শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছরজুড়ে ১৫ ধরনের ক্রীড়া ও সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম চালুর নির্দেশ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছরজুড়ে ১৫ ধরনের ক্রীড়া ও সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম চালুর নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সারা বছর ক্রীড়া, সহ-পাঠ্যক্রমিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের শারীরিক শিক্ষা বিভাগ থেকে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একাডেমিক কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে সুবিধাজনক সময়ে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাউশির স্মারক নং-৩৭.০২.০০০০.১১২.০৬.০০১.২০/৬৭৯৩-এ বলা হয়েছে, ক্রীড়া ও সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম একাডেমিক শিক্ষার পরিপূরক হিসেবে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করলে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত হবে।
যেসব খেলাধুলা পরিচালনা করতে হবে
নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ফুটবল, ভলিবল, দাবা, ক্রিকেট, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, হ্যান্ডবল, বাস্কেটবল, হকি, গ্রামীণ ও ঐতিহ্যবাহী খেলা, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, তায়কোন্দ ও মার্শাল আর্টসহ বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শারীরিক চর্চা, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ এবং প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমেও থাকছে বিস্তৃত আয়োজন
ক্রীড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, সৃজনশীলতা, ভাষাগত দক্ষতা ও সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এসবের মধ্যে রয়েছে—হামদ ও নাত, বাংলা ও ইংরেজি বক্তৃতা, উপস্থিত বক্তৃতা, বাংলা ও ইংরেজি বিতর্ক, দেয়ালিকা তৈরি, বই পড়া কর্মসূচি, বাংলা ও ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা পাঠ, সৃজনশীল লেখা, পরিবেশ সুরক্ষা কর্মসূচি, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি, যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন, গণিত অলিম্পিয়াড এবং ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি।
পরিবেশ সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাছ লাগানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস এবং ডাস্টবিন স্থাপনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও থাকছে নানা আয়োজন
শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশের জন্য আধুনিক গান, দেশাত্মবোধক গান, নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত ও লোকগীতির পাশাপাশি আবৃত্তি, একক অভিনয়, কুইজ, নৃত্য, গ্রাফিতি অঙ্কন, চিত্রাঙ্কন এবং উৎসব, লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবিষয়ক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
বছরজুড়েই চলবে কার্যক্রম
নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ক্রীড়া ও সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম সারা বছর চলমান থাকবে। তবে এসব কার্যক্রম পরিচালনার সময় একাডেমিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সুবিধাজনক সময় নির্ধারণ করতে হবে।
স্কাউট ও বিভিন্ন ক্লাব কার্যক্রমে গুরুত্ব
ক্রীড়া ও সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বয়েজ স্কাউট, রোভার স্কাউট, গার্ল গাইডস, বিজ্ঞান ক্লাব, বিতর্ক ক্লাব এবং স্বাস্থ্য ও শারীরিক শিক্ষা ক্লাবসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনায় যথাযথ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।
মাউশির নির্দেশনায় এসব কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা ও বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
নির্দেশনাটি স্বাক্ষর করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (শারীরিক শিক্ষা) প্রফেসর মো. শহিদুল ইসলাম।
মাউশির এ উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সৃজনশীলতা, সংস্কৃতি, নেতৃত্ব, সামাজিক মূল্যবোধ ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বিকাশে আরও বেশি সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর
শারীরিক শিক্ষা বিভাগ
বাংলাদেশ, ঢাকা।
www.dshe.gov.bd
স্মারক নং-৩৭.০২.০০০০.১১২.০৬.০০১.২০/৬৭৯৩
তারিখ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিষয়: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে ক্রীড়া ও সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত।
উপর্যুক্ত বিষয়ের প্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, ক্রীড়া ও সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম একাডেমিক শিক্ষার পরিপুরক হিসেবে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্রীড়া ও সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করলে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত হবে। সেই লক্ষ্যে মাউশির আওতাধীন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিম্নোল্লিখিত ক্রীড়া ও সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
ক্রীড়া ও সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম;
ক) ক্রীড়া
১. ফুটবল
২. ভলিবল
৩. দাবা
৪. ক্রিকেট
৫. টেবিল টেনিস
৬. কাবাডি
৭. ব্যাডমিন্টন
৮. হ্যান্ডবল
৯. বাস্কেটবল
১০. হকি
১১. গ্রামীণ ও ঐতিহ্যবাহী খেলা
১২. সাঁতার
১৩. অ্যাথলেটিকস
১৪. তায়কোন্দ
১৫. মার্শাল আর্ট
খ) সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম
১., হামদ ও নাত
২. বক্তৃতা (বাংলা ও ইংরেজি)
৩. উপস্থিত বক্তৃতা
৪. বিতর্ক (বাংলা ও ইংরেজি)
৫. দেয়ালিকা তৈরি
৬. বই পড়া কর্মসূচি
৭. দৈনিক পত্রিকা পাঠ (বাংলা ও ইংরেজি)
৮. সৃজনশীল লেখা কর্মসূচি
৯. পরিবেশ সুরক্ষা কর্মসূচি (গাছ লাগান, পরিস্কার ক্যাম্পাস ও ডাস্টবিন স্থাপন))
১০. ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি
১১. মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি (যোগব্যায়াম/মেডিটেশন
১২. গণিত অলিম্পিয়াড।
১৩. ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি
গ) সাংস্কৃতিক কার্যক্রম
১. সঙ্গীতঃ আধুনিক গান, দেশাত্মবোধক গান, নজরুল সঙ্গীত, রবীন্দ্র সঙ্গীত, লোকগীতি
২. আবৃত্তি (বাংলা কবিতা)
৩. একক অভিনয়
৪. কুইজ
৫. নৃত্য
৬. গ্রাফিতি অঙ্কন
৭. উৎসব, লোক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক অনুষ্ঠান
৮. চিত্রাঙ্কন
০১। ক্রীড়া ও সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম সারা বছরই চলমান থাকবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ একাডেমিক কার্যক্রমের সাথে সমন্বয় করে ক্রীড়া ও সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম সুবিধাজনক সময়ে বাস্তবায়ন করবে।
২। ক্রীড়া ও সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বয়েজ স্কাউট, রোভার স্কাউট, গার্ল গাইডস, বিজ্ঞান ক্লাব, বির্তক ক্লাব, স্বাস্থ্য ও শারীরিক শিক্ষা ক্লাব ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনায় যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।
উল্লিখিত কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নের জন্য নিদেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
স্বাক্ষরিত
(প্রফেসর মো: শহিদুল ইসলাম)
উপপরিচালক (শারীরিক শিক্ষা)
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর
বাংলাদেশ, ঢাকা।


No comments
Your opinion here...