সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও অবসর সুবিধা
সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও অবসর সুবিধা
👉সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও অবসর সুবিধায় বড় পরিবর্তন
চাকরিকাল ৫ বছর থেকেই পেনশন, সর্বোচ্চ হার ৯০ শতাংশ
ঢাকা: সরকারি কর্মচারীদের অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করতে পেনশন, আনুতোষিক, পারিবারিক পেনশন ও ছুটি নগদায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এনেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে সরকারি কর্মচারীদের পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, পেনশনের হার এবং অন্যান্য অবসর সুবিধা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। এই আদেশ ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
৫ বছরেই পেনশনযোগ্য চাকরি
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পেনশনযোগ্য চাকরিকালের সর্বনিম্ন সীমা পূর্বের ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর করা হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ণ পেনশনের হার সর্বশেষ আহরিত বেতনের ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
৫ থেকে ২৪ বছর চাকরিকালের ক্ষেত্রে পেনশন প্রাপ্যতা বিশেষ কিছু শর্তে কার্যকর হবে। কর্মচারীর মৃত্যু, মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক স্থায়ীভাবে অক্ষম ঘোষণা অথবা স্থায়ী পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি হারালে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী বা তাঁর পরিবার এ সুবিধা পাবেন।
নতুন পেনশন হার টেবিল
নতুন পেনশন টেবিল অনুযায়ী—
৫ বছর চাকরিতে পেনশন হার নির্ধারণ করা হয়েছে ২১%,
১০ বছরে ৩৬%,
১৫ বছরে ৫৪%,
২০ বছরে ৭২%,
এবং ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরিতে সর্বোচ্চ ৯০% পেনশন প্রাপ্য হবেন।
অবসরভোগীদের পেনশন বৃদ্ধি
২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
৬৫ বছরের কম বয়সী পেনশনাররা পাবেন ৪০% বৃদ্ধি,
৬৫ বছর ও তদূর্ধ্ব পেনশনাররা পাবেন ৫০% বৃদ্ধি।
এছাড়া পেনশনারের মাসিক পেনশন যাই হোক না কেন, সর্বনিম্ন পেনশন ৩,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ১ জুলাই ২০১৫ থেকে কার্যকর।
আনুতোষিকের হার পুনঃনির্ধারণ
পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ৫ বছরে নামিয়ে আনার ফলে আনুতোষিকের হারেও পরিবর্তন এসেছে।
৫ থেকে ৯ বছর চাকরিতে প্রতি টাকার বিপরীতে আনুতোষিক নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬৫ টাকা।
১০ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরির ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আনুতোষিকের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
মৃত্যুবরণ বা অক্ষমতার ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়তা
কোনো সরকারি কর্মচারী যদি ৫ বছর চাকরি পূর্ণ হওয়ার আগে মৃত্যুবরণ করেন বা স্বাস্থ্যগত কারণে অক্ষম হন, তাহলে তিনি বা তাঁর পরিবার এককালীন বিশেষ আর্থিক সহায়তা পাবেন। এই সহায়তা হবে চাকরির প্রতি বছরের জন্য বা তার অংশের জন্য শেষ আহরিত ৩টি মূল বেতনের সমপরিমাণ।
বিধবা ও বিপত্নীক স্বামীর পারিবারিক পেনশন
নতুন প্রজ্ঞাপনে বিধবা স্ত্রীর আজীবন পারিবারিক পেনশনের শর্ত শিথিল করা হয়েছে। ৫০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী বিধবার ক্ষেত্রে পুনঃবিবাহ না করার অঙ্গীকারনামা আর বাধ্যতামূলক নয়।
এছাড়া মৃত মহিলা বেসামরিক সরকারি কর্মচারীর স্বামী পুনরায় বিবাহ না করলে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত পারিবারিক পেনশন প্রাপ্য হবেন।
ছুটি নগদায়নে বাড়তি সুবিধা
