ad

প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংস্কারে কনসালটেশন কমিটির রিপোর্ট।

Views

 


👉 প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের সুপারিশ: এক শিফট স্কুল, ১০ম গ্রেডে প্রধান শিক্ষক, নতুন কাঠামোয় শিক্ষক পদোন্নতি

উপশিরোনাম:
শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিশুর কল্যাণ ও শিক্ষক মর্যাদা নিশ্চিত করতে ৮টি খাতে শতাধিক সুপারিশ—শিখন সময় বৃদ্ধি, মিড-ডে-মিল, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও দুর্নীতি দমনেও গুরুত্ব

সংবাদ প্রতিবেদন:

প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত ‘প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংস্কার পরামর্শক কমিটি’ তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিটি দেশের ১১টি জেলার ১২টি উপজেলার মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন, অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ৮টি মূল বিষয়ে শতাধিক সুপারিশ করেছে।

এই সুপারিশগুলোকে আশু, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি করণীয় হিসেবে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দুটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—
১️⃣ শিখনমানের স্থবিরতা দূর করা,
২️⃣ এবং শিশুর শিখন, কল্যাণ ও নিরাপত্তাকে শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করা।

🔹 চিহ্নিত ৮টি প্রধান খাত

১. শিক্ষণ-শিখন ও শিক্ষার্থী মূল্যায়ন
২. শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী
৩. অভিগম্যতা, অন্তর্ভুক্তি ও বৈষম্য নিরসন
৪. প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও শিশুর বিকাশ
৫. উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও বিদ্যালয়-বহির্ভূত শিশু
৬. শিক্ষা শাসন ও ব্যবস্থাপনা
৭. ক্রস-কাটিং (বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) বিষয়
৮. সংস্কার বাস্তবায়ন, অর্থায়ন ও পরবর্তী পদক্ষেপ

🏫 গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশসমূহ

১. ভিত্তিমূলক দক্ষতা জোরদার:
বাংলা ও গণিতকে প্রাথমিক শিক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করতে হবে। প্রতিদিন অন্তত ৬০–৭৫ মিনিট এই দুই বিষয়ে শিক্ষণ সময় নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

২. এক শিফটের স্কুল:
শিখন সময় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সকল বিদ্যালয়কে এক শিফটের আওতায় আনতে হবে। পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচিতে (PEDP5) ৫০% বিদ্যালয়ে এবং আগামী ১০ বছরের মধ্যে সকল বিদ্যালয়ে এক শিফট চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

৩. নিরাময়মূলক সহায়তা:
পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সহায়তায় স্থানীয়ভাবে প্যারা-টিচার নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে কোনো শিশু শিখনে পিছিয়ে না পড়ে।

৪. শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় মূল্যায়ন পদ্ধতি:
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার পরিবর্তে ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট (NSA)-এর আদলে বিদ্যালয়ভিত্তিক দক্ষতা জরিপের মাধ্যমে সবুজ-হলুদ-লাল মানচিহ্ন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

৫. দরিদ্র পরিবারের শিশুদের সহায়তা:
দ্রুত সময়ে মিড-ডে-মিল, খাতা-কলম-ব্যাগ বিতরণ, এবং অতি দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

👩‍🏫 শিক্ষক মর্যাদা ও বেতন কাঠামো

শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা ও উন্নয়ন নিয়ে কমিটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দিয়েছে।

  1. বর্তমানে শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে এবং প্রধান শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে আছেন।

  2. আদালতের রায়ে প্রধান শিক্ষকের ১০ম গ্রেড নির্ধারণে সমর্থন পাওয়া সত্ত্বেও সরকার রিভিউ আবেদন করেছে।

  3. কমিটি সরকারের রিভিউ আবেদন প্রত্যাহারের পরামর্শ দিয়ে প্রধান শিক্ষকের জন্য ১০ম গ্রেড এবং পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ চালুর সুপারিশ করেছে।

  4. সহকারী শিক্ষক’ পদবি বিলুপ্ত করে শিক্ষক হিসেবে যোগদান, ২ বছর পর স্থায়ীকরণ এবং পরবর্তী ২ বছর পর ‘সিনিয়র শিক্ষক’ পদে পদোন্নতির প্রস্তাব করা হয়েছে (১১তম গ্রেডে)।

  5. ভবিষ্যতে শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের জন্য স্বতন্ত্র মর্যাদা ও উচ্চতর বেতন কাঠামো প্রণয়নেরও প্রস্তাব রয়েছে।

