তরুণদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় সুখবর: ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন, অর্ধেকই অনুদান
তরুণদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় সুখবর: ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন, অর্ধেকই অনুদান
২৮ বছর বয়সী তরুণদের জন্য বড় সুযোগ: ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে ঋণের সঙ্গে সমপরিমাণ অনুদান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন একটি বিশেষ অর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ (UDYOG): উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ নামে এ উদ্যোগের আওতায় নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ এবং সমপরিমাণ ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্টের এসএমইএসপিডি সার্কুলার নং-০৫, তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মাধ্যমে এ কর্মসূচির নীতিমালা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিই মূল লক্ষ্য
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রসারে তরুণ উদ্যোক্তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণদের খুঁজে বের করে তাঁদের ব্যবসায়িক উদ্যোগে অর্থায়ন, পরামর্শ ও বাজার সংযোগের সুযোগ সৃষ্টি করাই ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য।
কর্মসূচিটির ইংরেজি নাম UDYOG: Upazila-Driven Youth Opportunity for Growth।
এ কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে আয় উৎসারী, উৎপাদনমুখী ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে অর্থায়নের আওতায় এনে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কোন কোন উদ্যোগে পাওয়া যাবে অর্থায়ন?
প্রচলিত আইন অনুযায়ী বৈধ সব ধরনের ব্যবসা ও উদ্যোগ এ কর্মসূচির আওতায় বিবেচিত হবে। বিদ্যমান ব্যবসার পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক ধারণাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সম্ভাব্য খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে—
কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্প
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ
মৎস্য ও পশুপালন
হস্তশিল্প
পর্যটন
সেবা খাত
সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি
হালকা প্রকৌশল
প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপ
ই-কমার্স
ফিনটেক, এডটেক, এগ্রিটেক ও হেলথটেকসহ উদ্ভাবনী উদ্যোগ
তবে আইন দ্বারা নিষিদ্ধ কোনো ব্যবসা এ কর্মসূচির আওতায় অর্থায়নের জন্য বিবেচিত হবে না।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখে সর্বোচ্চ ২৮ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকরা এ কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন।
তবে আবেদনকারীর জন্য আরও কিছু শর্ত রয়েছে। তাঁকে—
১. সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে;
২. নিজের ব্যবসায়িক উদ্যোগ বা ব্যবসায়িক ধারণা থাকতে হবে অথবা নতুন ব্যবসা স্থাপনের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকতে হবে;
৩. ব্যবসা পরিচালনা ও অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে হবে;
৪. পূর্বে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়া থাকলে তিনি এ কর্মসূচির জন্য বিবেচিত হবেন না;
৫. কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণখেলাপি হওয়া যাবে না;
৬. সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হওয়া যাবে না।
সিআইবি যাচাইয়ে কেউ ঋণখেলাপি হিসেবে শনাক্ত হলে তাঁর আবেদন বাতিল হবে।
এ ছাড়া অসত্য তথ্য দেওয়া কিংবা অন্যের ব্যবসায়িক ধারণা নিজের নামে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে যেকোনো পর্যায়ে আবেদন বাতিল করা হবে। এমনকি সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে কালো তালিকাভুক্তও করা হতে পারে।
সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা, ঋণ ও অনুদান ৫০:৫০
‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো ঋণের সঙ্গে সমপরিমাণ অনুদান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রকৃত ব্যবসায়িক চাহিদা ও প্রস্তাবিত ব্যয়ের ভিত্তিতে একজন নির্বাচিত উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়ন দেওয়া যেতে পারে।
এর কাঠামো হবে—
৫০% ব্যাংক ঋণ + ৫০% অনুদান
অর্থাৎ সর্বোচ্চ—
১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ
১০ লাখ টাকা অনুদান
মোট ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন
তবে সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২০ লাখ টাকা পাবেন না। ব্যবসার প্রকৃত প্রয়োজন, ব্যয় পরিকল্পনা এবং চূড়ান্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কোনো উদ্যোক্তার ব্যবসা শুরু বা পরিচালনার জন্য যদি ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা ঋণ এবং ৬ লাখ টাকা অনুদান পেতে পারেন।
উদ্যোক্তার নিজস্ব বিনিয়োগ বা অন্য কোনো বৈধ উৎসের অর্থ থাকলে সেটিও অর্থায়ন পরিকল্পনায় বিবেচনা করা হবে।
অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে শর্ত
ব্যাংক ঋণের পাশাপাশি সমপরিমাণ অনুদান সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হবে। তবে উদ্যোক্তা ঋণের জন্য যোগ্য হলেই কেবল অনুদানের জন্য যোগ্য হবেন।
ঋণ ও অনুদান একই সময়ে, এককালীন এবং অনুমোদিত পূর্ণ পরিমাণে উদ্যোক্তার ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। কোনো অর্থ নগদে দেওয়া হবে না।
তবে উদ্যোক্তা নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অথবা অর্থের যথাযথ ব্যবহার না হলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। সে ক্ষেত্রে বিতরণ করা অনুদানের সমপরিমাণ অর্থও ঋণে রূপান্তরিত হবে। ওই অর্থ সরকারি পাওনা হিসেবে বিবেচিত হয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদায়যোগ্য হবে।
এ ছাড়া ঋণ ও অনুদান বিতরণের সময় উদ্যোক্তার কাছ থেকে আর্থিক সহায়তার সমপরিমাণ Post-Dated Cheque (PDC) গ্রহণ করতে হবে।
জামানত ছাড়াই ঋণের সুযোগ
‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আওতায় দেওয়া ঋণের বিপরীতে কোনো সহায়ক জামানত ছাড়াও ঋণ প্রদান করা যেতে পারে।
অর্থাৎ যোগ্য উদ্যোক্তাদের জন্য প্রচলিত জামানতভিত্তিক ঋণের তুলনায় এটি তুলনামূলকভাবে সহজ অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
কোথায় ও কীভাবে আবেদন করতে হবে?
সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অবস্থিত যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন করা যাবে।
বিশেষ বিষয় হলো, যে ব্যাংকে আবেদন করা হবে সেখানে আগে থেকে ব্যাংক হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজন হবে—
জাতীয় পরিচয়পত্র
সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, যদি থাকে
পাসপোর্ট সাইজের ছবি
যথাযথভাবে পূরণ করা নির্ধারিত আবেদন ফরম
সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ হিসেবে ওয়ার্ড কমিশনার/কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিক সনদ বা প্রত্যয়নপত্র
আবেদন ফরম বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে। পাশাপাশি তফসিলি ব্যাংকের শাখা থেকেও ফরমের হার্ড কপি সংগ্রহ করা যাবে।
ব্যাংক শাখাতেই জমা দেওয়া যাবে আবেদন
কর্মসূচির আওতাভুক্ত প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের শাখা স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার ও আবেদন গ্রহণ করবে। প্রতিটি শাখাকে এজন্য আলাদা ‘উদ্যোগ রেজিস্টার’ সংরক্ষণ করতে হবে।
সেখানে প্রতিটি আবেদনকারীর ট্র্যাকিং নম্বর, নাম ও আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ লিপিবদ্ধ করা হবে এবং আবেদনকারীর স্বাক্ষর নেওয়া হবে।
আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখের পরবর্তী কার্যদিবসে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখাগুলো সব আবেদন উপজেলা লীড ব্যাংকের কাছে পাঠাবে। উপজেলা লীড ব্যাংক পরবর্তী কার্যদিবসে আবেদনগুলো জেলা লীড ব্যাংকের কাছে পাঠাবে। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় অফিসে পাঠানো হবে।
কীভাবে উদ্যোক্তা নির্বাচন হবে?
