ডিজিটাল ঋণে নতুন যুগ: ‘ই-ঋণ’ চালুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা
ডিজিটাল ঋণে নতুন যুগ: ‘ই-ঋণ’ চালুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা: বাণিজ্যিকভাবে ‘ই-ঋণ’ চালুতে কঠোর নীতিমালা
ঢাকা, ১১ মে ২০২৬: দেশের ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ ও ক্যাশলেস সমাজ গঠনের লক্ষ্য সামনে রেখে বাণিজ্যিকভাবে ‘ই-ঋণ’ (e-loan) চালুর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (১১ মে ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে জারি করা বিআরপিডি-১ সার্কুলার নং-১১ এ এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক গাজী মোঃ মাহফুজুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এ সার্কুলার দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ডিজিটাল ঋণ ব্যবস্থাকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোতে আনা
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, দেশে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্কের দ্রুত বিস্তারের ফলে ডিজিটাল ডিভাইসভিত্তিক ব্যাংকিং সেবার ব্যবহার বাড়ছে। এর ধারাবাহিকতায় ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপ, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) এবং ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বাস্তবতায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনতে এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবাকে আরও গতিশীল করতে ‘ই-ঋণ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ঋণ পাবেন
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন গ্রাহক একটি নির্দিষ্ট সময়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-ঋণ নিতে পারবেন। এ ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১২ মাস।
ব্যাংকগুলো বাজারভিত্তিক সুদহার নির্ধারণ করতে পারবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার আওতায় ঋণ দেওয়া হলে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদহার ৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা বাধ্যতামূলক
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ই-ঋণের পুরো কার্যক্রম—গ্রাহক অনবোর্ডিং থেকে শুরু করে ঋণ বিতরণ ও আদায় পর্যন্ত—সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনা করতে হবে।
ঋণ আবেদন, মঞ্জুরিপত্র ও চার্জ ডকুমেন্টে প্রচলিত স্বাক্ষরের পরিবর্তে বায়োমেট্রিক তথ্যের মাধ্যমে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করে সম্মতি নিতে হবে। তবে এসব বায়োমেট্রিক তথ্য কোনো তৃতীয় পক্ষের এজেন্ট সংরক্ষণ করতে পারবে না।
পাইলট প্রকল্প ছাড়া বাণিজ্যিক কার্যক্রম নয়
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাণিজ্যিকভাবে ই-ঋণ চালুর আগে ব্যাংকগুলোকে ন্যূনতম ছয় মাসের পাইলট কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। সফল পাইলটিং ও মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রোডাক্ট প্রোগ্রাম গাইডলাইন (পিপিজি) প্রস্তুত করে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে।
বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালুর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাইলট মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও অনুমোদিত পিপিজি জমা দিতে হবে।
সিআইবি অনুসন্ধানে সাময়িক শিথিলতা
এপিআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় সিআইবি ব্যবস্থা ২৪/৭ চালু না হওয়া পর্যন্ত ই-ঋণের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সিআইবি অনুসন্ধানের বাধ্যবাধকতা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। তবে ঋণ অনুমোদন বা বিতরণের পর দ্রুত সিআইবি প্রতিবেদন সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে।
কোনো খেলাপি গ্রাহক তথ্য গোপন করে ঋণ নিলে এবং পরে সিআইবিতে নেতিবাচক তথ্য ধরা পড়লে দ্রুততম সময়ে সেই ঋণ সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ই-ঋণের ক্ষেত্রে সিআইবি অনুসন্ধান বাবদ গ্রাহক বা ব্যাংকের ওপর কোনো চার্জ আরোপ করা যাবে না।
গ্রাহক শনাক্তে বাধ্যতামূলক OTP ও MFA
গ্রাহক অনবোর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকের অনুমোদিত প্ল্যাটফর্ম বা গ্রাহকের নিবন্ধিত মোবাইল সিম ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) এবং টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) বা মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (MFA) ব্যবহার করে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।
তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে দেশের ভেতরেই
সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গ্রাহক ও ঋণসংক্রান্ত তথ্য অবশ্যই বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমারেখার অভ্যন্তরে অবস্থিত ডেটা ওয়্যারহাউজে সংরক্ষণ করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনসহ বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সব বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ নীতিমালা মানতে হবে
ই-ঋণের আওতায় হিসাব খোলার ক্ষেত্রে বিদ্যমান মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধবিষয়ক নীতিমালা অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যাংকগুলোকে বিতরণকৃত ই-ঋণের তথ্য নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগ এবং ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগে পাঠাতে হবে।
অবিলম্বে কার্যকর
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারার আওতায় জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক
(সেন্ট্রাল ব্যাংক অব বাংলাদেশ)
প্রধান কার্যালয়
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ বাংলাদেশ।
ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১
তারিখ:- ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ ১১ মে ২০২৬
বিআরপিডি-১ সার্কুলার নং- ১১
ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহী বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংক।
প্রিয় মহোদয়,
বাণিজ্যিকভাবে 'ই-ঋণ' (e-loan) প্রচলন প্রসঙ্গে
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অন্তর্ভুক্তিকরণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে আর্থিক সেবার বহুমুখীকরণে বাংলাদেশ ব্যাংক নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্কের দ্রুত বিস্তারের কারণে ব্যাংকিং কার্যক্রমে ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতার ফলে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে 'ই-ঋণ' (যেমন-ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপস, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ই-ওয়ালেট ইত্যাদি ব্যবহার করে তফসিলি ব্যাংক হতে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান) গ্রহণের চাহিদা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। এরূপ সেবার সহজলভ্যতা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্তিকরণ ও ডিজিটাল আর্থিক সেবা ব্যবহারে অভ্যস্ত করার মাধ্যমে ক্যাশলেস সমাজ বিনির্মাণে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে 'ই-ঋণ' গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
২। এতদ্প্রেক্ষিতে, তফসিলি ব্যাংক কর্তৃক নতুন সেবা হিসেবে 'ই-ঋণ' প্রচলনের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ অনুসরণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা যাচ্ছে:
ক) নতুন সেবাটির নামকরণের ক্ষেত্রে 'ই-ঋণ' (e-loan) শব্দটি যুক্ত করতে হবে;
খ) একজন গ্রাহক একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৮৫০,০০০.০০ (পঞ্চাশ হাজার টাকা) 'ই-ঋণ' গ্রহণ করতে পারবে যার মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১২ মাস;
গ) ই-ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংক বাজারভিত্তিক সুদহার নির্ধারণ করবে। তবে, বিআরপিডি সার্কুলার-১১/২০২২ এর আওতায় পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গৃহীত হলে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণটির সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৯%;
ঘ) এ ঋণ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কার্যক্রম End-to-End (ঋণ গ্রহীতা অনবোর্ডিং হতে শুরু করে ঋণ আদায় পর্যন্ত) ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পাদন করতে হবে;
ঙ) ঋণ আবেদন, ঋণ মঞ্জুরীপত্র এবং চার্জ ডকুমেন্টসমূহে স্বাক্ষর (Wet signature) গ্রহণের পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমে সংগৃহীত বায়োমেট্রিক (Biometric) তথ্যের মাধ্যমে পরিচিতি নিশ্চিতকরত গ্রাহকের সম্মতি গ্রহণ করতে হবে এবং এ ঋণ প্রদানের সাথে সংশ্লিষ্ট বায়োমেট্রিক তথ্য কোনো তৃতীয় পক্ষ এজেন্ট সংরক্ষণ করতে পারবে না;
চ) এ সেবাটি প্রচলনের পূর্বে সফল পাইলটিং ও মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে প্রোডাক্ট প্রোগ্রাম গাইডলাইন্স (পিপিজি) প্রস্তুতপূর্বক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। বাণিজ্যিকভাবে ই-ঋণ প্রচলনের ১৫ (পনের) কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ কে অবহিত (পাইলটিংয়ের মূল্যায়ন ও অনুমোদিত পিপিজি সহ) করতে হবে;
ছ) সুদ হার, সুদ ব্যতীত প্রসেসিং ফি, Early Settlement Fee (বা অন্য যে কোন নামেই অভিহিত হোক না কেন), ঋণ শ্রেণিকরণ, প্রভিশনিং, অবলোপন, পেনাল ইন্টারেস্ট/দন্ডসুদ সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারিকৃত বিদ্যমান নীতিমালা ই-ঋণ এর ক্ষেত্রেও অনুসরণ করতে হবে;
