ad

প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান নীতিমালা–২০২৬: লক্ষ্য, ক্যাটাগরি, সময়সূচি ও অংশগ্রহণ নির্দেশনা (সংক্ষেপে)

Views


প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান নীতিমালা–২০২৬: লক্ষ্য, ক্যাটাগরি, সময়সূচি ও অংশগ্রহণ নির্দেশনা (সংক্ষেপে)

বাংলাদেশে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং সৃজনশীল কাজকে উৎসাহিত করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরে “প্রাথমিক শিক্ষা পদক (Primary Education Award)” প্রদান করে আসছে। ১৯৮৫ সাল থেকে চলমান এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠান—সবাইকে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে স্বীকৃতি ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।

এই ব্লগপোস্টে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান নীতিমালা–২০২৬ এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।

১) নীতিমালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

লক্ষ্য

শিশুদের শারীরিক-মানসিক বিকাশ সাধন করে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা এবং সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে সমতাভিত্তিক ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে অংশীজনকে অনুপ্রাণিত করা।

উদ্দেশ্য (মূল পয়েন্ট)

  1. শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে পৃষ্ঠপোষকতা ও স্বীকৃতি প্রদান

  2. শিক্ষার্থী-বান্ধব শিখন পরিবেশ, আইসিটি নির্ভর পাঠদান, যোগ্যতাভিত্তিক শিখন নিশ্চিতকরণে শিক্ষকদের উৎসাহিত করা

  3. কর্মকর্তাদের একাডেমিক নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা উন্নয়নে স্বীকৃতি

  4. দাপ্তরিক সেবা নিশ্চিতকরণে কর্মচারীদের অনুপ্রেরণা

  5. কাবিং কার্যক্রম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি

  6. বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিখন পরিবেশ উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অনুপ্রেরণা

২) পুরস্কারের নাম ও শ্রেণি

পুরস্কারের নাম

প্রাথমিক শিক্ষা পদক (Primary Education Award)

পুরস্কারের শ্রেণি

ক) শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক

  1. ক্রীড়া

  2. সাংস্কৃতিক

  3. বিষয়ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা

  4. সুন্দর হাতের লেখা (বাংলা)

খ) ব্যক্তিগত (একক উদ্যোগে অর্জিত সফলতা)

গ) প্রাতিষ্ঠানিক

  1. প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট (পিটিআই)

  2. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

৩) শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র (৩য়–৫ম শ্রেণি)

ক্রীড়া

  1. ১০০ মিটার দৌড়

  2. দীর্ঘ লাফ

  3. উচ্চ লাফ

  4. ভারসাম্য দৌড়

  5. অংক দৌড়

সাংস্কৃতিক

  1. কবিতা আবৃত্তি (বাংলা)

  2. চিত্রাংকন

  3. নৃত্য

  4. গল্প বলা

  5. বিভিন্ন ধারার গান (পল্লীগীতি/ভাওয়াইয়া/ভাটিয়ালী/মুর্শিদী/লোকগীতি/লালনগীতি), দেশাত্মবোধক গান, রবীন্দ্র/নজরুল সংগীত, হামদ-নাত

  6. একক অভিনয়

  7. উপস্থিত বক্তৃতা

  8. বিতর্ক প্রতিযোগিতা (আন্তঃ উপজেলাভিত্তিক)

বিষয়ভিত্তিক কুইজ

  1. বাংলা

  2. ইংরেজি

  3. গণিত

  4. সাধারণ জ্ঞান (দৈনন্দিন বিজ্ঞান, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা, আইসিটি ও চলমান ঘটনাবলী)

কাবিং

কাবিং কার্যক্রমও প্রতিযোগিতার অন্তর্ভুক্ত।

৪) ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ের ক্যাটাগরি (মোট ১৭টি)

ব্যক্তি পর্যায় (১–১৫):
শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক (পুরুষ/মহিলা), শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক (পুরুষ/মহিলা), শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (পুরুষ/মহিলা), শ্রেষ্ঠ কর্মচারী, শ্রেষ্ঠ উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, শ্রেষ্ঠ ইন্সট্রাক্টর (ইউপিইটিসি/পিটিআই), শ্রেষ্ঠ উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, শ্রেষ্ঠ সুপারিনটেনডেন্ট (পিটিআই), শ্রেষ্ঠ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক।

