সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দৈনন্দিন উপস্থিতি মনিটরিং শুরু হচ্ছে: জামালপুরে ১২ এপ্রিল থেকে পাইলট প্রকল্প
📰 সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দৈনন্দিন উপস্থিতি মনিটরিং শুরু হচ্ছে: জামালপুরে ১২ এপ্রিল থেকে পাইলট প্রকল্প
ঢাকা, ১০ এপ্রিল ২০২৬: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন দৈনন্দিন উপস্থিতি মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে জামালপুর জেলায় আগামী ১২ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পাইলট কর্মসূচি শুরু হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষার কার্যকারিতা বাড়াতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ধারাবাহিকতা, বিদ্যালয়ভিত্তিক নেতৃত্বের উন্নয়ন এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষকদের সময়ানুবর্তিতা ও নিয়মিত উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রণীত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী এ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 📚
📊 উপস্থিতি মনিটরিংয়ের নতুন প্রক্রিয়া
নতুন ব্যবস্থায় প্রতিদিন শিক্ষক উপস্থিতির তথ্য ধাপে ধাপে সংগ্রহ করে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। এ লক্ষ্যে নিম্নোক্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে—
১️) ক্লাস্টার পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ
প্রতিটি ক্লাস্টারে একটি WhatsApp গ্রুপ থাকবে, যেখানে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকরা সদস্য থাকবেন। প্রতিদিন সকাল ৯:৩০টার মধ্যে অথবা বিদ্যালয় শুরু হওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রধান শিক্ষকরা নিম্নোক্ত তথ্য পাঠাবেন—
অনুমোদিত শিক্ষক পদ সংখ্যা
কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা
সকাল ৯:০০টায় উপস্থিত শিক্ষক সংখ্যা
বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত শিক্ষকের সংখ্যা (নামের তালিকাসহ)
নৈমিত্তিক ছুটিতে থাকা শিক্ষক সংখ্যা
অনুমোদিত/অন্যান্য ছুটিতে থাকা শিক্ষক সংখ্যা
২️) সহকারী উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের দায়িত্ব
ক্লাস্টারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করে সমন্বিত প্রতিবেদন সকাল ১০:১৫টার মধ্যে উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে পাঠাতে হবে।
৩️) উপজেলা পর্যায়ের সারসংক্ষেপ প্রস্তুত
উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সংশ্লিষ্ট সকল ক্লাস্টারের তথ্য একত্র করে সকাল ১০:৪৫টার মধ্যে জেলা পর্যায়ে পাঠাবেন।
৪️) জেলা পর্যায়ের প্রতিবেদন প্রেরণ
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জেলার মোট উপস্থিত ও অনুপস্থিত শিক্ষকের সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করে সকাল ১১:১৫টার মধ্যে বিভাগীয় উপপরিচালকের গ্রুপে পাঠাবেন।
৫️) বিভাগীয় পর্যায়ের সমন্বয়
বিভাগীয় উপপরিচালকরা বিভাগের সকল জেলার তথ্য একত্র করে সকাল ১১:৪৫টার মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে পাঠাবেন।
৬️) জাতীয় পর্যায়ের প্রতিবেদন প্রস্তুত
পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ প্রতিদিন প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে জাতীয় পর্যায়ের শিক্ষক উপস্থিতি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মহাপরিচালকের কাছে উপস্থাপন করবে। 🏫
🎯 উদ্যোগের লক্ষ্য
এই উদ্যোগের মাধ্যমে—
শিক্ষকদের সময়ানুবর্তিতা বৃদ্ধি
শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত
বিদ্যালয় নেতৃত্বের কার্যকারিতা উন্নয়ন
প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন
—এসব লক্ষ্য অর্জনের আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিকভাবে জামালপুর জেলায় চালু হওয়া এ পাইলট কর্মসূচির ফলাফল সন্তোষজনক হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বাস্তবায়ন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রা বাংলাদেশ সরকার
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ
সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
www.dpe.gov.bd
স্মারক নং: ৩৮,০১,০০০০,৮০১,৯৯,০০২,২৬-২৬৮
তারিখ:- ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বং ০৮ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি:
বিষয়ঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকগণের দৈনন্দিন উপস্থিতি মনিটরিং ব্যবস্থা প্রবর্তনের পাইলটিং সংক্রান্ত।
