পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিশেষ পরিপত্র: সহজ ভাষায় সম্পূর্ণ নির্দেশনা
পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিশেষ পরিপত্র: সহজ ভাষায় সম্পূর্ণ নির্দেশনা
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে, যেখানে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের নমুনা, গ্রহণ, সংরক্ষণ ও গণনা সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এই ব্লগপোস্টে পরিপত্রের মূল বিষয়গুলো সহজ ও গঠনমূলকভাবে তুলে ধরা হলো, যাতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রার্থী, এজেন্ট এবং সাধারণ পাঠক সবাই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেন।
পোস্টাল ব্যালট কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
পোস্টাল ব্যালট হলো এমন একটি ভোটিং পদ্ধতি, যার মাধ্যমে প্রবাসী ভোটার (OCV) এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির দেশে অবস্থানরত ভোটার (ICPV) ডাকযোগে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটাধিকার আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিস্তৃত হয়।
পরিপত্র অনুযায়ী, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এবং গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুসারে এই পদ্ধতির আইনি ভিত্তি রয়েছে।
১. পোস্টাল ব্যালটের ধরন ও ভোট প্রদান পদ্ধতি
প্রবাসী ভোটার (OCV)
ব্যালট পেপার: ফরম-৭
ব্যালটে প্রার্থীর নাম থাকবে না, শুধুমাত্র রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতীক থাকবে।
ভোটার প্রতীকের পাশে থাকা ফাঁকা ঘরে টিক (✔) বা ক্রস (✖) চিহ্ন দেবেন।
দেশে অবস্থানরত পোস্টাল ভোটার (ICPV)
ব্যালট পেপার: ফরম-৭ক
এখানে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক উভয়ই থাকবে।
ভোটার একইভাবে ফাঁকা ঘরে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেবেন।
- উল্লেখযোগ্য: টিক বা ক্রস ছাড়া অন্য কোনো চিহ্ন দিলে ব্যালট বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।
২. ব্যালট বাক্স প্রস্তুতি ও সংরক্ষণ
প্রতি ৪০০টি পোস্টাল ব্যালটের জন্য ১টি ব্যালট বাক্স ব্যবহার করতে হবে।
প্রতিটি বাক্সে আসনের নাম ও নম্বরসহ স্টিকার লাগানো বাধ্যতামূলক।
বাক্স বন্ধ করার সময় প্রার্থী বা তাদের নির্বাচনী এজেন্টদের উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানাতে হবে।
প্রতিটি বাক্সে চারটি সিল/লক ব্যবহার করা হবে এবং নম্বর উচ্চস্বরে পড়ে শোনাতে হবে।
যদি কোনো বাক্স পূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে পঞ্চম লক দিয়ে সেটি বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে রাখা হবে।
৩. ডাকযোগে ব্যালট গ্রহণ ও QR কোড স্ক্যান
ডাক বিভাগের মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রতিটি পোস্টাল ব্যালট খামের ওপর থাকা QR কোড স্ক্যান করা বাধ্যতামূলক।
QR স্ক্যানের মাধ্যমে সফটওয়্যারে ব্যালটের তথ্য সংরক্ষিত হবে।
যদি কোনো QR কোড ডুপ্লিকেট হিসেবে চিহ্নিত হয়, তাহলে সেই ব্যালট বাতিল বলে গণ্য হবে।
স্ক্যান না করা ব্যালট গণনার আওতায় আসবে না।
রিটার্নিং অফিসার প্রতিদিন স্ক্যানকৃত তথ্য থেকে ফরম-১২ জেনারেট করে সংরক্ষণ করবেন।
৪. ভোটার যদি QR কোড স্ক্যান না করেন
যদি কোনো ভোটার খামের QR কোড স্ক্যান না করেই ব্যালট ফেরত পাঠান:
সিস্টেমে সেটি সনাক্ত হবে না
সেই ব্যালট বাতিল হিসেবে গণ্য হবে
খাম না খুলে আলাদা করে সংরক্ষণ করা হবে
৫. ব্যালট গ্রহণের শেষ সময়
ভোট গ্রহণের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিকাল ৪:৩০ পর্যন্ত ডাকযোগে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে।
