ad

প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব ও কর্তব্য: একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা

Views

 


প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব ও কর্তব্য: একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা

ভূমিকা

একটি বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিচালনা, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি। বিদ্যালয়ের প্রশাসন, পাঠদান, পরীক্ষা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছুই প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। এই ব্লগপোস্টে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো সহজ ও সুবিন্যস্তভাবে তুলে ধরা হলো।

১. প্রশাসনিক দায়িত্ব

প্রধান শিক্ষকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো বিদ্যালয়ের সার্বিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা। এর আওতায় রয়েছে—

  1. বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।

  2. শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন, কাজের তদারকি এবং কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন করা।

  3. শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি, শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণ পর্যবেক্ষণ করা।

  4. শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা।

  5. অফিস সহকারী, কেরানি, দারোয়ানসহ অন্যান্য সহায়ক কর্মচারীদের কাজ তদারকি করা।

২. একাডেমিক দায়িত্ব

বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বজায় রাখা প্রধান শিক্ষকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এজন্য তাঁকে—

  1. নির্ধারিত পাঠ্যসূচি ও সিলেবাস সময়মতো সম্পন্ন হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করতে হয়।

  2. শিক্ষকগণ সঠিকভাবে পাঠদান করছেন কিনা তা নিয়মিত তদারকি করা।

  3. পাঠ পরিকল্পনা, ক্লাস ডায়রি ও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া যাচাই করা।

  4. পাঠ্যবই বিতরণ এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাসামগ্রী সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা।

৩. পরীক্ষা ও ফলাফল ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে—

  1. বার্ষিক, টার্ম, অভ্যন্তরীণ ও বোর্ড পরীক্ষার সকল আয়োজন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা।

  2. পরীক্ষার সময়সূচি প্রণয়ন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুত, খাতা মূল্যায়ন ও ফলাফল প্রকাশ নিশ্চিত করা।

  3. পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত মূল্যায়ন বজায় রাখা।

৪. শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ

শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বও প্রধান শিক্ষকের ওপর ন্যস্ত। যেমন—

  1. শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ও নৈতিক আচরণ নিশ্চিত করা।

  2. শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা।

  3. অনুপস্থিতি, দেরি ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

  4. খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপনসহ সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।

৫. অভিভাবক ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক

বিদ্যালয়ের উন্নয়নে অভিভাবক ও সমাজের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব হলো—

  1. নিয়মিত অভিভাবক সভা আয়োজন করা।

  2. বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় ও যোগাযোগ বজায় রাখা।

  3. স্থানীয় সমাজ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা।

৬. আর্থিক দায়িত্ব

বিদ্যালয়ের আর্থিক স্বচ্ছতা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও প্রধান শিক্ষকের একটি বড় দায়িত্ব। যেমন—

  1. বিদ্যালয়ের তহবিল, হিসাব-নিকাশ, ভর্তুকি ও সরকারি অনুদান সঠিকভাবে পরিচালনা করা।

  2. ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অনুমোদন নিশ্চিত করা।

  3. শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, অফিস খরচ, আসবাবপত্র ও সরঞ্জামাদি ক্রয়ের বিষয় তদারকি করা।

৭. আইনগত ও নীতিমালা সংক্রান্ত দায়িত্ব

প্রধান শিক্ষককে অবশ্যই রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা মেনে চলতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে—

  1. শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক/মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও বোর্ডের নিয়ম-নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা।

  2. বিদ্যালয়ের সকল নথিপত্র, রেজিস্টার ও গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা।

৮. অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ

এছাড়াও প্রধান শিক্ষকের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে—

  1. শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা।

  2. প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে সহকারী প্রধান শিক্ষককে দায়িত্ব হস্তান্তর করা।

  3. বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।

উপসংহার

সংক্ষেপে বলা যায়, প্রধান শিক্ষক হলেন বিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র। তাঁর দক্ষ নেতৃত্ব, সঠিক সিদ্ধান্ত ও দায়িত্বশীলতার ওপরই বিদ্যালয়ের সাফল্য নির্ভর করে। প্রশাসন, একাডেমিক কার্যক্রম, শৃঙ্খলা, পরীক্ষা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক—সব দিক সমন্বয় করেই একজন প্রধান শিক্ষক একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেন।

No comments

Your opinion here...

Theme images by fpm. Powered by Blogger.