প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা ২০২৬ জারি
প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা ২০২৬ জারি
মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান, উপস্থিতি ও পরীক্ষার নম্বর বাধ্যতামূলক
ঢাকা, — প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য “প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬” জারি করেছে। নতুন এই নির্দেশিকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান, অর্থ বিতরণ পদ্ধতি, শর্তাবলী ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্দেশিকাটি অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় এবং শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সকল শিক্ষার্থী উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় থাকবে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে সরাসরি উপবৃত্তির অর্থ পাঠানো হবে।
উপবৃত্তি কর্মসূচির পটভূমি
বাংলাদেশে সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৯২ সালে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের বিদ্যালয়ে আনার উদ্দেশ্যে ১৯৯৩ সালে “শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি” চালু করা হয়। ওই কর্মসূচিতে এক সন্তান বিশিষ্ট পরিবারকে ১৫ কেজি গম বা ১২ কেজি চাল এবং একাধিক সন্তান বিশিষ্ট পরিবারকে ২০ কেজি গম বা ১৫ কেজি চাল দেওয়া হতো।
পরবর্তীতে শিক্ষার মান উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর থেকে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প চালু করা হয়। প্রথমদিকে শিক্ষার্থীরা মাসিক ২০ টাকা এবং পরে ২০০১-০২ অর্থবছর থেকে ১০০ টাকা হারে উপবৃত্তি পেত।
প্রকল্পটির মেয়াদ ৩০ জুন ২০২১ সালে শেষ হলেও ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে এটি পরিচালন বাজেটের আওতায় রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অব্যাহত রাখা হয় এবং জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কৌশলের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
উপবৃত্তির আওতা ও ব্যবহার
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, উপবৃত্তির অর্থ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-সংক্রান্ত প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে—
শিক্ষা উপকরণ ক্রয়
স্কুল ব্যাগ
ছাতা
স্কুল ড্রেস
জুতা
টিফিন বক্স
উপবৃত্তি পাওয়ার শর্ত
উপবৃত্তি পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে।
উপস্থিতি
প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের প্রতিমাসে কমপক্ষে ৮০% উপস্থিতি থাকতে হবে।
বয়স
প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ন্যূনতম বয়স ৪ বছর হতে হবে।
পরীক্ষার ফলাফল
দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে কমপক্ষে ৪০% নম্বর পেতে হবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ৩৩%।
অন্যান্য শর্ত
শিক্ষার্থীর অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ থাকতে হবে।
অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে সক্রিয় এমএফএস অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
যদি কোনো শিক্ষার্থী ধারাবাহিকভাবে তিন মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে, তবে তার উপবৃত্তি সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। নির্ধারিত নম্বর না পেলে সে উপবৃত্তির অযোগ্য বিবেচিত হবে।
উপবৃত্তির হার
নির্দেশিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের শ্রেণিভেদে নিম্নোক্ত হারে উপবৃত্তি প্রদান করা হবে—
- প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি: প্রতি শিক্ষার্থী মাসিক ৭৫ টাকা
প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি:
পরিবারের একজন শিক্ষার্থী হলে মাসিক ১৫০ টাকা
দুইজন শিক্ষার্থী হলে মাসিক ৩০০ টাকা
ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি:
পরিবারের একজন শিক্ষার্থী হলে মাসিক ২০০ টাকা
দুইজন শিক্ষার্থী হলে মাসিক ৪০০ টাকা
একটি পরিবার থেকে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষার্থী এই উপবৃত্তি পাবে।
উপবৃত্তি গ্রহণের অগ্রাধিকার
উপবৃত্তির অর্থ সাধারণত শিক্ষার্থীর মায়ের মোবাইল অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। মা না থাকলে বাবা এবং মা-বাবা উভয়ের অনুপস্থিতিতে বৈধ অভিভাবক অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।
অর্থ বিতরণ পদ্ধতি
অর্থ বিভাগ অনুসৃত Government to Person (G2P) পেমেন্ট পদ্ধতির মাধ্যমে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে উপবৃত্তির অর্থ বিতরণ করা হবে।
এ জন্য অর্থ বিভাগের এমআইএস এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজিটাল সিস্টেমের মধ্যে সমন্বয় থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক, এমএফএস প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ইন্টারঅপারেবিলিটি ব্যবস্থা চালু থাকবে।