এই সময়ের পরে প্রাপ্ত ব্যালট:
স্ক্যান করা হবে না
আলাদাভাবে বাতিল হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে
৬. ভুল ঠিকানায় পাঠানো ব্যালট
যদি কোনো আসনের ব্যালট ভুলক্রমে অন্য জেলায় পৌঁছে যায়, তাহলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং অফিসারের কাছে ফেরত পাঠাতে হবে।
৭. অবিতরণকৃত পোস্টাল ব্যালট
ঠিকানা জটিলতা বা অন্য কারণে যদি কোনো প্রবাসী ভোটারের কাছে ব্যালট পৌঁছানো না যায়, তাহলে ডাক বিভাগ সেই ব্যালট নির্বাচন কমিশনে ফেরত দেবে এবং হিসাব সংরক্ষণ করবে।
৮. গণনা কার্যক্রমে কর্মকর্তা নিয়োগ
প্রতি আসনের জন্য:
১ জন প্রিজাইডিং অফিসার
প্রতি ১০০ ব্যালটে ১ জন পোলিং অফিসার
প্রতি ১৫ পোলিং অফিসারের জন্য ১ জন সহায়ক কর্মকর্তা
৯. গণনার সময় উপস্থিতি
গণনার সময় উপস্থিত থাকতে পারবেন:
প্রার্থী
নির্বাচনী এজেন্ট
পোলিং এজেন্ট
গণমাধ্যমকর্মী
পর্যবেক্ষক
রিটার্নিং অফিসার আগেই লিখিতভাবে গণনার সময় ও স্থান জানাবেন।
১০. ব্যালট গণনার ধাপ
ঘোষণাপত্র (ফরম-৮) যাচাই
স্বাক্ষর থাকলে ব্যালট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে
স্বাক্ষর না থাকলে ব্যালট বাতিল হবে
বৈধ ব্যালট
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট প্রার্থীভিত্তিক গণনা হবে
গণভোটের ব্যালট "হ্যাঁ" বা "না" ভিত্তিতে গণনা হবে
শুধুমাত্র স্বাক্ষর থাকলেই নাম বা এনআইডি না থাকলেও ব্যালট বৈধ হবে।
১১. অবৈধ ব্যালটের কারণসমূহ
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যালট বাতিল হবে:
ঘোষণাপত্র না থাকলে
স্বাক্ষর না থাকলে
একাধিক প্রতীকে চিহ্ন দিলে
কোনো প্রতীকে চিহ্ন না দিলে
অস্পষ্টভাবে চিহ্ন দিলে
নির্ধারিত প্রতীক ছাড়া অন্য প্রতীকে চিহ্ন দিলে
১২. ফলাফল প্রকাশ
প্রিজাইডিং অফিসার:
জাতীয় সংসদের ফলাফল: ফরম-১৬ক
গণভোটের ফলাফল: ফরম-৪
রিটার্নিং অফিসার:
সব কেন্দ্রের ফল একত্র করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করবেন
পোস্টাল ব্যালটের ফল যুক্ত না করে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা যাবে না।
১৩. গণনার পর কাগজপত্র সংরক্ষণ
সব ব্যালট, ফরম, ঘোষণাপত্র ও খাম নির্ধারিত প্যাকেটে ভরে সিলগালা করা হেসিয়ান ব্যাগে সংরক্ষণ করা হবে।
ব্যাগের গায়ে লিখতে হবে:
“নির্বাচনের নাম – পোস্টাল ব্যালট কেন্দ্র”
১৪. সাধারণ নির্দেশনা
গণনা কক্ষে:
প্রিজাইডিং অফিসার ও সহায়ক কর্মকর্তা ছাড়া কেউ মোবাইল ফোন বা কলম রাখতে পারবেন না
সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা শুধুমাত্র পেন্সিল ব্যবহার করতে পারবেন
উপসংহার
এই বিশেষ পরিপত্রের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নির্ভুল ও নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। QR কোড স্ক্যানিং, সিল-লক ব্যবস্থা, ঘোষণাপত্র যাচাই এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মতো নিয়মগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।
এই নির্দেশনাগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করলে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রদত্ত ভোটও সাধারণ ভোটের মতোই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়
নম্বর-১৭,০০,০০০০.০৩৪,৩৬,০০৩.২৫(অংশ-৪)-৫০
তারিখ: ০৫ মাঘ ১৪৩২ ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
পোস্টাল ব্যালট নমুনা, ব্যালট গ্রহণ, সংরক্ষণ ও গণনা সংক্রান্ত বিশেষ পরিপত্র