এছাড়া মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পদোন্নতিযোগ্য পদ বৃদ্ধি, শূন্যপদ দ্রুত পূরণ, আঞ্চলিক অফিস স্থাপন ও প্রাথমিক শিক্ষা ক্যাডার সার্ভিস চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

🚨 দুর্নীতি দমন ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রায়ন

দুর্নীতি ও অসদাচরণ প্রতিরোধে একটি জাতীয় হটলাইন স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রাপ্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

বিকেন্দ্রায়নের লক্ষ্যে দেশের ১০ জেলায় ২০টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষমতা বাড়ানো যায়।

🧒 প্রাক-প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা

  1. ৫+ বয়সের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ৪+ বয়সীদের জন্য পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বিস্তারের কথা বলা হয়েছে।

  2. বিদ্যালয়-বহির্ভূত শিশুদের পুনরায় শিক্ষার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর নেতৃত্বে এনজিওদের সঙ্গে অংশীদারিত্বে নতুন মডেল প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

  3. প্রতিবন্ধী, শ্রমজীবী, নৃগোষ্ঠী ও জলবায়ুপ্রভাবিত শিশুদের জন্য বিশেষ উদ্যোগেরও কথা বলা হয়েছে।

🎓 শিক্ষা কমিশন ও পরামর্শক পরিষদ

  1. স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন করে প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

  2. সরকারকে শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য একটি শিক্ষা পরামর্শক পরিষদ (Education Consultative Council) গঠনের প্রস্তাবও প্রতিবেদনে রয়েছে, যা ভবিষ্যতে স্থায়ী কমিশনে রূপ নিতে পারে।

🔰 উপসংহার

কমিটি জানিয়েছে, শিক্ষা সংস্কারে কোনো “জাদু সমাধান” নেই। তবে সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা ও বাজেট সহায়তা পেলে এই সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব।

পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কার্যক্রম (PEDP5) ও সরকারের বার্ষিক বাজেট হবে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রধান মাধ্যম।

ড. মনজুর আহমদ
আহ্বায়ক, প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংস্কার পরামর্শক কমিটি
প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংস্কারে কনসালটেশন কমিটির রিপোর্ট।
👉সহকারী শিক্ষকদের ১২ তম গ্রেডের প্রস্তাব করেছে।
শিক্ষকদের গ্রেডের বিষয়ে প্রস্তাব:
👉শিক্ষক পদ(এন্ট্রিপদ)-১২তম গ্রেড
👉সিনিয়র শিক্ষক(শিক্ষক পদ থেকে ৪ বছর পর পদোন্নতি)-১১তম গ্রেড
👉সহকারী প্রধান শিক্ষক-১১তম গ্রেড+ দায়িত্বভাতা
👉প্রধান শিক্ষক-১০ম গ্রেড
👉প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংস্কার পরামর্শক কমিটির প্রধান সুপারিশ সমুহ।

