ভোটার নিবন্ধনে এসএসসি সনদ বাধ্যতামূলক সংযুক্তির নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের
ভোটার নিবন্ধনে এসএসসি সনদ বাধ্যতামূলক সংযুক্তির নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের
ঢাকা, ৩০ এপ্রিল ২০২৬: ভোটার বা জাতীয় পরিচয় নিবন্ধনের সময় এসএসসি বা সমমানের সনদ বাধ্যতামূলকভাবে ডাটাবেজে সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জারি করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মোঃ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ভোটার নিবন্ধনের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট—যেমন নিবন্ধন ফরম-২ ও ৩, জন্ম সনদ, এসএসসি/সমমান সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), পাসপোর্ট ও আবেদনকারীর স্বাক্ষরিত প্রুফ কপি—ডাটাবেজে সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে জন্ম তারিখ যাচাই ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের ক্ষেত্রে এসএসসি সনদের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে যে অনেক উপজেলা ও থানা নির্বাচন অফিস আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক বা তার ঊর্ধ্বে হওয়া সত্ত্বেও এসএসসি বা সমমানের সনদ ডাটাবেজে সংযুক্ত করছে না। এর ফলে পরবর্তীতে এনআইডি সংশোধনের সময় জন্ম তারিখ যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা তৈরি হয়।
এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অস্বীকার করায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আবেদনকারীর মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, যা নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এ প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন তিন দফা নির্দেশনা দিয়েছে—
প্রথমত, কোনো ব্যক্তি মাধ্যমিক বা তার ঊর্ধ্বে পাস করলে নিবন্ধনের সময় সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসার ও উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসারকে তার এসএসসি বা সমমানের সনদ (যেখানে জন্ম তারিখ উল্লেখ আছে) বাধ্যতামূলকভাবে ডাটাবেজে সংযুক্ত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা তার ঊর্ধ্বতন ডিগ্রিধারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এসএসসি সনদ সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ সংশ্লিষ্ট সকল নথির হার্ড কপি সংশ্লিষ্ট অফিসে সংরক্ষণ করতে হবে।
তৃতীয়ত, সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের অফিস পরিদর্শনকালে এলোমেলোভাবে এ কার্যক্রম মনিটরিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগকে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে সংশোধন প্রক্রিয়া সহজ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়
নং-১৭০০.০০০০ ০৬৪ ৫১ ১৩০ ১৪-১৪৯
তারিখঃ ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ ২৯ এপ্রিল ২০২৬
বিষয়ঃ ভোটার/পরিচয় নিবন্ধনকালে এস.এস.সি/সমমান সনদ আবশ্যিকভাবে ডাটাবেজে সংযুক্তকরণ প্রসংগে।
উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, ভোটার/পরিচয় নিবন্ধনের অন্যতম ধাপ হিসেবে কতিপয় ডকুমেন্টস ডাটবেজে সংযুক্ত (attachment) করতে হয়, যেমন- নিবন্ধন ফরম-২, নিবন্ধন ফরম-৩, বিশেষ তথ্য ফরম (ফরম-২ এর অতিরিক্ত তথ্য) (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), জন্ম সনদ, এস.এস.সি/সমমান সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), পাসপোর্ট, আবেদনকারী স্বাক্ষরিত প্রুফ কপি ইত্যাদি। নিবন্ধন পরবর্তীকালে বিশেষ করে সার্টিফিকেটধারী ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য-উপাত্ত সংশোধন আবেদন নিস্পত্তির ক্ষেত্রে বিশেষ করে জন্ম তারিখের সঠিকতা নিরুপণের জন্য এস.এস.সি/সমমান সনদসহ নিবন্ধন ফরম ও জন্ম সনদ যাচাইয়ের প্রয়োজন পড়ে।
০২। সাম্প্রতিককালে ডকুমেন্ট সংযুক্তকরণের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক বা তদুর্ধ্ব হওয়া সত্ত্বেও কিছু কিছু উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিস হতে এস.এস.সি/সমমান সনদ ডাটাবেজে সংযুক্ত করা হচ্ছে না। ফলে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের ক্ষেত্রে এস.এস.সি/সমমান সনদ যাচাই করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অসুবিধা হয়। কতিপয় ক্ষেত্রে প্রুফ কপি থাকলেও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি আবেদনকারী অস্বীকার করে। ফলে সংশোধনের আবেদন নিস্পত্তির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর মধ্যে এক প্রকার অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যা নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।
০৩। এমতাবস্থায়, নিম্নরূপভাবে কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলোঃ
(১) নিবন্ধিত ব্যক্তি মাধ্যমিক বা তদুর্ধ্ব পাস হলে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসার ও উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসার কর্তৃক নিবন্ধকালে এস.এস.সি/সমমান সনদ (জন্ম তারিখ সম্বলিত) আবশ্যিকভাবে ডাটাবেজে সংযুক্ত করতে হবে;
(২) নিবন্ধিত ব্যক্তি যদি উচ্চমাধ্যমিক/স্নাতক/স্নাতকোত্তর/এম.ফিল/পি.এই.ডি/সমমান ডিগ্রীধারী হন, তাহলে তাঁর এস.এস.সি/সমমান সনদ আবশ্যিকভাবে ডাটাবেজে সংযুক্ত করতে হবে। পাশপাশি এস.এস.সি/সমমান সনদসহ সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদটি দাখিলকৃত নিবন্ধন ফরম, জন্ম সনদ ও অন্যান্য দলিলাদির সাথে হার্ড কপি আকারে স্ব স্ব অফিসে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে;
(৩) সংশ্লিষ্ট সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন অফিসারগণ ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাগণ কর্তৃক অফিস পরিদর্শনসহ অন্যান্য সময় দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে এ সংক্রান্ত উক্ত কার্যক্রম মনিটরিং করতে হবে।
স্বাক্ষরিত
মোঃ সাইফুল ইসলাম
পরিচালক (অপারেশন্স)
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।



No comments
Your opinion here...