বিষয়: পোস্টাল ব্যালট এর নমুনা, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালট প্রাপ্তির পর করণীয় এবং পোস্টাল ব্যালট গণনা সংক্রান্ত নির্দেশনা স্পষ্টীকরণ।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ২৭ অনুসারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবং গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর খারা ১৭ এর বিধান অনুসারে গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের বিধান রয়েছে। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগযোগ্য ভোটার, ভোটদান প্রক্রিয়া, ভোটগণনা ও এতদসংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রমের বিষয়ে ইতোপূর্বে পরিপত্র জারী করা হয়েছে। এতদবিষয়ে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অধিকতর স্পষ্টীকরণ করা হলোঃ
১। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালট ও ভোট প্রদান পদ্ধতিঃ পোস্টাল ব্যালটে ভোটিং প্রক্রিয়ায় প্রবাসে অবস্থানরত ভোটারগণের (OCV) ভোট প্রদানের জন্য মুদ্রিত ব্যালট পেপারে (ফরম-৭) নির্বাচন কমিশন কর্তৃক রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য সংরক্ষিত সকল প্রতীক মুদ্রিত থাকবে প্রার্থীর নাম মুদ্রিত থাকবে না। উক্ত ব্যালটে প্রতীকের পাশে ফাকা ঘর থাকবে, ভোটার ফাকা ঘরে টিক বা ক্রস চিহ্ন দিবেন। এছাড়া দেশে অবস্থানরত পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানযোগ্য ভোটারগণের (ICPV) জনা মুদ্রিত ব্যালটে (ফরম-৭ক) সংশ্লিষ্ট আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম ও প্রতীক উভয়ই মুদ্রিত থাকবে। উক্ত ব্যালটে নাম ও প্রতীকের সাথে ফাকা ঘর থাকবে, ভোটার ফাকা ঘরে টিক বা ক্রস চিহ্ন দিবেন (ব্যালটের নমুনাঃ-ফরম-৭ ও ফরম-দক সংযুক্ত)। ফাকা ঘরে টিক বা ক্রস ব্যতিত অন্য কোন চিহ্ন প্রদান করা যাবে না।
২। ডাকযোগে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যালট বাক্স: পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের নিমিত্ত ডেভেলপকৃত সফটওয়্যারে রিটার্নিং অফিসার লগইন করার পর সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদানের জন্য নিবন্ধনকৃত ভোটার সংখ্যা ও প্রদত্ত ভোটের সামগ্রিক চিত্র দেখতে/জানতে পারবেন। পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধনকৃত ভোটার সংখ্যার উপর ভিত্তি করে প্রতিটি আসনের জন্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার প্রতি ৪০০ (চারশত) ব্যালটের (ব্যালটের থাম) জন্য ১ টি ব্যালট বাক্স ব্যবহার করবেন। প্রত্যেক ব্যালট বাক্সের উপর আসনের নম্বর ও নাম সম্বলিত স্টিকার যুক্ত করবেন।
৩। ব্যালট বাক্স বন্ধকরণ: প্রতীক বরাদ্দের পর হতে অর্থাৎ আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের পর হতে পোস্টাল ব্যালটসমূহ রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছানো শুরু হবে। এলক্ষ্যে প্রতীক বরাদ্দের দিন বা তার পরের দিন পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণের জন্য ব্যালট বাক্স প্রস্তুত রাখতে হবে। পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য ব্যালট বাক্স বন্ধ (লক) করার আগে প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্টকে উপস্থিত থাকার জন্য দিন ও সময় উল্লেখ করে রিটার্নিং অফিসার লিখিত অনুরোধ করবেন। নির্ধারিত দিনে উপস্থিত সকলের উপস্থিতিকে প্রত্যেক আসনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যালট বাক্সের প্রত্যেকটিতে চারটি করে সিল/লক লাগাবেন। সিল/লক লাগানোর পূর্বে প্রত্যেকটি বাক্স ও সিল/লক এর নম্বর উচ্চস্বরে পাঠ করবেন এবং উপস্থিত প্রার্থী বা নির্বাচনি এজেন্টকে তা লিপিবদ্ধ করতে বলবেন। কোন ব্যালট বাক্স পোস্টাল ব্যালট দ্বারা পূর্ণ হয়ে গেলে উক্ত ব্যালট বাক্সের ঢাকনাটি পঞ্চম লক/সিল দিয়ে বন্ধ করে তা নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে। গণনার দিন উপস্থিত প্রার্থী বা নির্বাচনি এজেন্ট বা পোলিং এজেন্ট প্রত্যেক বাক্স খোলার পূর্বে বাক্স ও লকের নম্বর মিলিয়ে নিবেন। এছাড়া রিটার্নিং অফিসার প্রত্যেক আসনের পোস্টাল ব্যালটের জন্য নির্ধারিত প্রতিটি বাক্সের নম্বর ও বাক্স বন্ধ করার জন্য ব্যবহৃত সিল/লক এর নম্বর উল্লেখ করে একটি নোটিশ তার কার্যালয়ে টাঙ্গিয়ে দিবেন।
