নতুন শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তুতি? ৩ নভেম্বর পর্যন্ত শূন্যপদের তথ্য চেয়ে ডিপিইর জরুরি নির্দেশনা।
নতুন শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তুতি? ৩ নভেম্বর পর্যন্ত শূন্যপদের তথ্য চেয়ে ডিপিইর জরুরি নির্দেশনা।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদের হালনাগাদ তথ্য চেয়েছে অধিদপ্তর, ৫ নভেম্বরের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদের হালনাগাদ তথ্য চেয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। আগামী ০৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে উপজেলাওয়ারী শূন্যপদের নির্ভুল তথ্য অধিদপ্তরে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি ও অপারেশন বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি জরুরি চিঠি জারি করা হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (নিয়োগ) আইরিন পারভীন।
কেন চাওয়া হয়েছে শূন্যপদের তথ্য?
অধিদপ্তরের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই নিয়োগ কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য ০৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদের হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন।
এ লক্ষ্যে দেশের সব উপজেলা/থানা পর্যায় থেকে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী অধিদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।
যেসব তথ্য পাঠাতে হবে
অধিদপ্তরের নির্ধারিত ছকে সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদ সংক্রান্ত মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চাওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—
1. ক্রমিক নম্বর।
2. উপজেলা/থানার নাম।
3. সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদসংখ্যা।
4. কর্মরত পদসংখ্যা (সহকারী শিক্ষক + ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক + চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক)।
5. শূন্যপদের সংখ্যা।
6. ১০ শতাংশ সংরক্ষণ হিসেবে পদসংখ্যা।
7. নিয়োগযোগ্য পদের সংখ্যা।
এ ছাড়া মন্তব্যের ঘরে মামলা-সংক্রান্ত সংরক্ষিত পদের তথ্য উল্লেখ করতে হবে।
ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা
চিঠিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে। যেসব শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অথবা চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের সহকারী শিক্ষক হিসেবে গণ্য করতে হবে।
অর্থাৎ, কর্মরত পদের সংখ্যা নির্ধারণের সময় সহকারী শিক্ষকদের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
১০ শতাংশ সংরক্ষণ ও মামলা-সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে
শূন্যপদের হিসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ সংরক্ষণের বিষয়টি আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি কোনো পদ মামলা-সংক্রান্ত কারণে সংরক্ষিত থাকলে সেটির তথ্যও মন্তব্যের ঘরে উল্লেখ করতে হবে।
এতে প্রকৃত শূন্যপদ এবং নিয়োগযোগ্য পদের সংখ্যা নির্ধারণে সহায়ক তথ্য পাওয়া যাবে।
তথ্য পাঠানোর শেষ সময় ও ই-মেইল ঠিকানা
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।
তথ্য প্রেরণের সময়সীমা
০৫ নভেম্বর ২০২৬
ই-মেইল ঠিকানা
ad.recruitdpe@yahoo.com
ই-মেইল কপি করুনতথ্য প্রেরণের পদ্ধতি
নির্ধারিত ছক অনুযায়ী তথ্য প্রস্তুত করতে হবে।
তথ্যের সফটকপি ও হার্ডকপি উভয়ই পাঠাতে হবে।
উপজেলাওয়ারী তথ্য যাচাই-বাছাই করে নির্ভুলভাবে প্রেরণ করতে হবে।
উপজেলা ও থানা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের করণীয়
অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, তথ্য প্রস্তুতের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অনুমোদিত পদ, কর্মরত পদ, প্রকৃত শূন্যপদ, ১০ শতাংশ সংরক্ষণ এবং নিয়োগযোগ্য পদের হিসাব যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে।
বিশেষ করে ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের কর্মরত পদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কোনো ধরনের ভুল বা অসংগতিপূর্ণ তথ্য যেন প্রেরণ করা না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।
চিঠির শেষাংশে বিষয়টিকে অতীব জরুরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কী গুরুত্ব রয়েছে?
সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্যপদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহের এই উদ্যোগ নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
উপজেলাওয়ারী শূন্যপদের প্রকৃত চিত্র পাওয়া গেলে অনুমোদিত পদ, কর্মরত শিক্ষক এবং সংরক্ষিত পদের হিসাব পর্যালোচনা করে নিয়োগযোগ্য পদের সংখ্যা নির্ধারণ করা সহজ হবে।
তবে এই চিঠিতে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ, নিয়োগের মোট পদসংখ্যা কিংবা নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তাই শূন্যপদের তথ্য চাওয়াকে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
সার্বিকভাবে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ০৩ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত শূন্যপদের নির্ভুল তথ্য সংগ্রহে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য পাঠানো এখন সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও থানা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
সংবাদের সূত্র: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারক নং ৩৮.০১.০০০০.১৪৩.১১.০০৩.২৫-১৭৭; তারিখ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬।
দ্রষ্টব্য: এটি শূন্যপদের তথ্য চেয়ে জারি করা অধিদপ্তরের চিঠির ভিত্তিতে প্রস্তুত সংবাদ প্রতিবেদন।


No comments
Your opinion here...