হারানো-চুরি হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা
হারানো-চুরি হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা
হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুতে নতুন নির্দেশনা, একাধিকবার হারালে ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি
ঢাকা, ৪ অক্টোবর ২০২৬: হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাসপোর্টের অপব্যবহার, মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপসহ সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা এক পরিপত্রে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরিপত্রটি স্বাক্ষর করেছেন উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। নির্দেশনাটি পরিপত্র জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হয়েছে।
অনলাইনে দ্রুত রিপোর্ট করতে হবে
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে অনতিবিলম্বে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইন ব্যবস্থায় রিপোর্ট করতে হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পাসপোর্টের স্ট্যাটাস হালনাগাদসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর।
একই সঙ্গে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) করতে হবে।
৭২ ঘণ্টার মধ্যে GD যাচাই
পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার পর থানায় করা GD-এর সঠিকতা সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর অথবা নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে প্রতিবেদন পাঠাবে।
তবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের প্রতিবেদন পাওয়া না গেলেও GD-এর কপি সংযুক্ত করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর আবেদন দাখিল বা গ্রহণ করা যাবে। এরপর বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর Lost Circular জারি করে পুনঃইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
ট্রাভেল এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট আটকে থাকলেও পুনঃইস্যুর সুযোগ
পরিপত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। GD যাচাইয়ের সময় যদি দেখা যায়, ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল এবং সেটি অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে—এবং তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার বা ফেরত পাওয়া সম্ভব নয়—তাহলে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর আগের পাসপোর্ট Revoke করে নতুন পাসপোর্ট পুনঃইস্যু করতে পারবে।
হারানো পাসপোর্টের তথ্য IMS-এ হালনাগাদ করবে বিশেষ শাখা
হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (SB)-এর মাধ্যমে Immigration Management System বা IMS-এ প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করা হবে।
প্রয়োজন অনুযায়ী INTERPOL-কে নোটিফিকেশন দেওয়া এবং বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও পরিপত্রে বলা হয়েছে।
বিদেশে পাসপোর্ট হারালে দূতাবাসে জানাতে হবে
বিদেশে অবস্থানকালে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে অনলাইনে রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে অবহিত করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশন Lost Circular জারি করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে।
নতুন পাসপোর্টে বিশেষভাবে উল্লেখ থাকবে
হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা হলে নতুন পাসপোর্টের Data Page-এ স্পষ্টভাবে “Previous Passport is Reported to be Lost” লেখা থাকবে।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডাটাবেজে আগের পাসপোর্টের Lost/Revoked status যথাযথভাবে হালনাগাদ করতে হবে।
পরিচয়গত মৌলিক তথ্য সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না
হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর সময় আবেদনকারীর মৌলিক পরিচয়গত তথ্য—যেমন:
নাম
জন্ম তারিখ
পিতার নাম
মাতার নাম
সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না।
তবে প্রচলিত আইন-বিধি এবং অনুমোদিত তথ্য সংশোধনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বৈধ সংশোধনের বিষয় পৃথকভাবে বিবেচনা করা যাবে।
আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টের ক্ষেত্রে আলাদা ব্যবস্থা
পাসপোর্ট আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা বিনষ্ট হলেও যদি এর শনাক্তযোগ্য অংশ আবেদনকারীর কাছে থাকে, তাহলে সেটি সমর্পণের ভিত্তিতে পুনঃইস্যু করা যাবে।
অন্যদিকে পাসপোর্ট সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়ে গেলে এবং বাহকের পরিচয় শনাক্ত করার মতো কোনো অংশ প্রদর্শন করা সম্ভব না হলে, সেটিকে হারানো পাসপোর্টের মতো বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
