পরিশোধ হইয়া থাকিলে তাহা সমন্বয়যোগ্য হইবে।

৩৩। রহিতকরণ ও হেফাজত। (১) চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫, অতঃপর উক্ত আদেশ বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উপ-অনুচ্ছেদ (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত আদেশের ভাতাদি ও সুযোগ-সুবিধাদি সংক্রান্ত বিধানাবলি এবং তৎসম্পর্কিত প্রজ্ঞাপন, আদেশ, অফিস স্মারক ও পরিপত্রসমূহ, এই আদেশের অধীন ভাতাদি ও সুযোগ-সুবিধাদির সহিত সংগতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, বলবৎ রহিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে

ড. মোঃ খায়েরুজ্জামান মজুমদার

অর্থসচিব

সুত্রঃ অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়।









সম্পুর্ন পিডিএফ ডাউনলোড

লিঙ্ক২ অর্থ মন্ত্রণালয়

No comments

Your opinion here...

Theme images by fpm. Powered by Blogger.