৪। ডাকযোগে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালট পেপার সম্বলিত ফেরত খামসমূহ সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক গ্রহণ ও সংরক্ষণ:
ডাক বিভাগ হতে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালটসমূহ গ্রহণ ও সংরক্ষণের জন্য রিটার্নিং অফিসার একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করবেন। এছাড়া ডাক বিভাগ হতে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালটসমূহ স্ক্যানিংসহ অন্যান্য কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাপোর্টিং স্টাফ নিয়োগ দিবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাকযোগে পোস্টাল ব্যালটের খামসমূহ প্রাপ্তির পর তার খামের উপর প্রদত্ত QR কোড স্ক্যান করবেন। তবে কোন কোন দেশের জাতীয় পোস্টাল সংস্থার ব্যবস্থাপনা নীতি অনুযায়ী পোস্টাল ব্যালটের ফেরত খামটি অন্য কোন খাম/দ্রব্যাদি দ্বারা আবৃত করে পাঠানো হতে পারে। সেক্ষেত্রে উপরি আবৃত খাম/ দ্রব্যাদি অপসারণ করে পোস্টাল ব্যালটের ফেরত খামের উপর প্রদত্ত QR কোড স্ক্যান করতে হবে। এরপর আসনভিত্তিক নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে খামসমূহ নিরাপত্তার সাথে সংরক্ষণ করবেন। QR কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে ফরম-১২ আকারে পোষ্টাল ব্যালট বিতরণ ও প্রাপ্তির আসনভিত্তিক তালিকা সফটওয়্যার হতে জেনারেট হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রতিদিন সফটওয়ার হতে জেনারেটকৃত ফরমে স্বাক্ষরপূর্বক সংরক্ষণ করবেন। এছাড়া QR কোড স্ক্যান করার সময় সফটওয়ারে QR কোড ডুপ্লিকেট হিসেবে প্রদর্শিত হলে রিটার্নিং অফিসার ব্যালটটি বাতিল করবেন। এক্ষেত্রে খামটি না খুলেই অন্যত্র সংরক্ষন করবেন। QR কোড স্ক্যানের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় স্ক্যানিং সরঞ্জামাদি নির্বাচন কমিশন হতে সরবরাহ করা হবে। এছাড়া রিটার্নিং অফিসার, দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারকে একটি ল্যাপটপ সরবরাহ করবেন।
উল্লেখ্য যে, প্রতীক বরাদ্দের পূর্বেই যদি কোন পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছায় তবে তা সাময়িক সময়ের জন্য একটি রেজিস্টারে এন্ট্রি করে নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে। পরবর্তীতে পূর্বোক্ত নিয়মে QR কোড স্ক্যান করে ব্যালট বাক্সে রাখতে হবে।
৫। ভোটার কর্তৃক QR কোড স্ক্যান না করা হলেঃ প্রত্যেক ভোটারকে প্রেরিত ভোটদান নির্দেশিকা অনুযায়ী পোস্টাল ব্যালটের খাম প্রাপ্তির পরপরই ভোটারগণ Postal Vote BD মোবাইল অ্যাপ এ লগইন করে খামের উপর প্রদত্ত QR কোডটি স্ক্যান করবেন। স্ক্যানের ক্ষেত্রে ভোটারের Liveliness যাচাইয়ের প্রয়োজন হবে। এতে ভোটার যে ব্যালট পেপারটি হাতে পেয়েছেন তা সিস্টেমে সনাক্ত হবে। কিন্তু ভোটার যদি খামের উপর QR কোড স্ক্যান না করেই ভোট প্রদান করে খাম ফেরত পাঠায় তাহলে তা স্ক্যানের সময় সিস্টেমে সনাক্ত হবে না। ফলে উক্ত ব্যালটটি বাতিল বলে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে খামটি না খুলেই অন্যত্র সংরক্ষন করবেন এবং এর হিসাব রাখতে হবে।
৬। পোস্টাল ব্যালট গ্রহণের সময়সীমা: ভোট গ্রহণের দিন অর্থাৎ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকাল ৪.৩০ ঘটিকা পর্যন্ত ডাকযোগে আগত পোস্টাল ব্যালটসমূহ গণনার অন্তর্ভুক্ত হবে। উক্ত সময়ের পরে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালটের খাম স্ক্যান না করে এবং গণনা কার্যক্রমের আওতায় না এনে বাতিল হিসেবে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
