প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণের উদ্যোগ: মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ
প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণের উদ্যোগ: মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ
ঢাকা, ২২ এপ্রিল ২০২৬: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১২তম গ্রেড থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মঞ্জুরি আদেশ (জিও) জারি ও অর্থ বিভাগের পৃষ্ঠাংকনের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। 📄
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক স্মারকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্মারকটি গত ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়।
স্মারকে উল্লেখ করা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখের স্মারক অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) ও প্রধান শিক্ষক (প্রশিক্ষণবিহীন) উভয় পদের বেতনগ্রেড ১১তম গ্রেডে নির্ধারণের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক মঞ্জুরি আদেশ (জিও) জারি ও অর্থ বিভাগের পৃষ্ঠাংকনের শর্ত পূরণ না হওয়ায় বিষয়টি বাস্তবায়ন হয়নি।
এর মধ্যে ৪৫ জন প্রধান শিক্ষক ১০ম গ্রেড ও গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদা দাবিতে রিট মামলা (নং ৩২১৪/২০১৮) দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার নিষ্পত্তি হলে ওই ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়। ⚖️
পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের আরেক স্মারক অনুযায়ী সারাদেশে ৬৫ হাজার ৫০২টি প্রধান শিক্ষকের পদ ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করে মঞ্জুরি আদেশ জারি করা হয় এবং অর্থ বিভাগ তা পৃষ্ঠাংকন করে। তবে ওই আদেশের ফলে প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকদের পদ ১২তম গ্রেডেই বহাল থাকে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর করতে তাদের পদ ১২তম গ্রেড থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করে দ্রুত মঞ্জুরি আদেশ (জিও) জারি এবং অর্থ বিভাগের পৃষ্ঠাংকন করা প্রয়োজন। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। 📊
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে দেশের বিপুল সংখ্যক প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য থেকে মুক্ত হবেন এবং প্রশাসনিক কাঠামোতেও সমতা প্রতিষ্ঠা হবে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
www.dpe.gov.bd
স্মারক নং-৩৮.০১.০০০০.১৪৩.১১.০১১.২৫-১০
তারিখঃ ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ০৮ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বিষয়: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (প্রশিক্ষণবিহীন) পদের বেতন ১১ তম গ্রেডে উন্নীতকরণ।
সূত্র:
১. অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের স্মারক নম্বর ০৭.০০.০০০০.১৬১.৩৮.০০.০০১.১৭-৩০৮, তারিখ: ০৭/০৯/২০১৯
২. প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নম্বর ৩৮.০০.০০০০.০০৮.১৫.০০৬.২০০৬.২০২৫-৫৩১, ১৫/১২/২০২৫।
উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, সূত্রোক্ত ১ নং স্মারকের পত্র অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) ১১তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষক (প্রশিক্ষণবিহীন) ১২ তম গ্রেড উভয়ের বেতনগ্রেড অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ কর্তৃক ১১ তম গ্রেডে নির্ধারণপূর্বক সম্মতি জ্ঞাপন করা হয়। সম্মতি জ্ঞাপন পত্রের (২) নং শর্ত মোতাবেক প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় অর্থাৎ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক মঞ্জুরী আদেশ জারি (জিও) ও অর্থ বিভাগ কর্তৃক পৃষ্ঠাংকন করার শর্ত থাকলেও এ ৪৫ জন প্রধান শিক্ষক ১০ গ্রেড ও গেজেটেড কর্মকর্তার দাবীতে রীট মামলা নং ৩২১৪/২০১৮ দায়ের করার কারণে মঞ্জুরী আদেশ (জিও) এবং পৃষ্ঠাংকন হয়নি। ইতোমধ্যে বর্ণিত রীট মামলা নিষ্পত্তি হয় ও ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড ১০ গ্রেডে উন্নীত হয়।
২। সূত্রোক্ত ২ নং স্মারক মোতাবেক ৬৫,৫০২টি প্রধান শিক্ষকের পদ ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করে মঞ্জুরী আদেশ (জিও) জারি করা হয় এবং অর্থ বিভাগ থেকে তা পৃষ্ঠাংকন করা হয়। এ আদেশবলে প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকের পদ ১২তম গ্রেডে রয়ে যায়। বর্ণিতাবস্থায় সূত্রোক্ত ২ নং স্মারকের পত্র অনুসারে প্রধান শিক্ষক (প্রশিক্ষণবিহীন) এর বেতন গ্রেড ১২ তম গ্রেড থেকে ১১ তম গ্রেডে উন্নীত করে মঞ্জুরী আদেশ (জিও) এবং তা অর্থ বিভাগ কর্তৃক পৃষ্ঠাংকন করা প্রয়োজন।
৩। এমতাবস্থায়, প্রধান শিক্ষক (প্রশিক্ষণবিহীন) এর বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করে মঞ্জুরী আদেশ (জিও) এবং তা অর্থ বিভাগ কর্তৃক পৃষ্ঠাংকনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।
স্বাক্ষরিত
(আবু নূর মো: শামসুজ্জামান)
মহাপরিচালক।
প্রধান শিক্ষক (প্রশিক্ষণবিহীন) এর বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করে মঞ্জুরী আদেশ (জিও) এবং তা অর্থ বিভাগ কর্তৃক পৃষ্ঠাংকনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণঃ
সচিব
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।



No comments
Your opinion here...