চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক: মাঠ না থাকলে বিকল্প ব্যবস্থার নির্দেশ, সব স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশনা
চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক: মাঠ না থাকলে বিকল্প ব্যবস্থার নির্দেশ, সব স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ২৮ জুন ২০২৬
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ নিশ্চিত করতে জাতীয় পাঠ্যক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।
রোববার (২৮ জুন ২০২৬) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা থেকে উপপরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) খাদিজা পারভীন স্বাক্ষরিত এক স্মারকে দেশের সকল সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্মারকে উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জাতীয় পাঠ্যক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মাঠের সংকট নিরসন, বিকল্প খেলার ব্যবস্থা এবং নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
মাঠ উন্নয়ন ও নতুন বরাদ্দের উদ্যোগ
অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ রয়েছে কিন্তু খেলাধুলার উপযোগী নয়, সেসব মাঠ সংস্কারের জন্য চাহিদা নিরূপণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ সংগ্রহের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
১১ হাজার বিদ্যালয়ে মাঠ না থাকার বাস্তবতা
স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে প্রায় ১১ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো খেলার মাঠ নেই। এসব বিদ্যালয় সরেজমিনে পরিদর্শন করে বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়নপূর্বক প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন বিদ্যালয় স্থাপনে মাঠ বাধ্যতামূলক
ভবিষ্যতে নতুন কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব পাঠানোর আগে সেখানে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের জন্য জমি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। পর্যাপ্ত মাঠের ব্যবস্থা না থাকলে নতুন বিদ্যালয়ের প্রস্তাব পাঠানো যাবে না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বিকল্প মাঠ ব্যবহারে সমঝোতার নির্দেশ
যেসব বিদ্যালয়ের নিজস্ব মাঠ নেই, কিন্তু আশপাশে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার মাঠ রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে সমঝোতা ও চুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাঠ ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া বিদ্যালয়ের আশেপাশে খালি জায়গা, পতিত জমি, মন্দির বা মসজিদের প্রাঙ্গণ কিংবা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের মাঠ থাকলে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতায় যৌথভাবে খেলাধুলা আয়োজনের ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
মাঠ না থাকলে ইনডোর গেমস
যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই, সেসব বিদ্যালয়ে বরাদ্দকৃত অর্থের মাধ্যমে দাবা, ক্যারাম ও লুডুসহ বিভিন্ন ইনডোর গেমসের সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিয়মিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয়ভাবে নির্ধারিত ইভেন্টসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে নিয়মিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের মাঠ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিদিন পাঠদান শেষে এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ
স্মারকে বর্ণিত সব কার্যক্রম বাস্তবায়নের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নতুন উদ্যোগ
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জাতীয় পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা, মানসিক বিকাশ, নেতৃত্বের গুণাবলি, দলগত চেতনা এবং শৃঙ্খলাবোধ গড়ে ওঠার পাশাপাশি বিদ্যালয়ভিত্তিক ক্রীড়া সংস্কৃতিরও বিকাশ ঘটবে। তবে মাঠবিহীন বিদ্যালয়গুলোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে এই উদ্যোগ আরও কার্যকর হবে বলে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
www.dpe.gov.bd
স্মারক: ৩৮.০১.০০০০.১৪৫.২৩.০০২.২৬-১১৯৩
তারিখ: ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গা, ২৮ জুন ২০২৬ খ্রি.
বিষয়ঃ বাংলাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ে ৪র্থ শ্রেণি থেকে জাতীয় পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ সংক্রান্ত সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন।
সূত্র: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-৩৮.০০.০০০০.০০৭.০৭.০০০৩.২৬-৯১;
তারিখ: ০৭/৪/২০২৬ খ্রি:
উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের আলোকে জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ে ৪র্থ শ্রেণি থেকে জাতীয় পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে বিগত ১৬ মার্চ ২০২৬খ্রি: তারিখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের সভাপতিত্বে করণীয় নির্ধারণ সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
ক) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার উপযোগী করার জন্য গৃহীত প্রকল্প বহির্ভূত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যমান খেলার মাঠসমূহকে খেলাধুলার উপযোগী করার ক্ষেত্রে চাহিদা নিরুপনপূর্বক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় হতে বরাদ্দ প্রাপ্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;
খ) দেশে বিদ্যমান ১১০০০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলাধুলার জন্য কোনো মাঠ না থাকায় এ সকল বিদ্যালয়ের সরেজমিন পরিদর্শনপূর্বক করণীয় সম্পর্কে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রস্তাব প্রেরণ করতে হবে;
গ) ভবিষ্যতে নতুন কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব প্রেরণের পূর্বে খেলার মাঠের জন্য পর্যাপ্ত জমি থাকার বিষয় নিশ্চিত করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রস্তাব প্রেরণ করতে হবে;
ঘ) যেসব স্কুলের নিজস্ব মাঠ নেই কিন্তু কাছাকাছি কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির মাঠ রয়েছে, এরূপ তথ্য সংগ্রহপূর্বক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবহারের চুক্তি সম্পাদন করা সম্ভব হলে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;
ঙ) বিদ্যালয়ের আশেপাশে কোনো খালি জায়গা, মন্দির/মসজিদের প্রাঙ্গণ বা পতিত জমি থাকলে কিংবা ভিন্ন কোনো কর্তৃপক্ষের আওতাধীন মাঠ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় সমঝোতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে একক বা যৌথভাবে খেলাধুলা আয়োজনের পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে;
চ) যে সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাঠ নেই সে সকল বিদ্যালয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ দ্বারা বিভিন্ন ইনডোর গেমস (দাবা, ক্যারাম, লুডু) এর সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;
জ) প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আওতাভুক্ত ইভেন্টসমূহে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নিয়মিতভাবে আয়োজনের ব্যবস্থা করতে হবে;
ঝ) প্রতিদিন শিক্ষা কার্যক্রম শেষে এবং সাপ্তাহিক বন্ধের দিনগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ খেলার জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
ঞ) বর্ণিত বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণপূর্বক অধিদপ্তরে একটি পূর্নাঙ্গ প্রতিবেদন প্রেরণ করতে হবে।
সংযুক্তি: সূত্রোক্ত স্মারকের পত্র।
স্বাক্ষরিত
খাদিজা পারভীন
উপপরিচালক (পলিসি ও অপারেশন)



No comments
Your opinion here...