ad

প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন উদ্যোগ: প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৭,৬০০ টাকা বরাদ্দ

Views



প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন উদ্যোগ: প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৭,৬০০ টাকা বরাদ্দ

প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ সজ্জায় ২৫৬ বিদ্যালয়ে বরাদ্দ, প্রতি স্কুলে ৭,৬০০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করতে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের ২৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিখন-শেখানো সামগ্রী তৈরি, ক্রয় এবং শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণের জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মোট ১৯ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয় পাবে ৭ হাজার ৬০০ টাকা করে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মিরপুর কার্যালয় থেকে ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। উপপরিচালক মো. জয়নাল আবেদীনের স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকে আনন্দদায়ক ও আকর্ষণীয় করে তুলতে এই বরাদ্দ কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়গামী শতভাগ শিশুকে ভর্তি নিশ্চিত করা এবং ঝরে পড়া রোধে “প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা” একটি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি। এজন্য শ্রেণিকক্ষকে শিশু উপযোগী ও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক
বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে। এতে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আহ্বায়ক, শিক্ষক-অভিভাবক সমিতির সভাপতি ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক সদস্য এবং প্রধান শিক্ষক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ব্যয়ের নিয়ম ও জবাবদিহিতা
শিখন-শেখানো সামগ্রী ক্রয় বা তৈরি এবং শ্রেণিকক্ষ সজ্জার সকল সিদ্ধান্ত কমিটির সভায় অনুমোদিত হতে হবে এবং লিখিত রেজুলেশন তৈরি করতে হবে। পরবর্তীতে বিল-ভাউচার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে।

অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই বেয়ারার বা ওপেন চেক ব্যবহার করা যাবে না। যৌথ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন নিশ্চিত করতে হবে।

পরিদর্শন ও তদারকি জোরদার
সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা বিদ্যালয় পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত করবেন যে, বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করে শ্রেণিকক্ষ সজ্জা করা হয়েছে কিনা।

এছাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নির্দেশনা প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে তা সকল বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতে।

ম্যানুয়াল অনুযায়ী উপকরণ নির্বাচন
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্ধারিত ম্যানুয়াল এবং ৫+ বয়সী শিশুদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক সহায়িকায় উল্লেখিত উপকরণ থেকেই সামগ্রী নির্বাচন করতে হবে। অন্য কোনো খাতে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।

সময় নির্ধারণ ও প্রতিবেদন
৩০ মে ২০২৬ এর মধ্যে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় সম্পন্ন করতে হবে। আর ব্যয়ের প্রতিবেদন ১৫ জুন ২০২৬ এর মধ্যে ই-মেইল ও ডাকযোগে প্রেরণ করতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আশা করছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং তাদের শেখার পরিবেশ আরও আনন্দদায়ক হবে।

 গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

 প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর 

মিরপুর, ঢাকা

www.dpe.gov.bd

স্মারক নংঃ ৩৮.০১.০০০০.৩৪৬.২০.০০৯.১৬-২০২

তারিখঃ ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ ১১ মার্চ ২০২৬

বিষয়ঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিখন-শেখানো সামগ্রী তৈরি/ক্রয়/শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণের নির্দেশনা।

চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হলো বিদ্যালয় গমনোপযোগী শতভাগ শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং প্রাথমিক শিক্ষাচক্র সমাপনের মাধ্যমে গুণগত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ। এজন্য বিদ্যালয়ে গমনের প্রস্তুতি এবং শিশুদের ঝরে পড়া রোধে "প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা" পরিচালনা একটি অগ্রাধিকারপূর্ণ কার্যক্রম। তালিকাভূক্ত ২৫৬ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির পাঠদান আকর্ষণীয় ও আনন্দদায়ক করতে শিখন-শেখানো সামগ্রী (Furnishing PPE Classroom for 4+ children within the purview of pioliting as per program document) তৈরি/ক্রয় এবং শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণের জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিদ্যালয় ৭,৬০০/- (সাত হাজার ছয়শত) টাকা হারে ১৯৪৫৬০০.০০ (উনিশ লক্ষ উনচল্লিশ হাজার ছয়শত) টাকা বরাদ্দ ইতোমধ্যে অর্থ বিভাগ হতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।

