বার্ষিক ও আংশিক গোপনীয় অনুবেদন দাখিলে গাফিলতি নয়: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশ
বার্ষিক ও আংশিক গোপনীয় অনুবেদন দাখিলে গাফিলতি নয়: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশ
বিস্তারিত সংবাদ প্রতিবেদন:
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে, যেখানে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে যথাসময়ে বার্ষিক ও আংশিক গোপনীয় অনুবেদন (Annual/Partial Confidential Report) দাখিলের বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে (২৭ কার্তিক ১৪৩২) মন্ত্রণালয়ের সিআর-৩ শাখা থেকে স্মারক নম্বর ০৫.০০.০০০০.১০২.১৮.০০২.২৩-১৯৭ অনুযায়ী জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘গোপনীয় অনুবেদন অনুশাসনমালা-২০২০’-এর ২.১ এবং ২.৬ অনুচ্ছেদে অনুবেদন দাখিল, অনুস্বাক্ষর ও প্রতিস্বাক্ষরের সময়সূচি স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকলেও অনেক কর্মকর্তা সময়মতো এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন না। ফলে কর্মকর্তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ, সিনিয়র স্কেল, পদোন্নতি এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্ষতির কারণ হচ্ছে এবং ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করছে।
এ প্রসঙ্গে প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, সিআর অধিশাখায় প্রাপ্ত অনেক এএসআর (Annual/Partial Confidential Report) পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, প্রযোজ্য সময়েও অনেক কর্মকর্তা তাদের অনুবেদন যথানিয়মে দাখিল বা অনুস্বাক্ষর করছেন না। আবার অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিস্বাক্ষরের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হচ্ছে না। এর ফলে ডোসিয়ার সংরক্ষণ ও প্রশাসনিক নথিপত্রে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, ‘গোপনীয় অনুবেদন অনুশাসনমালা-২০২০’ অনুসারে যেসব কর্মকর্তার ক্ষেত্রে অনুবেদন প্রযোজ্য, তারা যেন তা যথাসময়ে দাখিল, অনুস্বাক্ষর ও প্রতিস্বাক্ষর সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট সিআর অধিশাখায় প্রেরণ নিশ্চিত করেন।
যদি কোনো বছর বা সময়ে কোনো কর্মকর্তার ক্ষেত্রে এএসআর প্রযোজ্য না হয়, তবে “উপযুক্ত প্রমাণক” সংযুক্ত করে তা ব্যাখ্যাসহ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বজায় রাখতে এবং কর্মকর্তাদের ন্যায্য পদোন্নতি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
নির্দেশনাটিতে স্বাক্ষর করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ আব্দুর রহিম সুজন।
সংক্ষেপে:
এই নির্দেশনার মাধ্যমে সরকার আবারও কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে সততা, সময়নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। বিশেষ করে পদোন্নতি ও চাকরি স্থায়ীকরণে যাতে কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে বঞ্চিত না হন, সে দিকেও মন্ত্রণালয় গভীর মনোযোগ দিয়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
সিআর-৩ শাখা
www.mopa.gov.bd
স্মারক নম্বর: ০৫,০০,০০০০.১০২.১৮.০০২.২৩-১৯৭
তারিখ: ২৭ কার্তিক, ১৪৩২ ১২ নভেম্বর, ২০২৫
বিষয়: বার্ষিক/আংশিক গোপনীয় অনুবেদন যথানিয়মে ও যথাসময়ে দাখিল/অনুবেদন/ প্রতিস্বাক্ষরপূর্বক ডোসিয়ার সংরক্ষণকারী কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ।
উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, 'গোপনীয় অনুবেদন অনুশাসনমালা-২০২০' এর ২.১ ও ২.৬ নং অনুচ্ছেদ-এ 'গোপনীয় অনুবেদন' ও 'গোপনীয় অনুবেদন দাখিল, অনুস্বাক্ষর ও প্রতিস্বাক্ষরের সমসয়সূচি' সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সিআর অধিশাখায় প্রাপ্ত এসিআরসমূহ পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, একজন কর্মকর্তার কর্মজীবনের বিভিন্ন বছর/সময়ে বার্ষিক/আংশিক গোপনীয় অনুবেদন প্রযোজ্য হলেও তা যথানিয়মে ও যথাসময়ে দাখিল/অনুস্বাক্ষর/প্রতিস্বাক্ষর করা হচ্ছে না। এছাড়া, চাকরি স্থায়ীকরণ, সিনিয়র স্কেলসহ সকল পদোন্নতি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের লক্ষ্যে কর্মকর্তাগণের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন সংক্রান্ত চাহিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে গিয়ে বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফলে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, যা অনাকাঙ্খিত।
এমতাবস্থায়, 'গোপনীয় অনুবেদন অনুশাসনমালা-২০২০' অনুযায়ী বার্ষিক/আংশিক গোপনীয় অনুবেদন প্রযোজ্য হলে গোপনীয় অনুবেদন যথানিয়মে ও যথাসময়ে দাখিল/অনুস্বাক্ষর/প্রতিস্বাক্ষরপূর্বক সিআর অধিশাখায় প্রেরণ নিশ্চিতকরণ অথবা কোন বছর/সময়ে এসিআর প্রযোজ্য না হলে উপযুক্ত প্রমাণক প্রেরণ নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
স্বাক্ষরিত
মুহাম্মদ আব্দুর রহিম সুজন
সিনিয়র সহকারী সচিব



No comments
Your opinion here...