জ) বিআরপিডি সার্কুলার নং-২৭/২০১০ পরিপালনপূর্বক সুদ হিসাবায়ন, প্রদর্শন ও প্রকাশনা করতে হবে;
ঝ) ঋণের বৈশিষ্ট্যাবলী (যেমন-ঋণের প্রকৃতি, বার্ষিক সুদহার, মেয়াদ, বিতরণ ও পরিশোধ পদ্ধতি ইত্যাদি) যথাযথভাবে গ্রাহককে অবহিতকরণপূর্বক তাদের সম্মতি নিতে হবে। এ সম্পর্কে গ্রাহক পর্যায়ে আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে;
পূর্ববর্তী পৃষ্ঠার পর:
ঞ) ই-ঋণ মঞ্জুরী করার ক্ষেত্রে এপিআই (Application Programming Interface-API) ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় সিআইবি সিস্টেম পূর্ণাঙ্গরূপে (২৪/৭) চালু না হওয়া পর্যন্ত তাৎক্ষণিকভাবে সিআইবি অনুসন্ধানের বাধ্যবাধকতা সাময়িকভাবে শিথিল থাকবে, তবে ঋণ অনুমোদন/বিতরণের পর অনতিবিলম্বে সিআইবি অনুসন্ধান প্রতিবেদন সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে;
ট) কোনো খেলাপী ঋণ গ্রহীতা তথ্য গোপনপূর্বক ই-ঋণ গ্রহণ করে থাকলে সিআইবি অনুসন্ধানে প্রতিবেদন বিরূপ পাওয়া মাত্র উক্ত ঋণ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে;
ঠ) ই-ঋণের ক্ষেত্রে সিআইবি অনুসন্ধান বাবদ ব্যাংক বা গ্রাহকের উপর চার্জ প্রযোজ্য হবে না;
ড) ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ২৭কক ধারার বিধান মোতাবেক খেলাপী ঋণগ্রহীতার অনুকূলে ঋণ প্রদানে বিরত থাকার বিষয়ে ব্যাংক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে, ঋণ বিতরণের পূর্বে অন্যান্য ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ইত্যাদি মাধ্যম হতে গৃহীত ঋণের (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) তথ্য সংগ্রহ করতে হবে;
ঢ) গ্রাহক অনবোর্ডিং এর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত প্লাটফর্ম অথবা গ্রাহকের নিবন্ধনকৃত মোবাইল সিম ব্যবহার করতে হবে এবং ওটিপি (One Time Password-OTP) প্রেরণসহ Two-factor authentication (2FA)/Multi-factor authentication (MFA) এর মাধ্যমে গ্রাহকের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে;
ণ) আলোচ্য ই-ঋণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ব্যতীত অন্য কোনো (তৃতীয় পক্ষ) প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে বিআরপিডি সার্কুলার নং-২/২০১৫ এর মাধ্যমে জারিকৃত আউটসোর্সিং বন্দোবস্ত সম্পর্কিত নির্দেশনা পরিপালন করতে হবে;
ত) ক্লাউড কম্পিউটিং সংক্রান্ত বিআরপিডি সার্কুলার নং-৫/২০২৩ ও সাইবার সিকিউরিটি সংক্রান্ত বিআরপিডি-২ সার্কুলার নং-২/২০২৬ যথাযথ পরিপালনপূর্বক গ্রাহক/ঋণ সংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমারেখার অভ্যন্তরে অবস্থিত ডেটা ওয়্যারহাউজে সংরক্ষণ করতে হবে এবং তথ্য পাচার রোধে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২৬; জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৬ ও সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ সহ সময় সময় বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার কর্তৃক জারিকৃত বিধানাবলী যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে;
থ) ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ঋণ বিতরণের নিয়মাচার, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময় সময় জারিকৃত বিধানাবলী ও দেশের প্রচলিত আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে;
দ) আলোচ্য সেবা/পণ্যের আওতায় হিসাব খোলার ক্ষেত্রে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ে বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে;
ধ) বিতরণকৃত ই-ঋণের তথ্য মাসিক ভিত্তিতে নির্ধারিত RIT টেমপ্লেটে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগে এবং সংযুক্ত ছক (সংযোজনী-ক) মোতাবেক ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে নিয়মিতভাবে এ বিভাগে প্রেরণ করতে হবে; এবং
ন) ইতোপূর্বে এ বিভাগ হতে অনুমোদনকৃত ই-ঋণ এর শর্তসমূহ আলোচ্য সার্কুলার দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে।
৩। চূড়ান্তভাবে ই-ঋণ কার্যক্রম শুরুর পূর্বে আবশ্যিকভাবে নূন্যতম ০৬ (ছয়) মাসের জন্য পাইলটিং কার্যক্রম সম্পাদন করতে হবে এবং ব্যাংক কর্তৃক উক্ত কার্যক্রমের যথাযথ মূল্যায়ন ও পাইলটিং কার্যক্রমের ইতিবাচক ফলাফল প্রাপ্তি সাপেক্ষে মাঠ পর্যায়ের প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার আলোকে পিপিজি চূড়ান্তকরণপূর্বক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে বাণিজ্যিকভাবে ই-ঋণ চালু করতে হবে।
৪। ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারার আওতায় এ নির্দেশনা জারি করা হলো।
৫। এ নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
আপনাদের বিশ্বস্ত
স্বাক্ষরিত
(গাজী মোঃ মাহফুজুল ইসলাম)
পরিচালক (বিআরপিডি-১)
ফোনঃ ৯৫৩০২৫২




No comments
Your opinion here...