ad

সহকারী শিক্ষক পদের টাইম স্কেল গণনা নয়: প্রধান শিক্ষকদের বেতন পুনঃনির্ধারণে নতুন ব্যাখ্যা দিল সিজিএ

Views

 


সহকারী শিক্ষক পদের টাইম স্কেল গণনা নয়: প্রধান শিক্ষকদের বেতন পুনঃনির্ধারণে নতুন ব্যাখ্যা দিল সিজিএ

ঢাকা, ৬ মে ২০২৬:
প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির আগে সহকারী শিক্ষক হিসেবে প্রাপ্ত টাইম স্কেল উন্নীত বেতন স্কেল নির্ধারণে গণনা করা যাবে না বলে স্পষ্ট মতামত দিয়েছে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (সিজিএ)। সম্প্রতি জারি করা এক সরকারি পত্রে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, সেগুনবাগিচা, ঢাকা থেকে জারি করা এক পত্রে বলা হয়, প্রধান শিক্ষকগণ প্রধান শিক্ষক পদে থাকাকালীন যে সংখ্যক টাইম স্কেল পেয়েছেন, কেবল সেই সংখ্যক টাইম স্কেলই উন্নীত বেতন স্কেলের ক্ষেত্রে গণ্য হবে। সহকারী শিক্ষক হিসেবে পূর্বে প্রাপ্ত টাইম স্কেল উন্নীত স্কেল নির্ধারণে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

পত্রটি উপ হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (পদ্ধতি) মাহবুব আলী স্বাক্ষর করেন। এটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্মারকের আলোকে সিদ্ধান্ত

পত্রে উল্লেখ করা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১৫ নভেম্বর ২০১৭ তারিখের ২৩১ নম্বর স্মারক অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত অবস্থায় প্রাপ্ত টাইম স্কেলই কেবল উন্নীত বেতন স্কেলে যোগ হবে।

সিজিএ কার্যালয় জানায়, কোনো শিক্ষক যদি সহকারী শিক্ষক হিসেবে টাইম স্কেল পেয়ে পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পান, তাহলে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের সময় পূর্বের পদের টাইম স্কেল আর যুক্ত করা যাবে না।

নীলিমা আক্তারের ঘটনার উদাহরণ

চিঠিতে জনাব নীলিমা আক্তারের একটি নির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। তিনি ২১ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পান। তবে ৯ মার্চ ২০১৪ সালের আগে তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে কোনো টাইম স্কেলের প্রাপ্য হননি।

এ কারণে তার উন্নীত স্কেলে বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষক পদে প্রাপ্ত টাইম স্কেল গণনার সুযোগ নেই বলে মত দেয় হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রধান হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তার কার্যালয়ের মতের সাথেও একমত পোষণ করা হয়।

কী প্রভাব পড়বে শিক্ষকদের ওপর

এই সিদ্ধান্তের ফলে যেসব শিক্ষক সহকারী শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন চাকরি করে টাইম স্কেল পেয়েছেন এবং পরে প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত হয়েছেন, তাদের অনেকের প্রত্যাশিত বেতন সুবিধা কমে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ নির্দেশনার ফলে ভবিষ্যতে বেতন ফিক্সেশন সংক্রান্ত জটিলতা কমবে এবং একই ধরনের দাবির ক্ষেত্রে সরকারি দপ্তরগুলো একটি অভিন্ন নীতি অনুসরণ করতে পারবে।

প্রশাসনিক স্পষ্টতা আনতেই এ মতামত

সরকারি হিসাব ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত হওয়ার পর পূর্বের টাইম স্কেল গণনা করা নিয়ে বিভ্রান্তি ছিল। বিভিন্ন দপ্তরে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা দেওয়ার কারণে একাধিক শিক্ষক বেতন পুনঃনির্ধারণের আবেদন করে আসছিলেন।

সাম্প্রতিক এ মতামতের মাধ্যমে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় বিষয়টিতে প্রশাসনিক স্পষ্টতা আনলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এর কার্যালয় হিসাব ভবন

সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০।

www.cga.gov.bd

নং-০৭.০৩,০০০০,০০৯.৩৮.১৮০.২৩-৫৬

তারিখ: ০৩-০৫-২০২৬খ্রিঃ

চিফ একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসার

চিফ একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসার এর কার্যালয়

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

হিসাব ভবন

সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০।

বিষয়: স্কেল উন্নীত হওয়ার পূর্বে প্রধান শিক্ষক পদে যে সংখ্যক টাইম স্কেল প্রাপ্ত হয়েছে উন্নীত স্কেলের উপর যে সংখ্যক টাইম স্কেল গণনা করে, বেতন স্কেল পুনঃ নির্ধারণের বিষয়ে মতামত প্রদান প্রসঙ্গে।

