ad

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুতোষ লাইব্রেরি চালুর নির্দেশিকা অনুমোদন

Views



সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুতোষ লাইব্রেরি চালুর নির্দেশিকা অনুমোদন
শিশুদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে বড় উদ্যোগ নিলো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুতোষ পুস্তকের লাইব্রেরি পরিচালনা সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুমোদন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ ও শিশুদের ছোটবেলা থেকেই পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, শিশুদের পঠন অভ্যাস গড়ে তোলা তাদের ভাষাজ্ঞান অর্জন, শব্দভান্ডার বৃদ্ধি, চিন্তা ও বোধশক্তির বিকাশ, মনোযোগ ধরে রাখা এবং সৃজনশীলতা উন্নয়নে সহায়তা করবে। এছাড়া, বই পড়ার আনন্দ শিশুদের মোবাইল আসক্তি হ্রাস করতেও ভূমিকা রাখবে।

প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত বিদ্যালয়ে কার্যক্রম

প্রাথমিকভাবে উপজেলার মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় এবং ছাত্রছাত্রী সংখ্যা সর্বাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এই কার্যক্রম চালু হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লাইব্রেরি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

আর্থিক বরাদ্দ ও ব্যবস্থাপনা

মন্ত্রণালয় অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী পুস্তক ও প্রয়োজনীয় উপকরণ ক্রয়ের জন্য আর্থিক বরাদ্দ দেবে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে বরাদ্দপ্রাপ্ত অর্থ বিদ্যালয় পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুস্তক, বুক শেলফ ও অন্যান্য সামগ্রী ক্রয় সম্পন্ন হবে।

পুস্তক নির্বাচন ও সংগ্রহ

বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ন্যূনতম ২০০টি শিশুতোষ পুস্তকের একটি অনুমোদিত তালিকা প্রণয়ন করা হবে। বিদ্যালয়গুলোকে এ তালিকা অনুসারে পুস্তক সংগ্রহ করতে হবে। বুক শেলফের জন্য বরাদ্দপ্রাপ্ত অর্থ প্রয়োজন না হলে ফেরত দিতে হবে।

পুস্তক বিতরণ ও ব্যবস্থাপনা

প্রধান শিক্ষক একজন সহকারী শিক্ষককে লাইব্রেরি পরিচালনার দায়িত্ব দেবেন। শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ১৫ দিনের জন্য একটি বই ধার নিতে পারবে এবং ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত নতুন বই ধার নেওয়া যাবে না। শিক্ষকরা প্রয়োজনে বই ধার নিতে পারবেন। পঞ্চম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার আগে সব বই ফেরত নিশ্চিত করতে হবে।

পরিবীক্ষণ ও প্রতিবেদন

উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা লাইব্রেরি কার্যক্রম পরিবীক্ষণ করবেন এবং মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠাবেন। প্রতি ছয় মাস অন্তর এই প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হবে এবং ফলাফলের ভিত্তিতে কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও নতুন নির্দেশনা দেওয়া হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনুমোদিত নির্দেশিকাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এই উদ্যোগ দেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

বিদ্যালয়-১ অধিশাখা
www.mopme.gov.bd

নং: ৩৮.০০.০০০০.০০৭.০৭.০০০১.২৫-৬১৭

তারিখ: ২৭ শ্রাবণ ১৪৩২

১১ আগষ্ট ২০২৫

বিষয়: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুতোষ পাঠ্যপুস্তকের লাইব্রেরি পরিচালনা সংক্রান্ত কার্যক্রম।

উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুতোষ পাঠ্যপুস্তকের লাইব্রেরি পরিচালনা সংক্রান্ত নির্দেশিকা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদন করা হয়েছে।

০২। বর্ণিত বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

সংযুক্তি: বর্ণনামতে।

ডা. ফাহিম ইকবাল জাগীরদার

উপসচিব

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিদ্যালয়-১ অধিশাখা www.mopme.gov.bd

বিষয়: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুতোষ পুস্তকের লাইব্রেরি পরিচালনা কার্যক্রম সংক্রান্ত নির্দেশিকা।

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের শিশুকাল থেকেই পঠন অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ বয়সে তাদের মানসিক ও জ্ঞানগত বিকাশের ভিত্তি স্থাপিত হয়। শিশু-কিশোরদের পঠন অভ্যাস তাদের ভাষাজ্ঞান অর্জন, শব্দভান্ডার বৃদ্ধি, চিন্তা, বোধশক্তি ও সৃজনশীলতার বিকাশ এবং মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যা ভবিষ্যতে শিখন ও চিন্তন দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকার পর্যায়ক্রমে সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছোট আকারে শিশু-কিশোরদের উপযোগী সহায়ক পুস্তকের লাইব্রেরি স্থাপন ও পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। লাইব্রেরির জন্য পুস্তক ক্রয় ও সংরক্ষণ, পুস্তক বিতরণ ও ফেরত গ্রহণসহ পুস্তকের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক বিষয়াদির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে বিদ্যালয় পর্যায়ে শিশুতোষ পুস্তকের লাইব্রেরি কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে এ নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হলো।

২. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লাইব্রেরি কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্য: * সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস ও পঠন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সৃজনশীলতার বিকাশ; * শিক্ষার্থীদের ভাষাজ্ঞান অর্জন, শব্দভান্ডার বৃদ্ধি, চিন্তা ও বোধশক্তির বিকাশ এবং মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদান; * বিদ্যালয় পর্যায়ে লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা; * শিক্ষার্থীদেরকে লাইব্রেরির পুস্তক গ্রহণ ও ফেরত প্রদানের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিতির মাধ্যমে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলা; এবং * শিক্ষর্থীদের বই পাঠে আনন্দ প্রাপ্তির মাধ্যমে মোবাইল আসক্তি হ্রাস করা।

৩. বিদ্যালয় নির্বাচন: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি উদ্যোগে পরীক্ষামূলকভাবে লাইব্রেরি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বিধায় শুরুতে সীমিত আকারে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলার মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় এবং উপজেলার সর্বোচ্চ সংখ্যক ছাত্র/ছাত্রী রয়েছে এমন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহকে (পূর্বে উল্লেখিত বিদ্যালয় ব্যতীত) লাইব্রেরি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্বাচন করা হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিদ্যালয়সমূহে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। প্রতি অর্থ বছরে আর্থিক সামর্থের ভিত্তিতে এক বা একাধিকবার বিদ্যালয় নির্বাচনের সূচক ও মানদন্ড নির্ধারণ করে মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুকূলে অর্থ বরাদ্দ প্রদান করা হবে। মহাপরিচালক নির্ধারিত সূচকের ভিত্তিতে বিদ্যালয় নির্বাচন করে প্রণীত তালিকা অনুসারে অগ্রিম অর্থ বরাদ্দের ব্যয় মঞ্জুরি প্রদান করবেন। তবে, এক অর্থ বছরে একই বিদ্যালয়কে একাধিকবার বরাদ্দ প্রদান করা যাবে না।

৪. ব্যয় মঞ্জুরী এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা:

* প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিশুদের উপযোগী পুস্তক ক্রয়ের জন্য পুস্তকের অনুমোদিত তালিকা এবং পুস্তক সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সম্ভাব্য মূল্যসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অনুকূলে ব্যয় মঞ্জুরি ও বরাদ্দ প্রদান করা হবে।

* বিদ্যালয়ের তালিকা বা বিদ্যালয়ের মাণদণ্ড, অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ, ব্যয়ের খাত ও পদ্ধতি এবং নিয়মাবলি বরাদ্দপত্রে উল্লেখ করা হবে।

* উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাদ্দ প্রাপ্তির পর অগ্রিম হিসাবে বরাদ্দপ্রাপ্ত অর্থ উত্তোলন করবেন এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়সমূহের ব্যাংক হিসাব নম্বরে স্থানান্তর করবেন।

* বিদ্যালয়সমূহ বরাদ্দ প্রাপ্তির পর যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে বিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুস্তক, বুক শেলফ, রেজিস্টার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়ের কাজ সম্পন্ন করবেন এবং মূল বিল/ভাউচার উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর দাখিল করবেন।

* উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পুস্তক ও অন্যান্য সামগ্রী ক্রয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক ব্যয়কৃত অর্থ সমন্বয় করবেন।

৫. পুস্তক নির্বাচন ও সংগ্রহ:

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রাথমিক শিক্ষা ও শিশু মনস্তত্ব বিষয়ক বিশেষজ্ঞগণের সমন্বয়ে প্রাথমিকভাবে শিশুদের জন্য আকর্ষণীয় ও পঠন উপযোগী ন্যূনতম ২০০ টি শিশুতোষ পুস্তকের একটি তালিকা প্রস্তুত করে অনুমোদন করা হবে। পরবর্তীতে এ তালিকা হালনাগাদ ও সম্প্রসারণ করা হবে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অনুকূলে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ প্রদানের সঙ্গে অনুমোদিত পুস্তকের তালিকা সরবরাহ করা হবে। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির বা ব্যবস্থাপনা কমিটি বলবৎ না থাকলে বিদ্যালয় এডহক কমিটির অনুমোদনক্রমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে অনুমোদিত পুস্তকের তালিকা হতে নির্দেশিত পদ্ধতি অনুসরণ করে বরাদ্দকৃত অর্থ দ্বারা পুস্তক সংগ্রহ করতে হবে। কোনো বিদ্যালয়ে বুক শেলফ ক্রয়ের প্রয়োজন না থাকলে বুক শেলফের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত দিতে হবে। স্থান সংকুলানের সুবিধার্থে ভিন্ন আকারের বুক শেলফ ক্রয়ের প্রয়োজন হলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক প্রাক্কলনের অনুমোদন গ্রহণ করে তা ক্রয় করা যাবে। বই, বইয়ের সেলফ এবং অন্যান্য উপকরণ ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান ও পিপিআর-২০০৮ অনুসরণ করতে হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সময়ে সময়ে পুস্তকের তালিকা হালনাগাদ করবে এবং নতুন পুস্তকের তালিকা অনুমোদন করবে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে সাফল্য পরিলক্ষিত হলে প্রাপ্ত প্রতিবেদন ও ফিডব্যাকের পরিপ্রেক্ষিতে পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম অন্যান্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রসারণ করা হবে।

