ad

জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬: অনলাইন জুয়া, বেটিং, VPN, ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে কী শাস্তি? বিস্তারিত জানুন

Views

 


জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬: অনলাইন জুয়া, বেটিং, VPN, ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে কী শাস্তি? বিস্তারিত জানুন

অনলাইন জুয়া দমনে বাংলাদেশে যুগান্তকারী আইন: ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ গেজেট প্রকাশ—VPN, ক্রিপ্টো, ঘোস্ট সিম, অনলাইন বেটিং থেকে শুরু করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত কঠোর নিয়ন্ত্রণ, সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা জরিমানার বিধান

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ১ জুলাই ২০২৬

ডিজিটাল যুগে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ক্যাসিনো বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকার প্রণয়ন করেছে একটি যুগোপযোগী ও কঠোর আইন। জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ (২০২৬ সালের ৯৮ নং আইন) ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।

নতুন এই আইনটি ১৮৬৭ সালের Public Gambling Act, 1867-কে রহিত করে ডিজিটাল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। এতে অনলাইন জুয়া পরিচালনা থেকে শুরু করে VPN, Proxy, Mirror Site, Ghost SIM, ভুয়া MFS অ্যাকাউন্ট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডিজিটাল ওয়ালেট, অনলাইন বিজ্ঞাপন, ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, এমনকি জুয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদেরও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

কেন প্রয়োজন হলো নতুন আইন?

আইনের প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের দায়িত্ব জুয়া প্রতিরোধ করা। কিন্তু ১৮৬৭ সালের পুরোনো আইন ডিজিটাল যুগের অনলাইন জুয়া, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, মোবাইল অ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা আন্তর্জাতিক অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ছিল না।

বর্তমানে ইন্টারনেট, মোবাইল অ্যাপ, MFS, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পরিচালিত জুয়া সমাজ, অর্থনীতি, যুবসমাজ ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি করায় সরকার আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই আইন প্রণয়ন করেছে।

আইনে যেসব নতুন সংজ্ঞা যুক্ত হয়েছে

এই আইনে প্রথমবারের মতো বিস্তারিতভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে—

  1. অনলাইন জুয়া

  2. দূরবর্তী জুয়া

  3. অনলাইন বেটিং

  4. স্পোর্টস বেটিং

  5. লাইভ বেটিং

  6. এক্সচেঞ্জ বেটিং

  7. ক্যাসিনো বেটিং

  8. ভার্চুয়াল বেটিং

  9. ফ্যান্টাসি বেটিং

  10. ই-স্পোর্টস বেটিং

  11. ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম

  12. ডিজিটাল ওয়ালেট

  13. ডিজিটাল সম্পদ

  14. ক্রিপ্টোকারেন্সি

  15. Bitcoin

  16. Ethereum

  17. USDT

  18. NFT

  19. Token

  20. Ghost SIM

  21. জুয়া SIM

  22. জুয়া MFS Account

  23. VPN

  24. Proxy

  25. Mirror Site

  26. Match Fixing

  27. Spot Fixing

  28. Bookmaker

  29. বায়োমেট্রিক জালিয়াতি

  30. অর্থপাচার

  31. ডিজিটাল অবকাঠামো

  32. জুয়ার সরঞ্জাম

  33. জুয়ার স্থান

যেসব কার্যক্রম এখন সরাসরি অপরাধ

নতুন আইনে নিম্নোক্ত কার্যক্রমগুলোকে স্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে—

▶ অনলাইন জুয়া পরিচালনা

ওয়েবসাইট, অ্যাপ, সার্ভার বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জুয়া পরিচালনা।

▶ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার গ্রুপ পরিচালনা

Facebook, Telegram, WhatsApp, Discord, Messenger, Channel বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে জুয়ার গ্রুপ বা পেজ পরিচালনা।

▶ সব ধরনের অনলাইন বেটিং

  1. Sports Betting

  2. Live Betting

  3. Exchange Betting

  4. Casino Betting

  5. Fantasy Betting

  6. Virtual Betting

  7. E-sports Betting

সবই আইনের আওতায়।

▶ জুয়ার স্থান পরিচালনা

বাসা, অফিস, কল সেন্টার, ডেটা সেন্টার, সার্ভার রুম, যানবাহন, ডিজিটাল অবকাঠামো ব্যবহার।