সূত্রঃ স্মারক নং- সিএএফও/প্রাগম/প্রশা/৪৪৫, তারিখঃ১৩/০৪/২০২৬খ্রিঃ

উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রস্থ পত্রের প্রতি সদয় দৃষ্টি আর্কষণ করা যাচ্ছে।

০২।। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১৫/১১/২০১৭খ্রি. তারিখের ২৩১ নং স্মারক মোতাবেক প্রধান শিক্ষকগণ প্রধান শিক্ষক পদে যিনি যে সংখ্যক টাইমস্কেল পেয়েছেন, উন্নীত বেতনস্কেলের উপর সেই সংখ্যক টাইমস্কেল গণনা করে বেতন নির্ধারণ করবেন। এক্ষেত্রে জনাব নীলিমা আক্তার প্রধান শিক্ষক পদে ২১/০৪/২০০৯ খ্রিঃ তারিখে পদোন্নতি পাওয়ায় এবং ০৯/০৩/২০১৪ খ্রি. তারিখের পূর্বে প্রধান শিক্ষক পদে টাইমস্কেলের প্রাপ্যতা না হওয়ায় উন্নীত স্কেলে বেতন নির্ধারণে সহকারী শিক্ষক পদে প্রাপ্ত টাইমস্কেল গণনা করার সুযোগ নেই বলে আপনার কার্যালয়ের সাথে এ কার্যালয় একমত পোষণ করে।

বিষয়টি আদিষ্ট হয়ে অবহিত করা হলো।

স্বাক্ষরিত

(মাহবুব আলী)

উপ হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (পদ্ধতি)

পত্রটি মূলত প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাওয়ার আগে এবং পরে প্রাপ্ত টাইম স্কেলের সমন্বয় নিয়ে। বিশেষ করে, উন্নত (উচ্চতর) স্কেল পাওয়ার ক্ষেত্রে পূর্বের পদের (সহকারী শিক্ষক হিসেবে) টাইম স্কেল গণনা করা যাবে কি না, সেই বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়েছে।
​পত্রে উল্লিখিত সিদ্ধান্ত (প্যারা-০২ অনুযায়ী)
​অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১৫/১১/২০১৭ তারিখের ২৩১ নম্বর স্মারকের বরাত দিয়ে এখানে দুটি প্রধান পয়েন্ট উল্লেখ করা হয়েছে:
​সাধারণ নিয়ম: প্রধান শিক্ষকগণ প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় যে কয়টি টাইম স্কেল পেয়েছেন, উন্নত বেতন স্কেল নির্ধারণের সময় ঠিক সেই কয়টি টাইম স্কেলই গণনা করা হবে।
​নির্দিষ্ট ঘটনা (জনাব নীলিমা আক্তার): এই পত্রে জনৈক নীলিমা আক্তারের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। তিনি ২১/০৪/২০০৯ তারিখে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পান। ০৯/০৩/২০১৪ তারিখের আগে তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে কোনো টাইম স্কেল পাওয়ার যোগ্য হননি।
​চিঠিতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে:
​"উন্নত স্কেলে বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষক হিসেবে প্রাপ্ত টাইম স্কেল গণনা করার কোনো সুযোগ নেই।"
​অর্থাৎ, কেউ যদি সহকারী শিক্ষক হিসেবে কোনো টাইম স্কেল পেয়ে থাকেন এবং পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পান, তবে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নতুন বা উন্নত স্কেল নির্ধারণের সময় তার সেই পুরনো (সহকারী শিক্ষক থাকাকালীন) টাইম স্কেলগুলো আর যোগ করা বা বিবেচনা করা হবে না। শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষক পদে থাকাকালীন অর্জিত সুবিধাগুলোই গণ্য হবে।
​সহজ কথায়, পদোন্নতি পাওয়ার পর যখন উচ্চতর স্কেলে বেতন ফিক্সেশন (Fixation) করা হয়, তখন আগের পদের টাইম স্কেল সুবিধা বর্তমান পদের উন্নত স্কেলের সাথে যুক্ত করা যায় না। এই চিঠির মাধ্যমে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক কার্যালয় সংশ্লিষ্ট প্রধান হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সাথে একমত পোষণ করে এই নিয়মটি নিশ্চিত করেছে।







No comments

Your opinion here...

Theme images by fpm. Powered by Blogger.