ad

ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বিশেষ প্রণোদনা, প্রতি ইউনিট ১০.৫০ টাকা

Views


ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বিশেষ প্রণোদনা, প্রতি ইউনিট ১০.৫০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার। এ ব্যবস্থার আওতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে জাতীয় গ্রিডে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরবরাহকারী গ্রাহকরা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে অর্থ পাবেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের নবায়নযোগ্য জ্বালানি-২ শাখা থেকে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

উৎপাদন ব্যয় সর্বোচ্চ ৮ টাকা, প্রণোদনাসহ মূল্য ১০.৫০ টাকা

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বর্তমান বাজারদর এবং বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক প্রাপ্ত বিভিন্ন দরপত্রের মূল্য বিবেচনায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮ টাকা ধরা হয়েছে।

বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজের অংশ হিসেবে উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম বিবেচনা করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের মূল্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে কোনো গ্রাহক নির্ধারিত উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কম ব্যয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে সক্ষম হলে সাশ্রয়কৃত অর্থ গ্রাহকের লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে সিস্টেম স্থাপনের শর্ত

প্রজ্ঞাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ তারিখের মধ্যে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে।

নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুযায়ী যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিস্টেম স্থাপন করবেন এবং নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা এ সুবিধা পাবেন।

এ সুবিধার আওতায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে অর্থ পাওয়া যাবে।

সুবিধা চলবে ৩ বছর

সরকারের ঘোষিত এই বিশেষ প্রণোদনা একবারে শেষ হয়ে যাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপিত সিস্টেমের ক্ষেত্রে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ থেকে পরবর্তী তিন বছর, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের জন্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

তিন মাস পরপর ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে

গ্রাহকদের জন্য অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো গ্রাহকের তথ্য, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ এবং প্রণোদনাসহ বিদ্যুতের মূল্যসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করবে।

এর ভিত্তিতে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে তিন মাস অন্তর প্রণোদনার অর্থ পাঠানো হবে। তবে এ অর্থ কোনোভাবেই নগদে প্রদান করা হবে না

নির্ধারিত সময়ের পরে স্থাপিত সিস্টেমে প্রণোদনা নেই

সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ তারিখের পরে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেমের ক্ষেত্রে এই বিশেষ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না। ফলে যারা এ সুবিধা নিতে চান, তাদের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে।

যন্ত্রপাতিতে মান নিশ্চিত করার নির্দেশ

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত সব যন্ত্রপাতিকে নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড মেনে চলতে হবে। প্রজ্ঞাপনে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটারসহ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি BSTI ও SREDA কর্তৃক নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার ও স্থানীয় কার্যালয়ে সহায়তা

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গ্রাহকদের নীতিগত সহায়তা দিতে বিদ্যুৎ বিভাগ ইতোমধ্যে স্থাপিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার থেকে সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর আওতাধীন সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয় থেকেও এ বিষয়ে নীতিগত সহায়তা প্রদান করা হবে।

১ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর

বিদ্যুৎ বিভাগের এ প্রজ্ঞাপন ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিনিয়োগে গ্রাহকদের উৎসাহিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে নিজস্ব ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে নির্ধারিত হারে অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকায় আবাসিক ও অন্যান্য গ্রাহকদের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আগ্রহ বাড়তে পারে।

প্রজ্ঞাপন নম্বর: ২৭.০০.০০০০.০০০.০৯৬.২২.০০০৭.২৬.৪৮
তারিখ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জারি করেছে: বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
স্বাক্ষরকারী: তাহমিলুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব
কার্যকর: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
 বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
 বিদ্যুৎ বিভাগ 
নবায়নযোগ্য জ্বালানি-২ শাখা,
www.powerdivision.gov.bd

নম্বর: ২৭.০০.০০০০.০০০.০৯৬.২২.০০০৭.২৬.৪৮

তারিখ: ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রজ্ঞাপন

টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমান বাজারদর এবং বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক প্রাপ্ত বিভিন্ন দরপত্রের মূল্য বিবেচনায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮ (আট) টাকা ধরা হয়েছে। বিশেষ প্রণোদনার অংশ হিসেবে উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০% মুনাফা ও ১১.২৫% প্রিমিয়াম বিবেচনা করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১০.৫০ (দশ টাকা পঞ্চাশ পয়সা) হারে নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্মানিত কোনো গ্রাহক নির্ধারিত উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কম ব্যয়ে এ ধরনের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে সক্ষম হলে সাশ্রয়কৃত অর্থ গ্রাহকের লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

২। নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুযায়ী যেসকল সম্মানিত গ্রাহক ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ তারিখের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী ৩ (তিন) বছর, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ তারিখ পর্যন্ত, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকৃত প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১০.৫০ (দশ টাকা পঞ্চাশ পয়সা) হারে প্রাপ্য হবেন।

৩। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাসমূহ গ্রাহকদের তথ্য, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের পরিমাণ এবং প্রণোদনাসহ বিদ্যুতের মূল্য সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষণ করবে। সম্মানিত গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাবে এই প্রণোদনার অর্থ নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুযায়ী তিন মাস অন্তর অন্তর প্রেরণ করা হবে। কোনো ক্রমেই এ অর্থ নগদ প্রদান করা হবে না। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭তারিখের পরে স্থাপিত সিস্টেমের ক্ষেত্রে এ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না।

৪। সৌরভিত্তিক সিস্টেম স্থাপনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, যেমন-সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটার ইত্যাদি BSTI এবং SREDA কর্তৃক নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে।

৫। বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক ইতোমধ্যে স্থাপিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার থেকে এ-সংক্রান্ত নীতিগত সহায়তা প্রদান করা হবে। একইসঙ্গে, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাসমূহের আওতাধীন সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয় থেকেও এ নীতিগত সহায়তা প্রদান করা হবে।

৬। ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ থেকে এ প্রজ্ঞাপন কার্যকর হবে।

স্বাক্ষরিত

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে,
স্বাক্ষরিত
তাহমিলুর রহমান
সিনিয়র সহকারী সচিব


 

No comments

Your opinion here...

Theme images by fpm. Powered by Blogger.