প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬: নতুন নীতিমালায় কী কী বদলালো
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬: নতুন নীতিমালায় কী কী বদলালো
👉প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬ জারি, পঞ্চম শ্রেণির ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারবে
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ৮ মার্চ ২০২৬
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬’ অনুমোদন করেছে। এ নীতিমালার আলোকে সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক স্মারকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্মারকে বলা হয়, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় অনুমোদিত নীতিমালাটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নীতিমালায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার উদ্দেশ্য, অংশগ্রহণের যোগ্যতা, পরীক্ষার বিষয়, বৃত্তি বণ্টন, ফল প্রকাশ, পুনঃনিরীক্ষা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির সামষ্টিক মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। তবে সমান নম্বরের কারণে এ সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি হয়ে গেলে বাংলা, প্রাথমিক গণিত, ইংরেজি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞানে বেশি নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পাবে।
বেসরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের শিক্ষাক্রম অনুসরণ, IPEMIS-এ সক্রিয় থাকা এবং প্রাথমিক পাঠদানের অনুমতি বা নিবন্ধন থাকার শর্ত রাখা হয়েছে। যদিও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এর ক্ষেত্রে এ শর্ত কিছুটা শিথিলযোগ্য বলা হয়েছে। অন্যদিকে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নীতিমালায় পরীক্ষার বিষয় ও নম্বরও নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, প্রাথমিক গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান মিলিয়ে মোট চারটি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। প্রতিটি বিষয়ের পূর্ণমান ১০০ এবং সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে।
বৃত্তি পরীক্ষায় দুই ধরনের বৃত্তি দেওয়া হবে— ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ। উভয় ধরনের বৃত্তির ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রীকে বৃত্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সংখ্যক যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, বৃত্তি পাওয়ার জন্য প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। সর্বোচ্চ মোট নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হবে। একই মোট নম্বর পেলে বাংলা, গণিত, ইংরেজি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞানে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। আর সব বিষয়ে সমান নম্বর হলে একই নম্বরধারী সবাই বৃত্তি পাবে।
ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ক্ষেত্রে উপজেলা বা থানাভিত্তিক ফলাফল বিবেচনা করা হবে। মোট ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। একই অনুপাত সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
সরকারি বিদ্যালয়ের সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডভিত্তিক বণ্টনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডে ২ জন ছাত্র, ২ জন ছাত্রী এবং ১টি মেধা বৃত্তিসহ মোট ৫টি সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হবে। অন্যদিকে বেসরকারি বিদ্যালয়ের সাধারণ বৃত্তি সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানার ট্যালেন্টপুলের পরবর্তী সর্বোচ্চ নম্বরধারীদের মধ্যে মেধাক্রম অনুযায়ী বণ্টন করা হবে।
পরীক্ষা পরিচালনার জন্য উপজেলা বা থানা সদরে অথবা সুবিধাজনক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। কেন্দ্র নির্বাচন, পরীক্ষার্থীদের তালিকা প্রণয়ন, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মুদ্রণসহ পুরো প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জেলা কমিটি, উপজেলা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নির্ধারিত তারিখে ফল প্রকাশ করবে এবং মহাপরিচালক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তা জারি করা হবে। ফল প্রকাশের পর কোনো ভুল ধরা পড়লে তা সংশোধন, পরিমার্জন বা বাতিল করার ক্ষমতাও মহাপরিচালককে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ফলাফল পুনঃনিরীক্ষার সুযোগও রাখা হয়েছে। কোনো অভিভাবক ফল প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করতে পারবেন। এ জন্য প্রতি বিষয়ের বিপরীতে ৩০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে না, কেবল পুনঃনিরীক্ষা করা যাবে।
