ad

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কড়াকড়ি, আপত্তিকর পোস্টে বিভাগীয় ব্যবস্থার নির্দেশ

Views

.


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কড়াকড়ি, আপত্তিকর পোস্টে বিভাগীয় ব্যবস্থার নির্দেশ

ঢাকা, ১৮ জুন ২০২৬: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকার, সরকারি দপ্তর কিংবা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কটূক্তি, অপপ্রচার বা আপত্তিকর পোস্ট করলে তাদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে স্বাক্ষর করেন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মাহবুবা আইরিন।

অধিদপ্তরের জারিকৃত স্মারকে বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক প্রণীত "সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)" সকল সরকারি কর্মচারীর জন্য বাধ্যতামূলকভাবে প্রযোজ্য।

স্মারকে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন কিছু নেতিবাচক পোস্ট করছেন, যা প্রচলিত নির্দেশিকার পরিপন্থী। এসব পোস্টের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে বলা হয়েছে, যে সকল শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি, অপপ্রচার এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে অবহিত করতে হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারবিরোধী বা আপত্তিকর পোস্ট করা কিংবা এ ধরনের পোস্ট শেয়ার করা "সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯" এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া এটি সরকারি চাকরি বিধি এবং সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণের পর্যায়ভুক্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ওপর নজরদারির জন্য উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ইতোমধ্যে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটিকে প্রতি মাসে অন্তত একটি সভা আয়োজন করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত ও গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কেও নিয়মিতভাবে অধিদপ্তরকে জানাতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ এক নজরে

  1. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর বা সরকারবিরোধী পোস্টে ব্যবস্থা।

  2. শিক্ষকদের বিরুদ্ধে জরুরি বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ।

  3. গৃহীত ব্যবস্থা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে।

  4. উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি সক্রিয় থাকবে।

  5. প্রতি মাসে অন্তত একটি মনিটরিং সভা বাধ্যতামূলক।

  6. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নির্দেশিকা-২০১৯ লঙ্ঘনকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

প্রতিবেদন: শিক্ষা ডেস্ক

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

 প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর

 সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬

www.dpe.gov.bd

স্মারক নং : ৩৮.০১.০০০০.১১০.০৯.০০২.২০২৫-১২৯৩

তারিখ: ০৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৮ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিষয়: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের শিক্ষকগণের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা প্রসংগে।

সূত্র:

১) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নম্বর: ৩৮.০০.০০০০,০০০,০০৮.৯৯.০০০১,১৬.২৩০, তারিখ: ১৬ মে ২০২৬

২) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)"

৩) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ০৭ মে ২০২০ তারিখের ০৫.০০.০০০০,১৭৩.০৮.০১৪.০৭-১৩৬ স্মারকের পরিপত্র

৪) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারক: ৩৮.০১.০০০০.১০৭.০৪.০০১.২১-৪৫৮,

তারিখ: ১০ এপ্রিল ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক প্রণীত "সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯" সকল সরকারি কর্মচারীর জন্য প্রযোজ্য। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত কতিপয় শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক পোস্ট করছেন যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯ পরিপন্থী। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যে সকল শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকার কটূক্তি, অপপ্রচার এবং প্রাথমিক শিক্ষাসহ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে জরুরিভিত্তিতে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য ১নং সূত্রে বর্ণিত পত্রে বলা হয়েছে।

২। পত্রে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকার, সরকারি দপ্তর ও সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কটূক্তি, অপপ্রচার ও আপত্তিকর পোস্ট কিংবা পোস্ট শেয়ার করার ফলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। "সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)" পরিপন্থী কাজ করা সরকারি চাকরি বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণের পর্যায়ভুক্ত অপরাধ।

৩। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার বিষয়ে উপজেলা, জেলা ও বিভাগ পর্যায়ে মনিটরিং ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কমিটি রয়েছে। কমিটিগুলো প্রতিমাসে কমপক্ষে একটি সভা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণপূর্বক অধিদপ্তরকে অবহিত করার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

৪। বর্ণিতাবস্থায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যে সকল শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন কটূক্তি, অপপ্রচার এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে অধিদপ্তরকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

স্বাক্ষরিত

মাহবুবা আইরিন 

পরিচালক (প্রশাসন)


No comments

Your opinion here...

Theme images by fpm. Powered by Blogger.