৭। এক এলাকার পোস্টাল ব্যালট অন্য এলাকায় প্রেরণঃ যদি কোন আসন/জেলার পোস্টাল ব্যালট ভুলক্রমে অন্য কোন জেলায় প্রেরণ করা হয়ে থাকে, তবে তা ডাক বিভাগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং অফিসার বরাবর দ্রুততম সময়ে ফেরত পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া পোস্টাল ব্যালটের খাম স্ক্যানিং করার পর খামটি যেন ঐ সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার জন্য নির্ধারিত ব্যালট বাক্সেই রাখা হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
৮। ঠিকানা জটিলতার কারণে অবিতরণকৃত পোস্টাল ব্যালট: ঠিকানা জটিলতা বা অন্য কোন কারণে প্রবাসী ভোটারদের নিকট
পোস্টাল ব্যালট খাম বিতরণ করা সম্ভব না হওয়ায় যেসকল পোস্টাল ব্যালট খাম দেশে ফেরত এসেছে, সেসকল অবিতরণকৃত পোস্টাল ব্যালট খামসমূহ হিসাবসহ বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, নির্বাচন কমিশনে ফেরত প্রদান করবে।
১। গণনা কার্যক্রমের জন্য প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ: পোস্টাল ব্যালট গণনার জন্য রিটার্নিং অফিসার আসন ভিত্তিক একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ করবেন। এছাড়া প্রাপ্ত ব্যালটের ভিত্তিতে প্রতি ১০০ (একশত) পোস্টাল ব্যালটের জন্য একজন পোলিং অফিসার এবং প্রতি ১৫ জন পোলিং অফিসারকে সমন্বয়ের জন্য একজন করে সহায়ক কর্মকর্তা নিয়োগ করবেন। নিয়োগপত্রের নমুনা এতদসংগে সংলগ্নী-১ এ প্রেরণ করা হলো।
১০। পোস্টাল ব্যালট গণনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ: পোস্টাল ভোট গণনার সময় প্রার্থী/নির্বাচনি এজেন্ট/পোলিং এজেন্ট, গণমাধ্যমকর্মী, পর্যবেক্ষকগণ অন্যান্য কেন্দ্রের ন্যায় একই নীতিমালা অনুসরণে উপস্থিত থাকতে পারবেন। রির্টার্নিং অফিসার কবে, কখন ও কোথায় সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আসনের পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনা করা হবে সে বিষয়ে প্রার্থী। নির্বাচনী এজেন্ট কে পূর্বেই পত্র প্রেরণ করে অবহিত করবেন এবং উক্ত গণনা কার্যক্রমে প্রার্থী নিজে বা তার নির্বাচনী এজেন্ট বা তার পোলিং এজেন্টকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করবেন।
১১। পোস্টাল ব্যালট গণনা কার্যক্রম: পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে বা অন্য কোন সুবিধাজনক স্থানে আসনভিত্তিক গণনা কক্ষ প্রস্তুত করতে হবে। পোস্টাল ব্যালটের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে গণনার জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করতে হবে। রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোট গণনার কাজে নিয়োজিত প্রিজাইডিং অফিসার, সহায়ক কর্মকর্তা ও পোলিং অফিসারগণ ভোটগণনা কেন্দ্রে হাজির হবেন। প্রিজাইডিং অফিসার গণনা শুরুর কমপক্ষে একঘন্টা আগে সহায়ক কর্মক) ভোটগ্রহণের দিন অর্থাৎ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকাল ০৪.৩০ ঘটিকার পরপর-ই প্রিজাইডিং অফিসারগণ স্ব স্ব আসনের পোস্টাল ব্যালট ভর্তি বাক্সসমূহ রিটার্নিং অফিসারের নিকট হতে বুঝে নিবেন।
খ) আসন ভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার তার আসনে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালটের সংখ্যা/বিবরণী সম্পর্কে গননার সময় উপস্থিত প্রার্থী/নির্বাচনি এজেন্ট/ পোলিং এজেন্ট, গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকগণকে বিস্তারিত জানাবেন। তারপর উক্ত আসনে পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত সকল ব্যালট বাক্স খুলবেন। বাক্স খুলে পোলিং অফিসারগণ প্রথমে ফেরত খামসমূহ এক জায়গায় ঢালবেন তারপর এক এক করে খুলবেন।