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, উদ্যোক্তা বাছাইয়ের প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক।
এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি স্বনামধন্য ও সফল উদ্যোক্তা, তফসিলি ব্যাংকের প্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি সহযোগী সংস্থা, সংশ্লিষ্ট খাতের ইন্ডাস্ট্রি লিডার, শিক্ষাবিদ এবং অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা যুক্ত থাকবেন।
আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হবে—
ব্যবসায়িক ধারণার যৌক্তিকতা
ব্যবসা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা
বাজার সম্ভাবনা
আর্থিক পরিকল্পনা
উদ্যোক্তার সক্ষমতা
কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের তালিকা সংশ্লিষ্ট লীড ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের জন্য পাঠানো হবে।
নির্বাচিত হলেই ঋণ নিশ্চিত নয়
বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করে দিয়েছে, কর্মসূচির আওতায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়া মানেই ঋণ পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।
চূড়ান্ত মনোনয়নের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব ঋণ নীতি এবং প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা অনুসরণ করে উদ্যোক্তার ঋণ আবেদন যাচাই করবে।
নির্বাচিত উদ্যোক্তার তালিকার ক্রমানুসারে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কোনো উদ্যোক্তাকে চূড়ান্ত ঋণ অনুমোদন দেওয়া সম্ভব না হলে ব্যাংককে প্রত্যাখ্যানের কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।
ঋণের টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে, তাও দেখবে ব্যাংক
শুধু ঋণ ও অনুদান বিতরণ করেই দায়িত্ব শেষ হবে না। উদ্যোক্তা অনুমোদিত ব্যয় পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থ ব্যবহার করছেন কি না, তা ব্যাংক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে।
ব্যবসার—
অগ্রগতি
বিক্রয়
নগদ প্রবাহ
ঋণ পরিশোধ
কর্মসংস্থান সৃষ্টি
ইত্যাদি বিষয়ে নজরদারি করা হবে।
এ ছাড়া উদ্যোক্তার নাম, বয়স, লিঙ্গ, ঠিকানা, উপজেলা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, ব্যবসার ধরন, নিজস্ব বিনিয়োগ, অনুমোদিত ঋণ ও অনুদান, ঋণের মেয়াদ, বিতরণের তারিখ, পুনঃঅর্থায়ন এবং ঋণ পরিশোধসহ বিভিন্ন তথ্য ব্যাংককে সংরক্ষণ করতে হবে।
শুধু টাকা নয়, প্রশিক্ষণ ও মেন্টরশিপও
‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে অর্থায়নের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যেক আবেদনকারীকে Financial Literacy Programme-এর আওতায় আনা হবে।
নির্বাচিত উদ্যোক্তারা পাবেন—
উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ
অভিজ্ঞ মেন্টরের ধারাবাহিক পরামর্শ
ট্রেড লাইসেন্স ও TINসহ ব্যবসা নিবন্ধনে সহায়তা
Business Plan তৈরিতে সহায়তা
বাজার সংযোগ স্থাপনের সুযোগ ও পরামর্শ
ফলে শুধু অর্থায়ন নয়, ব্যবসা পরিচালনার প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সহায়তা দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।
তদবির করলে বাতিল হবে আবেদন
কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার জন্য কোনো পর্যায়ে তদবির বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করলে আবেদনকারীর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে।
এ ছাড়া ব্যাংকগুলোকে KYC/eKYC, CIB এবং লেনদেন তদারকিসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সব সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি দেশের উপজেলা পর্যায়ের তরুণদের ব্যবসায়িক উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের আওতায় আনার একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ঋণের পাশাপাশি সমপরিমাণ অনুদান, সম্ভাব্য জামানত ছাড়াই ঋণ এবং প্রশিক্ষণ-মেন্টরশিপের সুযোগ তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করতে পারে।
তবে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ হবে উদ্যোক্তার প্রকৃত ব্যবসায়িক প্রয়োজন, ব্যয় পরিকল্পনা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে—সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পাওয়া স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকেই কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধান কার্যালয়
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ বাংলাদেশ।
www.bb.org.bd
এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ ডিপার্টমেন্ট
