একাদশে ভর্তি ২০২৬: কবে আবেদন, কত টাকা ফি, কবে ক্লাস? জানুন পুরো সময়সূচি
একাদশে ভর্তি ২০২৬: কবে আবেদন, কত টাকা ফি, কবে ক্লাস? জানুন পুরো সময়সূচি
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালা-২০২৬: আবেদন ২ সেপ্টেম্বর, ক্লাস শুরু ২৩ সেপ্টেম্বর
ঢাকা: ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য নতুন নীতিমালা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-১ শাখার প্রণীত ‘একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালা-২০২৬ (খসড়া)’ অনুযায়ী, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। কোনো বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না।
নীতিমালা অনুযায়ী, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর, আর নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
কারা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পাবে
নীতিমালায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষে এসএসসি/সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের বছর এবং ধারাবাহিকভাবে তার আগের দুই বছরে দেশের যেকোনো শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
বিদেশি কোনো বোর্ড বা সমমানের প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক সনদের মান নির্ধারণের পর ভর্তির যোগ্যতা বিবেচনা করা হবে।
বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—এই তিন বিভাগের যেকোনো একটিতে আবেদন করতে পারবেন।
মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে আবেদন করতে পারবেন।
এ ছাড়া বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—যেকোনো বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন।
মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের জন্যও নির্দিষ্ট নিয়মে বিভিন্ন বিভাগে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষা থাকছে না
এবারও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো ভর্তি পরীক্ষা বা আলাদা বাছাই পরীক্ষা নেওয়া হবে না। শুধু এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
সমান জিপিএ হলে মোট প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজন হলে বিভিন্ন বোর্ড ও বিভিন্ন বছরের ফলাফলের গ্রেড পয়েন্ট ও নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করা হবে।
বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে সমান মোট নম্বর হলে সাধারণ গণিত এবং উচ্চতর গণিত/জীববিজ্ঞানের নম্বর বিবেচনা করা হবে। এরপর প্রয়োজন হলে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের নম্বর বিবেচনায় নেওয়া হবে।
মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সমান নম্বরের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কোটা
নীতিমালার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো—৩.২ ধারায় উল্লেখিত কোটা ব্যবস্থা শুধু ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।
কলেজের মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর/সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ, অর্থাৎ মোট ২ শতাংশ আসন মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত থাকবে।
মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র ও গেজেটের সত্যায়িত কপি আবেদনপত্রের সঙ্গে দিতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা পাওয়া না গেলে ওই আসন শূন্য রাখা যাবে না; মেধা তালিকা থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে।
স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার
স্কুল অ্যান্ড কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে স্ব-স্ব বিভাগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবেন।
নিজস্ব শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিত করার পর অবশিষ্ট শূন্য আসনে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রমও অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।
কলেজের ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণের সুযোগ
কোনো কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠান চাইলে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য নিজস্ব ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারবে। তবে ভর্তি কার্যক্রম অবশ্যই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদিত আসন, বিভাগ, সময়সূচি ও নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে।
কলেজগুলোকে ভর্তিসংক্রান্ত সব তথ্য তাদের ওয়েবসাইট ও নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করতে হবে।
অনলাইনে সম্পন্ন হবে পুরো ভর্তি কার্যক্রম
