ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার নির্দেশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার নির্দেশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের
সংবাদ প্রতিবেদন:
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি প্রয়োজনে বেসরকারি অফিস ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে পরিপত্রে জানানো হয়েছে। এছাড়া সরকারি, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণের মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষককে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত করা হতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন ভোটকেন্দ্র হিসেবে এবং আসবাবপত্র নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়, নির্বাচনী কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ‘নির্বাচনী কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রেষণে কর্মরত হিসেবে গণ্য হবেন। এ সময় তাদের ওপর অর্পিত নির্বাচনী দায়িত্বই প্রাধান্য পাবে এবং নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের সকল আইনানুগ নির্দেশ তারা পালন করতে বাধ্য থাকবেন।
সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর বিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা প্রদান করা সকলের জন্য অবশ্যপালনীয় দায়িত্ব বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি নির্বাচনী সময়সূচি ঘোষণার পর থেকে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্যত্র বদলি না করার নির্দেশনাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
পরিপত্রে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর থেকে অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রদান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রতি অনুরূপ নির্দেশ জারি এবং নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছুটি, বদলি বা এমন কোনো দায়িত্ব প্রদান থেকে বিরত থাকা যা নির্বাচনী কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের স্বাক্ষরিত পরিপত্রে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ও গণভোট নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
www.cabinet.gov.bd.
তারিখ: ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
নম্বর: ০৪.০০.০০০০.০০০.৪১৬.৫৩.০০০১.২৫.৮২২
পরিপত্র
বিষয়: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা প্রদান।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ এবং গণভোট একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। উল্লিখিত প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অনুরোধক্রমে সরকারের পক্ষ হতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
২। নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সম্পাদনের জন্য সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ তথা সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত অফিস/প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্য হতে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেসরকারি অফিস/প্রতিষ্ঠান থেকেও প্রিজাইডিং অফিসার/সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার/পোলিং অফিসার নিয়োগ করার প্রয়োজন হবে। সরকারি, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণের মধ্য হতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষককে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ ছাড়াও নির্বাচনের বিভিন্ন দায়িত্ব প্রদান করা হতে পারে। এ ছাড়া বিভিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনসমত ভোটকেন্দ্র হিসেবে এবং প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করা প্রয়োজন হবে।
৩। নির্বাচন কার্য সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। অতীতেও তারা নির্বাচনের কাজে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদান করেছেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচন কর্মকর্তাগণের শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্বাচনী কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ বলবৎ রয়েছে। এতে কোনো কর্মকর্তা/কর্মচারী নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত হলে তিনি তার উক্তরূপ নিয়োগের তারিখ হতে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি না পাওয়া পর্যন্ত তার চাকরির অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রেষণে চাকরিরত আছেন মর্মে গণ্য হবেন। প্রেষণে চাকরিরত থাকাকালে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এবং ক্ষেত্রমত রিটার্নিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণে থাকবেন এবং তিনি তার যাবতীয় আইনানুগ আদেশ বা নির্দেশ পালনে বাধ্য থাকবেন। প্রেষণে চাকরিরত থাকাকালে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব প্রাধান্য পাবে। এমতাবস্থায়, সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে রিটার্নিং অফিসারের যে কোনো আইনানুগ নির্দেশ জরুরি ভিত্তিতে পালনের নিশ্চয়তা বিধান করা প্রয়োজন।
৪। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৬ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৫ অনুসারে নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা প্রদান করা সকলের একটি অবশ্যপালনীয় দায়িত্ব। এ ছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৪৪৬ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী নির্বাচনী সময়সূচি জারি হওয়ার পর হতে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ব্যতীত উক্ত অনুচ্ছেদে বর্ণিত কোনো কর্মকর্তা/কর্মচারীকে অন্যত্র বদলি করা যাবে না।
৫। উল্লিখিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে নিম্নবর্ণিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে:
(ক) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কাজে অর্পিত দায়িত্ব আইন ও বিধি অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে পালন করে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং অধিদপ্তর/দপ্তর/সংস্থা হতে তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তা/কর্মচারীদের অবিলম্বে নির্দেশ প্রদান;
(খ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়/প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে সরকারি, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক/শিক্ষিকাদের প্রতিও অনুরূপ নির্দেশ জারি করা;
(গ) নির্বাচন পরিচালনার কাজ অব্যাহত রাখার নিশ্চয়তা বিধানের জন্য সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ তথা সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিস/প্রতিষ্ঠান/সংস্থাসমূহকে তাদের যে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী নির্বাচনের কাজে জড়িত আছেন, নির্বাচনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে ছুটি প্রদান বা অন্যত্র বদলি করা অথবা নির্বাচনী দায়িত্ব ব্যাহত হতে পারে এমন কোনো দায়িত্ব প্রদান হতে বিরত থাকা।
৬। এমতাবস্থায়, উল্লিখিত নির্দেশনা জারিসহ আনুষঙ্গিক কার্যাদি সম্পন্ন করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলো।
স্বাক্ষরিত
(ড. শেখ আব্দুর রশীদ)
মন্ত্রিপরিষদ সচিব




No comments
Your opinion here...