নীতিমালায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সনদপত্র উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে বিতরণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এ নীতিমালার মাধ্যমে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আরও স্বচ্ছ, কাঠামোবদ্ধ ও যুগোপযোগী হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সমন্বিত ও মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
সেকশন ২. মিরপুর, ঢাকা ১২১৬
www.dpe.gov.bd
স্মরক নম্বর: ৩৮.০১.০০০০.১০৭,৩৩.০০১.২৫.-৪৯০
তারিখ: ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ ০৮ মার্চ ২০২৬
বিষয়: প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬ প্রেরণ
সূত্র: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ৩৮.০০.০০০০.০০০.০০৮.৩৫.০০০১.২৫.১০৪, তারিখঃ ০৪ মার্চ, ২০২৬
উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের নিমিত্তে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা পর্যালোচনা ও অনুমোদন সংক্রান্ত আন্ত:মন্ত্রণালয় সভায় অনুমোদনকৃত 'প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬' এতদসঙ্গে সংযুক্ত সহকারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হলো।
স্বাক্ষরিত
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন
সহকারী পরিচালক
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
১. পটভূমি:
|প্রাথমিক শিক্ষা একটি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক শিক্ষা কেবল একটি নির্দিষ্ট স্তরের পাঠদান নয়, বরং এটি একটি জাতীয় অঙ্গীকার। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে এই শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে রাষ্ট্রের প্রতিটি শিশু সমান সুযোগ ও অধিকার নিয়ে বড় হতে পারে। বর্তমান সময়ে প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যক্রমকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে, যেখানে বাংলা, ইংরেজি ও প্রাথমিক গণিতের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। এই বহুমুখী শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করা এবং তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা; যাতে তারা ভবিষ্যতে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তাই মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সবার সামষ্টিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
জাতীয় পর্যায়ে শিশুদের মেধা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের অর্জিত জ্ঞানের প্রতিফলন ঘটানোর সুযোগ পায়। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে 'ট্যালেন্টপুল' এবং 'সাধারণ'-এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি প্রদান করা হয়। এই বৃত্তির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো লিঙ্গ সমতা এবং ভৌগোলিক সমতা নিশ্চিত করা। এখানে ছেলে ও মেয়েদের জন্য যেমন সমান সুযোগ রাখা হয়েছে, তেমনি শহর ও গ্রামের কোনো শিশুই যাতে সুযোগের অভাবে পিছিয়ে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়। এটি সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
ঐতিহাসিকভাবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা কার্যক্রমটি আগে জনশিক্ষা পরিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত হতো। তবে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও তদারকি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৮১ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) এই কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সময়ের বিবর্তন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার চাহিদার কথা মাথায় রেখে ২০০০, ২০০৫, ২০০৮ এবং ২০২২ সালে এই সংক্রান্ত নীতিমালায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে। বর্তমান সময়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব এবং নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যমান প্রার্থমিক বৃত্তি নীতিমালাকে আরও সহজ ও যুগোপযোগী করা হয়েছে। এই নতুন নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৭-এর 'খ' ধারার নির্দেশনা এবং Registration of Private Schools Ordinance, ১৯৬২ (B.P. Ord xx of ১৯৬২)-এর আইনি কাঠামোর সাথে সঙ্গতি রাখা হয়েছে। সমকালীন প্রয়োজনের নিরিখে জাতীয়ভাবে অনুসরণযোগ্য এই নতুন নীতিমালা মূলত একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত মেধা মূল্যায়ন পদ্ধতির প্রতিফলন।
এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে। এর প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীর মেধার বিকাশ ঘটানো, তাদের যোগ্যতার যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোকে মানসম্মত শিক্ষা প্রসারে নিয়মিত অনুপ্রেরণা, উৎসাহ ও উদ্দীপনা জোগানো। একটি কার্যকর মূল্যায়ন পদ্ধতি কেবল শিক্ষার্থীর সাফল্যই পরিমাপ করে না, বরং এটি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও মানসম্মত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পরিশেষে বলা যায়, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা কেবল একটি প্রশাসনিক দলিল নয়, বরং এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য করে গড়ে তোলার একটি দিকনির্দেশনা। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এই নীতিমালার আধুনিকায়ন নিশ্চিত করে যে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা বৈশ্বিক মানদণ্ডের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের মেধা অন্বেষণ, স্বীকৃতি প্রদান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে আমরা একটি জ্ঞানদীপ্ত প্রজন্ম উপহার পেতে পারি। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার এই সফল বাস্তবায়নই হবে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের প্রধান সোপান।
২. শিরোনাম ও সংজ্ঞা:
২.১ শিরোনাম: এ নীতিমালা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬ নামে অভিহিত হবে। এ নীতিমালার আলোকে প্রাথমিক বিদ্যালয় বৃত্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এই নীতিমালার আলোকে অনুষ্ঠিত হবে।
২.২ সংজ্ঞা:
ক) সরকারি বিদ্যালয়: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়।
খ) বেসরকারি বিদ্যালয়: বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক/মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একাডেমিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত/অনুমোদিত প্রাথমিক বিদ্যালয়, রেজিস্টার্ড কিন্ডার গার্টেন, কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রেজিস্টার্ড/অস্থায়ী রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত/স্থাপন ও চালুর প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এনজিও স্কুল/শিখনকেন্দ্র, চা-বাগান স্কুল, পার্বত্য জেলা পরিষদ পরিচালিত স্কুল এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।
গ) ট্যালেন্টপুল বৃত্তি: উপজেলা/থানার অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত ছাত্র/ছাত্রী কে প্রদত্ত নির্ধারিত সংখ্যক বৃত্তি।
ঘ) সাধারণ বৃত্তি: সরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে, উপজেলা/থানার অভ্যন্তরীণ ইউনিয়ন এবং পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডভিত্তিক ০২ জন ছাত্র ও ০২ জন ছাত্রী এবং ০১ জনকে মেধা কোটায় প্রদত্ত বৃত্তি। বেসরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানার ট্যালেন্টপুল বৃত্তির পরবর্তী সর্বোচ্চ নম্বরধারী ছাত্র ও ছাত্রীদের মেধার ক্রমানুসারে সমান হারে বণ্টনকৃত বৃত্তি।
৬) সম্পূরক বৃত্তি: কোনো থানা/উপজেলায় ট্যালেন্টপুল এ নির্ধারিত সংখ্যক শিক্ষার্থী পাওয়া না গেলে তা জেলা অর্থাৎ একই জেলার মেধার ক্রমানুসারে পরবর্তী যোগ্য শিক্ষার্থী দ্বারা এবং কোনো ইউনিয়ন/ওয়ার্ডে যোগ্য শিক্ষার্থী পাওয়া না যায় তাহলে তা থানা/উপজেলা কোটায় পুঞ্জীভূত হবে ও থানা/উপজেলার যোগ্য প্রার্থী দ্বারা অর্থাৎ অপেক্ষাকৃত বেশি নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী দ্বারা পূরণকৃত ও সম্পূরক তালিকায় আলাদাভাবে প্রকাশিত বৃত্তি।
চ) ফি: প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত হারে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিকট থেকে আদায়কৃত অর্থ।
২) শ্রুতি লেখক: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীকে লেখার কাজে সহায়তা করার প্রয়োজনে যে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ ৪র্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী।
জ) ডি আর (Descriptive Role): প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্য বিবরণী।
৩. লক্ষ্য: শিক্ষার্থীর মেধার বিকাশ, স্বীকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়কে অনুপ্রেরণা, উৎসাহ ও উদ্দীপনা যোগানোর মাধ্যমে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার সফল বাস্তবায়ন।
৪. উদ্দেশ্য:
ক) শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি প্রদান করা;
খ) শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের মাধ্যমে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের পথ সুগম করা।