অনুমোদিত সব কলেজ ও সমমানের প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। ভর্তি-সংক্রান্ত কার্যক্রমও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
কোনো কলেজ বোর্ড নির্ধারিত আসনের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। পাঠদানের অনুমতি নেই এমন কোনো বিষয়েও শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না।
ভর্তি ফি ও অন্যান্য ফি
অনলাইনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদনের জন্য ২২০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীর কাছ থেকে রেড ক্রিসেন্ট ফি হিসেবে ২৪ টাকা এবং বার্ষিক ক্রীড়া মঞ্জুরি ফি হিসেবে ৪০০ টাকা গ্রহণ করবে/বোর্ডে প্রেরণ করবে।
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি প্রতিষ্ঠানের অবস্থান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে। যেমন—
ঢাকা মহানগর: বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ৫,০০০ টাকা
ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকা: ৩,০০০ টাকা
জেলা: ২,০০০ টাকা
উপজেলা/মফস্বল: ১,৫০০ টাকা
নন-এমপিও/আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এলাকা ও ভার্সনভেদে নির্ধারিত ফি ২,৫০০ টাকা থেকে ৮,৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় শিক্ষা বোর্ড শিক্ষার্থীপ্রতি বিভিন্ন খাতে মোট ৩৪০ টাকা গ্রহণ করবে। এর মধ্যে রয়েছে রেজিস্ট্রেশন ফি, ক্রীড়া ফি, রোভার/রেঞ্জার ফি, রেড ক্রিসেন্ট ফি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি, বিএনসিসি ফি এবং শিক্ষক কল্যাণ তহবিল ও অবসর সুবিধা ভাতা ফি।
নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বোর্ড অনুমোদিত ফির অতিরিক্ত কোনো অর্থ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া যাবে না। অনুমোদিত সব ফি যথাযথ রশিদের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।
আবেদন ও ভর্তি কার্যক্রমের পূর্ণ সময়সূচি
২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি হলো—
অনলাইনে আবেদন:
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত।
পুনঃনিরীক্ষণ/পুনঃমূল্যায়নের ফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থীদের আবেদন:
১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার রাত ৮টা পর্যন্ত।
পছন্দক্রম পরিবর্তন:
১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার রাত ৮টা পর্যন্ত।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ:
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা।
নির্বাচন নিশ্চায়ন:
ফল প্রকাশের পর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ে নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
ভর্তি:
২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
ক্লাস শুরু:
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার।
কলেজ পরিবর্তনে বোর্ডের অনুমতি বাধ্যতামূলক
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর ছাড়পত্র বা টিসি ইস্যু করা যাবে না। একইভাবে বোর্ডের অনুমতি ছাড়া ইস্যু করা ছাড়পত্রের ভিত্তিতে কোনো কলেজ শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না।
টিসির মাধ্যমে ভর্তি করা হলে ভর্তির ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও রেজিস্ট্রেশন ফিসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে হবে।
মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট আটকে রাখা যাবে না
কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো শিক্ষার্থীর মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট শিক্ষার্থী বা তার অভিভাবক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করতে পারবে না। কোনো অজুহাতেও শিক্ষার্থীর একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট আটকে রাখা যাবে না।
এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিষিদ্ধ
স্থাপনের অনুমতি থাকলেও পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি নেই—এমন কোনো কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠান একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না।
এ ছাড়া অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের অননুমোদিত ক্যাম্পাস, শাখা বা অননুমোদিত বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করাও নিষিদ্ধ।
নীতিমালা ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা
সরকারি ও বেসরকারি সব কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে এই নীতিমালা প্রযোজ্য হবে।
নীতিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করা হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পাঠদানের অনুমতি বা স্বীকৃতি বাতিলসহ এমপিওভুক্তি বাতিল করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
