প্রাথমিক স্তরের ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে পরিমার্জিত মূল্যায়ন নির্দেশিকা: নতুন সিদ্ধান্তসমূহ এক নজরে
প্রাথমিক স্তরের ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে পরিমার্জিত মূল্যায়ন নির্দেশিকা: নতুন সিদ্ধান্তসমূহ এক নজরে
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে বাস্তবায়নের জন্য পরিমার্জনকৃত মূল্যায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬ প্রণয়ন করেছে।
গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রাথমিক স্তরের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এই ব্লগে আমরা সেই সিদ্ধান্তগুলো সহজভাবে তুলে ধরছি।
✅ ১ম ও ২য় শ্রেণির জন্য মূল্যায়ন পদ্ধতি
যেসব বিষয়ে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকা আছে
এই বিষয়গুলোতে মূল্যায়ন হবে—
ধারাবাহিক মূল্যায়ন: ৫০%
সামষ্টিক মূল্যায়ন: ৫০%
অর্থাৎ, শিক্ষার্থীকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট পরীক্ষাও থাকবে।
যেসব বিষয়ে শুধু শিক্ষক সহায়িকা আছে (পাঠ্যপুস্তক নেই)
এই বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে—
১০০% ধারাবাহিক মূল্যায়ন
সামষ্টিক মূল্যায়ন থাকবে না
অর্থাৎ, শিক্ষার্থীর সারাবছরের কর্মকাণ্ড ও অংশগ্রহণই মূল মূল্যায়নের ভিত্তি হবে।
✅ ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণির জন্য মূল্যায়ন পদ্ধতি
যেসব বিষয়ে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকা আছে
এই বিষয়গুলোর মূল্যায়ন কাঠামো হবে—
ধারাবাহিক মূল্যায়ন: ৩০%
সামষ্টিক মূল্যায়ন: ৭০%
এখানে পরীক্ষার গুরুত্ব তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে।
যেসব বিষয়ে শুধু শিক্ষক সহায়িকা আছে
এই বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে—
১০০% ধারাবাহিক মূল্যায়ন
সামষ্টিক মূল্যায়ন থাকবে না
✅ মূল্যায়ন নির্দেশিকা দ্রুত অনুমোদন ও আপলোড
সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে মূল্যায়ন বিষয়ক পরিমার্জিত খসড়া—
২৯ জানুয়ারির মধ্যে অনুমোদন ও প্রতিস্থাপন করতে হবে
সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে আপলোড করে সবাইকে জানাতে হবে
✅ জাতীয় শিক্ষাক্রম কাঠামো (NCF) সংশোধন
পরিমার্জিত নির্দেশিকা বাস্তবায়নের পাশাপাশি—
জাতীয় শিক্ষাক্রম কাঠামো (NCF) সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে
এটি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করবে।
✅ প্রান্তিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরিতে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো—
প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিজ উদ্যোগে প্রান্তিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করবে
সম্ভব না হলে পাশ্ববর্তী একাধিক বিদ্যালয় মিলে প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করতে পারবে
প্রশ্ন তৈরির বিশেষ নির্দেশনা:
প্রতি প্রান্তিক পরীক্ষায় সামষ্টিক মূল্যায়নে—
পাঠ্যপুস্তকের অনুশীলনী থেকে কমপক্ষে ৩০% প্রশ্ন রাখতে হবে
✅ উপসংহার
প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতিকে আরও বাস্তবভিত্তিক, দক্ষতামুখী এবং শিক্ষার্থী-বান্ধব করতে সরকার এই নতুন নির্দেশিকা গ্রহণ করেছে। ধারাবাহিক মূল্যায়নের গুরুত্ব বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক প্রশ্নপত্র প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে বলে আশা করা যায়।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
বিদ্যালয়-১ অধিশাখা
www.mopme.gov.bd
নং: ৩৮.০০.০০০০.০০৭.০৭.৪১.২০২৪-৩৭
তারিখ: ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বিষয়: প্রাথমিক স্তরের ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে বাস্তবায়নের জন্য পরিমার্জনকৃত মূল্যায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬ এর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন।
উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের সভাপতিত্বে প্রাথমিক স্তরের ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে বাস্তবায়নের জন্য পরিমার্জনকৃত মূল্যায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬ বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়:
(ক) প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে যেসকল বিষয়ে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় সেসকল বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৫০% ও সামষ্টিক মূল্যায়ন ৫০% থাকবে;
(খ) প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে যেসকল বিষয়ে শুধুমাত্র শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় সেসকল বিষয়ে ১০০% ধারাবাহিক মূল্যায়ন থাকবে এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন থাকবে না;
(গ) তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে যেসকল বিষয়ে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় সেসকল বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৩০% ও সামষ্টিক মূল্যায়ন ৭০% থাকবে;
(ঘ) তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে যেসকল বিষয়ে শুধুমাত্র শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় সেসকল বিষয়ে ১০০% ধারাবাহিক মূল্যায়ন থাকবে এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন থাকবে না;
(ঙ) মূল্যায়ন বিষয়ক পরিমার্জিত খসড়া অনুচ্ছেদটি ২৯ জানুয়ারির মধ্যে অনুমোদন, প্রতিস্থাপন, ও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে আপলোড করার মাধ্যমে সকলকে অবহিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
(চ) জাতীয় শিক্ষাক্রম কাঠামো (NCF) সংশোধনের বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে;
(ছ) প্রত্যেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিজ উদ্যোগে প্রান্তিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করবে, সম্ভব না হলে পাশ্ববর্তী একাধিক বিদ্যালয় নিয়ে প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করতে পারবে। প্রতি প্রান্তিকে প্রত্যেক বিষয়ে সামষ্টিক মূল্যায়নে পাঠ্যপুস্তকের অনুশীলন হতে কমপক্ষে ৩০% প্রশ্ন রাখতে হবে।
০২। এমতাবস্থায়, বর্ণিত বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
স্বাক্ষরিত
(রাজীব কুমার সরকার)
উপসচিব।



No comments
Your opinion here...