তারিখ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
এসএমইএসপিডি সার্কুলার নং-০৫
ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংক।
প্রিয় মহোদয়,
"উদ্যোগ (UDYOG): উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি" সংক্রান্ত নীতিমালা।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রসারে তরুণ উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের স্থানীয়ভাবে আয় উৎসারী, উৎপাদনমুখী বা উদ্ভাবনী উদ্যোগকে অর্থায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানে রূপান্তর করা গেলে একদিকে যেমন তরুণদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা যাবে অন্যদিকে তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট, ই-কমার্স, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, ফিনটেক, এডটেক, এগ্রিটেক, হেলথটেক প্রভৃতি ব্যবসার প্রসার তরুণদের জন্য নতুন ও বৈচিত্রময় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। এছাড়াও কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, পর্যটন ও স্থানীয় সম্পদভিত্তিক উদ্যোগে তরুণদের সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করা সম্ভব। উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান ও প্রকৃত উদ্যোক্তা নির্বাচনকরতঃ ব্যাংক অর্থায়নের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে সর্বোপরি উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক হতে "উদ্যোগ (UDYOG): উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি” নামীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত কর্মসূচির বিশদ নীতিমালা নিম্নরূপ:
১. কর্মসূচির নাম
উদ্যোগ: উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি (UDYOG: Upazila-Driven Youth Opportunity for Growth) |
২. কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও বৈশিষ্ট্য
২.১. উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, প্রকৃত উদ্যোক্তা নির্বাচন, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, সংশ্লিষ্ট উদ্যোগকে কার্যকর করার জন্য পরামর্শ প্রদান ও বাজার সংযোগের সুযোগ সৃষ্টি করা; এবং
২.২ প্রকৃত উদ্যোক্তা নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁদের ব্যবসায়িক মূলধনের চাহিদার উপর ভিত্তি করে ঋণ এবং সমপরিমাণ অনুদান প্রদান করা।
৩. উদ্যোগের ধরণ
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বৈধ সব ধরনের ব্যবসা/উদ্যোগ এ কর্মসূচির আওতায় বিবেচিত হবে। এ কর্মসূচির আওতায় বিদ্যমান ব্যবসায়িক ধারণার পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক ধারণাও অনুরূপ প্রাধান্য পাবে। কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা, সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন, হালকা প্রকৌশল এবং প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্ট-আপ উদ্যোগসহ অন্যান্য বৈধ ব্যবসা এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হবে। আইন দ্বারা নিষিদ্ধ কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত হবে না।
চলমান পাতা-২
৪. কর্মসূচির আওতা ও বাস্তবায়ন পর্যায়
৪.১ উদ্যোক্তা অনুসন্ধানের কর্মসূচিটি তফসিলি ব্যাংকসমূহের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ব্যাংকের শাখাগুলো স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার, উদ্যোক্তাগণ হতে আবেদন গ্রহণ, প্রকৃত উদ্যোক্তা শনাক্তকরণ এবং যাচাইকরণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে;
৪.২ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে তফসিলি ব্যাংকের শাখাসমূহের মধ্য হতে একটি করে লীড ব্যাংক মনোনীত করা হবে এবং উক্ত লীড ব্যাংকসমূহের মাধ্যমে এ কর্মসূচি সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট জেলার সকল আবেদনসমূহ জেলা লীড ব্যাংকের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে; এবং
৪.৩ আলোচ্য কর্মসূচিটি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুচ্ছেদ নং-১২ এ বর্ণিত প্রক্রিয়ায় উদ্যোক্তা বাছাইপূর্বক চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদান করা হবে।
৫. উদ্যোক্তার যোগ্যতা
৫.১ প্রাপ্তবয়স্ক সকল নাগরিক আলোচ্য কর্মসূচির আওতায় আবেদন করতে পারবেন। আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখে বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে;
৫.২ উদ্যোক্তাকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে;
৫.৩ উদ্যোক্তার নিজস্ব ব্যবসায়িক উদ্যোগ/ব্যবসায়িক ধারণা থাকতে হবে অথবা নতুন ব্যবসা স্থাপনের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকতে হবে;