আবেদন শুরু: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আবেদনের শেষ সময়: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা
ফল প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা
নিশ্চায়নের শেষ সময়: ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা
ভর্তি: ২০–২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ক্লাস শুরু: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন আবেদন ফি: ২২০ টাকা
ভর্তি পরীক্ষা: নেই
ভর্তি হবে: এসএসসি/সমমানের ফলের ভিত্তিতে
কোটা: ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন, পছন্দক্রম নির্বাচন এবং নির্বাচন নিশ্চায়নের কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কলেজগুলোকেও নির্ধারিত আসন, ফি, যোগ্যতা ও সময়সূচি যথাযথভাবে প্রকাশ করে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ
সরকারি কলেজ-১ শাখা
বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা
www.shed.gov.bd
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা
১,০ সংজ্ঞা:
এই নীতিমালায়
ক) বোর্ড: সরকার কর্তৃক আইন দ্বারা স্বীকৃত কোন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড বুঝাবে;
খ) কলেজ/সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: দেশের কোন বোর্ড হতে উচ্চমাধ্যমিক/সমমানের স্তরে পাঠদানের জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত বা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বুঝাবে;
গ) বিভাগ: সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক অনুমতিপ্রাপ্ত উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা, গার্হস্থ্যবিজ্ঞান এবং সংগীত বিভাগকে বুঝাবে;
ঘ) নির্ধারিত ফরম : ভর্তির জন্য অনলাইন প্লাটফর্মে নির্ধারিত আবেদন ফরম বুঝাবে;
৫) শিক্ষার্থী/প্রার্থী: উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ভর্তি ইচ্ছুক ছাত্র ও ছাত্রী উভয়কে বুঝাবে;
চ) দপ্তর/সংস্থা: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ২৮ (আঠাশ) দপ্তর/সংস্থাকে বুঝাবে;
ছ) বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন: সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত শারীরিক প্রতিবন্ধী কার্ডধারী উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের বুঝাবে;
জ) বাংলাদেশ আন্তঃ শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য গঠিত কমিটিকে বুঝাবে।
২.০ ভর্তির যোগ্যতা ও বিভাগ নির্বাচন:
২.১ যে কোন শিক্ষাবর্ষে এস.এস.সি./সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সাল এবং ধারাবাহিকভাবে পূর্ববর্তী দুই সালে দেশের যে কোন শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এস.এস.সি. বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীগণ নীতিমালার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে কোন কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তির যোগ্য বিবেচিত হবে।
২.২ বিদেশি কোন বোর্ড বা অনুরূপ কোন প্রতিষ্ঠান হতে সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীগণ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা কর্তৃক তার সনদের মান নির্ধারণের পর উপনীতি-২.১ এর অধীনে ভর্তির যোগ্য বিবেচিত হবে।
২.৩ ভর্তির আবেদনে একজন প্রার্থী নিম্নরূপ বিভাগ নির্বাচন করতে পারবে:
২.৩.১ বিজ্ঞান বিভাগ হতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ এর যে কোনটি;
২.৩.২ মানবিক বিভাগ হতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ এর যে কোনটি এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ হতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগ এর যে কোনটি;
২.৩.৩ যে কোন বিভাগ (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগ এর যে কোনটি;
২.৩.৪ বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ এর যেকোনটি এবং সাধারণ ও মুজাব্বিদ মাহির বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগ ব্যতীত যেকোনটি।
২.৩.৫ বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীগণ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের যেকোন বিভাগে এবং দাখিল (ভোকেশনাল) গ্রুপ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান, সাধারণ ও মুজাব্বিদ মাহির গ্রুপ এর যেকোন গ্রুপে ভর্তির আবেদন করতে পারবে।
৩.০ প্রার্থী নির্বাচনে অনুসরণীয় পদ্ধতি:
৩.১ ভর্তির জন্য কোন বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবেনা। কেবল শিক্ষার্থীর এস.এস.সি. বা সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে।