উপকারভোগীদের কাছে পাঠানো অর্থের রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিংয়ের জন্য সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেম ব্যবহার করা হবে।
বাজেট ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা উপবৃত্তি কার্যক্রমের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি প্রতি বছর উপজেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট প্রাক্কলন তৈরি করবেন এবং তা মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট ও অডিট অনুবিভাগ অর্থ বিভাগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করবে।
নির্দেশিকা সংশোধনের সুযোগ
প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে এই নির্দেশিকা সংশোধন, পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা যাবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্দেশিকাটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন স্বাক্ষরিত এবং উপসচিব ডা. মো. মাহফুজ কর্তৃক প্রেরিত।
প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬
১. পটভূমি:
সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ১৯৯২ সালে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়। এ লক্ষ্যে দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে জুলাই ১৯৯৩ থেকে "শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। তৎকালীন সময়ে ০১ সন্তান বিশিষ্ট পরিবারকে ১৫ কেজি গম অথবা ১২ কেজি চাল এবং একাধিক সন্তান বিশিষ্ট পরিবারকে ২০ কেজি গম অথবা ১৫ কেজি চাল দেয়া হত। পরবর্তীতে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন, দারিদ্র বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে সকল শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদানের উদ্যোগ হিসেবে ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর থেকে "প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান" প্রকল্প চালু করা হয়। শুরুতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অনুকূলে মাসিক ২০ টাকা হারে এবং ২০০১-০২ অর্থবছর থেকে মাসিক ১০০/- হারে উপবৃত্তি প্রদান করা হতো। পর্যায়ক্রমে উপবৃত্তির হার বৃদ্ধি করে বর্তমানে শিক্ষার্থীর শ্রেণি অনুযায়ী ৭৫ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত মাসিক হারে উপবৃত্তির অর্থ বিতরণ করা হয়।
প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্পের মেয়াদ ৩০ জুন ২০২১ এ সমাপ্ত হয়। উপবৃত্তি প্রদান কার্যক্রম টেকসই করার জন্য প্রকল্পভিত্তিক ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে পরিচালন বাজেটের আওতায় রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় উপবৃত্তি প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়। জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কৌশলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় উপবৃত্তি প্রদানের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
অর্থ বিভাগ কর্তৃক অনুসৃত Government to Person (জিটুপি) পেমেন্ট পদ্ধতিতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষায় উপবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা, এর প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নে দিক-নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে উপবৃত্তির অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার নিমিত্ত প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬ প্রণয়ন করা হলো; যা নিম্নরূপ:
২. উপবৃত্তির কার্যক্রম পরিধি:
২.১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় এবং শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয় (এসকেটি)-এ অধ্যয়নরত সকল শিক্ষার্থী উপবৃত্তি কার্যক্রমের আওতাভুক্ত হবে।
২.২ উপবৃত্তির অর্থ দ্বারা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ, ব্যাগ, ছাতা, স্কুল ড্রেস, জুতা ও টিফিন বক্স ইত্যাদি ক্রয় করা যাবে।
২.৩ প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি বিতরণ কার্যক্রম সরকারের 'জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল' অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
৩. উপবৃত্তি প্রাপ্তির শর্তাবলী:
উপবৃত্তি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত শর্তাবলী পূরণ করতে হবে:
১) প্রাক-প্রাথমিক (৪+ও ৫+)ঃ শ্রেণিভিত্তিক প্রযোজ্য শর্তঃ
ন্যূনতম বয়স ৪ বছর এবং প্রতিমাসে পাঠদিবসের অন্যূন ৮০% উপস্থিতি।
২) প্রথমঃ শ্রেণিভিত্তিক প্রযোজ্য শর্তঃ প্রতিমাসে পাঠদিবসের অন্যূন ৮০% উপস্থিতি।