৬. পুস্তক বিতরণ ও ব্যবস্থাপনা:

পুস্তক ক্রয়ের পর ছাত্র-ছাত্রীদেরকে শ্রেণিকক্ষে এবং অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে বিদ্যালয় কর্তৃক পুস্তক ক্রয়ের বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে। সংগৃহীত পুস্তকের একটি তালিকা বিদ্যালয়ের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। প্রধান শিক্ষক পুস্তক ব্যবস্থাপনার জন্য উপযুক্ত একজন সহকারী শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদান করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক পুস্তক ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ধারিত ছকে একটি রেজিস্টার অনুসরণ করবেন এবং পুস্তক গ্রহণকারী শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর গ্রহণপূর্বক পুস্তক ধার প্রদান করবেন। একজন শিক্ষার্থী একটি পুস্তক সর্বোচ্চ ১৫ (পনের) দিনের জন্য ধার গ্রহণ করতে পারবে। পুস্তক ফেরত প্রদানের পর তা রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ধারকৃত পুস্তক ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত তাকে আর নতুন কোনো পুস্তক ধার দেওয়া যাবে না। বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণও প্রয়োজনে রেজিস্টারে স্বাক্ষর প্রদানপূর্বক পুস্তক ধার নিতে পারবেন। পঞ্চম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার পূর্বেই ধারকৃত পুস্তক ফেরত প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক পুস্তকের হিসাব সংরক্ষণ এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার জন্য দায়বদ্ধ থাকবেন। ধার করা বই যত্ন সহকারে ব্যবহার করতে হবে।

বিদ্যালয়সমূহ প্রয়োজনে স্থানীয়ভাবে সম্পদ বা অনুদান সংগ্রহ করে লাইব্রেরির পুস্তকের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারবে। তবে, স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত অর্থ বা অনুদানের অর্থে পুস্তক ক্রয়ের ক্ষেত্রেও মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত পুস্তকের তালিকা অনুসরণ করতে হবে। বই পড়ার জন্য তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র/ছাত্রীদের উৎসাহ প্রদান করতে হবে। শিশুদের পঠন-উপযোগী ও আকর্ষণীয় কোনো পুস্তক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা অফিসারগণ মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ প্রদান করতে পারবে। শিশুদের মাঝে পাঠ্যাভ্যাস সৃষ্টির লক্ষ্যে বিদ্যালয়সমূহ সময়ে সময়ে পুস্তক পাঠের উপর বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারবে এবং বিজয়ী শিক্ষার্থীদের শিশুতোষ বই পুরষ্কার দিতে পারবে।

৭. পরিবীক্ষণ ও প্রতিবেদন প্রেরণ:

বরাদ্দপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ক্রয়কৃত পুস্তক ও অন্যান্য সামগ্রীর ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করবেন। তিনি পুস্তক বিতরণ, গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনাসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে পুস্তকের হিসাব সংরক্ষণ করবেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পুস্তক ক্রয় ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিবীক্ষণ করবেন। তাঁরা কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী পুস্তক ও অন্যান্য উপকরণ ক্রয় নিশ্চিত করবেন, ক্রয় শেষে অগ্রিম

বরাদ্দের ব্যয় সমন্বয় নিশ্চিত করবেন, পুস্তক বিতরণ, ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ পদ্ধতি পরিবীক্ষণ করবেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করবেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে লাইব্রেরির কার্যক্রমের সুষ্ঠু ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় লাইব্রেরি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সামগ্রিকভাবে তত্ত্বাবধান করবে। মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রতি ছয় মাস অন্তর বিভাগীয় উপপরিচালক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের তথ্য ও প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হবে। প্রাপ্ত প্রতিবেদনের আলোকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ কার্যক্রমের সম্প্রসারণ করবে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

৮. যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ নির্দেশিকা জারি করা হলো। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

স্বাক্ষরিত

(আবু তাহের মো: মাসুদ রানা)

সচিব

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়






No comments

Your opinion here...

Theme images by fpm. Powered by Blogger.