গ) প্রত্যেক ফেরত খাম খোলার পর পোস্টাল ব্যালট সম্বলিত একটি খাম (১০ক) ও ঘোষণাপত্র (ফরম-৮) পাবেন। প্রথমেই ঘোষণাপত্রটি যথাযথভাবে স্বাক্ষরযুক্ত কিনা তা পরীক্ষা করবেন। স্বাক্ষরিত ঘোষনাপত্র পাওয়া গেলে তা আলাদা করে রাখবেন এবং ব্যালট সম্বলিত খামটি না খুলেই আলাদা রাখবেন। যথাযথ স্বাক্ষরযুক্ত ঘোষণাপত্র থাকলেই কেবল জাতীয়কর্তা ও পোলিং অফিসারদের কার্যক্রম সম্পর্কে ব্রিফিং প্রদান করবেন। গণনার ক্ষেত্রে-
সংসদ নির্বাচনের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট গণনাভুক্ত হবে। এভাবে যথাযথ স্বাক্ষরযুক্ত সকল ঘোষণাপত্র একসাথে রাখবেন এবং গণনার জন্য ব্যালট সম্বলিত সকল খাম এক জায়গায় রাখবেন।
ঘ) ফেরত খাম খোলার পর প্রাপ্ত ঘোষণাপত্রে যদি স্বাক্ষর না থাকে তবে ব্যালট সম্বলিত খাম (১০ক) খুলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করবেন। প্রিজাইডিং অফিসার উভয় ব্যালট পেপারের উপর "ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর নাই" সীল ও অনুস্বাক্ষর দিয়ে ব্যালট দুইটি বাতিল করবেন। এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালট, খাম ও ঘোষণাপত্র এবং গণভোটের ব্যালট আলাদা রাখবেন।
ঙ) ফেরত খাম খোলার পর যদি ঘোষণাপত্র (ফরম-৮) পাওয়া না যায়, তাহলে ব্যালট সম্বলিত খাম (১০ক) টি খুলবেন। যদি উক্ত খামে ব্যালট পেপারের সাথে ঘোষনাপত্র পাওয়া যায় তাহলে ব্যালট পেপারের ভাঁজ না খুলে শুধুমাত্র ঘোষণাপত্রটি বের করে তা যথাযথ স্বাক্ষরযুক্ত কিনা পরীক্ষা করবেন। পরীক্ষান্তে সঠিক পাওয়া গেলে একই নিয়মে তা অন্যান্য বৈধ ঘোষনাপত্রের সাথে রাখবেন এবং ব্যালট পেপার বের না করে খামসহ তা গণনার জন্য রাখা অন্য খামসমূহের সাথে রাখবেন। যদি ব্যালট সম্বলিত খাম (১০ক) এ ঘোষনাপত্র না পাওয়া যায় তবে পূর্বের নিয়মে প্রিজাইডিং অফিসার উভয় ব্যালট পেপারের উপর "ঘোষণাপত্র নাই" সীল ও অনুস্বাক্ষর দিয়ে ব্যালট দুইটি বাতিল করবেন। এরপর উক্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালট ও গণভোটের পোস্টাল ব্যালট বাতিল ব্যালটের সাথে রাখবেন এবং খামটি অন্যান্য খামের সাথে আলাদা রাখবেন।
চ) যথাযথ স্বাক্ষরযুক্ত সকল ঘোষণাপত্র একসাথে নির্ধারিত একটি খামে রাখবেন এবং খামের উপর সংখ্যা উল্লেখ করবেন। পোলিং অফিসারগণ সঠিক ঘোষণাপত্র থাকা সকল ব্যালট সম্বলিত খামসমূহ খুলে জাতীয় সংসদ ও গণভোটের ব্যালটসমূহ আলাদা করবেন। অতঃপর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালটসমূহ প্রার্থী ভিত্তিক এবং গণভোটের ব্যালটসমূহ "হ্যাঁ" বা "না" ভিত্তিক আলাদা করবেন এবং গণনা করবেন। উল্লেখ্য, যথাযথ স্বাক্ষরযুক্ত ঘোষণাপত্র সংবলিত খামে দুই ধরণের ব্যালট প্রদান না করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বা গণভোট এর যেকোন একটি ব্যালট প্রদান করলেও তা বৈধ বলে গণ্য হবে এবং তা গণনা করতে হবে। এক্ষেত্রে উপস্থিত এজেন্টগণকে বিষয়টি অবগত করতে হবে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট অথবা গণভোট এর ব্যালটের মধ্যে যেটি পাওয়া যায়নি তার সংখ্যাগত তথ্যের খসড়া লিপিবদ্ধ রাখতে হবে। গণনা কার্যক্রম শেষে না পাওয়া ব্যালটের সংখ্যা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গণভোটের ফলাফল বিবরণী (ফরম-৪) ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিবরণী (ফরম-১৬ক) এর নিচে অপ্রাপ্ত ব্যালট সংখ্যা মর্মে নোট আকারে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