৩) দ্বিতীয় থেকে অষ্টমঃ শ্রেণিভিত্তিক প্রযোজ্য শর্তঃ প্রতিমাসে পাঠদিবসের অন্যূন ৮০% উপস্থিতি এবং পূর্ববর্তী শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় প্রতি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০% নম্বর প্রাপ্তি। তবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বেলায় প্রতি বিষয়ে ন্যূনতম ৩৩% নম্বর প্রাপ্তির শর্ত প্রযোজ্য হবে। নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ছাড়পত্রে শিক্ষার্থীর নম্বর প্রাপ্তির বিষয়টি উল্লেখ থাকতে হবে।
৪) প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টমঃ শ্রেণিভিত্তিক প্রযোজ্য শর্তঃ
👉 শিক্ষার্থীর অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ (বাংলা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ইংরেজী) থাকতে হবে।
👉 শিক্ষার্থীর অভিভাবকের নিজস্ব জাতীয় পরিচয় পত্র দ্বারা নিবন্ধিত মোবাইল ফোনে খোলা সক্রিয় এমএফএস একাউন্ট থাকতে হবে।
অন্যান্য শর্তাবলীঃ
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষার্থী বার্ষিক পরীক্ষায় নির্ধারিত নম্বর না পেলে সে উপবৃত্তি পাওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। অথবা ধারাবাহিকভাবে তিন মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে উক্ত শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। শিক্ষার্থী কোন মাসে নিয়মিত উপস্থিতির শর্ত ভঙ্গ করলে উক্ত মাসের উপবৃত্তি প্রদান করা যাবে না। উক্ত শিক্ষার্থী পরবর্তীতে শর্তপূরণ করলে শর্তপূরণের মাস হতে পুনরায় উপবৃত্তি প্রাপ্তির জন্য যোগ্য হবে।
শিক্ষার্থীকে যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত প্রতিমাসে অন্যূন ৮০% পাঠদিবসে উপস্থিত থাকতে হবে। যুক্তিসঙ্গত কারণ প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নির্ধারণ করবেন। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৮০% পাঠদিবসের কম হলে; তা প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক যুক্তিসঙ্গত কারণ বলে বিবেচিত হলে সর্বোচ্চ ২০% পর্যন্ত শিথিল করতে পারবেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের কোনো এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা সম্ভব না হলে; দুর্যোগের কারণে বিদ্যালয়ের পাঠদান স্থগিতকালীন উপস্থিতি দিবসসমূহে উক্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মাসিক উপস্থিতি নির্ধারিত হারের চেয়ে কম হলেও উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অনুমোদনক্রমে উপবৃত্তি প্রদান করা যাবে। জুন মাসের উপবৃত্তির অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রে ১০ জুন পর্যন্ত পাঠ দিবসের ৮০% উপস্থিতির ভিত্তিতে উপবৃত্তি বিতরণ করা যাবে।
৪. উপবৃত্তি প্রাপ্তির হার:
শিক্ষার্থী-প্রতি নিম্নোক্ত হারে উপবৃত্তি প্রদান করা হবে:
👉প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি: প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থী মাসিক ৭৫ (পঁচাত্তর) টাকা হারে উপবৃত্তির অর্থ প্রাপ্য হবে।
👉প্রথম শ্রেণি-পঞ্চম শ্রেণি: কোনো পরিবারের একজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ১৫০ (একশত পঞ্চাশ) টাকা, দুইজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ৩০০ (তিনশত) টাকা হারে উপবৃত্তির অর্থ প্রাপ্য হবে।
👉৬ষ্ঠ শ্রেণি - ৮ম শ্রেণি: যে সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি চালু রয়েছে সে সকল বিদ্যালয়ে কোন পরিবারের একজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ২০০ (দুইশত) টাকা, দুইজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ৪০০ (চারশত) টাকা হারে উপবৃত্তির অর্থ প্রাপ্য হবে।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে উপবৃত্তির পরিমাণ সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে হ্রাস বা বৃদ্ধি করা যাবে। উল্লেখ্য, প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম-এর আওতায় একটি পরিবারের সর্বোচ্চ ০২ (দুই) জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি প্রাপ্য হবে।
৫. উপবৃত্তির সুবিধাভোগী পরিবার/অভিভাবক:
শিক্ষার্থীর অভিভাবকের নিকট উপবৃত্তির অর্থ বিতরণ করা হবে। প্রথমতঃ শিক্ষার্থীর মা অভিভাবক হিসেবে বিবেচিত হবেন। মায়ের অবর্তমানে বাবা এবং মা-বাবার অবর্তমানে বৈধ অভিভাবকের নিকট উপবৃত্তির অর্থ প্রদান করা যাবে।
৬. উপবৃত্তির আর্থিক ব্যবস্থাপনা:
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পর্যায়: উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য পরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন। তিনি
প্রতি বছর ০১ মার্চের মধ্যে উপজেলা থেকে প্রেরিত প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা নবায়ন করবেন এবং ৩১ মার্চের মধ্যে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক পোর্টালে উপবৃত্তি সংক্রান্ত এন্ট্রিকৃত যাবতীয় তথ্য উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে সংগ্রহপূর্বক মডিউল অনুযায়ী তথ্য যাচাই করে উপবৃত্তির বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা এবং বাজেট প্রাক্কলন তৈরি করবেন। অতঃপর উক্ত বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা ও প্রাক্কলিত বাজেট মহাপরিচালকের অনুমোদন গ্রহণপূর্বক অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের সাথে একত্রে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবেন। উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য উক্ত পরিচালকের অধীনে নির্ধারিত সংখ্যক কমকর্তা ও কর্মচারী নিয়োজিত থাকবেন।
