কলেরা নিয়ন্ত্রণে দুই দফায় টিকাদান, মাউশির বিশেষ নির্দেশনা
কলেরা নিয়ন্ত্রণে দুই দফায় টিকাদান, মাউশির বিশেষ নির্দেশনা
উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মুখে খাওয়ার কলেরা টিকা: ২২ আগস্ট থেকে প্রথম ডোজ, দ্বিতীয় ডোজ ২৬ সেপ্টেম্বর
ঢাকা, ১৮ আগস্ট ২০২৬: দেশের কলেরা রোগের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কলেরা নিয়ন্ত্রণে দুই রাউন্ডের মুখে খাওয়ার প্রিভেন্টিভ কলেরা ভ্যাকসিন (POCV) ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির প্রথম ডোজ আগামী ২২ আগস্ট ২০২৬ থেকে এবং দ্বিতীয় ডোজ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে প্রদান করা হবে।
এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে। এ বিষয়ে মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর মোঃ সাখাওয়াত হোসেন খান স্বাক্ষরিত একটি বিশেষ চিঠি ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়েছে।
যেসব এলাকায় টিকা দেওয়া হবে
মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাতটি থানা এবং দেশের কয়েকটি নির্দিষ্ট উপজেলা এ কর্মসূচির আওতায় থাকবে। এলাকাগুলো হলো—
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের: গেন্ডারিয়া, কদমতলী, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, খিলক্ষেত, তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা;
মুন্সিগঞ্জ: মুন্সিগঞ্জ সদর;
নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সদর;
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: সদর ও নবীনগর উপজেলা;
কিশোরগঞ্জ: করিমগঞ্জ, তাড়াইল ও হোসেনপুর উপজেলা।
এসব এলাকায় ১ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা হবে। তবে গর্ভবতী মায়েরা এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত নন।
শিক্ষা কর্মকর্তাদের যেসব নির্দেশনা
টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টিকাদান কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।
পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রচারের জন্য জেলা শিক্ষা অফিস ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ফেসবুক পেজে মাউশির চিঠি এবং সংশ্লিষ্ট সংযুক্তি প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।
সহকারী উপজেলা/সহকারী থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা নিজ নিজ ক্লাস্টারের বিদ্যালয় ও কলেজে কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিবিড়ভাবে তদারকি করবেন। সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলা ও থানার কর্মকর্তাদের দৈবচয়নের ভিত্তিতে বিদ্যালয় ও কলেজ পরিদর্শন করে কার্যক্রম পরিবীক্ষণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ
মাউশি জানিয়েছে, বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকরা যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কার্যক্রমে অংশ নেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি অভিভাবক ও এলাকার সাধারণ মানুষকেও সচেতন করতে হবে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন, টিকা গ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং টিকাদান কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার বিষয়েও শিক্ষকদের দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।
জন্মনিবন্ধন নম্বর দিয়ে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন
টিকা গ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে vaxepi.gov.bd ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা সহযোগিতা করবেন।
কোনো শিক্ষার্থী নিজে রেজিস্ট্রেশন করতে না পারলে বিদ্যালয় বা কলেজের আইসিটি বিভাগের শিক্ষকরা তাকে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবেন।
স্বাস্থ্যকর্মীদের সহযোগিতার নির্দেশ
টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে টিকাদান কার্যক্রমে শৃঙ্খলা, অংশগ্রহণ ও জনসচেতনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ
মাউশির এ নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে কলেরা প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। নির্ধারিত এলাকায় প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ যথাসময়ে গ্রহণের মাধ্যমে কলেরার ঝুঁকি কমানো এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখাই এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রথম ডোজ: ২২ আগস্ট ২০২৬
দ্বিতীয় ডোজ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বয়সসীমা: ১ বছর ও তদূর্ধ্ব
বিশেষ ব্যতিক্রম: গর্ভবতী মা টিকার আওতামুক্ত
মাউশির চিঠির সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট পত্রের ছায়ালিপিও সংযুক্ত করা হয়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর
বাংলাদেশ, ঢাকা।
www.dshe.gov.bd
স্মারক নং-৩৭.০২,০০০০,১০৮,০৩২.০২.২১-৩৪
তারিখ: ১৮/০৮/২০২৬খ্রি.