প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূলত নির্ভর করে কারিকুলামের বাস্তবায়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণি পাঠদান ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিকতা ও স্থায়ীত্ব (Consistency), বিদ্যাল্যাভিত্তিক নেতৃত্বের, শুণগত মান, উন্নয়ন এবং নিরবচ্ছিন্ন, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতক্যাণের উপর। প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রার্থমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রণীত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে 'সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের নিয়মিত গুপস্থিতি মনিটরিংয়ের বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে, বিদ্যালয় নেতৃত্বের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সামগ্রিকভাবে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের স্বার্থে প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী শিক্ষকদের যথাসময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়া ও সময়ানুবর্তিতার অভ্যাস তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
২। উপরোক্ত প্রেক্ষাপটে সকল শিক্ষকগণ প্রতি কমদিবসে যথাসময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছেন কিনা তা মনিটরিং করার যান্য শিক্ষকগণের দৈনন্দিন উপস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য নিম্নোক্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
(ক) প্রতিটি ক্রাইস্টার পর্যায়ে একটি WhatsApp গ্রুপ থাকবে, যেখানে সংশ্লিষ্ট সকল প্রধান শিক্ষক সদস্য থাকবেন।
প্রতি কমদিবসে সকাল ৯:৩০ টার মধ্যে/ সরকার। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী বিদ্যালয় শুরু হওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ক্লাস্টার গ্রুপে নিম্নোক্ত তথ্য এসএমএস এর মাধ্যমে প্রেরণ করবেন।
অনুমোদিত শিক্ষক পদ
কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা:
৯.০০ ঘটিকায় যথাসময়ে উপস্থিত শিক্ষক........... জন
বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত শিক্ষকের সংখ্যা:..... জন (নামের তালিকা সংযুক্ত)
নৈমিত্তিক ছুটিতে আছেন....... জন
অনুমোদিত/ অন্যান্য ছুটিতে আছেন.......... জন
গ) সহকারি উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সংশ্লিষ্ট ক্রাইস্টারের সকল বিদ্যালয়ের উপরোক্ত তথ্য সংগ্রহ করে একই ধারাবাহিকতায় অপুর। সংখ্যাগুলো যোগ করবেন এবং সম্মন্বিত ফলাফল সকাল ১০:১৫ ঘটিকার মধ্যে উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর প্রেরণ করবেন।
(ঘ) উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সকল ক্লাস্টারের প্রাপ্ত তথ্য একত্রিত করে উপজেলা পর্যায়ের একইভাবে সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করবেন এবং, সম্বনিত ফলাফল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত WhatsApp গ্রুপে সকাল ১০:৪৫ ঘটিকার মধ্যে প্রেরণ করবেন।
(ঙ) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ২(খ) অনুযায়ী জেলার সকল উপজেলার মোট উপস্থিত ও অনুপস্থিত শিক্ষকের সংখ্যা যোগ করে তা সকাল ১১:১৫ টার মধ্যে তা বিভাগীয় উপপরিচালকের পরিচালিত WhatsApp গ্রুপে প্রেরণ করবেন।
(চ) বিভাগীয় উপপরিচালকগণ বিভাগের সকল জেলার তথ্য একত্রিত করে ২(খ) অনুযায়ী বিভাগীয় সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করবেন এবং দুপুর ১১:৪৫ ঘটিকার মধ্যে তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের WhatsApp গ্রুপে প্রেরণ করবেন।
(ছ) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষন ও মূল্যায়ন বিভাগ প্রতিদিন প্রাপ্ত তথ্যসমূহ সমন্বিত করে জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষক উপস্থিতি প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে এবং, তা মহাপরিচালকের নিকট উপস্থাপন করবেন।
বর্ণিত নিদের্শনা মোতাবেক প্রাথমিক ভাবে জামালপুর জেলায় ১২ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পাইলটিং কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এই পাইলটিং কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
স্বাক্ষরিত
খন্দকার দীন মোহাম্মদ
সহকারী পরিচালক
পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ।



No comments
Your opinion here...