ছ) বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ঘোষণাপত্রে ভোটদাতার নাম, এনআইডি নম্বর ও ভোটারের স্বাক্ষর প্রদানের বিধান রয়েছে। তবে কোন ঘোষণাপত্রে ভোটাদাতার নাম ও এনআইডি নম্বর উল্লেখ না করে শুধুমাত্র স্বাক্ষর করলেও তা বৈধ মর্মে গণ্য হবে। কোন ঘোষণাপত্রে ভোটারের নাম বা এনআইডি নম্বর বা উভয় উল্লেখ থাকলেও যদি ভোটদাতার স্বাক্ষর না থাকে তবে ব্যালটটি বাতিল বলে গণ্য হবে। একই বিষয় সত্যয়নকারীর জন্যও প্রযোজ্য হবে।
জ) রিটার্নিং অফিসার "ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর নাই” ও “ঘোষণাপত্র নাই” লেখা সম্বলিত সীল প্রস্তুতপূর্বক পোস্টাল ব্যালট গণনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসারগণকে সরবরাহ করবেন।
১২। অবৈধ ও গণনা বহির্ভুত ব্যালটঃ বৈধ ব্যালট পেপারসমূহ জাতীয় সংসদের ক্ষেত্রে প্রার্থীভিত্তিক এবং গণভোটের ক্ষেত্রে হ্যাঁ/না ভিত্তিক আলাদা করার পর তা গণনা করতে হবে। তবে ইস্যুকৃত পোস্টাল ব্যালট, নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে, প্রিজাইডিং অফিসার কোন প্রার্থীর অনুকুলে গণনা করবেন না:
(ক) খামের মধ্যে ঘোষণাপত্র না থাকলে
(খ) ঘোষণাপত্রে ভোটারের স্বাক্ষর না থাকলে
(গ) একাধিক প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে;
(ঘ) কোন প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া না হলে;
(ঙ) এমনভাবে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হয়েছে যে ভোটটি কোন প্রার্থী/প্রতীকের পক্ষে দেওয়া হয়েছে তা যুক্তিসঙ্গতভাবে নিশ্চিত করা যায় না;
(চ) OCV এর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক ব্যতিত অন্য প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে।
(ছ) ব্যালট পেপারে টিক বা ক্রস চিহ্ন ব্যতিত অন্য কোন চিহ্ন প্রদান করা হলে।
গণনার সময় উপর্যুক্ত কারণে ঘোষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট এর অবৈধ বা বাতিল ব্যালট পেপারসমূহ একত্রে একটি নির্ধারিত খামে (জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্যাকেট-২ এবং গণভোটের প্যাকেট-২) রেখে খামের উপর সংখ্যা উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া মোট অবৈধ বা বাতিল ব্যালটের সংখ্যা ফলাফল বিবরণীর নির্ধারিত স্থানে লিপিবদ্ধ করে ফলাফল বিবরণী প্রস্তুত করতে হবে।
১৩। কতিপয় ক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালট গণনায় অন্তর্ভুক্ত না করাঃ কোন আসনের পোস্টাল ব্যালট ধারা ৩৭-এর অধীনে ভোট গণনা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার এর নিকট না পৌঁছালে উক্ত পোস্টাল ব্যালট গণনার অন্তর্ভুক্ত হবে না। এছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের অনুচ্ছেদ ২৭ এর দফা ১০৬ অনুসারে যথাসময়ে কোন আদালতের আদেশে কোন নির্দিষ্ট নির্বাচনি আসনের প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন ঘটলে উক্ত আসনের পোস্টাল ব্যালট গণনার প্রয়োজন হবে না ("যথাসময়” বলতে মোট পাঁচদিন তথা ভোটগ্রহণের দিনসহ পূর্ববর্তী ০৪ দিন সময়কে বোঝাবে)। উপরোক্ত কারনে বাতিল ব্যালটগুলো QR কোড ডুপ্লিকেট হওয়ার কারনে এবং ভোটার কর্তৃক পোস্টাল ব্যালট পাওয়ার পর খামের QR কোড স্ক্যান না করার কারনে বাতিল হওয়া ব্যালটের খামের সাথে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং তার হিসাব প্রকাশ করতে হবে।
১৪। ভোটগণনার বিবরণী প্রস্তুত, প্রকাশ ও সরবরাহ:
(ক) প্রিজাইডিং অফিসার পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনা শেষ হলে সাধারণ ভোটকেন্দ্রের ন্যায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ফরম-১৬ক তে এবং গণভোটের ফলাফল ফরম-৪ এ লিপিবদ্ধ করে এর কপি প্রকাশ করবেন এবং গণনার সময় উপস্থিত প্রার্থী/ নির্বাচনি এজেন্ট/ পোলিং এজেন্টকে সরবরাহ করবেন;