প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংস্কারে পরামর্শক কমিটির
প্রধান সুপারিশসমূহ
পরামর্শক কমিটির প্রতিবেদনে প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংক্রান্ত ৮টি বিষয়ে শতাধিক প্রধান ও আনুষঙ্গিক সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন অংশীগোষ্ঠীর সঙ্গে মতবিনিময় এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ দেশের ১১টি জেলার ১২টি উপজেলায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে কমিটি সুপারিশমালা তৈরি করেছে। এগুলোকে আশু, মধ্যমেয়াদে ও দীর্ঘমেয়াদে করণীয় হিসেবে ভাগ করা হয়েছে। পর্যালোচনায় ও সুপারিশ তৈরিতে দুটি বিষয় বিশেষ বিবেচনায় রাখা হয়েছে: ১. নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও শিখন-মানের ক্ষেত্রে যে স্থবিরতা বিরাজ করছে তা দূর করা, এবং ২. শিশুর শিখন, কল্যাণ ও নিরাপত্তাকে সব কর্মকান্ডের কেন্দ্রে স্থাপন করা। যে প্রধান আটটি বিষয় চিহ্নিত করে সুপারিশ প্রণীত হয়েছে সেগুলো হচ্ছে: শিক্ষণ-শিখন ও শিক্ষার্থী মূল্যায়ন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী অভিগম্যতা, অন্তর্ভুক্তি ও বৈষম্য নিরসন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও শিশুর বিকাশ উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও বিদ্যালয়-বহির্ভূত শিশু শিক্ষা শাসন ও ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রনির্বিশেষে ক্রস-কাটিং বিষয় সংস্কার বাস্তবায়ন, অর্থায়ন ও পরবর্তী পদক্ষেপ প্রত্যাশিত সংস্কার ও পরিবর্তন সম্বন্ধে ধারণা দেওয়ার জন্য নির্বাচিত কিছু সুপারিশের কথা এখানে তুলে ধরা হলো: ১. ভিত্তিমূলক দক্ষতা: প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য হিসেবে শিশুদের বাংলা ও গণিতের ভিত্তিমূলক দক্ষতা অর্জনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলা শুধু একটি বিষয় নয়, এটি অন্য সব বিষয়ে প্রবেশের চাবিকাঠি। গণিতে মৌলিক দক্ষতা অর্জিত না হলে শিক্ষার্থীরা শিখনে ক্রমাগত পিছিয়ে থাকবে। এ জন্য প্রতিদিন এ-দুটি বিষয়ে ৬০ থেকে ৭৫ মিনিট করে শিক্ষণ-শিখন সময় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
২. এক শিফটের স্কুল: শিখন সময় বৃদ্ধির জন্য সকল বিদ্যালয়কে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এক শিফটের স্কুলে পরিণত করা প্রয়োজন। পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কার্যক্রমে (PEDPS) অন্তত ৫০ শতাংশ বিদ্যালয়ে এবং দশ বছরের মধ্যে সকল বিদ্যালয়ে এক শিফট চালু করা যেতে পারে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত অনূর্ধ্ব ১:৩০ নিশ্চিত করা দরকার।
৩. নিরাময়মূলক সহায়তা: পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য শ্রেণির ভেতরে ও বাইরে নিরাময়মূলক সহায়তা দিতে হবে। এজন্য স্কুল স্থানীয়ভাবে প্যারা-টিচার (শিক্ষা-সহায়ক) নিয়োগ দিতে পারে।
8. শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় মূল্যায়ন: ধারাবাহিক ও বার্ষিক মূল্যায়ন দ্বারা প্রত্যেক শিশুর শিখন-অগ্রগতি যাচাই করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বা এ ধরনের পরীক্ষার পরিবর্তে এন.এস.এ. (National Student Assessment)- এর আদলে (তবে সহজে বাস্তবায়নযোগ্য) মৌলিক দক্ষতা জরিপের মাধ্যমে প্রতি বিদ্যালয়কে মান অনুযায়ী সবুজ-হলুদ-লালে চিহ্নিত করা হবে। প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হবে প্রতি বিদ্যালয়কে সবুজে রূপান্তরিত করা।
৫. দরিদ্র পরিবারের ব্যয় লাঘব: যত দ্রুত সম্ভব মিড-ডে-মিল প্রবর্তন, খাতা-কলম-ব্যাগ ইত্যাদি সামগ্রী বিতরণ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্ধারিত অতি দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য বর্ধিত হারে অর্থ সাহায্য প্রদান করা যেতে পারে।
৬. শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর পেশাগত উন্নয়ন: শিক্ষক ও মাঠপর্যায়ের শিক্ষাকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা, পদোন্নতি ও পেশাগত অগ্রগতির ব্যাপারে নির্দিষ্ট আশু পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবানুসারে 'সহকারী শিক্ষক' পদবি বিলুপ্ত হবে; 'শিক্ষক' হিসেবে কর্মজীবনের সূচনার পর 'সিনিয়র শিক্ষক' হিসেবে পরবর্তী পদোন্নতি হবে। সেইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে প্রাথমিক শিক্ষকসহ বিদ্যালয় শিক্ষকদের স্বতন্ত্র মর্যাদা ও উচ্চতর বেতন কাঠামো বিবেচনা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে আশু উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