৩.২ কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের ৯৩% আসন সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে যা মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১% এবং অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে ১% সহ মোট ২% আসন মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে সংরক্ষিত থাকবে। যদি আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হয় সেক্ষেত্রে তাদের নিজেদের মধ্যে মেধার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। আবেদনের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারী কর্তৃক দপ্তর প্রধানের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজস্ব দপ্তরের প্রধান হলে সেক্ষেত্রে তাঁর একধাপ উপরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যার ভর্তির জন্য ৫% আসন সংরক্ষিত থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের আসন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র/গেজেটের সত্যায়িত কপি আবেদনপত্রের সাথে সংযুক্ত করতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে ইস্যুকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদ যথাযথভাবে যাচাই করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকে উক্ত আসনে ভর্তি করতে হবে। কোন অবস্থায় আসন শূন্য রাখা যাবে না।
৩.৩ উপনীতি-৩.২ এ বর্ণিত কোটা পদ্ধতি শুধুমাত্র ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।
৩.৪
৩.৪.১ সমান জিপিএ প্রাপ্তদের ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এর ক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করতে হবে। তাছাড়া বিভিন্ন সালের গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করতে হবে।
৩.৪.২ বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে সমান মোট নম্বরপ্রাপ্তদের মেধাক্রম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিত/জীব বিজ্ঞানে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনতে হবে।
৩.৪.৩ উপনীতি ৩.৪.২ এর বিধান সত্ত্বেও যদি প্রার্থী বাছাই এর ক্ষেত্রে উদ্ভূত জটিলতা নিরসণ না হয়, তবে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়নে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনতে হবে।
৩.৪.৪ মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে সমান মোট নম্বর বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনতে হবে।
৩.৪.৫ এক বিভাগের প্রার্থী অন্য বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে জি.পি.এ একই হলে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে প্রার্থী বাছাই এর ক্ষেত্রে উদ্ভুত জটিলতা নিরসন না হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনতে হবে।
৩.৫ এ নীতিমালায় যা কিছুই থাকুক না কেন স্কুল এন্ড কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান হতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীগণ প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত যোগ্যতা সাপেক্ষে স্ব স্ব বিভাগে (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের স্ব স্ব বিভাগে ভর্তি নিশ্চিত করেই কেবল অবশিষ্ট শূন্য আসনে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ধারা ৩.০ এর উপনীতি ৩.২, ৩.৩ ও ৩.৪ অনুসরণ করে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো যাবে। তবে এ সকল প্রতিষ্ঠানের সকল ভর্তি প্রক্রিয়া অনলাইনে হবে।
৩.৬ কোন কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারবে।
৩.৭কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানকে তাদের ভর্তি সংক্রান্ত সকল তথ্য ওয়েবসাইট এবং নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করতে হবে।
৩.৮ সকল কলেজ/উচ্চমাধ্যমিক/সমমানের প্রতিষ্ঠান শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক ভর্তির জন্য নির্ধারিত আসন মোতাবেক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত তালিকা ও সময় অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করবে। কোন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ও বোর্ড নির্ধারিত আসন, তালিকা ও সময়ের বাইরে নিজ ইচ্ছামাফিক ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।
৩.৯ এস.এস.সি./সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে ভর্তির যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য প্রত্যেক বোর্ড প্রজ্ঞাপন জারি করে ভর্তির আবেদন, ফল প্রকাশ, ভর্তি ও ক্লাশ শুরু সংক্রান্ত সিডিউল ঘোষণা করবে।
৪.০ অনলাইনে ভর্তি:
৪.১ শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
৪.২ ভর্তি সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম অনলাইন প্লাটফর্মে সম্পন্ন করা হবে। ভর্তির ফি বাংলাদেশ আন্তঃ শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি নির্ধারণ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অনুমোদন গ্রহণপূর্বক প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করবে।
