ad

সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পর্যালোচনায় ৬ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

Views



সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পর্যালোচনায় ৬ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

বেতনগ্রেডের অসংগতি নিরসন, গ্রেড উন্নীতকরণ এবং ঝুঁকিভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা পুনর্নির্ধারণের সুপারিশ করবে কমিটি

বাংলাদেশ গেজেট: ২ নভেম্বর ২০২৬
প্রজ্ঞাপন জারি: ১ নভেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

সরকারি কর্মচারীদের বেতনগ্রেড, ভাতা নির্ধারণ এবং বিদ্যমান বেতন কাঠামোর বিভিন্ন অসংগতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটি সরকারি কর্মচারীদের বেতনস্কেলের অসংগতি, বেতনগ্রেড উন্নীতকরণ বা অবনমন, গ্রেডের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান এবং বিভিন্ন ধরনের ভাতা চালু, বৃদ্ধি বা হ্রাসের বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করবে।

গত ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটি বিষয়ক অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনটি ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার 'কর্মচারীদের বেতনগ্রেড-ভাতা নির্ধারণ ও পরিবর্ধন-পরিমার্জনের বিষয় পর্যালোচনা কমিটি' গঠন করেছে এবং এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

১. কমিটিতে কারা রয়েছেন?

সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ছয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কমিটির সদস্যদের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:

ক্রমিক

পদবি

কমিটিতে দায়িত্ব

১

মন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়

আহ্বায়ক

২

মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সদস্য

৩

মন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

সদস্য

৪

মন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়

সদস্য

৫

মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়

সদস্য

৬

প্রতিমন্ত্রী, জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়

সদস্য

অর্থাৎ, অর্থ, জনপ্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন ও স্বরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

২. কমিটিকে সহায়তা করবেন যেসব কর্মকর্তা

কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সরবরাহের জন্য কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাকে সহায়তাকারী হিসেবে রাখা হয়েছে।

তাঁরা হলেন:

1. মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

2. প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব/সচিব।

3. সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

4. সচিব, অর্থ বিভাগ।

5. সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব।

প্রজ্ঞাপনে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, এ কমিটির ক্ষেত্রে 'সচিব' বলতে সিনিয়র সচিবকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

৩. কমিটির কার্যপরিধিতে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে

প্রজ্ঞাপনে কমিটির কার্যপরিধি হিসেবে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে এসব বিষয় বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

১. বেতনস্কেলের অসংগতি নিরসন

বিভিন্ন সরকারি কর্মচারীর বেতনস্কেলে বিদ্যমান অসংগতি নিয়ে যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে কমিটি।

২. বেতনগ্রেড উন্নীতকরণ, অবনমন ও সামঞ্জস্য বিধান

ভবিষ্যতে সরকারি কর্মচারীদের বেতনগ্রেড উন্নীতকরণ, অবনমন কিংবা বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের বিষয়ে সুপারিশ করবে এ কমিটি।

৩. ঝুঁকিভাতা ও অন্যান্য ভাতা পুনর্বিবেচনা

ভবিষ্যতে নতুন করে ঝুঁকিভাতা ও অন্যান্য বিভিন্ন ভাতা প্রদান, বিদ্যমান ভাতার হার হ্রাস অথবা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে কমিটি।

৪. সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা

বেতনগ্রেড ও ভাতা নির্ধারণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে কমিটি।

৪. কমিটির কার্যক্রম পরিচালনায় আরও যেসব নির্দেশনা রয়েছে

প্রজ্ঞাপনে কমিটির কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে কয়েকটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত উল্লেখ করা হয়েছে।

  1. কমিটি প্রয়োজনে নতুন সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।

  2. প্রয়োজন অনুসারে কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।

  3. অর্থ বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।

  4. প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকেই আদেশ কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনটি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) মোহাম্মদ শামীম সোহেল।

৫. সরকারি কর্মচারীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রজ্ঞাপন?

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে বেতনগ্রেডের অসংগতি, পদভিত্তিক বেতন বৈষম্য, গ্রেডের সামঞ্জস্য, ঝুঁকিভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা অন্যতম।

নতুন এ কমিটি গঠনের ফলে এসব বিষয় সরকারিভাবে পর্যালোচনা ও সুপারিশের আওতায় আসছে।

বিশেষ করে—

  1. বিভিন্ন পদ ও পেশার মধ্যে বেতনগ্রেডের অসংগতি নিয়ে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

  2. ভবিষ্যতে বেতনগ্রেড উন্নীতকরণ বা সামঞ্জস্য বিধানের বিষয়ে সুপারিশ আসতে পারে।

  3. ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারীদের ঝুঁকিভাতা পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

  4. বিভিন্ন ধরনের ভাতার হার বৃদ্ধি বা হ্রাসের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।

  5. সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা কাঠামো নিয়ে বিদ্যমান অভিযোগগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার আওতায় আসবে।

তবে মনে রাখতে হবে, কমিটি গঠন মানেই বেতন বৃদ্ধি, নতুন গ্রেড ঘোষণা কিংবা ভাতা কার্যকর হওয়ার সিদ্ধান্ত নয়। কমিটির দায়িত্ব হচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে সুপারিশ প্রদান করা। পরবর্তী সময়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমেই কোনো পরিবর্তন কার্যকর হতে পারে।

৬. এখন সরকারি কর্মচারীদের করণীয় কী?