৫.৪ ব্যবসা পরিচালনা ও অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা উদ্যোক্তা কর্তৃক যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে হবে;
৫.৫ ইতোপূর্বে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ গ্রহণ করে থাকলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী এ কর্মসূচির আওতায় বিবেচিত হবেন না;
৫.৬ কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তি এ কর্মসূচির আওতায় আবেদনের যোগ্য বিবেচিত হবেন না। সিআইবি যাচাইয়ে খেলাপি প্রমাণিত হলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে;
৫.৭ সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি এ কর্মসূচির আওতায় অর্থায়নের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না; এবং
৫.৮ অসত্য তথ্য প্রদান বা অন্যের ধারণা নিজের নামে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে, আবেদনটি যেকোনো পর্যায়ে বাতিল এবং আবেদনকারীকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।
৬. অর্থায়নের কাঠামো
৬.১ প্রকৃত ব্যবসায়িক চাহিদা ও প্রস্তাবিত ব্যয়-এর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি নির্বাচিত উদ্যোক্তার জন্য সর্বোচ্চ সমন্বিত অর্থায়ন (Blended Financing) হিসেবে ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা যাবে;
৬.২ সমন্বিত অর্থায়নের ঋণ-অনুদান অনুপাত হবে ৫০:৫০। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১০ (দশ) লক্ষ টাকা ব্যাংক ঋণ এবং সর্বোচ্চ ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করা যাবে;
৬.৩ এ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রত্যেক উদ্যোক্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত অর্থায়ন প্রাপ্তির অধিকারী হবেন না। উদ্যোক্তার প্রকৃত ব্যবসায়িক চাহিদা, প্রস্তাবিত ব্যয় পরিকল্পনা এবং চূড়ান্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো উদ্যোক্তার ব্যবসার জন্য ১২ (বারো) লক্ষ টাকা প্রয়োজন হলে তিনি সর্বোচ্চ ৬ (ছয়) লক্ষ টাকা ব্যাংক ঋণ এবং সর্বোচ্চ ৬ (ছয়) লক্ষ টাকা অনুদান প্রাপ্ত হবেন; এবং
৬.৪ উদ্যোক্তার নিজস্ব বিনিয়োগ বা অন্য কোনো বৈধ উৎসের অর্থ থাকলে তা অর্থায়ন পরিকল্পনায় যথাযথভাবে বিবেচনা করতে হবে।
চলমান পাতা-৩
৭. ঋণ সুবিধা
৭.১ তফসিলি ব্যাংকসমূহ নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের অনুকূলে ঋণ প্রদান করবে এবং ব্যবসায়ের ধরণ বা খাত অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমসমূহ থেকে পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা প্রাপ্য হবে;
৭.২ আলোচ্য কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত উদ্যোক্তার অনুকূলে প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা প্রাপ্তির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে ইতোমধ্যে চুক্তিবদ্ধ অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান (PFI) ব্যতীত অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকও আবেদন করতে পারবে। এক্ষেত্রে, যে সকল ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে চুক্তিবদ্ধ নয়, সে সকল ব্যাংককে কেবল "উদ্যোগ" কর্মসূচির আওতায় পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা গ্রহণের নিমিত্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে পৃথকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে; এবং
৭.৩ পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্কিমের নীতিমালায় বর্ণিত সুদ/মুনাফার হার ও অন্যান্য শর্তাবলি যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে। একই উদ্যোগের বিপরীতে একাধিক তহবিল হতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করা যাবে না।
৮. অনুদান
৮.১ ঋণের পাশাপাশি সমপরিমাণ আর্থিক সহায়তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে অনুদান হিসেবে প্রদান করা হবে। উদ্যোক্তা ঋণের জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হলেই কেবলমাত্র অনুদান প্রাপ্য হবেন;
৮.২ ব্যাংক ঋণ ও অনুদান একই সময়ে, এককালীন এবং অনুমোদিত পূর্ণ পরিমাণে উদ্যোক্তার ব্যাংক হিসাবে বিতরণ করা হবে। নগদে কোনো অর্থ প্রদান করা যাবে না;
৮.৩ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অথবা কোনো পর্যায়ে ঋণের সদ্ব্যবহার হয়নি মর্মে পরিলক্ষিত হলে বিতরণকৃত অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ ঋণে রূপান্তরিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তা পৃথকভাবে হিসাবভুক্ত করবে। উক্ত অনুদানের অর্থ সরকারি পাওনা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং বিদ্যমান আইন মোতাবেক আদায়যোগ্য হবে; এবং