৫.০ বিজ্ঞপ্তি, ভর্তি ও ফি:
৫.১ উপনীতি ৪.২ অনুসরণপূর্বক কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠান বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত আসন সংখ্যা (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ, শিফট, ছাত্র/ছাত্রী/সহশিক্ষা, ভার্সন) এবং বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ভর্তি ফিসহ অনুমোদিত অন্যান্য সকল ফি, ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা ইত্যাদি তথ্যসমূহ ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ড এবং ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে।
৫.২ বোর্ডে নির্ধারিত আসন সংখ্যার অতিরিক্ত কিংবা পাঠদানের অনুমতি নেই এমন কোন বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না। বোর্ডসমূহ স্ব স্ব অধিক্ষেত্রে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই বিধান বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
৫.৩ অনলাইনে বোর্ড থেকে প্রাপ্ত ভর্তিযোগ্য প্রার্থীদের মেধাক্রম তালিকা সংশ্লিস্ট কলেজ নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটে প্রকাশের ব্যবস্থা করবে;
৫.৪ ভর্তির সময় প্রার্থীকে অনলাইনে প্রাপ্ত মার্কশীট দাখিল করতে হবে এবং পরবর্তীতে বোর্ড হতে প্রাপ্তি সাপেক্ষে মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট/নম্বরপত্র দাখিল করতে হবে;
৫.৫ ৫.৫.১ সরকারি কলেজসমূহ সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফি সংগ্রহ করবে।
৫.৫.২ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী ভর্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ ফি যতদূর সম্ভব মওকুফের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
৫.৬ ভর্তি প্রক্রিয়ার পূর্বেই বেসরকারি কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি ফিসহ মাসিক বেতন এবং অন্যান্য যাবতীয় খরচ এর তালিকা স্ব স্ব কলেজের নোটিশ বোর্ডে এবং ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করতে হবে;
৫.৭কোন শিক্ষার্থীর নিকট হতে বোর্ড অনুমোদিত ফি-এর অতিরিক্ত কোন অর্থ গ্রহণ করা যাবে না এবং অনুমোদিত সকল ফি যথাযথ রশিদ প্রদানের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে;
৫.৮ ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর বোর্ডের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ফি প্রদান করে কলেজ, বিভাগ ও বিষয় পরিবর্তন করতে পারবে। তবে অন্যান্য বিভাগ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে বিভাগ পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। বিজ্ঞান বিভাগ হতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী অন্য বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর পরবর্তীতে বিজ্ঞান বিভাগে প্রত্যাবর্তনের কোন সুযোগ নেই;
৫.৯ কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোন অবস্থাতেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হতে এস.এস.সি.বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কোন শিক্ষার্থীর মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট উক্ত শিক্ষার্থী বা তার অভিভাবক ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তর করতে পারবেনা বা অন্য কোন অজুহাতে কোন শিক্ষার্থীর একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট আটক রাখতে পারবে না। অনুরূপ অভিযোগ পাওয়া গেলে বোর্ড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান/শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে;
৫.১০ ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের তালিকা জমাদানের সময় প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান কে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি'র বিবরণীর সাথে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক খাতওয়ারি গৃহীত অন্যান্য ফি'র বিবরণী আলাদাভাবে জমা দিতে হবে।
৬.০ ভর্তির আবেদন, ফল প্রকাশ, ভর্তি ও ক্লাস শুরু:
উপনীতি-৩.৯ ও উপনীতি-৪.২ মোতাবেক প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পূর্বে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে।
৭.০ কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন:
৭.১ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পূর্বানুমতি ছাড়া একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিকৃত কোন ছাত্র/ ছাত্রীর ছাড়পত্র ইস্যু করা যাবে না। কিংবা বোর্ডের পূর্বানুমতি ব্যতীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইস্যুকৃত ছাড়পত্রের মাধ্যমে ভর্তি করা যাবেনা। ছাড়পত্রের (টিসি) মাধ্যমে ভর্তির ক্ষেত্রে কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী ভর্তির ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে হবে।