-বিশেষ
বিষয়: মুখে খাওয়ার প্রিভেন্টিভ কলেরা ভ্যাকসিন কার্যক্রম সফল করার জন্য নির্দেশনা প্রসঙ্গে।
উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, দেশের কলেরা রোগের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রোগ নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে দুই রাউন্ড ব্যাপী মুখে খাওয়ার প্রিভেন্টিভ কলেরা ভ্যাকসিন (POCV) ক্যাম্পেইন পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় আগামী ২২ আগস্ট ২০২৬ থেকে ১ম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ২য় ডোজ টিকা প্রদান করা হবে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৭টি থানা (গেন্ডারিয়া, কদমতলী, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, খিলক্ষেত, তেজগাঁও, শেরেবাংলা নগর) এবং মুন্সিগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর ও নবীনগর এবং কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ, তাড়াইল, হোসেনপুর উপজেলাসমূহে ১ বছর ও তদুর্ধ্ব (গর্ভবতী মা ব্যাতীত) জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা হবে।
এমতাবস্থায়, আগামী ২২ আগস্ট ২০২৬ থেকে ১ম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ২য় ডোজ টিকা প্রদান কার্যক্রম সফল করতে তাঁর আওতাধীন উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, সহকারী উপজেলা/সহকারী থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং প্রধান শিক্ষক। অধ্যক্ষগণকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানসহ নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ প্রতিপালন করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো:
(ক) সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারগণ প্রধান শিক্ষকদেরকে এই টিকাদান কার্যক্রমটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়োজিত কর্মকর্তা/কর্মচারীদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশনা প্রদান করবেন এবং অভিভাবক ও ছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচারের নিমিত্তে জেলা শিক্ষা অফিস ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ফেসবুক পেইজে পত্রটি এবং পত্রের সাথে সংযুক্ত আনুসাঙ্গিক কাগজপত্র আপলোড করবেন;
(খ) সহকারী উপজেলা/সহকারী থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারগণ নিজ নিজ ক্লাস্টারের বিদ্যালয়। কলেজসমূহে কার্যক্রমটি সুষ্ঠুভাবে প্রতিপালনের বিষয়টি নিবিড়ভাবে তত্ত্বাবধান করবেন;
(গ) সংশ্লিষ্ট জেলা/উপজেলা/থানার সকল কর্মকর্তাকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে বিদ্যালয়/ কলেজসমূহে উক্ত কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পরিবীক্ষণ করতে হবে;
(ঘ) শিক্ষকগণ যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে উক্ত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন সেদিকে অধ্যক্ষ/ প্রধান শিক্ষকগণকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কলেজ। বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণকে এ কর্মসূচীতে সম্পৃক্ত করতে হবে;
(৫) মুখে খাওয়ার প্রিভেন্টিভ কলেরা ভ্যাকসিন (POCV) ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষকগণ ছাত্র/ ছাত্রীদের রেজিস্টেশন, টিকা গ্রহণ নিশ্চিতকরণ, টিকাদান কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে শিক্ষার্থীদের নিয়োজিত করা এবং অভিভাবকগণসহ এলাকার সকলকে উদ্বুদ্ধকরণের বিষয়টি নিশ্চিত করবেন;
(5) টিকা প্রাপ্তির জন্য জন্ম সনদ সংখ্যা এর মাধ্যমে vaxepi.gov.bd ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ সহযোগিতা করবেন;
(ছ) যে সকল শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করতে পারছে না, বিদ্যালয়। কলেজের আইসিটি বিভাগের শিক্ষক তাদেরকে রেজিস্ট্রেশন করতে সহায়তা করবেন;
জ) কলেজ/ বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন।
সংযুক্তি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পত্রের ছায়ালিপি।
স্বাক্ষরিত
(প্রফেসর মোঃ সাখাওয়াত হোসেন খান)
পরিচালক (মাধ্যমিক)


No comments
Your opinion here...