সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষা পরিবারের সদস্যদের কার্যক্রম মনিটরিং করবে মাউশি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষা পরিবারের সদস্যদের কার্যক্রম মনিটরিং করবে মাউশি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন শিক্ষা পরিবারের সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা ও আচরণবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে অধিদপ্তর একটি ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিং কমিটি’ গঠন করেছে। একই সঙ্গে নির্দেশিকা পরিপন্থী, আপত্তিকর, বিভ্রান্তিকর, অসত্য, নেতিবাচক কিংবা দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে—এমন কোনো কনটেন্ট নজরে এলে তা প্রমাণসহ কমিটিকে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইং থেকে ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা এক স্মারকে এ তথ্য জানানো হয়। স্মারক নম্বর ৩৭.০২,০০০০,১১৫.১৬.০০৩.১৯ (পার্ট-১).২২৭।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সরকারি নির্দেশিকা মানার নির্দেশ
স্মারকে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশিকা ও আচরণবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন করা আবশ্যক। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক জারি করা ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ অনুসরণ করতে হবে।
এছাড়া মাউশি অধিদপ্তরের ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখের একটি স্মারকের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
গঠন করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিং কমিটি
মাউশির আওতাধীন শিক্ষা পরিবারের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশিকা যথাযথভাবে মেনে চলছেন কি না, তা পরিবীক্ষণের জন্য অধিদপ্তর একটি ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিং কমিটি’ গঠন করেছে।
কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের পরিচালক প্রফেসর টিপু সুলতান।
কোন ধরনের কনটেন্ট নজরে এলে জানাতে হবে
স্মারকে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, মাউশির আওতাধীন শিক্ষা পরিবারের কোনো সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কোনো স্ট্যাটাস, মন্তব্য, ছবি, ভিডিও, পোস্ট বা অন্য কোনো কনটেন্ট প্রকাশ বা প্রচার করলে, যা সরকারি নির্দেশিকার পরিপন্থী হতে পারে কিংবা দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে, সে বিষয়ে মনিটরিং কমিটিকে অবহিত করতে হবে।
বিশেষ করে নিম্নোক্ত ধরনের কনটেন্টের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে—
সরকারি নির্দেশিকা পরিপন্থী কার্যক্রম;
আপত্তিকর কনটেন্ট;
বিভ্রান্তিকর তথ্য;
অসত্য তথ্য বা বক্তব্য;
নেতিবাচক কনটেন্ট;
দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ক্ষুণ্ণ করতে পারে—এমন কার্যক্রম;
সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে—এমন পোস্ট, মন্তব্য, ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য কনটেন্ট।
প্রমাণ সংরক্ষণ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জানাতে হবে
কোনো নির্দেশিকা পরিপন্থী কনটেন্ট নজরে এলে শুধু মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানোর পরিবর্তে তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ককে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
এ জন্য নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানা হলো: director.mew@gmail.com
অবহিত করার সময় যেসব তথ্য দিতে হবে
স্মারকে কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করার ক্ষেত্রে কয়েকটি তথ্য বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখার কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো—
১. সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পরিচয়:
কর্মকর্তার নাম, পদবি ও কর্মস্থলের তথ্য দিতে হবে।
২. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য:
কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্টটি প্রকাশ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট বা প্রোফাইলের লিংক দিতে হবে।
৩. পোস্ট প্রকাশের সময়:
সংশ্লিষ্ট পোস্ট বা স্ট্যাটাস প্রকাশের তারিখ ও সময় উল্লেখ করতে হবে।
৪. প্রমাণাদি:
পোস্ট বা স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশটসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করে দিতে হবে।
কেন এই মনিটরিং?
মাউশির স্মারকের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সরকারি নির্দেশিকা ও আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে শিক্ষা পরিবারের সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সরকারি বিধিবিধান অনুসরণের বিষয়টি আরও নিবিড়ভাবে পরিবীক্ষণ করা হবে।
স্মারকে আরও বলা হয়েছে, নির্দেশিকা পরিপন্থী কোনো কার্যক্রম নজরে এলে তা যথাযথ তথ্য-প্রমাণসহ মনিটরিং কমিটিকে জানাতে হবে।
মাউশির আওতাধীন শিক্ষা পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
নতুন এ নির্দেশনার ফলে মাউশির আওতাধীন শিক্ষা পরিবারের সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত পোস্ট, মন্তব্য, ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য কনটেন্টও যাতে সরকারি নির্দেশিকা, আচরণবিধি, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা কিংবা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়—সে বিষয়ে সচেতন থাকার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
মাউশির এই উদ্যোগের মূল বার্তা হলো—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সরকারি নির্দেশিকা ও আচরণবিধি মেনে চলা এবং কোনো পরিপন্থী কার্যক্রম নজরে এলে যথাযথ তথ্য-প্রমাণসহ তা মনিটরিং কমিটিকে অবহিত করা।
প্রতিবেদনটি মাউশির ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখের সংশ্লিষ্ট স্মারকে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইং
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর
বাংলাদেশ, ঢাকা
স্মারক নম্বর-৩৭.০২,০০০০,১১৫.১৬.০০৩.১৯ (পার্ট-১).২২৭
তারিখ: ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৭ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বিষয়: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষা পরিবারের সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রতিপালন এবং নির্দেশিকা পরিপন্থী কার্যক্রম অবহিতকরণ প্রসঙ্গে।
সূত্র: ১. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত "সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)"।
২. মাউশি অধিদপ্তরের স্মারক নং: ৩৭.০২.০০০০.১০১,০৬,০০৫.২০২১-৬১৪২/৪; তারিখ: ২৯/০৭/২০২৬ খ্রি.।
উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা ও সরকারি আচরণবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন করা আবশ্যক। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক "সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)" জারি করা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষা পরিবারের সদস্যগণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে উল্লিখিত নির্দেশিকা যথাযথভাবে প্রতিপালন করছেন কি না-তা পরিবীক্ষণের লক্ষ্যে নিম্নস্বাক্ষরকারীকে আহ্বায়ক করে অধিদপ্তর কর্তৃক একটি 'সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিং কমিটি' গঠন করা হয়েছে।
এমতাবস্থায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষা পরিবারের কোনো সদস্য কর্তৃক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি নির্দেশিকা পরিপন্থী, আপত্তিকর, বিভ্রান্তিকর, অসত্য, নেতিবাচক কিংবা দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে-এমন কোনো স্ট্যাটাস, মন্তব্য, ছবি, ভিডিও, পোস্ট বা অন্য কোনো কনটেন্ট প্রকাশ কিংবা প্রচারের বিষয় নজরে এলে, তা যথাযথভাবে সংরক্ষণপূর্বক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ককে ইমেইল (director.mew@gmail.com)-এর মাধ্যমে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
অবহিতকরণের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত তথ্যসমূহ বিবেচনাযোগ্য:
১. সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নাম, পদবি ও কর্মস্থল;
২. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম ও সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট/প্রোফাইলের লিংক;
৩. পোস্ট/স্ট্যাটাস প্রকাশের তারিখ ও সময়;
৪. সংশ্লিষ্ট পোস্ট/স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ।
স্বাক্ষরিত
(প্রফেসর টিপু সুলতান)
পরিচালক
মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইং
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বাংলাদেশ, ঢাকা
আহ্বায়ক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিং কমিটি


No comments
Your opinion here...