অবসরকালে ছুটি নগদায়নের সুবিধা ১২ মাস থেকে বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয়েছে। অর্থাৎ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পাবেন। অবসর-উত্তর ছুটি (PRL) ভোগ না করলেও এই সুবিধা প্রাপ্য হবেন।
কার্যকারিতা
জনস্বার্থে জারীকৃত এই প্রজ্ঞাপন ১ জুলাই ২০১৫ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। ওই তারিখে অবসর-উত্তর ছুটি (PRL) ভোগরত কর্মচারীরাও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নতুন সুবিধাসমূহ পাবেন।
প্রজ্ঞাপনটি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ আলী খান, এনডিসি।
বাংলাদেশ গেজেট
অতিরিক্ত সংখ্যা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত
রবিবার, ডিসেম্বর ২০, ২০১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ
প্রবিধি অনুবিভাগ
প্রবিধি-১ শাখা
প্রজ্ঞাপন
তারিখ: ১৪ অক্টোবর ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ/২৯ আশ্বিন ১৪২২ বঙ্গাব্দ
তারিখ: ১৪ অক্টোবর ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ/২৯ আশ্বিন ১৪২২ বঙ্গাব্দ
নং ০৭.০০.০০০০.১৭১.১৩.০০৬.১৫-৮১-সরকারি কর্মচারীগণের অবসরকালীন সুবিধাদি/প্রাপ্যতা নিম্নরূপভাবে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে:
(ক) পেনশনযোগ্য চাকরিকাল এবং পেনশনের পরিমাণ:
পেনশনযোগ্য চাকরিকাল বর্তমানে প্রচলিত ১০-২৫ বছর-এর স্থলে ৫-২৫ বছর এবং পেনশনের হার সর্বশেষ আহরিত বেতনের ৮০%-এর স্থলে ৯০%-এ উন্নীত করা হয়েছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগের ০৪-১১-১৯৮৯ খ্রিঃ তারিখের অম (বিধি-১) ৩পি-২৮/৮৫/১০৬ সংখ্যক স্মারক পত্রের ক্রমধারায় পেনশনের হার নিম্নরূপভাবে পুনঃনির্ধারণ করা হলো:
পেনশন টেবিল
১) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ৫ বছর
বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণঃ ০
পুনঃনির্ধারিত পেনশনের পরিমাণঃ ২১%
২) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ৬ বছর
বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণঃ ০
পুনঃনির্ধারিত পেনশনের পরিমাণঃ ২৪%
৩) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ৭ বছর
বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণঃ ০
পুনঃনির্ধারিত পেনশনের পরিমাণঃ ২৭%
৪) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ৮ বছর
বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণঃ ০
পুনঃনির্ধারিত পেনশনের পরিমাণঃ ৩০%
৫) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ৯ বছর
বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণঃ ০
পুনঃনির্ধারিত পেনশনের পরিমাণঃ ৩৩%
৬) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ১০ বছর
বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণঃ ৩২%
পুনঃনির্ধারিত পেনশনের পরিমাণঃ ৩৬%
৭) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ১১ বছর
বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণঃ ৩৫%
পুনঃনির্ধারিত পেনশনের পরিমাণঃ ৩৯%
৮) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ১২ বছর
বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণঃ ৩৮%
পুনঃনির্ধারিত পেনশনের পরিমাণঃ ৪৩%
৯) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ১৩ বছর
বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণঃ ৪২%
পুনঃনির্ধারিত পেনশনের পরিমাণঃ ৪৭%
১০) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ১৪ বছর
বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণঃ ৪৫%
পুনঃনির্ধারিত পেনশনের পরিমাণঃ ৫১%
১১) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ১৫ বছর
বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণঃ ৪৮%
পুনঃনির্ধারিত পেনশনের পরিমাণঃ ৫৪%
১২) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ১৬ বছর
বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণঃ ৫১%
পুনঃনির্ধারিত পেনশনের পরিমাণঃ ৫৭%
১৩) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ১৭ বছর
বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণঃ ৫৪%
পুনঃনির্ধারিত পেনশনের পরিমাণঃ ৬৩%
১৪) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ১৮ বছর
বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণঃ ৫৮%
পুনঃনির্ধারিত পেনশনের পরিমাণঃ ৬৫%
১৫) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ১৯ বছর
বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণঃ ৬১%
পুনঃনির্ধারিত পেনশনের পরিমাণঃ ৬৯%
১৬) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ২০ বছর
বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণঃ ৬৪%
পুনঃনির্ধারিত পেনশনের পরিমাণঃ ৭২%
১৭) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ২১ বছর
বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণঃ ৬৭%
পুনঃনির্ধারিত পেনশনের পরিমাণঃ ৭৫%
১৮) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ২২ বছর
বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণঃ ৪৫%
পুনঃনির্ধারিত পেনশনের পরিমাণঃ ৫১%
১৯) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ২৩ বছর
বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণঃ ৭৪%
পুনঃনির্ধারিত পেনশনের পরিমাণঃ ৮৩%
২০) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ২৪ বছর
বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণঃ ৪৫%
পুনঃনির্ধারিত পেনশনের পরিমাণঃ ৫১%
২১) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ২৫ এবং তদুর্ধ বছর
বিদ্যমান পেনশনের পরিমাণঃ ৮০%
পুনঃনির্ধারিত পেনশনের পরিমাণঃ ৯০%
ব্যাখ্যা: ৫-২৪ বছরের পেনশনযোগ্য চাকরিকালের পেনশন কেবল নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রাপ্য হবেন:
(১) একজন সরকারি কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে কিংবা সরকার কর্তৃক গঠিত মেডিকেল বোর্ড দ্বারা (শারীরিক ও মানসিক বৈকল্যের কারণে) স্থায়ীভাবে অক্ষম (Invalid) ঘোষিত হলে; এবং
(২) স্থায়ী পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি থেকে ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে।
(খ) অবসর ভোগীদের পেনশন বৃদ্ধি ও সর্বনিম্ন পেনশন নির্ধারণ:
২০১৫-২০১৬ অর্থ বছর হতে অবসর ভোগীদের পেনশন নিম্নোক্ত হারে বৃদ্ধি করা হলো:
অবসর ভোগীর বয়স
(ক) ৬৫ বছরের কমঃ পেনশন বৃদ্ধির পরিমাণঃ ৪০%
মন্তব্য/ব্যাখ্যা ঃ একজন পেনশনারের মাসিক পেনশনের পরিমাণ যাই হোক না কেন ০১-০৭-২০১৫ খ্রিঃ তারিখ হতে তিনি সর্বনিম্ন ৩,০০০ (তিন হাজার) টাকা পেনশন প্রাপ্য হবেন।
(খ) ৬৫ বছর ও তদূর্ধ্বঃ পেনশন বৃদ্ধির পরিমাণঃ ৫০%
(গ) সর্বনিম্ন পেনশনঃ মাসিক ৩,০০০ টাকা
(গ) আনুতোষিকের হার পুনঃনির্ধারণ:
পেনশনযোগ্য চাকরিকাল সর্বনিম্ন ১০ বছর থেকে ০৫ বছরে কমিয়ে আনার পরিপ্রেক্ষিে পূর্ণ পেনশনের ক্ষেত্রে আনুতোষিকের হার বাধ্যতামূলক সমর্পিত প্রতি ১(এক) টাকা বিপরীতে ২৩০ টাকা অপরিবর্তিত রেখে অর্থ বিভাগের ২৩-১২-২০১৩ খ্রিঃ তারিখে ০৭.০০.০০০০.১৭১.১৩.০২৭.১৩.১৬০ সংখ্যক প্রজ্ঞাপনের ক্রমধারায় আনুতোষিকে হার নিম্নরূপ পুনঃনির্ধারণ করা হলো:
১) পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ৫ বছর বা ততোধিক কিন্তু ১০ বছরের কম
বিদ্যমান আনুতোষিকের হার (প্রতি টাকার বিপরীতে)ঃ ০
সংশোধিত আনুতোষিকের হার (প্রতি টাকার বিপরীতে)ঃ ২৬৫
মন্তব্য/ব্যাখ্যাঃ ৫-৯ বছর চাকরিকাল পেনশনযোগ্য চাকরিকাল হিসেবে নতুন সংযোজন করা হয়েছে।
২) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ১০ বছর বা ততোধিক কিন্তু ১৫ বছরের কম
বিদ্যমান আনুতোষিকের হার (প্রতি টাকার বিপরীতে)ঃ ২৬০
সংশোধিত আনুতোষিকের হার (প্রতি টাকার বিপরীতে)ঃ অপরিবর্তিত
