ad

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রুটিন মেইনটেন্যান্সে ২৫০ বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ, জুনের মধ্যেই কাজ শেষের নির্দেশ

Views


প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রুটিন মেইনটেন্যান্সে ২৫০ বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ, জুনের মধ্যেই কাজ শেষের নির্দেশ

ঢাকা, ১ জুন ২০২৬: চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এর আওতায় দেশের নির্বাচিত ২৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রুটিন মেইনটেন্যান্স কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। প্রতিটি বিদ্যালয়ের জন্য ৪০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যেই এই অর্থ ব্যয় করে প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মিরাজুল ইসলাম উকিল, এনডিসি স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। পত্রটি ১ জুন ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।

ডিপিই সূত্রে জানা গেছে, বরাদ্দপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) বা এডহক কমিটির মাধ্যমে রুটিন মেইনটেন্যান্স কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এ জন্য প্রথমে বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কাজের প্রাক্কলন তৈরি করে এসএমসির সভায় অনুমোদন নিতে হবে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা এ প্রক্রিয়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন।

যেসব কাজে ব্যয় করা যাবে বরাদ্দের অর্থ

ডিপিইর নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের প্রয়োজন বিবেচনায় নিম্নোক্ত কাজগুলো করা যাবে—

  1. দরজা-জানালার ফিটিংস, কাঁচ, হাতল, লক ও হুক মেরামত;

  2. ছাদ পরিষ্কার, মেঝে ও সাইডওয়ালের টাইলস সংস্কার;

  3. ড্রেন পরিষ্কার;

  4. লাইট, ফ্যানের সুইচ, রেগুলেটর ও বৈদ্যুতিক বোর্ড মেরামত;

  5. বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন পাইপ মেরামত বা প্রতিস্থাপন;

  6. ভবনের দেয়াল, ছাদ বা গায়ে জন্মানো গাছ ও চারা অপসারণ;

  7. পানির কল, পানি সরবরাহ লাইন এবং ওয়াশব্লক মেরামত;

  8. টয়লেট সংস্কার;

  9. পানির পাম্প বা মোটরের ছোটখাটো মেরামত;

  10. নলকূপ মেরামত ও ওয়াশব্লক পরিষ্কার;

  11. দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় অন্যান্য ছোটখাটো সংস্কার কাজ।

৩০ জুনের মধ্যে ব্যয়ের বাধ্যবাধকতা

পত্রে বলা হয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থ অবশ্যই আগামী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে ব্যয় করতে হবে। এসএমসির অনুমোদন ছাড়া কোনো অর্থ ব্যয় করা যাবে না। পাশাপাশি সকল বিল-ভাউচার ও প্রাক্কলনের কপি বিদ্যালয় এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে নিরীক্ষা (অডিট) কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়।

অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে হবে

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের ৩০ জুনের মধ্যে বরাদ্দপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলোর কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদন ই-মেইলের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের নাম, এসএমসির অনুমোদনের তথ্য, প্রাক্কলনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ, ব্যয়িত অর্থ এবং কাজের অগ্রগতি উল্লেখ করতে হবে।

আর্থিক স্বচ্ছতার ওপর জোর

ডিপিই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের প্রচলিত সকল আর্থিক বিধিবিধান, ভ্যাট কর্তন এবং অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে বিল অনুমোদনের পর কোনো অবস্থাতেই নগদ অর্থ বিদ্যালয়ে প্রদান করা যাবে না। অর্থ অবশ্যই বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর অথবা ক্রস চেকের মাধ্যমে দিতে হবে।

পত্রে আরও বলা হয়েছে, রুটিন মেইনটেন্যান্স কার্যক্রমে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট ডিডিও (Drawing and Disbursing Officer) দায়ী থাকবেন।

প্রধান শিক্ষকদের কাছে নির্দেশনা পৌঁছানোর তাগিদ

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নির্দেশ দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পত্রের কপি সকল প্রধান শিক্ষকের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিপিই জানিয়েছে, অর্থ ছাড়ের সরকারি আদেশ (জিও) ইতোমধ্যে অধিদপ্তরের DPE Accounting System-এ আপলোড করা হয়েছে এবং বরাদ্দপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলোকে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

সংযুক্ত তালিকা অনুযায়ী দেশের ২৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এ বরাদ্দের আওতায় এসেছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

 প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর

 সেকশন ২, মিরপুর, ঢাকা ১২১৬

www.dpe.gov.bd

স্মারক নং- ৩৮.০১.০০০০.৭০০.১৪.০১৯. (অংশ-১).২১. ৫৩৮

তারিখ: ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ০১ জুন ২০২৬

বিষয়: পিইডিপি৪ এর আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নির্বাচিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বরাদ্দকৃত অর্থে রুটিন মেইনটেন্যান্স কার্যক্রম সম্পাদন।

সূত্র: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পত্র নং-৩৮.০১.০০০০.৫০০.০১১.২০-৮৩৪, তারিখ: ২৪ মে ২০২৬

উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশক্রমে জানানো যাচ্ছে যে, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি৪) এর আওতায় এতদসঙ্গে সংযুক্ত তালিকা অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রুটিন মেইনটেন্যান্স কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য সূত্রোক্ত স্মারকে ২৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০,০০০.০০ (চল্লিশ হাজার) টাকা হিসেবে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বরাদ্দপ্রাপ্ত বিদ্যালয়সমূহে রুটিন মেইনটেন্যান্স কার্যক্রম সম্পাদনের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত শর্তসমূহ প্রতিপালনের জন্য অনুরোধ করা হলো:

শর্তাবলী:

১. উল্লিখিত রুটিন মেইনটেন্যান্স কার্যক্রম বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি/এডহক কমিটির মাধ্যমে সম্পাদন করতে হবে।

২. প্রাক্কলন প্রস্তাব এসএমসি'র সভায় অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এসএমসি-কে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবেন।

৩. বরাদ্দকৃত অর্থে বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তার নিরিখে নিম্নোক্ত রুটিন মেইনটেন্যান্স কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে: (ক) দরজা ও জানালার ফিটিংস, কাঁচ, হাতল, লক, হুক ইত্যাদি মেরামত; (খ) ছাদ পরিষ্কারকরণ, মেঝে এবং সাইডওয়ালের টাইলস মেরামত: (গ) ড্রেন পরিষ্কারকরণ; (ঘ) লাইট, ফ্যানের সুইচ, রেগুলেটর, বোর্ড মেরামত ও পুনঃস্থাপন; (ঙ) বৃষ্টির পানি নির্গমন পাইপ মেরামত/পুনঃস্থাপন; (চ) ভবনের দেয়ালে, মেঝেতে, ছাদে বা ভবনের গায়ে জন্ম নেয়া যেকোন গাছ/চারা গাছ অপসারণ; (ছ)

পানির কল মেরামত/পুনঃস্থাপন; (জ) পানি সরবরাহ লাইন মেরামত/পরিষ্কারকরণ; (ঝ) ওয়াশব্লক এবং টয়লেট মেরামত; (ঞ) পানির পাম্প/মটর ইত্যাদি ছোট-খাট মেরামত; (ট) ওয়াশব্লক পরিষ্কারকরণ ও নলকূপ মেরামত; (ঠ) চাহিদা অনুযায়ী দৈনন্দিন

(রুটিন) ছোট-খাট মেরামত।

৪. নিরীক্ষা (অডিট) এর জন্য বিল/ভাউচার ও প্রাক্কলন এর কপি উপজেলা শিক্ষা অফিসে সংরক্ষণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উক্ত বিল/ভাউচার ও প্রাক্কলন এর এক কপি নিজ বিদ্যালয়ে সংরক্ষণ করবেন।

৫. বিদ্যালয়ের রুটিন মেইনটেন্যান্স কার্যক্রমের প্রাক্কলন এসএমসি'র সভায় অনুমোদন ব্যতিত অর্থ ব্যয় করা যাবে না। অর্থ আবশ্যিকভাবে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে ব্যয় করতে হবে।

৬. তাঁর উপজেলায় বরাদ্দপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ের রুটিন মেইনটেন্যান্স কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে নিম্নোক্ত ছকে একটি প্রতিবেদন ই-মেইলে (adplandpe@gmail.com) প্রেরণ করতে হবে।

বিদ্যালয়ের নাম

প্রাক্কলন এসএমসি'র সভায় অনুমোদন নেয়া হয়েছে কীনা (হ্যাঁ/না)

প্রাক্কলনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

ব্যয়িত অর্থ

মন্তব্য/অগ্রগতি

৭. অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ বিভাগের জিও নং-৩৮.০১.০০০০.৫০০.০১১.২০-৮৩৪, তারিখ: ২৪ মে ২০২৬ এর নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। সেসাথে ভ্যাট কর্তনসহ সরকারের প্রচলিত সকল আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে।

৮. হিসাবরক্ষণ অফিস হতে বিল পাশের পর উপজেলা/থানা শিক্ষা কর্মকর্তা কোনভাবেই নগদ অর্থের মাধ্যমে বিদ্যালয় পর্যায়ে অর্থ প্রদান করতে পারবেন না। অবশ্যই বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট হিসাবে (Account) অর্থ স্থানান্তর বা ক্রস চেকের মাধ্যমে তা প্রদান করতে হবে।

৯. উক্ত রুটিন মেইনটেন্যান্স কার্যক্রমের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ স্বচ্ছতা অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে যে কোন ধরনের আর্থিক অনিয়মের জন্য ডিডিও দায়ী থাকবেন।

১০. সংশ্লিষ্ট পত্রের কপি সকল প্রধান শিক্ষককে আবশ্যিকভাবে বিতরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোন ধরণের অবহেলা গ্রহণযোগ্য হবে না।

১১. উল্লেখ্য, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় হতে অর্থ ছাড়ের জিও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের DPE Accounting System-এ আপলোড করা হয়েছে।

উল্লিখিত নির্দেশনা অনুসরণে পিইডিপি৪ এর আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নির্বাচিত ২৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বরাদ্দকৃত অর্থে চলতি অর্থ-বছরেই রুটিন মেইনটেন্যান্স কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

সংযুক্তি: বরাদ্দপ্রাপ্ত ২৫০টি বিদ্যালয়ের তালিকা (১৮ পৃষ্ঠা)

স্বাক্ষরিত

মিরাজুল ইসলাম উকিল, এনডিসি 

যুগ্মসচিব 

পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন)



PDF Download

No comments

Your opinion here...

Theme images by fpm. Powered by Blogger.