ad

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর শুরু হচ্ছে ৩৬,২৩৫ প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি, নিয়োগ পাবে আরও ৩৮ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক

Views

 


সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর শুরু হচ্ছে ৩৬,২৩৫ প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি, নিয়োগ পাবে আরও ৩৮ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | বৃহস্পতিবার

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)-এর কাছে চাহিদাপত্র বৃহস্পতিবারই পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

এর আগে একই দিন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত বিধির অংশবিশেষ অবৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করেন। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় দেন।

আদালতের এ রায়ের ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি জটিলতা দূর হয়েছে। ফলে সরকার এখন প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে পারবে।

আজই পিএসসিতে যাবে চাহিদাপত্র

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আদালতের রায়ের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরে সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পিএসসি চেয়ারম্যান দ্রুত চাহিদাপত্র পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই পিএসসিতে চাহিদাপত্র পাঠানো হবে, যাতে বিশেষ ব্যবস্থায় পদোন্নতির কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।

৩৬,২৩৫ প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি, শূন্য হবে ৩৮ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকের পদ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিদ্যমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী এসব পদের ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

বর্তমানে সহকারী শিক্ষকের ২ হাজার ২০০টির বেশি পদও শূন্য রয়েছে। ফলে ৩৬,২৩৫ জন সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পেলে তাঁদের আগের পদগুলোও খালি হবে। সব মিলিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৮ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য হবে

মন্ত্রী জানান, ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণের পর অবিলম্বে ৩৮ হাজার ৪৩৩টি সহকারী শিক্ষক পদেও নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে, যা দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সুখবর।

প্রধান শিক্ষক পদ দশম গ্রেডের

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি দশম গ্রেডভুক্ত হওয়ায় এ পদে পদোন্নতির জন্য সরকারি কর্মকমিশনের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস।

পটভূমি

বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত বিধি ৯(১)-এর অংশবিশেষ চ্যালেঞ্জ করে জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ২০১৭ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং ২০১৯ সালের ১১ মার্চ রায়ে ওই বিধির অংশবিশেষকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করেন।

পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করলে ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর আপিল বিভাগ আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। এরপর ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপক্ষ পূর্ণাঙ্গ আপিল দায়ের করে। পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকেরাও আপিল বিভাগে আবেদন করেন।

সব পক্ষের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে চূড়ান্ত রায় দেন। এর মধ্য দিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান হলো।

শিক্ষকদের জন্য বড় সুখবর

আদালতের এই রায়ের ফলে একদিকে যেমন ৩৬ হাজার ২৩৫ জন সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতির সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে ৩৮ হাজার ৪৩৩টি সহকারী শিক্ষক পদে নতুন নিয়োগের পথও উন্মুক্ত হবে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের জনবল সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।


No comments

Your opinion here...

Theme images by fpm. Powered by Blogger.