ad

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকের চাহিদা নির্ধারণে শিক্ষার্থী তথ্য হালনাগাদের নির্দেশ

Views


২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকের চাহিদা নির্ধারণে শিক্ষার্থী তথ্য হালনাগাদের নির্দেশ

ঢাকা, ১১ মার্চ ২০২৬:
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক ও শিখন-সামগ্রীর সঠিক চাহিদা নিরূপণের লক্ষ্যে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তথ্য অনলাইনে হালনাগাদের নির্দেশ দিয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, উপজেলা ও থানার অধীন সকল বিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থী তথ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে IPEMIS সফটওয়্যারে হালনাগাদ করা বাধ্যতামূলক।

ডিপিই সূত্রে জানা যায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের সম্ভাব্য পাঠ্যপুস্তকের চাহিদা নিরূপণের জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত IPEMIS-এ থাকা শিক্ষার্থী তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, প্রাক-প্রাথমিক (৫+) ও প্রাথমিক স্তরে (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন) ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সম্ভাব্য পাঠ্যপুস্তকের চাহিদা ৭,৩৫,৩৩,০১১ কপি। অন্যদিকে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে বিতরণ করা হয়েছে ৮,১০,০৯,৯৬০ কপি পাঠ্যপুস্তক।

অর্থাৎ, ২০২৬ সালে প্রকৃত চাহিদার তুলনায় ৭৪,৭৬,৯৪৯ কপি বেশি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ হয়েছে বলে পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত শিক্ষার্থী সংখ্যার চেয়ে বেশি বই বিতরণ হয়েছে অথবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থী তথ্য যথাযথভাবে হালনাগাদ করা হয়নি।

এই প্রেক্ষাপটে ডিপিই নির্দেশ দিয়েছে যে—

  1. আগামী ২৪ মার্চ ২০২৬ এর মধ্যে উপজেলা/থানার সকল বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী তথ্য (বাংলা, ইংরেজি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী) IPEMIS সফটওয়্যারে বাধ্যতামূলকভাবে হালনাগাদ করতে হবে।

  2. উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তথ্য হালনাগাদ সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে প্রত্যয়ন প্রদান করবেন।

  3. জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার প্রতিস্বাক্ষর করে বিভাগীয় উপপরিচালকের মাধ্যমে ২৫ মার্চ ২০২৬ বিকাল ৪টার মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।

  4. নির্ধারিত সময়ের পর শিক্ষার্থী তথ্য হালনাগাদের সময়সীমা কোনো অবস্থাতেই বাড়ানো হবে না

  5. প্রকৃত শিক্ষার্থী সংখ্যার কম বা বেশি তথ্য আপলোড করলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।

এছাড়া ডিপিই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, IPEMIS সফটওয়্যারে শিক্ষার্থী তথ্য এন্ট্রি না থাকলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হবে না

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ অনলাইন তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থী সংক্রান্ত এক্সেল শিট সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রেরণ করেছে।

ডিপিইর পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ মাসুদ হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিষয়টিকে “অতীব জরুরি” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার 
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
সেকশন ২, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬

স্মারক নম্বর: ৩৮.০১.০০০০,০০০,৩০০.২৩.০০৭.২৬-৩১ (৫১৬)
তারিখ: ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ ১১ মার্চ ২০২৬

বিষয়: ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক/শিখন-সামগ্রীর চাহিদা প্রণয়ণের নিমিত্ত শিক্ষার্থী তথ্য হালনাগাদকরণ

সূত্রঃ (ক) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারক নম্বর ৩৮.০১,০০০০,০০০,৯০০,৩৫,০০০১.২৩.৫; তারিখঃ ৮ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিঃ
(খ) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারক নম্বর ৩৮.০১,০০০০,৩০০.০০১.২৪.০২; তারিখঃ ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিঃ
(গ) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারক নম্বর ৩৮.০১.০০০০.০০০.৩০০.২৩.০০৭.২৬-১৬ (৮); তারিখঃ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিঃ

উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, অনলাইনে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের সঠিক চাহিদা নিরূপণের নিমিত্ত তাঁর উপজেলা/থানার সকল বিদ্যালয়/শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং উক্ত বিদ্যালয়/ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থী তথ্য ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ এর মধ্যে হালনাগাদ এর জন্য সূত্রোক্ত (ক) ও (খ) পত্রে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের IPEMIS সফটওয়্যার থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের শিক্ষার্থী তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাক-প্রাথমিক (৫+) ও প্রাথমিক স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তকের সম্ভাব্য খসড়া চাহিদা প্রণয়নের পাশাপাশি সূত্রোক্ত (গ) পত্রের মাধ্যমে মাঠপর্যায় থেকে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বিতরণকৃত পাঠ্যপুস্তক ও শিখন-সামগ্রীর প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। উক্ত খসড়া চাহিদা এবং ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বিতরণকৃত পাঠ্যপুস্তকের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন) ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের সম্ভাব্য চাহিদা ৭,৩৫,৩৩,০১১ কপি এবং ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে বিতরণকৃত পাঠ্যপুস্তক ৮,১০,০৯,৯৬০ কপি। অর্থাৎ, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে অনলাইনে প্রাপ্ত শিক্ষার্থী সংখ্যার ভিত্তিতে প্রণীত সম্ভাব্য চাহিদার চেয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৭৪,৭৬,৯৪৯ (৮,১০,০৯,৯৬০ - ৭,৩৫,৩৩,০১১) কপি পাঠ্যপুস্তক বেশি বিতরণ করা হয়। এতে প্রতীয়মান হয় যে, বিগত ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রকৃত শিক্ষার্থীর চেয়ে বেশি সংখ্যক পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়েছে, কিংবা একাধিকবার নির্দেশনা প্রদান করা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁর উপজেলার ২০২৭শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক প্রাপ্য সকল বিদ্যালয়/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী তথ্য IPEMIS সফটওয়্যারে সঠিকভাবে হালনাগাদ করা হয় নি।

২। এমতাবস্থায়, অনলাইনে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকের চূড়ান্ত চাহিদা প্রণয়ণের নিমিত্ত নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবেঃ

*** ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে 'প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তকের চাহিদা নিরূপণ ও পাঠ্যপুস্তক বিতরণ নির্দেশিকা, ২০২৫' অনুসারে তাঁর উপজেলা/থানার বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক প্রাপ্য সকল বিদ্যালয়/প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী তথ্য (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী) IPEMIS সফটওয়্যারে আবশ্যিক হালনাগাদ করতে হবে;

*** প্রত্যেক উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শিক্ষার্থী তথ্য হালনাগাদ সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রত্যয়ন প্রদান করবেন। উক্ত প্রত্যয়নপত্র স্ব-স্ব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার প্রতিস্বাক্ষরপূর্বক বিভাগীয় উপপরিচালকের নিকট দাখিল করবেন। বিভাগীয় উপপরিচালক তাঁর বিভাগাধীন সকল প্রত্যয়নপত্র (ডাকযোগে ও ই মেইলে dpebook111@gmail.com) ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখ বিকাল ৪:০০ ঘটিকার মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করবেন;

***কোন অবস্থাতেই প্রকৃত শিক্ষার্থীর চেয়ে কম/বেশি শিক্ষার্থীর তথ্য আপলোড করা যাবে না এবং শিক্ষার্থী তথ্য আপলোড/হালনাগাদকরণের সময়-সীমা বৃদ্ধি করা হবে না;

***IPEMIS সফটওয়্যারে প্রকৃত শিক্ষার্থী তথ্য সঠিকভাবে এন্ট্রি/হালনাগাদ না করার কারণে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকের চূড়ান্ত চাহিদা কম/বেশি হলে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক/ প্রতিষ্ঠান প্রধান, উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকলে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন;

উল্লেখ্য, IPEMIS সফটওয়্যারে শিক্ষার্থী তথ্য এন্ট্রি না থাকলে উক্ত বিদ্যালয়/প্রতিষ্ঠানে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক সরবরাহের সুযোগ থাকবে না।

৩। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ কর্তৃক অনলাইন থেকে প্রস্তুতকৃত বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থী তথ্য অত্রসাথে প্রেরণ করা হলো।

৪। বিষয়টি অতীব জরুরী।

সংযুক্তিঃ বর্ণনা অনুযায়ী excel sheet..... কপি
উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (সকল)

স্বাক্ষরিত
মোঃ মাসুদ হোসেন
পরিচালক (প্রশাসন)। 


 

No comments

Your opinion here...

Theme images by fpm. Powered by Blogger.