▶ জুয়ার সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি সরবরাহ

অ্যাপ, সফটওয়্যার, সার্ভার, ডাটাবেজ, কার্ড, চিপ, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বা প্রযুক্তিগত অবকাঠামো সরবরাহ।

▶ বুকমেকার হিসেবে কাজ

বাজি গ্রহণ, ফলাফল নির্ধারণ, আর্থিক লেনদেন পরিচালনা।

▶ ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং

খেলার ফলাফল বা নির্দিষ্ট মুহূর্তকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র।

▶ জুয়ার বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন, Sponsorship, Affiliate Marketing, Referral Campaign, Influencer Marketing, সেলিব্রিটি প্রচারণা।

▶ VPN, Proxy, Mirror Site ব্যবহার

VPN, Proxy, Mirror Site, Hosting, CDN, Cloud Infrastructure ব্যবহার করে জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা বা গোপন করা।

▶ Ghost SIM ও ভুয়া MFS Account

জাল বা ভুয়া পরিচয়ে SIM, MFS Account অথবা অন্যের পরিচয় ব্যবহার।

▶ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেন

Bitcoin, Ethereum, USDT, Token, NFT বা অন্যান্য ডিজিটাল সম্পদের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, সংরক্ষণ বা রূপান্তর।

কোন অপরাধে কত শাস্তি?

আইনে অপরাধভেদে পৃথক শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

অপরাধসর্বোচ্চ শাস্তি
সাধারণ জুয়া২ বছর কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা
অনলাইন জুয়া৫ বছর কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা জরিমানা
অনলাইন বেটিং৭ বছর কারাদণ্ড বা ৫ কোটি টাকা জরিমানা
জুয়ার স্থান পরিচালনা৫ বছর বা ৪০ লাখ টাকা জরিমানা
জুয়ার সরঞ্জাম সরবরাহ৩ বছর বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা
বুকমেকার৭ বছর বা ৫ কোটি টাকা জরিমানা
ম্যাচ ফিক্সিং৭ বছর বা ১ কোটি টাকা জরিমানা
স্পট ফিক্সিং৫ বছর বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা
জুয়ার বিজ্ঞাপন৩ বছর বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা
VPN/Proxy/Mirror Site ব্যবহার৭ বছর বা ৫ কোটি টাকা জরিমানা
Ghost SIM/ভুয়া MFS৭ বছর বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা
সংগঠিত অপরাধ বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে সংঘটিত অপরাধসর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা জরিমানা

মানি লন্ডারিং আইনের আওতায়ও ব্যবস্থা

জুয়ার অর্থ ব্যাংক, MFS, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো ওয়ালেট বা অন্য কোনো আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানান্তর বা রূপান্তর করলে তা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর অধীন সংশ্লিষ্ট অপরাধ (Predicate Offence) হিসেবে গণ্য হবে।

কোম্পানি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও দায়মুক্ত নয়

কোনো কোম্পানি, Digital Gambling Platform, Hosting Provider, Payment Gateway বা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত হলে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, ব্যবস্থাপক, নির্বাহী কর্মকর্তা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

তদন্তে পুলিশের বিশেষ ক্ষমতা

আইন অনুযায়ী তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা—

  1. আদালতের অনুমতি নিয়ে তল্লাশি চালাতে পারবেন।

  2. কম্পিউটার, সার্ভার, মোবাইল, হার্ডডিস্ক, ডেটাবেজসহ ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করতে পারবেন।

  3. অপরাধে ব্যবহৃত নথি, ডেটা ও ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।

  4. প্রয়োজন হলে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন।

ওয়েবসাইট, অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্লক

সরকার বা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন হলে—

  1. Website

  2. Mobile App

  3. Domain

  4. URL

  5. IP Address

  6. Social Media Page

  7. Group

  8. Channel

  9. Digital Gambling Platform

ব্লক, অপসারণ বা নিষিদ্ধ করতে পারবে।

Mirror Site, Clone Site বা বিকল্প Domain ব্যবহার করেও জুয়ার কার্যক্রম চালানো হলে সেগুলোও একইভাবে বন্ধ করা হবে।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল ওয়ালেট ফ্রিজ