৮.৪ আর্থিক সহায়তার সমপরিমাণ Post-Dated Cheque সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতা থেকে ঋণ ও অনুদান বিতরণের সময়ে ব্যাংক কর্তৃক গ্রহণ করতে হবে।
১. জামানত
আলোচ্য কর্মসূচির আওতায় প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে কোনো সহায়ক জামানত গ্রহণ ব্যতিরেকেও ঋণ প্রদান করা যাবে।
১০. উদ্যোক্তার আবেদন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় দলিলাদি
১০.১ সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অবস্থিত যে কোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমের (সংযুক্তি অনুযায়ী) মাধ্যমে আবেদন দাখিল করা যাবে। আবেদনকারী যে ব্যাংকে আবেদন করবেন, সেই ব্যাংকে পূর্ব থেকে হিসাব থাকা আবশ্যক নয়;
১০.২ ক্রম ৫.২-এ বর্ণিত শর্তের প্রমাণক হিসেবে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার/কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিক সনদ বা প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে;
১০.৩ নির্ধারিত ফরমের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট (www.bb.org.bd)/এসএমই পোর্টাল/তফসিলি ব্যাংকসমূহের ওয়েবসাইট হতে আবেদন ফরমটি ডাউনলোড করা যাবে। এছাড়াও তফসিলি ব্যাংকসমূহের যে কোনো শাখা হতে আবেদনপত্রটি সংগ্রহ করা যাবে; এবং
১০.৪ আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র, সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (যদি থাকে), পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং যথাযথভাবে পূরণকৃত আবেদন ফরম জমা দিতে হবে।
১১. ব্যাংকের দায়িত্ব
১১.১ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান ও প্রচার: কর্মসূচির আওতাভুক্ত উপজেলায় অবস্থিত প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের শাখা স্থানীয় পর্যায়ে
সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান কর্মসূচির প্রচার এবং আবেদন গ্রহণ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রচারণা কার্যক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত লোগো ব্যবহার করতে হবে এবং নির্ধারিত পোস্টার/ব্যানার/এক্স-ব্যানার প্রতিটি শাখার দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে;
১১.২ আবেদন ফরম সরবরাহ: প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইটের হোমপেজে সহজে দৃশ্যমান স্থানে আবেদন ফরমটি Downloadable Format-এ রাখতে হবে। এতদ্ব্যতীত, আগ্রহী উদ্যোক্তাগণ যে কোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখা হতে আবেদন ফরমের হার্ড কপি সংগ্রহ করতে পারবেন;
১১.৩ আবেদন গ্রহণ ও রেজিস্টার সংরক্ষণ: সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অবস্থিত যে কোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখা উদ্যোক্তাগণের নিকট
হতে আবেদনপত্র গ্রহণ করবে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি শাখাকে একটি নির্ধারিত উদ্যোগ রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে হবে। উক্ত রেজিস্টারে প্রতিটি আবেদনপত্রে প্রদানকৃত ট্র্যাকিং নম্বর, আবেদনকারীর নাম ও দাখিলের তারিখ লিপিবদ্ধ থাকবে এবং আবেদনকারীর স্বাক্ষর গ্রহণ করতে হবে;
১১.৪ আবেদন প্রেরণের ধারাক্রম: বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী:
(ক) আবেদন গ্রহণকারী তফসিলি ব্যাংকের শাখাসমূহ প্রাপ্ত সকল আবেদন, আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখের পরবর্তী কার্যদিবসে সংশ্লিষ্ট উপজেলা লীড ব্যাংকের নিকট প্রেরণ করবে;
(খ) উপজেলা লীড ব্যাংক তাদের নিকট প্রাপ্ত সকল আবেদনসমূহ প্রাপ্তির পরবর্তী কার্যদিবসে সংশ্লিষ্ট জেলার লীড ব্যাংকের নিকট প্রেরণ করবে; এবং
(গ) সদর উপজেলা লীড ব্যাংক প্রাপ্ত সকল আবেদন, উক্ত ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের যে বিভাগীয় অফিসের আওতাধীন, তার নিকট আবেদনসমূহ প্রাপ্তির পরবর্তী কার্যদিবসে প্রেরণ করবে।
১১.৫ ফোকাল পয়েন্ট: প্রতিটি ব্যাংক কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয়ের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত একজন কর্মকর্তাকে Focal Point হিসেবে মনোনয়ন করে তাঁর নাম, পদবি ও যোগাযোগের তথ্য এ বিভাগে প্রেরণ করবে।
১২. উদ্যোক্তা নির্বাচন প্রক্রিয়া