৭. উপবৃত্তির বাজেট বরাদ্দ এবং অর্থ অবমুক্তকরণ:
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যায়: উপবৃত্তির বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা এবং বাজেট প্রাক্কলন অনুসারে মন্ত্রণালয়ের বাজেট ও অডিট অনুবিভাগ অধিদপ্তরের পরিচালন বাজেটের নির্ধারিত কোডে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ অর্থ বিভাগে প্রেরণ নিশ্চিত করবে। উক্ত বরাদ্দ হতে অধিদপ্তরের ত্রৈমাসিক/ষান্মাসিক চাহিদামত কিস্তিভিত্তিক অর্থ অবমুক্ত করবে।
৮. উপবৃত্তির অর্থ বিতরণ পদ্ধতি:
অর্থ বিভাগ কর্তৃক সময়ে সময়ে জারীকৃত Government to Person (জিটুপি) পেমেন্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তির অর্থ বিতরণ করা হবে। অর্থ বিভাগের জিটুপি পেমেন্ট পদ্ধতির সাথে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সমন্বিত ডিজিটাল পদ্ধতির সমন্বয় সাধন করা হবে। সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীদের মা/বাবা কিংবা বৈধ অভিভাবকগণের পছন্দ অনুযায়ী সক্রিয় এমএফএস একাউন্টের মাধ্যমে উপবৃত্তির অর্থ বিতরণ করা হবে।
৯. উপবৃত্তি বিতরণে অনুসরণীয় আর্থিক বিধি-বিধান:
উপবৃত্তির অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সকল সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান প্রতিপালন করতে হবে। অন্যথায়, সরকার/দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এতদ্বিষয়ক যে কোন ব্যত্যয় ও অনিয়ম শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে।
১০. বাস্তবায়ন কৌশল:
উপবৃত্তির অর্থ এই নির্দেশিকার বিধি-বিধান প্রতিপালন করে সুষ্ঠুভাবে বিতরণের লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতিসহ একটি অপারেশনাল ম্যানুয়াল প্রণয়ন করবে; যা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। উক্ত পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ম্যানুয়ালে সুবিধাভোগী অভিভাবক থেকে শুরু করে এসএমসি, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী, জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের কর্মপরিধি সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত থাকবে। অর্থ বিভাগ কর্তৃক প্রণীত জিটুপি পেমেন্ট পদ্ধতিতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের আওতায় উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে বিধায় অর্থ বিভাগের এমআইএস-এর সাথে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এমআইএস-এর ইন্টিগ্রেশন থাকবে। উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিফ একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসারের কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট তফসিলী ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও অর্থ বিভাগের এতদসংক্রান্ত ডিজিটাল পদ্ধতি ও এমআইএস-এর ইন্টারঅপারেবিলিটি (interoperability) সর্বদাই কার্যকর থাকবে; যেখান থেকে উপবৃত্তি বিতরণ সংক্রান্ত সকল তথ্য তাৎক্ষণিক ও সার্বক্ষণিকভাবে পাওয়া যাবে।
উপকারভোগীর নিকট প্রেরিত ইএফটি'র Real Time Tracking এর জন্য অর্থ বিভাগের Single Registry System এর সাথে প্রত্যেক মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ব্যাংক, আইবাস++, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিএএফও এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের API সংযোগ থাকতে হবে।
১১. অন্যান্য বিষয়াদি:
উপবৃত্তি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক, সহকারি শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের দায়িত্ব ও কর্তব্য সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণিত থাকবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রণীত উপবৃত্তি বিতরণ সংক্রান্ত অপারেশনাল ম্যানুয়ালে প্রতিপালনযোগ্য বিষয়সমসূহ বিশদভাবে বর্ণিত থাকবে।
১২. হালনাগাদকরণ:
প্রয়োজনীয়তার নিরীখে এ নির্দেশিকাটি সময়ে সময়ে সংশোধন, পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা যাবে।
১৩. বিবিধ:
পরিচালন বাজেটের আওতায় প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬ অনুযায়ী উপবৃত্তি বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত ও নিষ্পত্তিযোগ্য হবে।
স্বাক্ষরিত
মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন
অতিরিক্ত সচিব
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
ডা. মোঃ মাহফুজ
উপসচিব
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
পিডিএফ ডাউনলোড






No comments
Your opinion here...