৮.০ অনুমতি বা স্বীকৃতিবিহীন কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিষিদ্ধ:
৮.১ স্থাপনের অনুমতি আছে কিন্তু পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি নেই এরূপ কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠান কোন অবস্থাতেই ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি করাতে পারবে না।
৮.২ পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতিপ্রাপ্ত অথবা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোন কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে অননুমোদিত ক্যাম্পাস/শাখায় এবং অননুমোদিত কোন বিষয়ে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি করা যাবেনা।
৯.০ নীতিমালার প্রবর্তন ও প্রয়োগ:
৯.১ দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তির ক্ষেত্রে এ নীতিমালা প্রযোজ্য হবে;
৯.২ শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে এই নীতিমালার কোনরূপ ব্যত্যয় ঘটানো হলে বেসরকারি কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পাঠদানের অনুমতি বা স্বীকৃতি বাতিলসহ কলেজটির এম.পি.ও.ভুক্তি বাতিল করা হবে এবং সরকারি কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপনীতি-৪.২ অনুযায়ী নিম্নোক্ত সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি আদায়যোগ্য
ক) "একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালা"এর উপনীতি ৪.১ অনুযায়ী অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে ভর্তি ফি ২২০/-(দুইশত বিশ) টাকা;
খ) প্রতিষ্ঠান প্রতি শিক্ষার্থীর নিকট থেকে রেড ক্রিসেন্ট ফি বাবদ (৪০/- টাকার ৬০%) ২৪/- টাকা গ্রহণ করবে;
গ) প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বার্ষিক ক্রীড়া মঞ্জুরি ফি বাবদ ৪০০/- (চারশত) টাকা বোর্ডে প্রেরণ করতে হবে;
ঘ) এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ভাবে সেশনচার্জ ও ভর্তি ফি গ্রহণ করতে হবে।
ঢাকামেট্রোপলিটন
বাংলা ভার্সনঃ ৫,০০০/-
ইংরেজি ভার্সনঃ ৫,০০০/-
মেট্রোপলিটন (ঢাকাব্যতীত)
বাংলা ভার্সনঃ ৩,০০০/-
ইংরেজি ভার্সনঃ ৩,০০০/-
জেলা
বাংলা ভার্সনঃ ২,০০০/-
ইংরেজি ভার্সনঃ ২,০০০/-
উপজেলা/মফস্বল
বাংলা ভার্সনঃ ১,৫০০/-
ইংরেজি ভার্সনঃ ১,৫০০/-
৩) ননএমপিও/আংশিক এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উন্নয়ন ফি, সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি নিম্নোক্ত ভাবে গ্রহণ করতে হবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন
বাংলা ভার্সনঃ ৭,৫০০/-
ইংরেজি ভার্সনঃ ৮,৫০০/-
মেট্রোপলিটন (ঢাকা ব্যতীত)
বাংলা ভার্সনঃ ৫,০০০/-
ইংরেজি ভার্সনঃ ৬,০০০/-
জেলা
বাংলা ভার্সনঃ ৩,০০০/-
ইংরেজি ভার্সনঃ ৪,০০০/-
উপজেলা/মফস্বল
বাংলা ভার্সনঃ ২,৫০০/-
ইংরেজি ভার্সনঃ ৩,০০০/-
চ) শিক্ষা বোর্ড শিক্ষার্থীর নিকট হতে ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়ন করার সময় শিক্ষার্থী প্রতি নিম্নোক্ত
ফি গ্রহণ করবে:
ক্রমিক
বিবরণ
পরিমাণ
১. রেজিস্ট্রেশন ফি ১৪২/-
২. ক্রীড়া ফি ৫০/-
৩. রোভার/রেঞ্জার ফি ১৫/-
8. রেড ক্রিসেন্ট ফি (৪০/-টাকার ৪০% ১৬/-টাকা) ১৬/-
৫. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭/-
৬. বি.এন.সি.সি. ফি ১০/-
৭। শিক্ষক কল্যাণ তহবিল ও অবসর সুবিধা ভাতা ফি ১০০/-
সর্বমোটঃ ৩৪০/- টাকা
"একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা-২০২৬ (খসড়া)" এর নীতি ৬.০ অনুযায়ী ভর্তির আবেদন, ফল প্রকাশ, ভর্তি ও ক্লাস শুরু সংক্রান্ত সিডিউল:
১) ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ (পুনঃনিরীক্ষণসহ পুনঃমূল্যায়নের জন্য যারা আবেদন করবে, আবেদনের যোগ্য হলে তাদেরও এই সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে)
০২/০৯/২০২৬ (বুধবার) থেকে ১০/০৯/২০২৬ (বৃহস্পতিবার রাত ৮:০০ পর্যন্ত)
২) পুনঃনিরীক্ষণসহ পুনঃমূল্যায়নে ফলাফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থীদের আবেদন গ্রহণ
১২/০৯/২০২৬ (শনিবার) থেকে ১৩/০৯/২০২৬ (রবিবার রাত ৮:০০ পর্যন্ত)
৩) পছন্দক্রম পরিবর্তনের সময়
১২/০৯/২০২৬ (শনিবার) থেকে ১৩/০৯/২০২৬
(রবিবার রাত ৮:০০ পর্যন্ত)
৪) নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ
১৭/০৯/২০২৬ (বৃহস্পতিবার রাত ৮:০০ টায়)
৫) শিক্ষার্থীদের নির্বাচন নিশ্চায়ন (শিক্ষার্থী নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন এবং আবেদন বাতিল হবে)
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশের পর থেকে ১৯/০৯/২০২৬ (শনিবার) (রাত ৮:০০ টা পর্যন্ত)
৬) ভর্তিঃ ২০/০৯/২০২৬ (রবিবার) থেকে ২২/০৯/২০২৬ (মঙ্গলবার)
৭) ক্লাস শুরু ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বুধবার)
সম্পুর্ন পিডিএফ ডাউনলোড


No comments
Your opinion here...