আদালত প্রয়োজন মনে করলে—

  1. ব্যাংক হিসাব

  2. MFS Account

  3. Payment Gateway

  4. Digital Wallet

  5. Crypto Wallet

ফ্রিজ করার নির্দেশ দিতে পারবেন।

জাতীয় ডিজিটাল ট্র্যাকিং ডেটাবেজ

সরকার একটি জাতীয় ডিজিটাল ট্র্যাকিং ডেটাবেজ তৈরি করতে পারবে, যেখানে সংরক্ষণ করা হবে—

  1. NID

  2. SIM

  3. MFS Account

  4. Bank Account

  5. Wallet

  6. Device

  7. Domain

  8. IP Address

  9. Website

  10. Mobile App

  11. সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য

NID-SIM-MFS Linking System চালু

আইন অনুযায়ী সরকার NID-SIM-MFS Linking System চালু করতে পারবে।

এ ব্যবস্থার মাধ্যমে—

  1. একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে নিবন্ধিত SIM

  2. সংশ্লিষ্ট MFS Account

  3. Digital Wallet

  4. অন্যান্য আর্থিক অ্যাকাউন্ট

সমন্বিতভাবে যাচাই করা যাবে।

প্রয়োজনে Biometric Verification, Facial Recognition এবং Risk-based Verification ব্যবস্থাও চালু করা যাবে।

আন্তঃসংস্থার টাস্কফোর্স

জুয়া প্রতিরোধে সরকার একটি Inter-Agency Task Force গঠন করতে পারবে।

এতে অংশ নেবে—

  1. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

  2. ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়

  3. বাংলাদেশ ব্যাংক

  4. বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU)

  5. বিটিআরসি

  6. নির্বাচন কমিশন

  7. গোয়েন্দা সংস্থা

  8. সিআইডি

  9. জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা

  10. তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়

  11. যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

  12. শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা।

AI দিয়ে নজরদারি

আইনে সরকারকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে—

  1. AI Monitoring System

  2. Deep Packet Inspection (DPI)

  3. Risk Scoring System

  4. Transaction Monitoring

  5. Data Analytics

ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা যাবে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

আইন বাস্তবায়নে প্রয়োজন হলে—

  1. Interpol

  2. আন্তর্জাতিক সংস্থা

  3. বিদেশি রাষ্ট্র

  4. আন্তর্জাতিক আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা

এর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, তদন্ত, অর্থ পুনরুদ্ধার ও পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা করা যাবে।

সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচি

সরকার গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে জুয়ার কুফল সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচারণা পরিচালনা করবে।

গবেষণা ও বার্ষিক প্রতিবেদন

সরকার প্রতি বছর—

  1. জুয়া সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সংগ্রহ,

  2. গবেষণা পরিচালনা,

  3. বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ

করতে পারবে, যা নীতিনির্ধারণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হবে।

পুরোনো আইন বাতিল

নতুন আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে Public Gambling Act, 1867 রহিত করা হয়েছে। তবে পূর্ববর্তী আইনের অধীনে চলমান কার্যক্রম, আদেশ ও বিচার নতুন আইনের সংরক্ষণমূলক বিধান অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে।

সারসংক্ষেপ

‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ বাংলাদেশের ডিজিটাল অপরাধ দমনে একটি বিস্তৃত ও আধুনিক আইনি কাঠামো। এটি শুধু অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারীদের নয়, বরং বেটিং প্ল্যাটফর্ম, বুকমেকার, বিজ্ঞাপনদাতা, ইনফ্লুয়েন্সার, প্রযুক্তি সহায়তাকারী, হোস্টিং সেবা, VPN ব্যবহারকারী, ভুয়া SIM ও MFS অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারী, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেনকারী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও জবাবদিহির আওতায় এনেছে।

একই সঙ্গে AI-ভিত্তিক নজরদারি, NID-SIM-MFS সংযুক্তিকরণ, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ডেটাবেজ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সম্পদ জব্দের মতো বিধান যুক্ত হওয়ায় আইনটি বাংলাদেশের অনলাইন জুয়া ও প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক অপরাধ দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গেজেট ডাউনলোড

No comments

Your opinion here...

Theme images by fpm. Powered by Blogger.