ad

পিইডিপি-৪ এর আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসবাবপত্র সরবরাহে জরুরি নির্দেশনা

Views



পিইডিপি-৪ এর আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসবাবপত্র সরবরাহে জরুরি নির্দেশনা



নিজস্ব প্রতিবেদক:
চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এর আওতায় দেশের ২০৮৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে র‍্যাকসহ আসবাবপত্র ক্রয় ও সরবরাহে দীর্ঘসূত্রতা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে। এক বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এখনো ই-জিপিতে দরপত্র আহ্বান না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।

সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সেকশন-২, মিরপুর থেকে জারি করা এক জরুরি পত্রে এ অসন্তোষের কথা জানানো হয়। গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জারি করা ওই চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যায়নি।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “মাঠ পর্যায় হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, এক বছর অতিক্রান্ত হলেও কোন কোন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এখনো ই-জিপিতে দরপত্র আহ্বান করে কার্যক্রম শুরু করেননি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং দায়িত্ব ও কর্মে অবহেলার শামিল।”

পিইডিপি-৪ কর্মসূচির আওতায় ‘Furniture for School’ খাতে মোট ১৪৭২ লাখ টাকা (১৪ কোটি ৭২ লাখ) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের কাছে এ অর্থ ছাড় করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না হওয়ায় বরাদ্দের কার্যকর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ডিপিই আরও জানিয়েছে, আগামী জুন ২০২৬-এ পিইডিপি-৪ এর মেয়াদ শেষ হবে। এর মধ্যে আসবাবপত্র ক্রয় ও সরবরাহ কার্যক্রম সম্পন্ন না হলে বরাদ্দকৃত অর্থ তামাদি হয়ে যাবে।

এ অবস্থায় দ্রুত কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে এর দায়ভার এককভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বহন করতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো আসবাবপত্র সরবরাহ না হলে শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশ ব্যাহত হবে এবং সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগও প্রশ্নের মুখে পড়বে।

ডিপিই’র পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ উল্লেখ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর 
সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
www.dpe.gov.bd

স্মারক নং- ৩৮.০১.০০০০.৭০০.১৪.০১৪.১৮.৩২৯/৬৪ (১৩)

তারিখ: ২৪ চৈত্র ১৪৩২ ০৭ এপ্রিল ২০২৬
বিষয়: পিইডিপি৪ এর আওতায় ২০৮৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে র‍্যাকসহ আসবাবপত্র ক্রয় ও সরবরাহ সংক্রান্ত।
সূত্র:
১. প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারক নম্বর-৩৮.০১.০০০০.৭০০.১৪.০১৪.১৮.২৪, তারিখ: ২৭ মার্চ ২০২৫।
২. প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারক নম্বর-৩৮.০১.০০০০.৭০০.১৪.০১৪.১৮.২৭২, তারিখ: ১৩ এপ্রিল ২০২৫।
৩. প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারক নম্বর-৩৮.০১.০০০০.৭০০.১৪.০১৪.১৮.৪৮৪/৬৪, তারিখ: ৩০ জুন ২০২৫।
৪. প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারক নম্বর-৩৮.০১.০০০০.৭০০.১৪.০১৪.১৮.৫৮৬/৬৪, তারিখ: ০৪ আগস্ট ২০২৫।
৫. প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারক নম্বর-৩৮.০১.০০০০.৫০০.১১.২০-৩৩৫; তারিখ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫।

উপর্যুক্ত বিষয়ে জানানো যাচ্ছে যে, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি৪) এর আওতায় ২০৮৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে র‍্যাকসহ আসবাবপত্র ক্রয় ও সরবরাহ করার জন্য সূত্রোক্ত স্মারকসমূহে বিভিন্ন সময়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। মাঠ পর্যায় হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, এক বছর অতিক্রান্ত হলেও কোন কোন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অদ্যাবধি ই-জিপিতে দরপত্র আহবান করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে র‍্যাকসহ আসবাবপত্র ক্রয় ও সরবরাহ কার্যক্রম শুরু করেন নি যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং দায়িত্ব ও কর্মে অবহেলার শামিল।

২। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে র‍্যাকসহ আসবাবপত্র ক্রয় ও সরবরাহ করার জন্য চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি৪) এর আওতায় এওপি-১০৯ ক্রমিকে "Furniture for School" খাতে মোট ১৪৭২.০০ লক্ষ (১৪ কোটি বাহাত্তর লক্ষ) টাকা ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে ছাড় করা হয়েছে। উল্লেখ্য জুন ২০২৬ সময়ে পিইডিপি৪ এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। উক্ত সময়ের মধ্যে র‍্যাকসহ আসবাবপত্র ক্রয় ও সরবরাহ কার্যক্রম সম্পন্ন না করলে পিইডিপি৪ হতে বরাদ্দকৃত অর্থ তামাদি হবে।

৩। এমতাবস্থায় নির্ধারিত সময়ে যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা হলো। ব্যর্থতায় যাবতীয় দায়ভার এককভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বহন করতে হবে।

বিষয়টি অতীব জরুরী।

স্বাক্ষরিত

মিরাজুল ইসলাম উকিল, এনডিসি 
যুগ্মসচিব পরিচালক (পরি: ও উন্ন:)


 

No comments

Your opinion here...

Theme images by fpm. Powered by Blogger.