৫. পরিধি ও আওতা:
৫.১ সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের চতুর্থ শ্রেণির সকল প্রান্তিকের সামষ্টিক মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে শতকরা সর্বোচ্চ ৪০ (চল্লিশ) জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে প্রাপ্ত মোট নম্বর একই হওয়ার কারণে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০% এর অধিক হয়ে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যথাক্রমে বাংলা, প্রাথমিক গণিত, ইংরেজি, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ে বেশি নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী অগ্রাধিকার পাবে।
৫.২ জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি সময়ে সময়ে এ সংখ্যা পুনঃনির্ধারণ করতে পারবে।
৫.৩ বেসরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক প্রণীত শিক্ষাক্রম অনুসরণ করা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অনলাইন সিস্টেম IPEMIS এ সক্রিয় থাকা এবং প্রাথমিক পাঠদানের অনুমতি/নিবন্ধন থাকা সাপেক্ষে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে প্রাথমিক পাঠদানের অনুমতি/নিবন্ধন থাকার বিষয়টি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এর ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য।
৫.৪ সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক।
৫.৫ কোনো শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার জন্য বর্ণিত যে কোনো বিদ্যালয়ে একবার ডিআরভুক্ত হয়ে থাকলে তাকে দ্বিতীয়বার আর ডিআরভুক্ত করা যাবে না।
৫.৬ কোনো শিক্ষার্থী চলতি শিক্ষাবর্ষের ফেব্রুয়ারি মাসের পরে ৫.১ এ বর্ণিত বিদ্যালয়সমূহ ব্যতীত অন্য কোনো বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র গ্রহণের মাধ্যমে বর্ণিত বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে থাকলে তাদেরকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া যাবে না।
৫.৭ কোনো সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান/দপ্তরের কর্মকর্তা/কর্মচারী সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকায় বদলি হলে এবং প্রচলিত নিয়মানুযায়ী উক্ত শিক্ষার্থী ৫ম শ্রেণিতে ভর্তি হলে তাকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার অনুমতি দেয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে ডিআর প্রস্তুতের পূর্বে শিক্ষার্থীকে তার পূর্বতন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (অবশ্যই ৫.১ এ বর্ণিত বিদ্যালয়) থেকে প্রাপ্ত ছাড়পত্র, নম্বর ফর্দ (Academic Transcript) এবং অভিভাবকের বদলি সংক্রান্ত আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর আবেদন করতে হবে।
৫.৮ বহিরাগত শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো প্রকার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য যে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ফলাফল বাতিল করা হবে।
৬. পরীক্ষার বিষয়, নম্বর, সময় এবং পাঠ্যসূচি:
৬.১ পরীক্ষার বিষয়, পূর্ণমান ও সময়:
বিষয়ঃ বাংলা
পূর্ণমানঃ ১০০
সময়ঃ ২ঃ৩০ মিনিট
মন্তব্যঃ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে।
বিষয়ঃ ইংরেজী
পূর্ণমানঃ ১০০
সময়ঃ ২ঃ৩০ মিনিট
মন্তব্যঃ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে।
বিষয়ঃ প্রাথমিক গণিত
পূর্ণমানঃ ১০০
সময়ঃ ২ঃ৩০ মিনিট
মন্তব্যঃ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে।
বিষয়ঃ ক) বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়-৫০ খ) প্রাথমিক বিজ্ঞান-৫০
পূর্ণমানঃ ১০০
সময়ঃ ২ঃ৩০ মিনিট
মন্তব্যঃ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে।
৬.২ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক প্রণীত পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত প্রশ্ন কাঠামো অনুসারে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
৬.৩ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি প্রাপ্তির জন্য প্রতি বিষয়ে ন্যূনতম শতকরা ৪০ নম্বর পেতে হবে। সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হবে।
৬.৪ স্টিয়ারিং কমিটি পরীক্ষার বিষয়, নম্বর ও সময় প্রয়োজনে পরিবর্তন করতে পারবে।
৭. বৃত্তির ধরন:
৭.১ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় দুই ধরনের বৃত্তি প্রদান করা হবে:
ক. ট্যালেন্টপুল
খ. সাধারণ
৭.২ উভয় ধরনের বৃত্তি ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত থাকবে। তবে নির্ধারিত সংখ্যক যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে ছাত্রের স্থলে ছাত্রী এবং ছাত্রীর স্থলে ছাত্র দ্বারা পূরণ করা হবে।
৮. বৃত্তি প্রদানের নিয়মাবলি:
৮.১ ট্যালেন্টপুল:
৮.১.১ ট্যালেন্টপুল বৃত্তি দেয়া হবে উপজেলা/থানাভিত্তিক। মোট ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ৮০% সরকারি বিদ্যালয়ের মাঝে এবং ২০% বেসরকারি বিদ্যালয়ের মাঝে নীতিমালার আলোকে বন্টন করা হবে। জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি সময়ে সময়ে এ হার পুনঃনির্ধারণ করতে পারবে।
৮.১.২ প্রতিটি উপজেলা/থানায় পূর্বনির্ধারিত সংখ্যক ট্যালেন্টপুল বৃত্তির সংখ্যা উপজেলা/থানার সর্বোচ্চ নম্বরধারী ছাত্র ও ছাত্রীদের মেধার ক্রমানুসারে সমান হারে বণ্টন করা হবে।
৮.১.৩ বিজোড় সংখ্যা ট্যালেন্টপুল বৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বশেষ বৃত্তিটি ছাত্র বা ছাত্রী বিবেচনা না করে অধিক নম্বর বিবেচনায় নির্বাচন করা হবে। উপজেলা/থানায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি নিম্নরূপে নির্ধারিত হবে:
ক) সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য:
উপজেলা/থানায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তির সংখ্যা =সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য জাতীয়ভাবে নির্ধারিত মোট ট্যালেন্টপুল বৃত্তির সংখ্যা ➗ বৃত্তি পরীক্ষায় দেশের মোট সরকারি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা × সংশ্লিষ্ট উপজেলা/খানার সরকারি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা
খ) বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য:
উপজেলা/থানায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তির সংখ্যা = বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য জাতীয়ভাবে নির্ধারিত মোট ট্যালেন্টপুল বৃত্তির সংখ্যা ➗ বৃত্তি পরীক্ষায় দেশের মোট বেসরকারি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ×সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানার বেসরকারি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা
৮.২ ট্যালেন্টপুল বৃত্তি (সম্পূরক):
কোনো উপজেলা/থানায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তিতে নির্ধারিত সংখ্যক শিক্ষার্থী পাওয়া না গেলে তা জেলা অর্থাৎ একই জেলার মেধার ক্রমানুসারে পরবর্তী যোগ্য শিক্ষার্থী দ্বারা পূরণ করা হবে এবং তা সম্পূরক তালিকায় প্রকাশিত হবে। সমান নম্বরের ক্ষেত্রে ৮.৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত নিয়ম অনুসরণ করা হবে।
৮.৩ সাধারণ বৃত্তি:
৮.৩.১ মোট সাধারণ বৃত্তির ৮০% সরকারি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের মাঝে এবং ২০% বেসরকারি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের মাঝে নীতিমালার আলোকে বণ্টন করা হবে। জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি সময়ে সময়ে এ হার পুনঃনির্ধারণ করতে পারবে।
৮.৩.২ সরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত সংখ্যক (মোট সাধারণ বৃত্তির ৮০%) সাধারণ বৃত্তি প্রদানের ইউনিট হলো থানা/উপজেলাসমূহের ইউনিয়ন এবং পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড। প্রতিটি ওয়ার্ড/ইউনিয়নে ০২ (দুই) জন ছাত্র, ০২ (দুই) জন ছাত্রী এবং ০১ (এক)টি মেধা বৃত্তিসহ মোট ০৫ (পাঁচ)টি সাধারণ বৃত্তি প্রদান করা হবে, যা ঐ ওয়ার্ড/ইউনিয়নের যোগ্যতম প্রার্থীকে দেওয়া হবে। কোনো ওয়ার্ড/ইউনিয়নে যোগ্য ছাত্র পাওয়া না গেলে ঐ ছাত্রের স্থলে ছাত্রী দ্বারা এবং যোগ্য ছাত্রী পাওয়া না গেলে ঐ স্থলে যোগ্য ছাত্র দ্বারা পূরণ করা হবে। এভাবে যদি কোনো ওয়ার্ড/ইউনিয়নের বৃত্তি ঐ ওয়ার্ড/ইউনিয়নের ছাত্র বা ছাত্রী দ্বারা পূরণ করা হয় তা হলে সেটিকে সাধারণ বৃত্তি হিসেবেই বিবেচনা করা হবে এবং ঐ তালিকা মূল তালিকায় প্রকাশিত হবে (সম্পূরক তালিকায় প্রকাশিত হবে না)। সম্পূরক বৃত্তির ক্ষেত্রে ৮.৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত নিয়ম/নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে।
৮.৩.৩ বেসরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত সংখ্যক (মোট সাধারণ বৃত্তির ২০%) সাধারণ বৃত্তি প্রদানের ইউনিট হলো উপজেলা/থানা যা সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানার ট্যালেন্টপুল বৃত্তির পরবর্তী সর্বোচ্চ নম্বরধারী ছাত্র ও ছাত্রীদের মেধার ক্রমানুসারে সমান হারে বণ্টন করা হবে। বিজোড় সংখ্যা সাধারণ বৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বশেষ বৃত্তিটি ছাত্র বা ছাত্রী বিবেচনা না করে অধিক নম্বর বিবেচনায় নির্বাচন করা হবে। উপজেলা/থানায় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সাধারণ বৃত্তি নিম্নরূপে নির্ধারিত হবে:
v বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য জাতীয়ভাবে নির্ধারিত মোট সাধারণ বৃত্তির সংখ্যা ➗ বৃত্তি পরীক্ষায় দেশের মোট বেসরকারি বিদ্যালেয়ের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা × সংশ্লিষ্ট উপজেলা/খানার বেসরকারি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা
৮.৪ সাধারণ বৃত্তি (সম্পূরক):
৮.৪.১ সরকারি বিদ্যালয়ের বৃত্তির ক্ষেত্রে যদি কোনো ইউনিয়ন/ওয়ার্ডে যোগ্য শিক্ষার্থী পাওয়া না যায় তাহলে তা থানা/উপজেলা কোটায় পুঞ্জীভূত হবে ও থানা/উপজেলার যোগ্য প্রার্থী দ্বারা অর্থাৎ অপেক্ষাকৃত বেশি নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী দ্বারা পূরণ করা হবে এবং তা সম্পূরক তালিকায় আলাদাভাবে প্রকাশিত হবে। যদি ঐ থানা/উপজেলাতেও যোগ্য শিক্ষার্থী পাওয়া না যায় তবে ঐ জেলার যোগ্য শিক্ষার্থী দ্বারা একই পদ্ধতিতে পূরণ করা হবে এবং তা সম্পূরক তালিকায় প্রকাশিত হবে। সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ৮.৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
৮.৪.২ বেসরকারি বিদ্যালয়ের বৃত্তির ক্ষেত্রে যদি ঐ থানা/উপজেলাতে যোগ্য শিক্ষার্থী পাওয়া না যায় তবে ঐ জেলার যোগ্য শিক্ষার্থী দ্বারা একই পদ্ধতিতে পূরণ করা হবে এবং তা সম্পূরক তালিকায় প্রকাশিত হবে। সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ৮.৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
৮.৫ সমান নম্বরধারীর ক্ষেত্রে:
একাধিক শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত সর্বমোট নম্বর একই হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যথাক্রমে বাংলা, প্রাথমিক গণিত, ইংরেজি, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ে বেশি নম্বরপ্রাপ্ত প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যদি দুই বা ততোধিক প্রার্থীর সকল বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর একই হয় সেক্ষেত্রে একই নম্বরধারী সকলকে বৃত্তি দেওয়া হবে।
৮.৬ বৃত্তি পরীক্ষার মূল্যায়ন ও ফলাফল
সকল ধরনের বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা নিজেদের সঙ্গে এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা নিজেদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বৃত্তিপ্রাপ্ত হবে।
১. বৃত্তি পরীক্ষার ফি:
জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত হারে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিকট থেকে পরীক্ষার ফি আদায় করা হবে। পরীক্ষা কমিটির পক্ষে উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ পরীক্ষার ফি আদায় করবেন। পরীক্ষার ফি বাবদ আদায়কৃত সমুদয় অর্থ ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
১০. বাজেট বরাদ্দ:
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা পরিচালনার লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর হতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় খাতভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ প্রদান করা । হবে।
১১. অডিট:
১১.১ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রাপ্ত বরাদ্দের বিপরীতে অর্থ ব্যয়ের যাবতীয় হিসাব ও বিল-ভাউচার সংশ্লিষ্ট দপ্তর সংরক্ষণ করবে এবং নির্ধারিত সময়ে ব্যয় বিবরণী (SOE) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করবে।
১১.২ অডিটে কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম চিহ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ দায়ী থাকবেন।
১৩. প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা পরিচালনা:
১৩.১ ইউনিয়ন/ওয়ার্ডের সংখ্যার ভিত্তিতে উপজেলা/থানার মোট সাধারণ বৃত্তির সংখ্যা (সরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে) নির্ভর করে। তাই পূর্বনির্ধারিত একটি সময়সীমার মধ্যে ঐ বছরের বৃত্তির জন্য ইউনিয়ন/ওয়ার্ডের তালিকা চূড়ান্ত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ঐ নির্ধারিত তারিখের পরে কোনো ওয়ার্ড বা ইউনিয়নকে ঐ বছরের তালিকায় সংযোজন করা সম্ভব হবে না। কাজেই চূড়ান্তভাবে গৃহীত ইউনিয়ন/ওয়ার্ড তালিকা সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। ইউনিয়ন/ওয়ার্ডের তালিকা চূড়ান্ত হলে ঐ ইউনিয়ন/ওয়ার্ডের বিদ্যালয়গুলোকে সহজে কোডভুক্ত করা যাবে।
১৩.২ নতুন ইউনিয়ন/ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্তি/স্থানান্তর প্রতিবছর একটি পূর্বনির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে চূড়ান্তকরণের জন্য উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিয়ন/ওয়ার্ডের খসড়া তালিকা বিভাগীয় দপ্তরসমূহে পাঠাবেন। বিভাগীয় উপপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা উক্ত খসড়া তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে চূড়ান্তকরণের জন্য প্রস্তাব পাঠাবে। ইউনিয়ন/ওয়ার্ডের তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর উক্ত তালিকা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
