প্রাথমিক স্তরের মূল্যায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬
প্রাথমিক স্তরের মূল্যায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), বাংলাদেশ
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর, বাস্তবমুখী ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণয়ন করেছে “প্রাথমিক স্তরের মূল্যায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬”। মূল্যায়ন শিক্ষাক্রমের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ—এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শিখন অগ্রগতি নিরূপণ করা হয় এবং শেখানো-শেখার গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
এই নির্দেশিকাটি প্রণয়নের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করা, যা শিক্ষার্থীর শিখন নিশ্চিত করবে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার বাস্তবতা, সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও বিদ্যমান মূল্যায়ন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
কেন নতুন মূল্যায়ন নির্দেশিকা?
প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের শিখন কেবল পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে নয়, বরং ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নির্দেশিকায় ধারাবাহিক (Continuous) ও সামষ্টিক (Summative) মূল্যায়নের যৌক্তিক সমন্বয় করা হয়েছে।
এটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে তিনটি পৃথক কর্মশালার মাধ্যমে বিস্তৃত আলোচনা, বিশ্লেষণ ও যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন—
শ্রেণি শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক
সহকারী উপজেলা/থানা শিক্ষা কর্মকর্তা
পিটিআই/ইউপিইটিসি-এর ইনস্ট্রাক্টর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক
জাতীয় শিক্ষাক্রম কোর কমিটির (এনসিসিসি) সদস্যবৃন্দ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)
এনসিটিবির বিশেষজ্ঞগণ
সবার সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে এই নির্দেশিকা।
নির্দেশিকার কাঠামো
প্রাথমিক স্তরের মূল্যায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬ দুটি অংশে বিভক্ত—
প্রথম অংশ:
সামগ্রিক মূল্যায়ন কাঠামো
সাধারণ নির্দেশনা
মূল্যায়নের তথ্য সংরক্ষণ ছক
শিখন অগ্রগতি প্রতিবেদনের নমুনা
দ্বিতীয় অংশ:
শ্রেণিভিত্তিক ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের বিশেষ নির্দেশনা
নমুনা প্রশ্ন কাঠামো
এই বিন্যাস শিক্ষককে স্পষ্ট ধারণা দেয়—কীভাবে শ্রেণিকক্ষে মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং কীভাবে শিক্ষার্থীর অগ্রগতি লিপিবদ্ধ ও প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করতে হবে।
মূল্যায়ন পদ্ধতির মূল উপাদান
নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে নিম্নোক্ত উপাদানের সমন্বয়ে—
পাঠ্যপুস্তকের কাজ
ভাষাদক্ষতা ও বোধগম্যতা
শ্রেণিকক্ষের সক্রিয়তা
ক্লাস টেস্ট
নির্দিষ্ট প্রান্তিকে সামষ্টিক মূল্যায়ন
ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং বছরের নির্দিষ্ট সময়ে সামষ্টিক মূল্যায়নের মাধ্যমে তার সামগ্রিক শিখন অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবক—উভয়ের জন্য উপকারিতা
এই নির্দেশিকায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যেন—
শিক্ষক সহজে শ্রেণিকক্ষে মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন
শিক্ষার্থীর শিখন নিশ্চিত করা যায়
অভিভাবককে যথাযথভাবে শিখন অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করা যায়
শিখন-শেখানো কৌশল ও মূল্যায়নে একক ও সমন্বিত পদ্ধতি অনুসরণ করলে শিক্ষার্থীদের সুষম ও সমন্বিত বিকাশ আরও সহজ হবে।
ভবিষ্যৎ পরিমার্জনের সুযোগ
নির্দেশিকাটি একটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। মূল্যায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময় শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে এটি প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমার্জন করা যেতে পারে।
উপসংহার
“প্রাথমিক স্তরের মূল্যায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬” বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক, বাস্তবভিত্তিক এবং অংশগ্রহণমূলক মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে—এটাই প্রত্যাশা।
স্বাক্ষরিত
রাজীব কুমার সরকার
উপসচিব
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
প্রাথমিক স্তরের মূল্যায়ন নির্দেশিকা ২০২৬
প্রাথমিক স্তরের মূল্যায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬ প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ
ভূমিকা
মূল্যায়ন শিক্ষাক্রমের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শিখন অগ্রগতি নিরূপন করা হয়। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর উদ্যোগে প্রাথমিক স্তরের মূল্যায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিখন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার বিদ্যমান বাস্তবতা, সামাজিক মনস্তত্ত্ব এবং শিক্ষার অন্যান্য স্তরে প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিক স্তরে ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের যৌক্তিক সমন্বয়ের মাধ্যমে এ মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনটি পৃথক কর্মশালার মাধ্যমে শ্রেণি শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, সহকারী উপজেলা/থানা শিক্ষা কর্মকর্তা, পিটিআই/ইউপিইটিসি-এর ইনস্ট্রাক্টর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, জাতীয় শিক্ষাক্রম কোর কমিটির (এনসিসিসি) সদস্যবৃন্দ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এবং এনসিটিবির বিশেষজ্ঞগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে বিস্তারিত আলোচনা, বিশ্লেষণ ও যাচাই বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য এ মূল্যায়ন নির্দেশিকাটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক স্তরের মূল্যায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬ দুটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে সামগ্রিক মূল্যায়ন কাঠামো, সাধারণ নির্দেশনা, মূল্যায়নের তথ্য সংরক্ষণ ছক ও শিখন অগ্রগতি প্রতিবেদনের নমুনা তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় অংশে শ্রেণিভিত্তিক ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের বিশেষ নির্দেশনা এবং নমুনা প্রশ্ন কাঠামো সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক স্তরের মূল্যায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬ অনুসারে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিখনকালীন পাঠ্যপুস্তকের কাজ, ভাষাদক্ষতা/বোধগম্যতা, সক্রিয়তা ও ক্লাস টেস্টের সমন্বয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন সম্পন্ন করা এবং বছরের নির্দিষ্ট প্রান্তিকে একজন শিশুর শিখন অবস্থান বোঝার জন্য সামষ্টিক মূল্যায়নের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এ নির্দেশিকায় সাধারণ নির্দেশনার পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষক যেন সহজে শ্রেণিকক্ষে মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে শিক্ষার্থীর শিখন নিশ্চিত করতে পারেন এবং অভিভাবককে শিক্ষার্থীর শিখন অগ্রগতি বিষয়ে যথাযথভাবে অবহিত করতে পারেন সে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার সকল ক্ষেত্রে শিখন-শেখানো কৌশল ও মূল্যায়নের জন্য একই পদ্ধতি অনুসৃত হলে শিক্ষার্থীদের সুষম ও সমন্বিত বিকাশ সহজতর হবে।
উল্লেখ্য, মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নকালে শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতি পর্যবেক্ষণপূর্বক শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত নিয়ে মূল্যায়ন নির্দেশিকাটি প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করা যেতে পারে।
স্বাক্ষরিত
রাজীব কুমার সরকার
উপসচিব
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার




No comments
Your opinion here...