আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ভোটকেন্দ্র সংস্কারে ১২,৫৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ ৮২ কোটি টাকার বেশি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ভোটকেন্দ্র সংস্কারে ১২,৫৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ ৮২ কোটি টাকার বেশি
ঢাকা, ৪ জানুয়ারি ২০২৬:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত দেশের ১২,৫৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত ও সংস্কারের জন্য ৮২ কোটি ২৩ লক্ষ ৫২ হাজার ৬৪২ টাকা বরাদ্দের অনুমতি দিয়েছে সরকার।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটের আওতায় ‘অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা’ খাত থেকে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের অবকাঠামোগত মেরামত, সংস্কার ও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য দ্বিতীয় ধাপে এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের অনুকূলে মঞ্জুর করা হয়েছে।
অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত
সরকারি নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের সকল আর্থিক বিধি-বিধান ও বিদ্যমান নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। কোনোভাবেই অনুমোদিত বিভাজন ব্যতীত অর্থ ব্যয় করা যাবে না। পাশাপাশি ভ্যাট পরিশোধের প্রমাণপত্র সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেরামত ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা, কাজের মান নিশ্চিত করা এবং নিবিড় তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি)-এর ওপর দায়-দায়িত্ব বর্তাবে।
তদারকিতে থাকবেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কাজের সার্বিক তদারকির দায়িত্ব পালন করবেন বিভাগীয় উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা), জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি)।
অডিটের প্রয়োজনে সকল বিল-ভাউচার সংরক্ষণ করতে হবে এবং অব্যয়িত অর্থ ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
মহাপরিচালকের অনুমোদন
ডিপিই সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সদয় অনুমোদন রয়েছে। প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ১২,৫৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকাও সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বরাদ্দের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন হবে এবং ভোটগ্রহণ কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
www.dpe.gov.bd
স্মারক নম্বর: ৩৮.০১.০০০০.০০০.৫০০.২০.০০১২.২০.১
তারিখ: ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বিষয়: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ১২,৫৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত/সংস্কারের লক্ষ্যে পরিচালন ব্যয়ের আওতায় '৩২৪৮১০৮' অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা খাতে ৮২,২৩,৫২,৬৪২/-টাকা ব্যয়ের অনুমতি প্রদান সংক্রান্ত।
সূত্র: ৩৮.০০.০০০০.০০৬.২০.০০০১.২৩.৪৬২ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটের আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের 'অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা (৩২৫৮১০৮)' খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ হতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে সংযুক্ত তালিকা মোতাবেক ২য় ধাপে ৮২,২৩,৫২,৬৪২/- (বিরাশি কোটি তেইশ লক্ষ বায়ান্ন হাজার ছয়শত বিয়াল্লিশ) টাকা নিম্নবর্ণিত শর্তে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর বরাদ্দ ও মঞ্জুরী প্রদান করা হলো।
শর্তসমূহঃ
ক) এ অর্থ ব্যয়ে সরকারের সকল আর্থিক বিধি-বিধান ও অনুশাসনাবলী যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে;
খ) মন্ত্রণালয়ের ২০/০৫/২০১৩ তারিখের ৩৮.০০৬.০২০.০৭.০০.০৪৫.২০০৯-১৩৮ নং স্মারক এবং ২২ মে ২০১৯ তারিখের ৩৮.০০. ০০০০,০০৬,২০,০৪৫.১৯,২৩৩ নং স্মারকে জারীকৃত নীতিমালার আলোকে এবং বিভাজন অনুসরণ ব্যতীত অর্থ ব্যয় করা যাবে না;
গ) এই ব্যয় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটের আওতায় ১২৪০২০৯০০০০০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ এর কোড ৩২৫৮১০৮ অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা খাতে পুনঃউপযোজনকৃত অর্থসহ ২০৪,০০,০০,০০০/- (দুইশত চার কোটি) টাকা হতে মিটানো হবে;
ঘ) ভ্যাট পরিশোধের প্রমাণক সংরক্ষণ করতে হবে। ব্যর্থতায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপর দায়-দায়িত্ব বর্তাবে;
৩) যথাসময়ে মেরামত ও সংস্কারের কাজ সমাপ্ত করতে হবে;
চ) নীতিমালার ১১(ট) শর্তের আলোকে ২০২৫ এর মধ্যে অর্থ বরাদ্দ, অর্থ ব্যয়, অব্যয়িত অর্থ উল্লেখপূর্বক ব্যয়িত অর্থের হিসাব প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে
প্রেরণ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যর্থতায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপর দায়-দায়িত্ব বর্তাবে;
ছ) নিবিড় তদারকীর মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে কাজ সমাপ্ত করতে হবে। ব্যর্থতায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক ও কমিটির (এসএমসি) উপর দায়-দায়িত্ব বর্তাবে;
জ) সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় উপপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা; জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার; উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা; উপজেলা প্রকৌশলী, এলজিইডি কার্যক্রম তদারকী করবেন;
ঝ) অডিটের প্রয়োজনে সকল বিল-ভাউচার যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে;
ঞ) অব্যয়িত অর্থ ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জামা দিতে হবে।
২। এ বিষয়ে মহাপরিচালক মহোদয়ের সদয় অনুমোদন রয়েছে।
সংযুক্তঃ বর্ণনানুগ (বিবেচ্য সংযুক্তি: নির্বাচন উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রে ব্যবহ্রতব্য ১২৫৩১ সপ্রাবি তালিকা (অবশিষ্ট টাকা).pdf, সদয় দ্রষ্টব্য।)
সকল সংযুক্তিসমূহ:
(১) নির্বাচন উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রে ব্যবহ্রতব্য ১২৫৩১ সপ্রাবি তালিকা (অবশিষ্ট টাকা)
স্বাক্ষরিত
সেলিনা আখতার
সহকারী পরিচালক।




No comments
Your opinion here...