১৪. পরীক্ষার্থীদের তালিকা (ডিআর) প্রণয়ন ও অনুমোদন:
১৪.১ সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক নিজ নিজ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের তথ্য (ডিআর) নীতিমালার আলোকে IPEMIS এ সঠিকভাবে এন্ট্রি করে যাচাইপূর্বক সংশ্লিষ্ট উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট IPEMIS এর মাধ্যমেই অগ্রায়ন করবেন। উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার উক্ত তথ্য যাচাইপূর্বক উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট IPEMIS এর মাধ্যমে অনুমোদনের জন্য অগ্রায়ণ করবেন।
১৪.২ উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সতর্কতার সঙ্গে যাচাইপূর্বক বিদ্যালয়ভিত্তিক ডিআর অনুমোদন করবেন। উল্লেখ্য যে, অনুমোদনের পর নতুন করে কোন পরীক্ষার্থীর তথ্য সংযোজন কিংবা কোন তথ্য সংশোধন করা যাবে না। পরীক্ষার্থীদের তালিকা অনুমোদনের পর বিদ্যালয়, উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ডিআর এর ১ (এক) কপি করে (সফটকপি ও হার্ডকপি) নিরাপত্তার সঙ্গে সংরক্ষণ করবে।
১৫. প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মুদ্রণ:
১৫.১ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ), ময়মনসিংহ এর সহযোগিতায় কেন্দ্রীয়ভাবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করবে;
১৫.২ জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সরকারি/বিশেষায়িত প্রিন্টিং প্রেস এর মাধ্যমে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও বিতরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে;
১৫.৩ প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বাস্তবায়নে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
১৬. পরীক্ষা কেন্দ্র:
১৬.১ প্রতিটি উপজেলা/থানা সদরে/সুবিধাজনক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে;
১৬.২ পরীক্ষা কেন্দ্রের জন্য সুবিধাজনক (অগ্রাধিকারভিত্তিতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়/মাদ্রাসা/প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তৎসংযুক্ত বিদ্যালয়) বিদ্যালয়সমূহকে প্রাধান্য দিতে হবে;
১৬.৩ কেন্দ্র নির্বাচনে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, যাতায়াত ব্যবস্থা ও বিদ্যালয়ের ভৌত সুবিধাদি বিবেচনায় রাখতে হবে;
১৬.৪ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও কেন্দ্রের অবকাঠামো সুবিধাদি বিবেচনায় প্রয়োজনে একাধিক কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে;
১৬.৫ উপজেলা কমিটি পরীক্ষা কেন্দ্র নির্বাচন করে জেলা কমিটির অনুমোদন গ্রহণ করবে, মহানগরীর ক্ষেত্রে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পরীক্ষা কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটির অনুমোদন নিবেন;
১৬.৬ উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাঁর উপজেলা/থানার নির্বাচিত পরীক্ষা কেন্দ্রের তালিকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবশ্যিকভাবে IPEMIS এ এন্ট্রি করবেন।
১৭. আসন ব্যবস্থাপনা:
পরীক্ষার হল/কক্ষের মাঝখানে চলাচলের স্থান রেখে দুপাশে বেঞ্চ সাজাতে হবে। প্রতিটি বেঞ্চে ২ (দুই) জন পরীক্ষার্থীর আসনের ব্যবস্থা করতে হবে। কেন্দ্রে সহজে দৃশ্যমান একাধিক স্থানে কক্ষের আসন ব্যবস্থা ও রোল নম্বর কক্ষের প্রবেশ দ্বারে লাগিয়ে দিতে হবে। পরীক্ষার পূর্বদিন সির্টস্লিপে পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর লিখে আঠা দিয়ে বেঞ্চে লাগাতে হবে।
২৯. পরীক্ষার্থীদের জন্য পালনীয় নিয়মাবলি:
২৯.১ পরীক্ষার্থীকে প্রবেশপত্রসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হতে হবে। প্রবেশপত্র ছাড়া কেউ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না;
২৯.২ পরীক্ষার হলে প্রবেশপত্র ছাড়া অন্য কোনো অননুমোদিত কাগজপত্র, ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা যাবে না;
২৯.৩ উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠা (ওএমআর) এর নির্ধারিত স্থানে নাম, বিষয় কোড ও রোল নম্বর ছাড়া অন্য কোনো কিছু লেখা যাবে না;
২৯.৪ উত্তরপত্রে অবশ্যই ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর থাকতে হবে। অন্যথায় উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে;
২৯.৫ উত্তরপত্রের ভিতর বা বাইরে পরীক্ষার্থীর নাম, ঠিকানা, রোল নম্বর বা কোনো সাংকেতিক চিহ্ন বা অপ্রয়োজনীয়/আপত্তিকর কোনো কিছু লেখা যাবে না;