[বর্তমানে শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে আছেন এবং প্রধান শিক্ষকের জন্য সরকার ১১তম গ্রেড প্রদান করেছে। প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে পদায়নের দাবি উচ্চ আদালতে সমর্থন পেয়েছে, কিন্তু সরকার এ ব্যাপারে রিভিউ আবেদন করেছে। সমগ্র পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষকদের স্বতন্ত্র মর্যাদা ও উচ্চতর বেতন কাঠামো প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত কমিটির অর্ন্তবর্তী সুপারিশ: শিক্ষক পদে প্রবেশ ১২তম গ্রেডে, দুই বছর পর স্থায়ীকরণ, আরো দুই বছর পর ১১তম গ্রেডে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি। প্রধান শিক্ষকের ক্ষেত্রে সুপারিশ: সরকারের রিভিউ আবেদন প্রত্যাহার ও প্রধান শিক্ষকের জন্য ১০ম গ্রেড নির্ধারণ এবং সকল প্রধান শিক্ষক পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ। শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষক নিয়মানুসারে উচ্চতর স্কেল পাওয়ার যোগ্য হবেন। সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে এবং সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্য থেকে দায়িত্বভাতাসহ পদায়ন করা যেতে পারে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পদোন্নতিযোগ্য পদসমূহ ও শূন্যপদ আশু পূরণ, সমন্বিত গ্রেডেশন, পারস্পরিক বদলি, আঞ্চলিক অফিস স্থাপন এবং প্রাথমিক শিক্ষা ক্যাডার সার্ভিস বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।।
দুর্নীতি ও অসদাচারণ নিরোধ: দুর্নীতি, অসদাচরণ ও কর্তব্যে অবহেলা নিরোধের লক্ষ্যে একটি অন্যতম সুপারিশ হলো, অভিযোগ জানানোর জন্য দেশব্যাপী হটলাইন স্থাপন করা যেতে পারে। সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সেইসঙ্গে এসব তথ্য নিয়মিত সময়ান্তরে জনসমক্ষে প্রকাশ করা যেতে পারে।
৮. বিকেন্দ্রায়নের লক্ষ্যে পাইলট প্রকল্প: শিক্ষা শাসন ও ব্যবস্থাপনার প্রকৃত বিকেন্দ্রায়নের উদ্দেশ্যে দেশের দশ জেলার ২০টি উপজেলায় পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় পাইলট প্রকল্প শুরু করা যেতে পারে।
৯. প্রাক-প্রাথমিকের মান ও বিস্তার: চলমান ৫+ বয়সের শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার যথাযথ মানোন্নয়ন এবং ৪+ শিশুদের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি অন্যান্য বিদ্যালয়েও অভিভাবকদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এর বিস্তার প্রয়োজন।
১০. বিদ্যালয়-বহির্ভূত শিশুদের কার্যসূচি: বিদ্যালয়-বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশুদের কার্যসূচির জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত ও দক্ষ এনজিওদের সহযোগিতার মাধ্যমে কার্যকর মডেল তৈরি করতে হবে।
১১. সুযোগবঞ্চিতদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ: বিভিন্নভাবে সুযোগবঞ্চিত শ্রমজীবী, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগের সুপারিশ করা হয়েছে। জেন্ডার ন্যায্যতা ও জলবায়ু অভিঘাত বিষয়ে এবং দুর্গম এলাকার শিশু ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ অন্যান্য অঞ্চলের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধিতে নির্দিষ্ট পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে।
১২ শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ: শিক্ষকদের প্রি-সার্ভিস শিক্ষা ও যোগ্যতা অর্জন এবং শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নিরন্তর পেশাগত উন্নয়ন (Continuous Professional Development)-এর সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে।
১৩. বিদ্যালয় শিক্ষার সামগ্রিক পরিকল্পনা ও স্থায়ী শিক্ষা কমিশন: সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত মানসম্মত বিদ্যালয় শিক্ষার খাত পরিকল্পনা এবং স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের বিষয় সুপারিশ করা হয়েছে।
১৪.সমগ্র শিক্ষাখাতের জন্য পরামর্শক পরিষদ: প্রাথমিক শিক্ষা সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। সমগ্র শিক্ষাখাতের সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার উদ্দেশ্যে শিক্ষা পরামর্শক পরিষদ (Education Consultative Council) গঠিত হতে পারে। পরে তা স্থায়ী শিক্ষা কমিশনে রূপান্তরিত হতে পারে।
শিক্ষা সংস্কারের জন্য কোনো সহজ জাদু-সমাধান নেই। প্রদত্ত সুপারিশ সম্বন্ধে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সময়াবদ্ধ সমন্বিত বাস্তবায়ন কর্ম-পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কার্যক্রম ও সরকারের বার্ষিক বাজেট হবে সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রধান বাহন।

ড. মনজুর আহমদ
আহ্বায়ক, প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংস্কার পরামর্শক কমিটি
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫




No comments

Your opinion here...

Theme images by fpm. Powered by Blogger.