প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক উপস্থিতি মনিটরিংয়ে ডিপিইর পুনঃনির্দেশ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক উপস্থিতি মনিটরিংয়ে ডিপিইর পুনঃনির্দেশ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতি মনিটরিংয়ে নতুন করে কড়াকড়ি — সকাল ১১:১৫-এর মধ্যেই তথ্য পাঠানোর পুনঃনির্দেশ
ঢাকা, ২৩ জুলাই ২০২৬: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দৈনন্দিন উপস্থিতি মনিটরিং কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে বিভাগীয় কার্যালয়গুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য পাঠানোর জন্য পুনরায় নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, প্রতিদিন সকাল ১১:১৫ মিনিটের মধ্যে বিভাগীয় কার্যালয় থেকে শিক্ষক উপস্থিতির সমন্বিত তথ্য অবশ্যই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ থেকে জারি করা স্মারক নম্বর ৩৮.০১.০০০০.৮০১.১৪.০০২.২৪-৫০৭ (৮) অনুযায়ী, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গৃহীত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ১৫ জুন ২০২৬ থেকে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের নিয়মিত উপস্থিতি মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষক উপস্থিতির তথ্য সংগ্রহ ও প্রেরণের জন্য বিভিন্ন স্তরে নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করা রয়েছে। সাধারণভাবে বিদ্যালয়, ক্লাস্টার, উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় কার্যালয় থেকে যথাক্রমে সকাল ৯:৪৫, ১০:১৫, ১০:৪৫ এবং ১১:১৫ মিনিটের মধ্যে তথ্য প্রেরণের কথা বলা হয়েছে। তবে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য পৃথক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে বিদ্যালয় থেকে সকাল ৭:৫০, ক্লাস্টার থেকে ৮:১৫, থানা থেকে ৮:৪৫, জেলা থেকে ১০:১৫ এবং বিভাগীয় কার্যালয় থেকে ১১:১৫ মিনিটের মধ্যে তথ্য পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে।
ডিপিই জানিয়েছে, বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রতিদিন সকাল ১১:১৫ মিনিটের মধ্যে তথ্য পাঠানোর নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য পাঠানো হচ্ছে না। এর ফলে শিক্ষকদের দৈনন্দিন উপস্থিতির সমন্বিত মনিটরিং প্রতিবেদন যথাসময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না এবং মনিটরিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এ অবস্থায় বিভাগীয় কার্যালয়গুলোকে অধীনস্থ বিদ্যালয়, ক্লাস্টার, উপজেলা ও জেলা পর্যায় থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ করে একত্রিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি কার্যদিবসে সকাল ১১:১৫ মিনিটের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে শিক্ষক উপস্থিতির চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো নিশ্চিত করতে পুনরায় অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডিপিইর কর্মকর্তারা মনে করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য প্রেরণ নিশ্চিত হলে শিক্ষক উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ আরও কার্যকর হবে, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত হবে এবং সরকারের গৃহীত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, এ নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রকিব উদ্দিন।


No comments
Your opinion here...