প্রতিষ্ঠান পর্যায় (১৬–১৭):

  1. শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

  2. শ্রেষ্ঠ পিটিআই

৫) পুরস্কারের প্রকৃতি ও পরিধি (সংক্ষেপে)

জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার

(১) শিক্ষার্থী (প্রতি ইভেন্টে ১ম–৩য়):

  1. ১ম: ৩০,০০০ টাকা + স্বর্ণপদক + সনদ

  2. ২য়: ২৫,০০০ টাকা + রৌপ্যপদক + সনদ

  3. ৩য়: ২০,০০০ টাকা + ব্রোঞ্জপদক + সনদ

(২) ব্যক্তি (সব ক্যাটাগরিতে):

  1. শ্রেষ্ঠ: ৫০,০০০ টাকা + স্বর্ণপদক + সনদ

(৩) প্রতিষ্ঠান (সব ক্যাটাগরিতে):

  1. শ্রেষ্ঠ: ৫০,০০০ টাকা + ক্রেস্ট + সনদ

সরকার নির্বাহী আদেশে পুরস্কারের অর্থের পরিমাণ পুনঃনির্ধারণ করতে পারে।

৬) প্রতিযোগিতার সময়সূচি (নীতিমালায় নির্ধারিত)

শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতা (ক্রীড়া/সাংস্কৃতিক/কুইজ/ইত্যাদি)

  1. ইউনিয়ন/পৌরসভা: ০২–০৫ জানুয়ারি

  2. উপজেলা: ০৯–১২ জানুয়ারি

  3. জেলা: ১৬–১৯ জানুয়ারি

  4. বিভাগ: ২৩–২৬ জানুয়ারি

  5. জাতীয়: ০২–০৫ ফেব্রুয়ারি

ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান/কমিটি নির্বাচনের বাছাই প্রতিযোগিতা

  1. উপজেলা: ০৮–১১ ফেব্রুয়ারি

  2. জেলা: ১৫–১৮ ফেব্রুয়ারি

  3. বিভাগ: ২৩–২৬ ফেব্রুয়ারি

  4. জাতীয়: ০২–০৫ মার্চ

অনিবার্য কারণে সময়সূচি পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর যৌক্তিক বিবেচনায় পরিবর্তন করে অবহিত করবেন।

৭) কারা অংশ নিতে পারবে

শিক্ষার্থী

  1. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের ৩য়–৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী

ব্যক্তি

  1. শিক্ষক/শিক্ষিকা (সহকারী/প্রধান), কাব শিক্ষক/শিক্ষিকা

  2. ইউপিইটিসি, উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিস, পিটিআই, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, বিভাগীয় অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী

  3. উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসক
    (নীতিমালায় নির্দিষ্ট তালিকা অনুযায়ী)

প্রতিষ্ঠান

  1. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

  2. পিটিআই

৮) অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া (খুব গুরুত্বপূর্ণ)

শিক্ষার্থী

  1. বিদ্যালয় পর্যায়ে বাছাই শেষে

    1. জন্ম নিবন্ধন সনদ

    2. প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নপত্র

    3. নির্ধারিত ছকে তালিকা
      এগুলোসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে অংশগ্রহণ করবে।

  1. পর্যায়ক্রমে ১ম স্থান অর্জনকারী জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত অগ্রসর হবে।

ব্যক্তি

  1. নির্ধারিত আবেদন ফরম + সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির মূল্যায়ন ফরম পূরণ করে নির্ধারিত চ্যানেলে জমা দিতে হবে।

  2. একই বিদ্যালয় থেকে একই ক্যাটাগরিতে একাধিক আগ্রহী হলে বিদ্যালয় বাছাই কমিটি একজনকে চূড়ান্ত করবে।

প্রতিষ্ঠান

  1. প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্ধারিত আবেদন/মূল্যায়ন ফরম পূরণ করে নির্ধারিত মাধ্যমে প্রেরণ করবেন।