এ প্রজ্ঞাপনের পর সরকারি কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কমিটির পরবর্তী কার্যক্রম, সভার সিদ্ধান্ত এবং সুপারিশের বিষয়ে নজর রাখা।

বিশেষ করে বেতনস্কেলের অসংগতি, গ্রেড উন্নীতকরণ, ঝুঁকিভাতা ও অন্যান্য ভাতার বিষয়ে ভবিষ্যতে কোনো সিদ্ধান্ত বা নতুন নির্দেশনা জারি হলে তা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে জানা যাবে।

একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপ

অবিলম্বে কার্যকর

কমিটির নাম

বেতনগ্রেড-ভাতা পর্যালোচনা কমিটি

কমিটির সদস্য

৬ জন

আহ্বায়ক

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী

প্রজ্ঞাপনের তারিখ

১ নভেম্বর ২০২৬

গেজেট প্রকাশ

২ নভেম্বর ২০২৬

সাচিবিক দায়িত্ব

অর্থ বিভাগ

মূল আলোচ্য বিষয়

  1. বেতনস্কেলের অসংগতি নিরসন

  2. বেতনগ্রেড উন্নীতকরণ ও সামঞ্জস্য

  3. ঝুঁকিভাতা ও অন্যান্য ভাতা

  4. ভাতার হার হ্রাস বা বৃদ্ধি

উপসংহার

সরকারি কর্মচারীদের বেতনগ্রেড ও ভাতা কাঠামো পর্যালোচনায় সরকারের এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বেতনস্কেলের অসংগতি নিরসন, গ্রেডের সামঞ্জস্য বিধান এবং বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিবেচনার বিষয়গুলো সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করবে।

এখন দেখার বিষয়, গঠিত কমিটি পর্যালোচনা শেষে কী ধরনের সুপারিশ প্রদান করে এবং সেসব সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, কমিটি বিষয়ক অধিশাখা। প্রজ্ঞাপন নম্বর: ০৪.০০.০০০০.০০০.৬১১.০৬.০০০৫.২৬.২১৩। ওয়েবসাইট: www.cabinet.gov.bd

 বাংলাদেশ গেজেট 

অতিরিক্ত সংখ্যা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত

সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

কমিটি বিষয়ক অধিশাখা

www.cabinet.gov.bd

প্রজ্ঞাপন

ঢাকা, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ/ ১ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ

নম্বর- ০৪.০০.০০০০.০০০.৬১১.০৬.০০০৫.২৬.২১৩-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার 'কর্মচারীদের বেতনগ্রেড-ভাতা নির্ধারণ ও পরিবর্ধন-পরিমার্জনের বিষয় পর্যালোচনা কমিটি' নিম্নরূপ গঠন করেছে:

১.১। কমিটির গঠন:

(১) মন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় : আহ্বায়ক

(২) মন্ত্রী, স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয় : সদস্য

(৩) মন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় : সদস্য

(৪) মন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় : সদস্য

(৫) মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় : সদস্য

(৬) প্রতিমন্ত্রী, জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয় : সদস্য।

১.২। সহায়তাদানকারী কর্মকর্তাগণ:

(১) মন্ত্রিপরিষদ সচিব

(২) প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব/সচিব

(৩) সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

(৪) সচিব, অর্থ বিভাগ

(৫) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের সচিব

এ কমিটিতে 'সচিব' বলতে সিনিয়র সচিবও অন্তর্ভুক্ত হবেন।

১.৩। কমিটির কার্যপরিধি:

(১) বেতনস্কেলের অসঙ্গতির বিষয়ে প্রাপ্ত অভিযোগসমূহ বেতন স্কেলের পরীক্ষা-নিরীক্ষান্তে এগুলো নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান;

(২) ভবিষ্যতে বেতনগ্রেড উন্নীতকরণ/অবনমন/সামঞ্জস্য বিধানের বিষয়ে সুপারিশ প্রদান;

(৩) ভবিষ্যতে ঝুঁকিভাতা ও অন্যান্য বিভিন্ন ভাতা নতুন করে প্রদান, ভাতার হার হাস/বৃদ্ধির বিষয়ে সুপারিশ প্রদান; এবং

(৪) এ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনান্তে সুপারিশ প্রদান;

১.৪। কমিটি প্রয়োজনে সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।

১.৫। কমিটির সভা প্রয়োজনানুসারে অনুষ্ঠিত হবে।

১.৬। অর্থ বিভাগ এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।

২। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে,

(মোহাম্মদ শামীম সোহেল)

অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক)



No comments

Your opinion here...

Theme images by fpm. Powered by Blogger.