ক. ছাড়কৃত অর্থের মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিখন-শেখানো সামগ্রী ক্রয়/তৈরি/শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণের ক্ষেত্রে প্রতিটি বিদ্যালয়ে কমিটি গঠনপূর্বক সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। কমিটি নিম্নরূপঃ

১। আহ্বায়কঃ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি--- ১ জন

২। সদস্যবৃন্দঃ শিক্ষক-অভিভাবক সমিতির সভাপতি--- ১ জন

প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক (প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষককে অগ্রাধিকার দিতে হবে)---১ জন

৩। সদস্য সচিবঃ প্রধান শিক্ষক--১ জন

খ. উপজেলা/থানার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ও প্রাপ্ত বরাদ্দ অনুযায়ী উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর অর্থ ছাড় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ছাড়কৃত অর্থ বিদ্যালয়ের অনুকূলে বরাদ্দ প্রদান করবেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে শিখন-শেখানো সামগ্রী তৈরি/ক্রয়পূর্বক শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।

গ. এ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম কমিটির সভায় আলোচনা ও সভার লিখিত রেজুলেশন তৈরি করে উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট বিল/ভাউচার দাখিল করবেন। উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার হিসাব রক্ষণ অফিসে বিল দাখিল করে অর্থ উত্তোলন করবেন এবং দ্রুততার সাথে যৌথ ব্যাংক হিসাবে তা স্থানান্তর করবেন। এক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই বেয়ারার বা ওপেন চেক ইস্যু করা যাবে না।

ঘ. সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে শিখন-শেখানো সামগ্রী তৈরি/ক্রয়পূর্বক শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণ করা হয়েছে কিনা তা সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত করবেন।

৫. উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিখন-শেখানো সামগ্রী তৈরি/ক্রয় সংক্রান্ত শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণ সম্পর্কিত নির্দেশনা প্রাপ্তির অনধিক ৭ (সাত) দিনের মধ্যে ফটোকপি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট প্রেরণ নিশ্চিত করবেন।

২। শিখন-শেখানো সামগ্রী তৈরি/ক্রয়/শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণের ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের "শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণ" বিষয়ের ম্যানুয়াল/৫+ বয়সি শিশুদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক সহায়িকায় উল্লিখিত উপকরণ/সরঞ্জামসমূহ থেকে নির্বাচন করবেন।

৩। কোনো অবস্থাতেই এ অর্থ দিয়ে অন্য শ্রেণির বা বিদ্যালয়ের অন্য কোন সামগ্রী/উপকরণ ক্রয়/তৈরি করা যাবে না।

৪। কোনো প্রকার আর্থিক অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/ প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।

৫। তালিকাভূক্ত ২৫৬টি বিদ্যালয় কে এওপি ৮৩ খাতে (Play and Stationery Materials for PPE Classroom) প্রদানকৃত বরাদ্দে তালিকাভূক্ত করা যাবে না।

৬। বরাদ্দকৃত অর্থ ৩০ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ ও সংগ্রহ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে আর্থিক নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অর্থ ছাড়কৃত বিদ্যালয়র তালিকাসহ ব্যয়ের প্রতিবেদন ১৫ জুন ২০২৬ এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক সেলে (ই-মেইল dpepreprimary@gmail.com) সফট কপি এবং ডাকযোগে হার্ডকপি প্রেরণ করবেন।

৭। প্রাথমিক শিক্ষার কর্মকর্তাগণ বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য শিখন-শেখানো সামগ্রীগুলো নির্দেশনা মোতাবেক তৈরি/ ক্রয় করে শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণ করা হচ্ছে কিনা তা পরবর্তীতে যাচাই বাছাই করবেন।

৮। প্রাক-প্রাথমিকের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ স্লিপ পরিকল্পনায় অর্ন্তভুক্ত করবেন।

এ বিষয়ে মহাপরিচালক মহোদয়ের অনুমোদন রয়েছে।

স্বাক্ষরিত

মো: জয়নাল আবেদীন 

উপপরিচালক 

প্রাক-প্রাথমিক ও একীভূত শিক্ষা। 



No comments

Your opinion here...

Theme images by fpm. Powered by Blogger.