২৯.৬ খসড়ার জন্য কোনো অতিরিক্ত কাগজ দেওয়া হবে না। প্রদত্ত উত্তরপত্রে খসড়ার কাজ করতে হবে এবং তা পরে যথাযথভাবে কেটে দিতে হবে;'
২৯.৭ প্রদত্ত উত্তরপত্র ছাড়া টেবিল, স্কেল, নিজ দেহ বা অন্য কোথাও পরীক্ষার্থী কোনো কিছু লিখতে পারবে না;
২৯.৮ প্রশ্নপত্র বিতরণের পর একঘণ্টা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা হলের বাইরে যেতে পারবে না;
২৯.৯ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কর্তব্যরত ইনভিজিলেটরের নিকট উত্তরপত্র জমা দিয়ে পরীক্ষার হল ত্যাগ করতে হবে;
২৯.১০ এছাড়া কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দেশিত নিয়মাবলি অনুসরণ করতে হবে।
৩০. পরীক্ষা চলাকালীন আচরণ:
৩০.১ পরীক্ষার হলে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলা যাবে না;
৩০.২ পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র বা অন্য কোনো মাধ্যমে কিছু লিখে অন্য পরীক্ষার্থীর সঙ্গে বিনিময় করা যাবে না;
৩০.৩ প্রশ্নপত্র ছাড়া অন্য কোনো কাগজপত্র বা অন্যের উত্তরপত্র দেখে লেখা যাবে না বা অন্যকে দেখানোর কাজে সহযোগিতা করা যাবে না;
৩০.৪ উত্তরপত্র ইনভিজিলেটরের নিকট দাখিল না করে উত্তরপত্রসহ পরীক্ষার হল ত্যাগ করা যাবে না;
৩০.৫ কেন্দ্র কর্তৃক সরবরাহকৃত উত্তরপত্রের পৃষ্ঠা পরিবর্তন বা বিনষ্ট করা যাবে না;
৪০. ফলাফল প্রকাশ:
৪০.১ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর হতে নির্ধারিত তারিখে প্রকাশ করা হবে;
৪০.২ ফলাফল প্রকাশের লক্ষ্যে মহাপরিচালক কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে;
৪০.৩ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সর্বশেষ নীতিমালা অনুসরণ করা হবে;
৪০.৪ ফলাফল প্রকাশের পর কোনো ভুল পরিলক্ষিত হলে মহাপরিচালক তা সংশোধন, পরিমার্জন ও বাতিল করতে পারবেন;
৪০.৫ প্রাথমিক বৃত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত বা অংশগ্রহণকারী কোনো পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করে মতামতসহ প্রতিবেদন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করবেন এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
৪১. সনদপত্র:
বৃত্তিপ্রাপ্ত সকলকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর হতে সরবরাহকৃত সনদপত্র উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস হতে প্রদান করা হবে।
৪১. সনদপত্র:
বৃত্তিপ্রাপ্ত সকলকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর হতে সরবরাহকৃত সনদপত্র উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস হতে প্রদান করা হবে।
৪২. প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণ:
৪২.১ কোনো অভিভাবক প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষার যৌক্তিকতা প্রদর্শন করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় উপপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা বরাবর আবেদন করতে পারবেন। তবে উত্তরপত্র মূল্যায়ন/পুনঃমূল্যায়ন করা যাবে না।
৪২.২ পুনঃনিরীক্ষা ফি বাবদ প্রতি বিষয়ের জন্য ৩০০/- (তিনশত) টাকা ব্যাংক ড্রাফট (অফেরতযোগ্য)/অনলাইন পেমেন্ট গেইটওয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় উপপরিচালকের অনুকূলে জমা দিতে হবে। উক্ত অর্থ পুনঃনিরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম (উত্তরপত্র সংগ্রহ, পরিবহন ও পুনঃনিরীক্ষা) সম্পাদনে ব্যয় করা যাবে;
৪২.৩ আবেদন দাখিলের সর্বশেষ তারিখ হতে পরবর্তী ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় উপপরিচালক উক্ত উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষার কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে ফলাফল প্রেরণ নিশ্চিত করবেন;
৪২.৪ বিভাগীয় উপপরিচালক হতে পুনঃনিরীক্ষান্তে প্রাপ্ত সংশোধিত ফলাফল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যারে সংশোধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে;
৪২.৫ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় উপপরিচালক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করবেন;
৪২.৬ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের সমুদয় কাজ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার কর্মপরিকল্পনায় উল্লিখিত সময়সীমা অনুযায়ী সম্পাদিত হবে।
৪২.৭ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এর জন্য পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের ৭ (সাত) দিনের মধ্যে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষার জন্য আবেদন করা যাবে। (সংক্ষেপিত)
স্বাক্ষরিত
আবু তাহের মোঃ মাসুদ রানা
সচিব
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সম্পুর্ণ পিডিএফ ডাউনলোড






No comments
Your opinion here...