হারানো পাসপোর্ট পরে পাওয়া গেলেও ব্যবহার করা যাবে না
কোনো পাসপোর্ট হারানো বা চুরি হয়েছে বলে রিপোর্ট করার পর সেটি Revoke করা হলে পরবর্তীতে পাসপোর্টটি পাওয়া গেলেও তা পুনরায় সক্রিয় করা যাবে না এবং বিদেশ ভ্রমণের জন্য ব্যবহার করা যাবে না।
এমন পাসপোর্ট পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দ্রুত নিকটস্থ থানায় এবং বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি জানাতে হবে।
বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকেও অবহিত করতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ডাটাবেজ ও ইমিগ্রেশন অ্যালার্ট হালনাগাদ করবে।
প্রথমবার হারালে অতিরিক্ত দণ্ড ফি নেই, পরবর্তীতে ১০ হাজার টাকা
পরিপত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো—কোনো ব্যক্তির পাসপোর্ট প্রথমবার হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি-এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো দণ্ড ফি দিতে হবে না।
তবে পরবর্তীতে আবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে প্রতিবার নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি-এর অতিরিক্ত ১০,০০০ টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।
কেন এই নির্দেশনা?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তি হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার ঘোষণা দিয়ে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর আবেদন করছেন। পাসপোর্ট একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ভ্রমণ দলিল হওয়ায় এর অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপসহ বিভিন্ন গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যু প্রক্রিয়ায় নজরদারি ও তথ্য যাচাই জোরদার করার পাশাপাশি নতুন পাসপোর্টের সঙ্গে আগের পাসপোর্টের সম্পর্ক স্পষ্টভাবে শনাক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নাগরিকদের জন্য করণীয়
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, পাসপোর্ট হারানো বা চুরি হলে দেরি না করে—
১. অনলাইনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করতে হবে।
২. নিকটস্থ থানায় GD করতে হবে।
৩. GD-এর কপি সংরক্ষণ করতে হবে।
৪. প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পুনঃইস্যুর আবেদন করতে হবে।
৫. বিদেশে থাকলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনকে অবহিত করতে হবে।
৬. হারানো হিসেবে Revoke করা পুরোনো পাসপোর্ট পরে পাওয়া গেলেও তা দিয়ে ভ্রমণ করা যাবে না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে পূর্বে জারি করা সংশ্লিষ্ট পরিপত্র, আদেশ ও নির্দেশনাগুলো সমন্বয় ও সংশোধন করে নতুন পরিপত্রটি জারি করা হয়েছে এবং জারির তারিখ থেকেই তা কার্যকর।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
বহিরাগমন-৪ শাখা
www.moha.gov.bd
স্মারক নং: ৪৪,০০,০০০০,০০০,১৩৭,৯৯,০০০২.২৪.১৯৭
তারিখ: ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পরিপত্র
বিষয়: হারানো/চুরি/বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যু সংক্রান্ত।
সূত্র:
(ক) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-স্বঃ মঃ (বহি-১)/পা: নী:-২/৯৬/৯০০, তারিখ: ০৫-১১-১৯৯৬ ইং
(খ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখার স্মারক নং: ৪৪,০০,০০০০.০০০.১৩৭.৯৯.০০০২.২৪.১৯৫ তারিখ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তি কর্তৃক হারানো/চুরি/বিনষ্ট হওয়ার ঘোষণা দিয়ে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর আবেদন দাখিলের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং পাসপোর্ট একটি সংবেদনশীল ভ্রমণ দলিল হওয়ায় এর অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপসহ গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় হারানো/চুরি/বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে নিম্নরূপ নির্দেশনা জারি করা হলো:
১। পাসপোর্ট হারানো/চুরি/বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনতিবিলম্বে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট/অনলাইন ব্যবস্থায় রিপোর্ট করতে হবে। উক্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট পাসপোর্টের অবস্থা (status) হালনাগাদসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
২। পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্টের ক্ষেত্রে অনতিবিলম্বে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) করতে হবে। সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ (বাহাত্তর) ঘণ্টার মধ্যে সাধারণ ডায়েরির সঠিকতা যাচাই করে প্রতিবেদন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর অথবা নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে প্রেরণ করবে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়া না গেলে GD-এর কপি সংযুক্ত করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর আবেদন দাখিল/গ্রহণ করা যাবে। তৎপ্রেক্ষিতে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর Lost Circular জারিপূর্বক পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
৩। অনুচ্ছেদ-২ এ বর্ণিত সাধারণ ডায়েরি (GD)-এর সঠিকতা যাচাইয়ে যদি প্রতীয়মান হয় যে, ভিসা প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে পাসপোর্টটি কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সির নিকট জমাকৃত ও অবৈধভাবে আটক রয়েছে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাওয়া/উদ্ধার করা সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর পূর্ববর্তী পাসপোর্ট Revoke করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যু করতে পারবে।
81 হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য পাওয়া মাত্র স্পেশাল ব্রাঞ্চ Immigration Management System (IMS)-এ প্রয়োজনীয় হালনাগাদ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী INTERPOL-কে নোটিফিকেশন প্রদানসহ বিধি মোতাবেক পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
৫। বিদেশে অবস্থানকালীন পাসপোর্ট হারানো/চুরি/বিনষ্ট হয়ে গেলে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট/অনলাইন ব্যবস্থায় রিপোর্ট করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস/হাইকমিশন /কনস্যুলেটকে অবহিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মিশন Lost Circular জারিপূর্বক পাসপোর্ট পুনঃইস্যু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং তৎসংশ্লিষ্ট তথ্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করবে।
৬। হারানো/চুরি/বিনষ্ট হয়ে যাওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর সময় নতুন ইস্যুকৃত পাসপোর্টের ডেটাপেজে (Data Pagc) সুস্পষ্টভাবে "Previous Passport is Reported to be Lost" মুদ্রিত থাকবে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডাটাবেজে পূর্ববর্তী পাসপোর্টের Lost/Revoked অবস্থা যথাযথভাবে হালনাগাদ করতে হবে।
۹۱ হারানো/চুরি/বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে আবেদনকারীর মৌলিক পরিচয়গত তথ্য (নাম, জন্ম তারিখ, পিতার নাম এবং মাতার নাম) সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না। তবে প্রযোজ্য আইন/বিধি ও অনুমোদিত তথ্য সংশোধন প্রক্রিয়া অনুসরণে বৈধ সংশোধনের বিষয়টি পৃথকভাবে বিবেচনা করা যাবে।
৮। কোন পাসপোর্ট আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ/বিনষ্ট হলে এবং এর সনাক্তযোগ্য অংশ বাহকের দখলে থাকলে তা সমপর্ণের ভিত্তিতে পাসপোর্ট পুনঃইস্যু করা যাবে। পাসপোর্ট সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হওয়ার ফলে বাহককে চিহ্নিত করার মত কোন অংশবিশেষ প্রদর্শন করা সম্ভব না হলে হারানো পাসপোর্ট সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যু করতে হবে।
৯। হারানো বা চুরি হয়ে যাওয়া হিসেবে রিপোর্টকৃত কোনো পাসপোর্ট Revoke করার পর তা পরবর্তীতে পাওয়া গেলে পুনরায় সক্রিয় করা বা বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিষয়টি অনতিবিলম্বে নিকটস্থ থানা এবং বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট/অনলাইন ব্যবস্থায় রিপোর্ট করতে হবে। বিদেশে অবস্থানকারীদের ক্ষেত্রে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট/অনলাইন ব্যবস্থায় রিপোর্টসহ সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস/হাইকমিশন /কনস্যুলেটকে অবহিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী ডাটাবেজ ও ইমিগ্রেশন অ্যালার্ট হালনাগাদ করবে।
১০। পাসপোর্ট প্রথমবার হারানো/চুরি/বিনষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি ব্যতীত অতিরিক্ত দণ্ড ফি আরোপ করা হবে না। পরবর্তীতে পাসপোর্ট হারানো/চুরি/বিনষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেকবার নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি'র অতিরিক্ত ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা দণ্ড ফি আরোপ করা হবে।
১১। হারানো/চুরি/বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর বিষয়ে ইতোপূর্বে জারিকৃত এতদসংক্রান্ত পরিপত্র/আদেশ/নির্দেশনাসমূহ সমন্বয় ও সংশোধনপূর্বক যথাযথ কর্তৃপক্ষেরে অনুমোদনক্রমে এ পরিপত্র জারি করা হলো।
১২। এ পরিপত্র জারীর তারিখ হতে কার্যকর হবে।
স্বাক্ষরিত
মোহাম্মদ নুরুজ্জামান
উপসচিব।



No comments
Your opinion here...