প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনন্দময় শিক্ষা জোরদার: ছবি আঁকা, মাটির কাজ ও খেলার ছলে শেখানোর নির্দেশনা জারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনন্দময় শিক্ষা জোরদার: ছবি আঁকা, মাটির কাজ ও খেলার ছলে শেখানোর নির্দেশনা জারি
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ১৪ জুন ২০২৬
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সময়মতো ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং ঝরে পড়া রোধে ছবি আঁকা, মাটির কাজ, উপকরণ সাজানোসহ খেলার ছলে শেখার কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।
এ বিষয়ে ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা থেকে স্মারক নম্বর: ৩৮.০১.০০০০.০০০.১৪১.০৫.০০০১.২৬-১০২০-এর মাধ্যমে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেন উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) খাদিজা পারভীন।
নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গৃহীত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় "লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস (আনন্দময় শিক্ষা)" কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অন্যতম লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা এবং শেখার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করা।
চারু ও কারুকলা কার্যক্রমে গুরুত্ব
ডিপিই জানায়, বর্তমানে এনসিটিবি প্রণীত প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির চারু ও কারুকলা বিষয়ক শিক্ষক সহায়িকা রয়েছে। এসব সহায়িকার আলোকে শিক্ষকদের—
শ্রেণিভিত্তিক ছবি আঁকার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের দিয়ে মাটি ব্যবহার করে বিভিন্ন উপকরণ তৈরি করাতে হবে।
শিক্ষার্থীদের তৈরি শিল্পকর্ম ও ছবি শ্রেণিকক্ষে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে হবে।
আনন্দময় ও নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ গড়ে তোলার নির্দেশ
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষে এমন একটি আনন্দময়, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়কে নিজেদের প্রিয় স্থান হিসেবে মনে করে এবং নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে আগ্রহী হয়।
ডিপিইর মতে, আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বাড়বে এবং ঝরে পড়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
শিক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
অফিস আদেশে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ে ধরে রাখার লক্ষ্যে উল্লেখিত কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৬ মাসের বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনায় যা রয়েছে
নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী ছয় মাসে নিম্নোক্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে—
শিক্ষকদের জন্য "আনন্দময় শিখন/খেলার মাধ্যমে শিখন" বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও ওরিয়েন্টেশন।
মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পাঠদান সম্প্রসারণ।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফুলের বাগান স্থাপন।
স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ জাতীয় দিবস উদযাপন।
প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, শিক্ষা মেলা ও শিক্ষা সফরের আয়োজন।
নৈতিক শিক্ষা ও সদাচার বিষয়ক বাণী ও ছোট গল্প সম্বলিত বুকলেট, লিফলেট ও নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং বিতরণ।
সাফল্য মূল্যায়নের সূচক
কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি মূল্যায়নে কয়েকটি সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের সংখ্যা।
মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের পরিমাণ।
বিদ্যালয়ের ফুলের বাগানের সংখ্যা।
নৈতিক শিক্ষা বিষয়ক বুকলেট ও লিফলেট বিতরণের পরিসংখ্যান।
সৃজনশীল ও মানবিক শিক্ষার্থী গড়ে তোলাই লক্ষ্য
কর্মপরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে মুখস্থনির্ভর শিক্ষা কমিয়ে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল, দক্ষ, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মতে, ছবি আঁকা, মাটির কাজ এবং খেলার মাধ্যমে শেখানোর মতো কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি করবে, শেখাকে আনন্দময় করে তুলবে এবং প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
www.dpe.gov.bd
স্মারক নম্বর: ৩৮.০১.০০০০.০০০.১৪১,০৫,০০০১.২৬-১০২০
তারিখ: ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ১৪ জুন ২০২৬
বিষয়:শিক্ষার্থীদের সময়মত ক্লাসে উপস্থিতি ও বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে ছবি আঁকা, মাটির কাজ, উপকরণ সাজানোর মাধ্যমে খেলার ছলে শেখা কার্যক্রম গ্রহণ।
সূত্র: নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের গৃহীত কর্মপরিকল্পনা।
উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের গৃহীত কর্মপরিকল্পনায় লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস (আনন্দময় শিক্ষা) এর ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সময়মত ক্লাসে উপস্থিতি ও বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে ছবি আঁকা, মাটির কাজ, উপকরণ সাজানোর মাধ্যমে খেলার ছলে শিখন শেখানো কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়টি উল্লিখিত আছে (কপি সংযুক্ত)।
০২। বর্তমানে এনসিটিবি কর্তৃক প্রণীত ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত চারু ও কারুকলা বিষয়ে শিক্ষক সহায়িকা রয়েছে। শিক্ষক সহায়িকার আলোকে শ্রেণি অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ছবি অংকন করতে বলা ও মাটি দিয়ে বিভিন্ন ধরণের উপকরণ তৈরি করানো এবং তাদের তৈরি উপকরণ ও অংকিত ছবি শ্রেণিকক্ষে সাজিয়ে রেখে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে হবে।
০৩। শ্রেণিকক্ষে আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষক কার্যক্রমটি পরিচালনা করবেন, যাতে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়কে প্রিয় প্রাঙ্গণ মনে করে এবং বিদ্যালয় উপস্থিতকালীন সময় নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
081 এমতাবস্থায়, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে সময়মত ক্লাসে উপস্থিতি ও ঝরে পড়া রোধকল্পে বর্ণিত কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
স্বাক্ষরিত
খাদিজা পারভীন
উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব)
পলিসি এন্ড অপারেশন বিভাগ।
ক্রমিক নম্বর; ১২
ইশতেহারে বর্ণিত প্রতিশ্রুতিসমূহঃ উইথ লার্নিং হ্যাপিনেস (আনন্দময় শিক্ষা): ক্লাস সিক্স থেকে দলগত কাজ, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের উন্নয়ন (পার্সোনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট), পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাকে আনন্দময় করে তোলা হবে।
বাস্তবায়ন কর্মকৌশল (৬ মাস)ঃ
* শিক্ষকদের জন্য 'আনন্দময় শিখন/খেলার মাধ্যমে শিখন' বিষয়ক প্রশিক্ষণ/ওরিয়েন্টেশন প্রদান।
*মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শিখন-শেখানো কার্যক্রম
*স্কুল প্রাঙ্গনে ফুলের বাগান
*জাতীয় দিবস উদযাপন (স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও অন্যান্য)
* প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, শিক্ষা মেলা এবং শিক্ষা সফর
*নৈতিক শিক্ষা/সদাচার বিষয়ে বাণী/ছোট গল্প বুকলেট। সম্বলিত এর জন্য কমিটি গঠন, লিফলেট/রুশিয়ার প্রণয়ন গাইডলাইন প্রস্তুত।
ফলাফল নির্দেশক (Output Indicator)ঃ
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের সংখ্যা, মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের সংখ্যা, বাগানের সংখ্যা, বাণী/ছোট গল্প সম্বলিত বুকলেট/ লিফলেট/রুশিয়ার বিতরণের পরিসংখ্যন।
নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ভূমিকাঃ
মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।
বাস্তবায়ন অগ্রগতিঃ সময়মতো ক্লাসে উপস্থিতি G বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে ছবি আঁকা, মাটির কাজ, উপকরণ সাজানোর মাধ্যমে খেলার ছলে শেখা কার্যক্রম গ্রহণ:




No comments
Your opinion here...