  2. অনিবার্য কারণে প্রতিষ্ঠান প্রধান অপারগ হলে প্রতিনিধি মনোনয়ন দিতে পারবেন।

৯) বাছাই কমিটি: কোথায় কারা থাকেন

নীতিমালায় বিদ্যালয় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত একাধিক স্তরে বাছাই কমিটি নির্ধারণ আছে—যেমন:

  1. বিদ্যালয় পর্যায় কমিটি

  2. ইউনিয়ন/পৌরসভা কমিটি

  3. উপজেলা/থানা (সিটি কর্পোরেশন) কমিটি

  4. জেলা কমিটি

  5. বিভাগীয় কমিটি

  6. জাতীয় কমিটি

প্রতিটি কমিটির নির্দিষ্ট সভাপতি/সদস্য/সদস্য সচিব ও কার্যপরিধি নির্ধারিত—যার মূল কাজ প্রতিযোগিতা আয়োজন, বিচারক প্যানেল গঠন, ফলাফল সংরক্ষণ এবং পরবর্তী পর্যায়ে তালিকা প্রেরণ।

১০) গুরুত্বপূর্ণ নিয়মাবলি (অবশ্যই জেনে রাখুন)

  1. ইউনিয়ন থেকে বিভাগ পর্যন্ত ১ম–৩য় স্থান নির্ধারণ হলেও পরবর্তী পর্যায়ে কেবল ১ম স্থানধারীদের তালিকা যাবে। জাতীয় পর্যায়ে ১ম–৩য় নির্ধারণ হবে।

  2. একই প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ৩ বছরের মধ্যে সেই একই বিষয়ে পুনরায় অংশ নিতে পারবে না (অন্য বিষয়ে পারবে)।

  3. জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষক/ব্যক্তি/কর্মকর্তা/প্রতিষ্ঠান একই বিষয়ে ৩ বছরের মধ্যে পুনরায় অংশ নিতে পারবে না।

  4. বিচারক প্যানেলের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করতে হবে।

  5. কাব শিক্ষক/শিশু বাছাইয়ে কাব স্কাউট সংগঠনের প্রতিনিধিকে বিচারক প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

  6. প্রয়োজনে উপকমিটি গঠন করে সংক্ষিপ্ত তালিকা করে বাছাই করা যেতে পারে।

১১) যোগ্যতা ও যাচাই: চাকরির অভিজ্ঞতা ও বিভাগীয় মামলা বিষয়ক নির্দেশনা (আপনার চাওয়া অংশ)

নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—

চাকরির অভিজ্ঞতা শর্ত

শ্রেষ্ঠ শিক্ষক/কর্মচারী/কর্মকর্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে:

  1. পূর্ববর্তী বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে কমপক্ষে ৫ বছরের সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

  2. যে পদে প্রতিযোগিতা করবেন, সেই পদে পূর্ববর্তী বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ন্যূনতম ১ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

  3. উপজেলার বাইরে থেকে বদলি হয়ে আসা শিক্ষক সংশ্লিষ্ট উপজেলায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চাইলে পূর্ববর্তী বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট উপজেলায় কমপক্ষে ২ বছর পূর্ণ হতে হবে।

  4. ইউএনও এবং জেলা প্রশাসকের ক্ষেত্রে নিজ নিজ কর্মস্থলে ন্যূনতম ১ বছর পূর্ণ হতে হবে।

বিভাগীয় মামলা যাচাই (বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ)

নির্বাচিত শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মচারী ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন বিভাগীয় মামলা আছে কিনা যাচাই করতে হবে
এবং “বিভাগীয় মামলা নেই” মর্মে প্রার্থীকে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে জেলা/বিভাগ/জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচনের সময় জমা দিতে হবে

১২) শেষ কথা

প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান নীতিমালা–২০২৬ শুধু পুরস্কারের আয়োজন নয়—এটি মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা কাঠামো। শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশ থেকে শুরু করে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানের সেবামান উন্নয়ন—সবকিছুতেই এই পদক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


PDF Download

No comments

Your opinion here...

Theme images by fpm. Powered by Blogger.