মন্তব্য/ব্যাখ্যাঃ ৫-৯ বছর চাকরিকাল পেনশনযোগ্য চাকরিকাল হিসেবে নতুন সংযোজন করা হয়েছে।
৩) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ১৫ বছর বা ততোধিক কিন্তু ২০ বছরের কম
বিদ্যমান আনুতোষিকের হার (প্রতি টাকার বিপরীতে)ঃ ২৪৫
সংশোধিত আনুতোষিকের হার (প্রতি টাকার বিপরীতে)ঃ অপরিবর্তিত
মন্তব্য/ব্যাখ্যাঃ ৫-৯ বছর চাকরিকাল পেনশনযোগ্য চাকরিকাল হিসেবে নতুন সংযোজন করা হয়েছে।
৪) পেনশনযোগ্য চাকরিকালঃ ২০ বছর বা ততোধিক
বিদ্যমান আনুতোষিকের হার (প্রতি টাকার বিপরীতে)ঃ ২৩০
সংশোধিত আনুতোষিকের হার (প্রতি টাকার বিপরীতে)ঃ অপরিবর্তিত
মন্তব্য/ব্যাখ্যাঃ ৫-৯ বছর চাকরিকাল পেনশনযোগ্য চাকরিকাল হিসেবে নতুন সংযোজন করা হয়েছে।
(ঘ) চাকরি পেনশনযোগ্য হওয়ার আগে স্বাস্থ্যগত কারণে অক্ষম হয়ে পড়া অথবা চাকরি পেনশনযোগ্য হওয়ার আগে মৃত্যুবরণকারী কর্মচারীকে/পরিবারকে এককালীন বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান:
একজন সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে যদি তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে অক্ষম হয়ে পড়েন, অথবা তাঁর মৃত্যু হয়, সে ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রচলিত ১৫,০০০ টাকা এককালীন আর্থিক সুবিধা প্রদানের স্থলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২০ ডিসেম্বর ১৯৭৭তারিখের এম.এফ. (আই.ডি)-১-২/৭৭/৮৫৬ সংখ্যক অফিস স্মারকের ক্রমধারায় চাকরির মেয়াদের প্রতি বছর কিংবা তার অংশ বিশেষের জন্য তাঁর শেষ আহরিত ৩(তিন) টি মূল বেতনের সমপরিমাণ হারে তিনি অথবা তাঁর পরিবার এককালীন বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রাপ্য হবেন;
(ঙ) পেনশনারের বিধবা স্ত্রীর আজীবন পেনশন প্রাপ্যতার শর্ত শিথিলকরণ:
বর্তমানে প্রচলিত বিধান মতে মৃত কর্মচারীর বিধবা স্ত্রী আজীবন পারিবারিক পেনশন পেয়ে থাকেন। বিধবা স্ত্রীর পুনঃবিবাহ না করার অংগীকার-নামা বা প্রত্যয়নপত্র দাখিলের শর্ত ৫০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী বিধবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না;
(চ) মৃত মহিলা বেসামরিক কর্মচারীর স্বামীর পারিবারিক পেনশন প্রাপ্যতা:
পারিবারিক পেনশনের ক্ষেত্রে একজন মৃত মহিলা বেসামরিক কর্মচারীর স্বামী পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হলে, বিধবা স্ত্রীর পারিবারিক পেনশন প্রাপ্যতার অনুরূপ হারে ও পদ্ধতিতে মৃত মহিলা বেসামরিক সরকারি কর্মচারীর বিপত্নীক স্বামী পারিবারিক পেনশন প্রাপ্য হবেন। তবে প্রচলিত সকল বিধি-বিধান অনুসরণপূর্বক বিপত্নীক স্বামী সর্বাধিক ১৫ (পনের) বৎসর পর্যন্ত পারিবারিক পেনশন প্রাপ্য হবেন; এবং
(ছ) ছুটি নগদায়ন:
অবসরকালে অর্জিত ছুটি পাওনা সাপেক্ষে ১২ (বার) মাসের ছুটি নগদায়নের বিধান পরিবর্তন করে ১৮ (আঠারো) মাসের ছুটি নগদায়ন অর্থাৎ ১৮ (আঠারো) মাসের মূলবেতনের সমপরিমাণ অর্থ প্রাপ্য হবেন। অবসর-উত্তর ছুটি (PRL) এবং ছুটি নগদায়নের ক্ষেত্রে ০২ (দুই) দিনের অর্ধগড় বেতনের ছুটিকে ০১ (এক) দিনের গড় বেতনে ছুটিতে রূপান্তর (Conversion) করা যাবে। অবসরকালীন মূলবেতনের ভিত্তিতে উক্ত নগদায়ন সুবিধা অবসর-উত্তর ছুটির শুরুতে প্রাপ্য। অবসর-উত্তর ছুটি ভোগ না করলেও এ আর্থিক সুবিধা প্রাপ্য হবেন।
৩। বর্ণিত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধান, আদেশ, স্মারক, প্রজ্ঞাপন ইত্যাদি উপর্যুক্ত মর্মে পরিবর্তিত/সংশোধিত হয়েছে বলে গণ্য হবে।
৪। জনস্বার্থে জারীকৃত এ আদেশ ০১-৭-২০১৫ খ্রিঃ তারিখ হতে কার্যকর বলে গণ্য হবে। উক্ত তারিখে পি.আর. এল ভোগরত কর্মচারীগণও উক্ত পুনঃনির্ধারিত সুবিধাসমূহ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) প্রাপ্য হবেন।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে
ড. মোহাম্মদ আলী খান, এনডিসি'
অতিরিক্ত সচিব






No comments
Your opinion here...