(খ) রিটার্নিং অফিসার, তার অধীন সহকারী রিটার্নিং অফিসারগণ কর্তৃক প্রেরিত সাধারণ ভোটকেন্দ্রের ফলাফলের পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালটে প্রাপ্ত ভোটের হিসাব ঘোষণা ও অন্যান্য কেন্দ্রের ফলাফলের সাথে একত্রিকরণ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য (ফরম-১৮) তে এবং গণভোটের জন্য (ফরম-৭) এ চুড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করবেন;
(গ) পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রাপ্ত ভোটের হিসাব একীভূত না করে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।
১৫। গণনা পরবর্তী পোস্টাল ব্যালট ও আনুষঙ্গিক কাগজ-পত্রাদি হেফাজতকরণ: প্রিজাইডিং অফিসার গণনা কার্যক্রম শেষ হলে
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন ফরম ও দলিলাদি নিম্নলিখিত প্যাকেটে রেখে প্যাকেটের মুখ বন্ধ করবেনঃ
ক) জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্যঃ ফরম/ দলিলাদি
১) প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের পক্ষে প্রদত্ত বৈধ ব্যালট (ফরম-৭ ও ৭ক) প্যাকেট-১
২) অবৈধ হিসেবে বাতিলকৃত ব্যালট (ফরম-৭ ও ৭ক) প্যাকেট-২
৩) প্যাকেট-১ ও প্যাকেট-২ রাখার প্যাকেট প্যাকেট-৩
৪) পোস্টাল ব্যালট পেপারের রেজিস্টার (ফরম-১২) প্যাকেট-৯
৫) ফলাফল বিবরণী (ফরম-১৬ক) প্যাকেট-১৪
৬) ফেরত খাম (ফরম-১০ ও ফরম-১০খ) প্যাকেট-১৬
৭) স্বাক্ষরযুক্ত ঘোষণাপত্রসমূহ (ফরম-৮) প্যাকেট-১৬
৮ ) ঘোষণাপত্রে ত্রুটির কারণে বাতিলকৃত ঘোষণাপত্র প্যাকেট-১৬
৯) খাম (ফরম-১০ক) প্যাকেট-১৬
১০) ভোটার কর্তৃক QR কোড স্ক্যান বিহীন প্রেরিত ব্যালটসহ খাম প্যাকেট-১৬
খ) গণভোটের জন্যঃ
১) "হ্যাঁ" বা "না" সূচক বৈধ ব্যালট পেপার প্যাকেট-১
২) অবৈধ বা গণনা হতে বাদ দেওয়া ব্যালট পেপার প্যাকেট-২
৩) ফলাফল বিবরণী (ফরম-৪) প্যাকেট-৬
সকল প্যাকেটের মুখ বন্ধ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য প্রদত্ত আলাদা হেসিয়ান ব্যাগে রাখবেন। সকল ফরম ও
প্যাকেট হেসিয়ান ব্যাগে রেখে সবশেষে ব্যাগের মুখটি ভালোভাবে আটকিয়ে তা সীলগালা করে সংরক্ষণ করবেন। এক্ষেত্রে একাধিক হেসিয়ান প্রয়োজন হলে রিটার্নিং অফিসার তা সরবরাহ করবেন। প্রিজাইডিং অফিসারের নিকট হতে সিলগালাকৃত হেসিয়ান ব্যাগ বুঝে নিয়ে রিটার্নিং অফিসার তা সংশ্লিষ্ট আসনের অন্যান্য কেন্দ্রের হেসিয়ান ব্যাগের সাথে এক জায়গায় সংরক্ষণ করবেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই হেসিয়ান ব্যাগের উপর "নির্বাচনের নাম" লিখে "পোস্টাল ব্যালট কেন্দ্র" শব্দটি লিখতে হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ব্যবহারের জন্য আলাদা আলাদা খাম/প্যাকেট এবং হেসিয়ান ব্যাগ ও গানিব্যাগ সরবরাহ করা হবে।
যদি ব্যবহারের সময় কোন নির্ধারিত খাম বা প্যাকেট কম পড়ে তাহলে অতিরিক্ত হিসেবে থেকে যাওয়া অন্য খাম/প্যাকেট এক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে। তবে কি কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে তা খাম/ প্যাকেটের উপর হাতে লিখতে হবে।
১৬। সাধারণ নির্দেশনাঃ ভোট গণনার সময় গণনা কক্ষে উপস্থিত ব্যক্তিগণের মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার ও সহায়ক কর্মকর্তা ব্যতিত অন্য কোন ব্যক্তি (যেমন- পোলিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক প্রভৃতি) মোবাইল ফোন, কলম বা অন্যকোন ডিভাইস সংগে রাখতে পারবে না। তবে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকগণ কাজের প্রয়োজনে পেন্সিল সাথে রাখতে পারবেন।
১৭। ইতোপূর্বে পোস্টাল ব্যালট এর বিষয়ে জারিকৃত পরিপত্রে উল্লিখিত অন্যান্য বিষয়াদি বহাল থাকবে।
স্বাক্ষরিত
(মোহাম্মদ মনির হোসেন)
উপসচিব









No comments
Your opinion here...