IPEMIS-এ নিষ্ক্রিয় প্রাথমিক বিদ্যালয় সক্রিয় করে APS-S ২০২৬-এ এন্ট্রির নির্দেশ
IPEMIS-এ নিষ্ক্রিয় প্রাথমিক বিদ্যালয় সক্রিয় করে APS-S ২০২৬-এ এন্ট্রির নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) IPEMIS-এ এখনো বিভিন্ন ধরনের বিপুলসংখ্যক প্রাথমিক বিদ্যালয় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে যেগুলো বাস্তবে চলমান, সেগুলো যাচাই করে দ্রুত সক্রিয় করার পাশাপাশি বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিসংখ্যান (APS-S)-২০২৬ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে এন্ট্রি সম্পন্ন না হলে ভবিষ্যতে বৃত্তি পরীক্ষার ডিআর এন্ট্রি এবং বই বিতরণের চাহিদা নিরূপণে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
এ বিষয়ে ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রকিব উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক নিষ্ক্রিয় বিদ্যালয়ের সংখ্যা
IPEMIS-এর রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের আট বিভাগে বিভিন্ন ধরনের মোট ১৭ হাজার ৬৫৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।
বিভাগভিত্তিক সংখ্যাগুলো হলো—
রাজশাহী বিভাগ: ১,৯৯৯টি
খুলনা বিভাগ: ১,১৭১টি
ঢাকা বিভাগ: ৩,০৪৫টি
চট্টগ্রাম বিভাগ: ২,০৬৬টি
বরিশাল বিভাগ: ১,০৮৪টি
সিলেট বিভাগ: ১,২৭৮টি
রংপুর বিভাগ: ৪,১৫৩টি
ময়মনসিংহ বিভাগ: ১,৮৫৭টি
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিষ্ক্রিয় বিদ্যালয় রয়েছে রংপুর বিভাগে—৪,১৫৩টি। এরপর রয়েছে ঢাকা বিভাগে ৩,০৪৫টি এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২,০৬৬টি বিদ্যালয়।
APS-S ২০২৬ প্রতিবেদনে এন্ট্রি বাধ্যতামূলক
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিসংখ্যান (APS-S)-২০২৬ প্রতিবেদনে বিভিন্ন ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয় এন্ট্রির বাইরে থাকার সুযোগ নেই। ফলে IPEMIS-এ নিষ্ক্রিয় থাকা বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাস্তবে যেসব বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, সেগুলো শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে সক্রিয় করতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের IPEMIS আইডি থেকে বিদ্যালয়গুলো যাচাই করে চলমান বিদ্যালয়গুলো সক্রিয় করার পর APS-S মডিউলে এন্ট্রি সম্পন্ন করতে হবে।
বৃত্তি পরীক্ষা ও বই বিতরণে জটিলতার আশঙ্কা
চিঠিতে নিষ্ক্রিয় বিদ্যালয়গুলোকে দ্রুত সক্রিয় করে APS-S-২০২৬-এ অন্তর্ভুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ বিদ্যালয়গুলো এন্ট্রির বাইরে থাকলে পরবর্তী সময়ে বৃত্তি পরীক্ষার ডিআর এন্ট্রি কার্যক্রমে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ভিত্তিক বই বিতরণের চাহিদা সঠিকভাবে নিরূপণ ও সুসম্পন্ন করার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ভবিষ্যতের এসব প্রশাসনিক ও শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এখনই IPEMIS-এর তথ্য যাচাই ও সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়ের সতর্কতা
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নিষ্ক্রিয় বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যাচাই করে যেসব বিদ্যালয় বাস্তবে চলমান রয়েছে, সেগুলোর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এন্ট্রি সম্পন্ন করতে হবে।
পরবর্তীতে বৃত্তি পরীক্ষার ডিআর এন্ট্রি কিংবা বই বিতরণের চাহিদা নিরূপণে কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন বলে চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে।
বিষয়টি ‘অতীব জরুরি’
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত IPEMIS-এর নিষ্ক্রিয় বিদ্যালয়গুলোর তথ্য যাচাই করে বাস্তবে চালু থাকা বিদ্যালয়গুলো সক্রিয় করার পাশাপাশি APS-S-২০২৬ মডিউলে প্রয়োজনীয় এন্ট্রি সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চিঠির সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের নিষ্ক্রিয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে, যা ই-মেইলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ
সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
www.dpe.gov.bd
স্মারক নং: ৩৮.০১.০০০০.৮০১.১৬.০০১.২৬-৬০৪
তারিখ: ০৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৪ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বিষয়: IPEMIS এ বিভিন্ন ধরণের নিষ্ক্রিয় প্রাথমিক বিদ্যালয় সংক্রান্ত।
উপযুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে IPEMIS এ এখনও বিভিন্ন ধরণের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। IPEMIS রিপোর্ট অনুসারে রাজশাহী বিভাগে ১৯৯৯টি, খুলনা বিভাগে ১১৭১টি, ঢাকা বিভাগে ৩০৪৫টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ২০৬৬টি, বরিশাল বিভাগে ১০৮৪টি, সিলেট বিভাগে ১২৭৮টি, রংপুর বিভাগে ৪১৫৩টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১৮৫৭টি বিভিন্ন ধরণের প্রাথমিক বিদ্যালয় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।
০২। বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিসংখ্যান (এপিএসএস)-২০২৬ প্রতিবেদনে বিভিন্ন ধরণের প্রাথমিক বিদ্যালয় এন্ট্রির বাইরে থাকার সুযোগ নেই। এন্ট্রির বাইরে থাকলে উক্ত বিদ্যালয়সমূহে পরবর্তীতে বৃত্তির পরীক্ষার ডিআর এন্ট্রিতে জটিলতা সৃষ্টি হবে। বৃত্তি পরীক্ষার ডিআর এন্ট্রির জটিলতা এবং বই বিতরণের চাহিদা সঠিকভাবে সুসম্পন্ন করার নিমিত্ত নিষ্ক্রিয় বিদ্যালয়গুলো উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের IPEMIS আইডি থেকে যাচাইপূর্বক সক্রিয় করার মাধ্যমে এপিএসএস মডিউলে এন্ট্রি দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।
০৩। বর্ণিতাবস্থায়, নিষ্ক্রিয় বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যাচাই করে যেসব বিদ্যালয় চলমান আছে তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এন্ট্রি সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা হলো। পরবর্তীতে বৃত্তি পরীক্ষার ডিআর এবং বই বিতরণের চাহিদা নিরূপণে জটিলতা সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।
বিষয়টি অতীব জরুরি।
সংযুক্তি: বিভিন্ন ধরণের নিষ্ক্রিয় প্রাথমিক বিদ্যালয় এর তালিকা (ই-মেইলে প্রেরণ)
স্বাক্ষরিত
মোহাম্মদ রকিব উদ্দিন
পরিচালক
পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ।


No comments
Your opinion here...