বিদ্যালয় চলাকালীন বেতন উত্তোলনে কড়াকড়ি: পাঠদান চলাকালে ব্যক্তিগত কাজে বিদ্যালয় ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
বিদ্যালয় চলাকালীন বেতন উত্তোলনে কড়াকড়ি: পাঠদান চলাকালে ব্যক্তিগত কাজে বিদ্যালয় ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
নিজস্ব প্রতিবেদক | দিনাজপুর | ২২ জুলাই ২০২৬
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে মাসিক বেতন উত্তোলন কিংবা ব্যক্তিগত কাজে বিদ্যালয় ত্যাগের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কার্যালয়, দিনাজপুর থেকে জারি করা এক অফিসিয়াল নির্দেশনায় জানানো হয়, সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে যে অনেক শিক্ষক বিদ্যালয়ের কার্যদিবস ও পাঠদান চলাকালীন সময় মাসিক বেতন উত্তোলন এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনের কথা বলে বিদ্যালয় ত্যাগ করছেন। এছাড়া একই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক একযোগে ব্যাংকে বেতন উত্তোলনের জন্য বাইরে যাওয়ার ঘটনাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা গ্রহণের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নতুন করে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
জারি করা নির্দেশনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের জন্য চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—
১. বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে মাসিক বেতন উত্তোলন কিংবা ব্যক্তিগত কাজে বিদ্যালয় ত্যাগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
২. প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এটিএম/ডেবিট কার্ড অথবা অন্যান্য ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে বিদ্যালয় ছুটির পর বেতন উত্তোলন করতে হবে।
৩. যেসব শিক্ষকের এখনো এটিএম বা ডেবিট কার্ড নেই, তাঁদের দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে কার্ড সংগ্রহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. প্রধান শিক্ষকগণ বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদারকি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবহারে গুরুত্ব
নির্দেশনায় বিশেষভাবে ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বর্তমানে এটিএম, ডেবিট কার্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধা সহজলভ্য হওয়ায় বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে ব্যাংকে গিয়ে বেতন উত্তোলনের প্রয়োজন নেই। ছুটির পর কিংবা সুবিধাজনক সময়ে এসব সেবার মাধ্যমে বেতন উত্তোলন করলে শিক্ষা কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হবে না।
শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, বিদ্যালয়ে পাঠদান অব্যাহত রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে প্রধান শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনে অবহেলা না করেন এবং পাঠদান কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হয়।
উল্লেখ্য, নির্দেশনাপত্রটি দিনাজপুর জেলার আওতাধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ. এম. শাহজাহান সিদ্দিক স্বাক্ষর করেছেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়
দিনাজপুর।
www.dpeodinajpur.gov.bd
স্মারক নংঃ ৩৮.০১.২৭০০.০০০.৯৯.০০১.২৬-১৪৮৫
তারিখঃ ২২/৭/২০২৬ খ্রি.।
বিষয়ঃ বিদ্যালয় চলাকালীন মাসিক বেতন উত্তোলন ও ব্যক্তিগত কাজে বিদ্যালয় ত্যাগ না করা সংক্রান্ত নির্দেশনা।
সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কিছু শিক্ষক বিদ্যালয়ের কার্যদিবস ও পাঠদান চলাকালীন মাসিক বেতন উত্তোলন ও ব্যক্তিগত কাজে বিদ্যালয় ত্যাগ করছেন। এছাড়া, কোন কোন ক্ষেত্রে একই বিদ্যালয় থেকে একাধিক শিক্ষক একযোগে বেতন উত্তোলনের জন্য বাহিরে যাচ্ছেন।
এ ধরণের কার্যক্রমের ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরবিচ্ছিন্ন শিক্ষা গ্রহণের অধিকার ক্ষুন্ন হচ্ছে; যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ স্বার্থ সংরক্ষণ, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরবিচ্ছিন্ন পাঠদান নিশ্চিতকরণে আপনার নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের নিম্নোক্ত নির্দেশনা প্রদান করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
০১। বিদ্যালয় চলাকালীন মাসিক বেতন উত্তোলন ও ব্যক্তিগত কাজে বিদ্যালয় ত্যাগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
০২। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে এটিএম/ডেবিট কার্ড অথবা অন্যান্য ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে বিদ্যালয় ছুটির পর মাসিক বেতন উত্তোলন করতে হবে।
০৩। যেসব শিক্ষকের এখনো এটিএম/ডেবিট কার্ড নেই, তাঁদের অতিসত্ত্বর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে এটিএম/ডেবিট কার্ড সংগ্রহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
০৪। প্রধান শিক্ষকগণ বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম যেন কোনভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
০১। বিদ্যালয় চলাকালীন মাসিক বেতন উত্তোলন ও ব্যক্তিগত কাজে বিদ্যালয় ত্যাগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
০২। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে এটিএম/ডেবিট কার্ড অথবা অন্যান্য ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে বিদ্যালয় ছুটির পর মাসিক বেতন উত্তোলন করতে হবে।
০৩। যেসব শিক্ষকের এখনো এটিএম/ডেবিট কার্ড নেই, তাঁদের অতিসত্ত্বর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে এটিএম/ডেবিট কার্ড সংগ্রহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
০৪। প্রধান শিক্ষকগণ বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম যেন কোনভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
স্বাক্ষরিত
এ এম শাহজাহান সিদ্দিক
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।
দিনাজপুর।

No comments
Your opinion here...