প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় ৪৯.৭৩ কোটি টাকা বরাদ্দ—পিইডিপি৪-এর আওতায় শ্রেণিকক্ষ সাজানো ও শিক্ষাসামগ্রী ক্রয়
প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় ৪৯.৭৩ কোটি টাকা বরাদ্দ—পিইডিপি৪-এর আওতায় শ্রেণিকক্ষ সাজানো ও শিক্ষাসামগ্রী ক্রয়
ঢাকা, ১৬ মার্চ ২০২৬: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বড় ধরনের আর্থিক বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি৪)-এর আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৪৯ কোটি ৭৩ লাখ ৮২ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ ও ব্যয় মঞ্জুর করা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই অর্থ দেশের বিভিন্ন থানা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিখন-শেখানো সামগ্রী ক্রয়, তৈরি এবং শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণের কাজে ব্যয় করা হবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের অনুকূলে এ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।
সরকারি স্মারক অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত অর্থ উন্নয়ন বাজেটের আওতায় পিইডিপি৪-এর “প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা” সাব-কম্পোনেন্ট থেকে ব্যয় হবে। অর্থনৈতিক কোড ৩২৫৭৩০১-এর আওতায় এ ব্যয় নির্বাহ করা হবে।
ব্যয়ের শর্তাবলি নির্ধারণ
বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—মোট ব্যয়ের ৭০ শতাংশ জিওবি এবং ৩০ শতাংশ আরপিএ (জিওবি) অংশ থেকে ব্যয় করতে হবে। সকল আর্থিক বিধি-বিধান মেনে ব্যয় করতে হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি ও অপারেশন বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ বাধ্যতামূলক।
এছাড়া বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন বা অগ্রিম গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্ধারিত অর্থনৈতিক কোড ছাড়া অন্য কোনো খাতে ব্যয় করা যাবে না বলেও নির্দেশনায় বলা হয়েছে।
জবাবদিহিতা ও অডিট জোরদার
অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর জবাবদিহিতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি ব্যয়ের ভাউচার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজনে তা প্রদর্শন করতে হবে। ব্যয়ের বিস্তারিত বিবরণী প্রতি মাসের ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্যাট ও আয়কর কর্তনের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কোনো অনিয়মিত ব্যয়ের দায় সংশ্লিষ্ট আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তাকেই ব্যক্তিগতভাবে বহন করতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ডিজিটাল ব্যবস্থায় বরাদ্দ প্রদান
iBAS++ সিস্টেমের মাধ্যমে DDO Authorization প্রক্রিয়ায় বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে, যা ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অর্থ) এইচ এম আবুল বাশার স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে মহাপরিচালকের অনুমোদন রয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ বরাদ্দ প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন ও শিশুদের জন্য আকর্ষণীয় শিক্ষাবান্ধব শ্রেণিকক্ষ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি৪)
সেকশন ২, মিরপুর, ঢাকা ১২১৬
স্মারক নং ৩৮.১৫০.১৮০.০৩০.০০.০০.০৫১.২০১৯-৬৪৭
তারিখ: ২ চৈত্র ১৪৩২ ১৬ মার্চ ২০২৬
বিষয়: চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি৪)-এর সাব-কম্পোনেন্ট প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের নিমিত্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিখন-শেখানো সামগ্রী ক্রয়/তৈরি/শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণের ব্যয় নির্বাহকল্পে বরাদ্দ ও ব্যয় মঞ্জুরী প্রদান।
চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি৪) এর সাব-কম্পোনেন্ট প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের নিমিত্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে থানা/উপজেলা পর্যায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিখন-শেখানো সামগ্রী ক্রয়/তৈরি/শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণের ব্যয় নির্বাহকল্পে সংযুক্ত তালিকার থানা/উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুকূলে আবর্তক ব্যয় এর অন্যান্য অনুষ্ঠান/উৎসবাদি খাতের (অর্থনৈতিক কোড ৩২৫৭৩০১) জিওবি এবং আরপিএ (জিওবি) অংশের বরাদ্দ হতে ৪৯,৭৩,৮২,৮০০.০০ (উনপঞ্চাশ কোটি তিয়াত্তর লক্ষ বিরাশি হাজার আটশত) টাকা বরাদ্দ ও ব্যয় মঞ্জুরী প্রদান করা হলো।
২। এ ব্যয় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটের মঞ্জুরী নং ২১, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি৪) এর সংস্থা কোড নং ১২৪ এবং হিসাবের খাত ২২৪২২৩৭৯০০ এর আওতায় সাব-কম্পোনেন্ট "প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা"-এর বরাদ্দ থেকে আবর্তক ব্যয় এর অনুষ্ঠান/উৎসবাদি খাতের অর্থনৈতিক কোড নং ৩২৫৭৩০১-এর আওতায় বরাদ্দকৃত টাকা থেকে নির্বাহ হবে।
৩। অর্থ ব্যয়ের শর্তাবলি:
ক) প্রতিটি ব্যয় এ মোট বিল এর জিওবি বাবদ ৭০% হিসাবে এবং আরপিএ (জিওবি) বাবদ ৩০% হিসাবে ব্যয় নির্বাহ করতে হবে;
খ) কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সকল আর্থিক বিধিবিধান প্রতিপালন করতে হবে।
গ) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি ও অপারেশন বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনাবলী অনুসরণ করে কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও অর্থ ব্যয় করতে হবে।
ঘ) কোন অবস্থায়ই বরাদ্দকৃত অর্থের অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন/ব্যয় এবং অগ্রিম অর্থ উত্তোলন করা যাবে না;
ঙ)এ ব্যয় কোন ক্রমেই নির্ধারিত অর্থনৈতিক কোড ব্যতীত অন্য কোন কোডে ব্যয় করা যাবে না;
চ) এ ব্যয়ের যাবতীয় অডিট কার্যক্রম তাঁর দপ্তরে সম্পাদিত হবে বিধায় খরচের সকল ভাউচার তাঁর অফিসে সংরক্ষণ করতে হবে যেন চাহিবা মাত্র প্রদর্শন করা যায়:
ছ) বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের বিবরণী পরবর্তী মাসের ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবরে প্রেরণ করতে হবে:
জ) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্যাট/আইটি কর্তন করতে হবে।
ঝ) কোন প্রকার অনিয়মিত ব্যয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।
৪। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বাজেটে "১২৪-১২৪০২-২২৪২৩৭৯০০-০০০০০০ প্রধান কার্যালয়, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি” এর আওতায় সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কোড এ iBAS++ সিস্টেমের মাধ্যমে DDO Authorization প্রক্রিয়ায় বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে এবং উক্ত খাত হতে ব্যয় নির্বাহ করা হবে।
৫। চিফ একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসার-কে পৃষ্ঠাংকনপূর্বক সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে প্রেরণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
৬। এতে মহাপরিচালক মহোদয়ের সদয় অনুমোদন রয়েছে।
স্বাক্ষরিত
এইচ এম আবুল বাশার
উপপরিচালক (অর্থ)।
সম্পুর্ণ পিডিএফ ডাউনলোড


No comments
Your opinion here...