আলোচ্য কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উদ্যোক্তা বাছাই ও চূড়ান্ত মনোনয়নের কার্যক্রম একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা হবে। উক্ত প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকসহ স্বনামধন্য ও সফল উদ্যোক্তা, তফসিলি ব্যাংকের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি সহযোগী সংস্থা, সংশ্লিষ্ট খাতের ইন্ডাস্ট্রি লিডার, শিক্ষাবিদ এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞগণ সম্পৃক্ত থাকবেন। আবেদনকারীর ব্যবসায়িক ধারণার যৌক্তিকতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা, বাজার সম্ভাবনা, আর্থিক পরিকল্পনা, উদ্যোক্তার সক্ষমতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদান করা হবে। নির্বাচিত উদ্যোক্তার তালিকা সংশ্লিষ্ট উপজেলার লীড ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নিকট ঋণ অনুমোদন ও বিতরণসহ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে প্রেরণ করা হবে।
১৩. ঋণ অনুমোদন ও ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিতকরণ
১৩.১ এ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত হওয়া ঋণ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নয়। চূড়ান্ত মনোনয়নের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব ঋণ নীতিমালা এবং বাংলাদেশে প্রচলিত সকল বিধিবিধান ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালনপূর্বক নির্বাচিত উদ্যোক্তা তালিকার ক্রমানুসারে ১৫ (পনের) কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদন করবে। কোনো উদ্যোক্তা চূড়ান্ত ঋণ অনুমোদন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যাত হলে ব্যাংক কর্তৃক প্রত্যাখ্যানের কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে;
১৩.২ বিতরণকৃত অর্থ অনুমোদিত ব্যয় পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবহৃত হচ্ছে কি না তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিয়মিতভাবে পরিবীক্ষণ করবে। এ লক্ষ্যে ব্যবসার অগ্রগতি, বিক্রয় ও নগদ প্রবাহ, ঋণ পরিশোধের অবস্থা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে;
চলমান পাতা-৫
১৩.৩ প্রতিটি ব্যাংককে নির্বাচিত উদ্যোক্তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, নাম, বয়স, লিঙ্গ, ঠিকানা, উপজেলা, শিক্ষা/প্রশিক্ষণ, ব্যবসার ধরণ, নিজস্ব বিনিয়োগ, অনুমোদিত ঋণ ও অনুদানের পরিমাণ, ঋণের মেয়াদ, বিতরণের তারিখ, পুনঃ অর্থায়ন, ঋণ পরিশোধের তথ্যাবলী, Classified/Rescheduled Status সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে; এবং
১৩.৪ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত ফরম্যাট অনুযায়ী উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, আবেদন গ্রহণ, ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ, অনুদান বিতরণ, পুনঃ অর্থায়ন, ঋণ আদায়সহ প্রাসঙ্গিক তথ্য নিয়মিতভাবে রিপোর্ট করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের Central Portal, MIS Dashboard National Entrepreneur Database চালু হলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তথ্য আপলোড করতে হবে।
১৪. উদ্যোক্তা উন্নয়নে অন্যান্য সহায়ক কার্যক্রম
আলোচ্য কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক আবেদনকারী Financial Literacy Programme-এর আওতায় আসবেন। এতদ্ব্যতীত, নির্বাচিত উদ্যোক্তাগণের অর্থায়নের পাশাপাশি উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের ধারাবাহিক পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধন (Trade Licence, TIN ইত্যাদি) ও Business Plan প্রণয়নে সহায়তা এবং বাজার সংযোগ স্থাপনের সুযোগ প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও পরামর্শ প্রদান করা হবে।
১৫. সাধারণ নির্দেশনা
১৫.১ এ কর্মসূচির আওতায় সুবিধা প্রাপ্তির লক্ষ্যে যে কোনো পর্যায়ে কোনো প্রকার তদবির করা হলে তা সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং আবেদনকারীর প্রার্থিতা বাতিল বলে গণ্য হবে;
১৫.২ এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যাংকসমূহ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময়ে সময়ে জারিকৃত অন্যান্য প্রযোজ্য নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে।
১৫.৩ ব্যাংককে গ্রাহক পরিচিতি যাচাই (KYC/eKYC), সিআইবি (CIB), লেনদেন তদারকি সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারিকৃত সকল নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
১৬. ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হলো যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
স্বাক্ষরিত
আপনাদের বিশ্বস্ত,
(মোঃ জবদুল ইসলাম)
পরিচালক (এসএমইএসপিডি)
সম্পুর্ণ পিডিএফ ডাউনলোড






No comments
Your opinion here...