ad

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ

Views



প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ

ডেস্ক রিপোর্ট | ঢাকা | ১১ জানুয়ারি ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ভিত্তিক বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা থেকে জারিকৃত স্মারক (নং- ৩৮.০১.০০০০.১৪৫.৯৯.০০৯.২৪-৩৪) অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এসেসমেন্ট টুলসের মাধ্যমে চূড়ান্ত মূল্যায়ন এবং ডিসেম্বর মাসে ১ম থেকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৩য় প্রান্তিক মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়। এসব মূল্যায়নে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের শিক্ষাগত মানোন্নয়নে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণকে একান্ত প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছে অধিদপ্তর। নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতিটি বিদ্যালয়কে নিজস্ব বাস্তবতার আলোকে একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে আগামী ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করতে হবে।

কর্মপরিকল্পনায় যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে

নমুনা কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যালয়ের নাম, উপজেলা ও জেলা, প্রধান শিক্ষকের নাম ও মোবাইল নম্বরসহ পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শ্রেণী, বিষয় ও সংখ্যা উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে গ্রহণযোগ্য কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—

  1. বাংলা, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে শিখনফলভিত্তিক অতিরিক্ত সময় পাঠদান

  2. বিষয়ভিত্তিক বাড়ির কাজ প্রদান

  3. অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ (মা সমাবেশ, হোম ভিজিট, উঠান বৈঠক ও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ)

  4. বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটিতে বিষয়টি আলোচনা

  5. শ্রেণীকক্ষে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ (পিআর পদ্ধতি, যৌথ পঠন, বিশেষ দল গঠন)

  6. ধারাবাহিক মূল্যায়ন

  7. ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পুনর্মূল্যায়ন

  8. বছর শেষে সামগ্রিক মূল্যায়ন

এছাড়া বাস্তবায়নের সময়কাল, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও মন্তব্য অংশও কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সময়সীমা ও তদারকি

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, আগামী ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে প্রতিটি শ্রেণির বাংলা, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করতে হবে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর প্রথম সপ্তাহ থেকে শিক্ষার্থীদের সমস্যার ধরন অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে।

পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত মানে উন্নীত হচ্ছে কি না, তা প্রধান শিক্ষককে ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করার বিষয়টিও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

চিঠির শেষে বিষয়টিকে “অতীব জরুরি” হিসেবে উল্লেখ করে সকল সংশ্লিষ্টকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) এ. কে. মোহম্মদ সামছুল আহসান

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

 প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর

সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬

www.dpe.gov.bd

স্মারক নং- ৩৮.০১.০০০০.১৪৫.৯৯.০০৯.২৪-৩৪

তারিখ: ২৭ পৌষ ১৪৩২ ১১ জানুয়ারি ২০২৬

বিষয়: প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন।

উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য়-৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গত নভেম্বর ২০২৫ মাসে এসেসমেন্ট টুলস এর মাধ্যমে চূড়ান্ত মূল্যায়ন এবং ১ম-৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ডিসেম্বর ২০২৫ এ ৩য় প্রান্তিক মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। উল্লিখিত মূল্যায়নে যে সকল শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে কাঙ্খিত যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি সে সকল শিক্ষার্থীর মানোন্নয়নে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ একান্ত প্রয়োজন। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে বিদ্যালয়ভিত্তিক বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে আগমী ২৫/০১/২০২৬ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রেরণ এবং কর্মপরিকল্পনার আলোকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

নমুনা কর্মপরিকল্পনা

বিদ্যালয়ের নাম:

উপজেলা:

জেলা:

প্রধান শিক্ষকের নাম:

মোবাইল নম্বর:

পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীঃ বিষয়ঃ শ্রেণীঃ  সংখ্যাঃ

পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে যে সব কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবেঃ 

👉অতিরিক্ত সময় পাঠদান: (বাংলা, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে শিখনফল ভিত্তিক পাঠ পরিকল্পনার আলোকে পাঠদান)

👉 বাড়ির কাজ: (বিষয় ভিত্তিক বাড়ির কাজ দেয়া)

👉  অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ: (মা সমাবেশ, হোম ভিজিট, উঠান বৈঠক, মোবাইলে যোগাযোগ ইত্যাদি)

👉 ম্যানেজিং কমিটিতে আলোচনা

👉 শ্রেণীতেই বিশেষ ব্যবস্থা: (পিআর পদ্ধতি, যৌথ পঠন, বিশেষ দল গঠন)

👉 ধারাবাহিক মূল্যায়ন

👉 উপর্যুক্ত অন্য যে কোন কাজ

👉 ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পুর্নমূল্যায়ন

👉 বছর শেষে সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন

বাস্তবায়নের সময়ঃ 

দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকঃ 

মন্তব্যঃ 

২। উল্লেখ্য (ক) ২০ জানুয়ারি ২০২৬ এর মধ্যে প্রতিটি শ্রেণীর বাংলা, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করতে হবে; এবং

(খ) ফেব্রুয়ারী ২০২৬ এর প্রথম সপ্তাহ থেকে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ধরণের নিরিখে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

৩। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা কাঙ্খিত মানে উন্নীত হতে পারছে কিনা সে ব্যাপারে তিনি (প্রধান শিক্ষক) ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করবেন।

৪। বিষয়টি অতীব জরুরী।

স্বাক্ষরিত

এ. কে. মোহম্মদ সামছুল আহসান 

পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন)


No comments

Your opinion here...

Theme images by fpm. Powered by Blogger.